ট্যাগ সার

  • নাগেশ্বরীতে সার না পেয়ে কৃষকদের ফের সড়ক অবরোধ

    নাগেশ্বরীতে সার না পেয়ে কৃষকদের ফের সড়ক অবরোধ

    কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে রবি মৌসুমে চাহিদামতো সার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ শত শত কৃষক আবারও সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেছেন। এ সময় তারা সারের দাবিতে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন এবং কৃষি কর্মকর্তা ও সার ডিলারের অপসারণ চান। পরে অবরুদ্ধ কর্মকর্তাকে ইউএনওর সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে কচাকাটা থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ।

    শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়ন গাবতলা বাজার এলাকায় বিসিআইসির পরিবেশক (ডিলার) মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের সামনে এই অবরোধ হয়।

    এ সময় বল্লভেরখাস ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অবরুদ্ধ হন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ্বাস দিলে কৃষকেরা অবরোধ তুলে নেন।

    জানা গেছে, রবি মৌসুমে এখন এলাকার প্রধান ফসল আমন, বেগুন ও বিভিন্ন সবজির চাষাবাদে সারের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলেরও আবাদ শুরু হয়েছে।

    কিন্তু চাষাবাদের শুরু থেকেই কৃষকেরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না।

    শুক্রবার সকালে গাবতলা এলাকার কৃষকদের জন্য নির্ধারিত ডিলার মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সে সার বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক শ কৃষক সেখানে জড়ো হন। ব্রেকিংনিউজ

    কিছুক্ষণ পরই কৃষকেরা সার পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সারি ধরেন। একপর্যায়ে বরাদ্দকৃত সার শেষ হয়েছে বলে জানানো হয় এবং পরিবেশক সার বিক্রি বন্ধ করে দেন।

    এতে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেন।

    স্থানীয় কচাকাটা থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্য সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। খবর পেয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন।

    কৃষক ওমর ফারুক জানান, এক সপ্তাহ আগেও এই কচাকাটায় সারের জন্য আন্দোলন হয়েছে। সে সময় সার সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন ইউএনও। কিন্তু সমাধান হয়নি। দিন যত যাচ্ছে সার সংকট ততই বাড়ছে।

    গাবতলা গ্রামের কৃষক মজিবর বলেন, ‘সারের জন্য চাষাবাদে সমস্যা হচ্ছে। অনেক হয়রানির পরও সার পাওয়া যায় না। তাই সবাই মিলে সড়ক অবরোধ করেছি। ’

    একই গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, ‘ডিলারের কাছে গেলে বলে সার নাই। অনেক দিন ধরে ঘুরছি। আজ লাইন ধরেছিলাম, পরে শুনি সার শেষ। কৃষি কর্মকর্তারা বলে সারের সংকট নাই, তাহলে আমরা সার পাই না কেন?

    মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স সার ঘরের মালিক নাকি জীবিত নেই। তার প্রতিনিধি খায়রুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    উপজেলা কৃষি অফিসার শাহরিয়ার হোসেন বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। আজ দুটি পয়েন্ট থেকে সার বিতরণ করার কথা। একটি পয়েন্টের সার শেষ হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সার না পেয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেছে। আমরা অন্য পয়েন্ট থেকে কৃষকদের চাহিদামতো সার দেওয়ার চেষ্টা করছি।

    এ বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা কিছু সময় সড়ক অবরোধ করেছিলেন। একসঙ্গে অনেকে সার নিতে গিয়ে না পাওয়ায় এ সমস্যা হয়। সবাইকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাই সার পাবেন। সার বিতরণে অনিয়ম পেলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার বেরুবাড়ী, বামনডাংগা ও রামখানা ইউনিয়নে সার না পাওয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন কৃষকেরা।

  • সার সংকটে কৃষকের কাহিল অবস্থা, উৎপাদন ব্যাহত

    সার সংকটে কৃষকের কাহিল অবস্থা, উৎপাদন ব্যাহত

    কয়েকদিন ধরে চলা সার সংকট এখনো কাটেনি। মাঠপর্যায়ে চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না কৃষক। এতে কাহিল অবস্থা তাদের, কৃষি উৎপাদনে পদে পদে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। চলমান এ সার সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে চলতি বছরের আমন উৎপাদনে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন কম হলে সরকারের আমদানিনির্ভরতা বাড়বে।

    এদিকে সার সংকট পরিস্থিতি উত্তরণে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) তদারকি জোরদারের নিদের্শনা দিয়ে গত শনিবার কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। এদিন উচ্চপর্যায়ের আরেকটি তদারকি কমিটিও গঠন করেছে মন্ত্রণালয়।সূত্র জানায়, ইউরিয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নন ইউরিয়ার (টিএসপি ও ডিএপি) তীব্র সংকট চলছে। রোপা আমন ও বীজতলার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য ইউরিয়ার সঙ্গে ওই দুটি সারের যেকোনো একটি মিশিয়ে কৃষিজমিতে ব্যবহার করেন কৃষক। তাদের যুক্তি—এর ফলে ফসলের উৎপাদন বাড়ে। এ কারণে টিএসপি ও ডিএপির জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছেন তারা। কিন্তু বাড়তি দামেও মিলছে না ওই দুটি সার। ফলে ফসল উৎপাদনে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন খোদ কৃষকই।

    কুড়িগ্রামের আদিতমারীর কৃষক রোকনুজ্জামান আমার দেশকে বলেন, টিএসপি ও ডিএপি সার লাইনে দাঁড়িয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলার বলছেন, তাদের সরবরাহ করা হচ্ছে না। অথচ ইউরিয়া সারের প্রতি বস্তা ১,৩৫০ টাকা (প্রতি কেজি ২৭ টাকা), টিএসপি সার ১,৩৫০ টাকা (প্রতি কেজি ২৭ টাকা) এবং ডিএপি সার ১,০৫০ টাকা (প্রতি কেজি ২১ টাকা)। কিন্তু কিনতে গেলে বলা হচ্ছে সার নেই। বস্তাপ্রতি ৫০০-৭০০ টাকা বেশি দিলেও চাহিদার চেয়ে কম দেওয়া হচ্ছে। রোপা আমনে বীজতলার জন্য ইউরিয়ার বাইরে অন্য কোনো সারের চাহিদা থাকে না।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুড়িগ্রামের কৃষক আলম অভিযোগ করে আমার দেশকে বলেন, সার দিতে পারছে না বলেই ওই অজুহাত দাঁড় করানো হচ্ছে। ইউরিয়ার সঙ্গে নন ইউরিয়া মিশিয়ে জমিতে দেওয়া হলে মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে ফসল বেশি উৎপাদন হয়। টিএসপি ও ডিএপির সংকট থাকায় ইউরিয়ার সঙ্গে পটাশ জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে জমিতে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি।

    মেসার্স আজমেরী ট্রেডাসের মালিক (সার ডিলার) আজমীর আলম পলাশ আমার দেশকে বলেন, সরকার থেকে মাসের প্রথমদিকে সার সরবরাহ করা হয়। এটা ১৫ দিন পর্যন্ত কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া যায়। এরপর থেকে সারের সংকট তৈরি হয়। এখন কিছুটা ক্রাইসিস রয়েছে। বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, অনেকেই আমাদের পরিচিত। এ সম্পর্কের কারণে দৈনিক কিছু কিছু সার কেনেন। দেখা যায়, এখান থেকে সরকারি মূল্যে সার কিনে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করেন। এর দায় আমাদের না।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোপা আমন ও এর বীজতলার জন্য ইউরিয়ার প্রয়োজন হয়। এর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, কিন্তু এ সময়ে টিএসপি ও ডিএপির দরকার নেই। কিন্তু কৃষকরা ওই দুটির জন্য চাহিদা দিচ্ছেন। এতে মাঠপর্যায়ে সার সংকট নিয়ে হইচই পড়েছে। এ হযবরল অবস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এজন্য দায়ী ডিলাররা।

    বতর্মান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সার ডিলার নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এর আলোকে ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়ায় পুরোনো ডিলাররা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করছে। এর সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য রাজনৈতিক দলীয় প্রার্থীরাও যোগ দেওয়ায় সংকট প্রকট হয়েছে।

    রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, রবি মৌসুমে টিএসপি ও ডিএপির চাহিদা থাকে। এ সময়ে ইউরিয়ার চাহিদাও থাকে। সারের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে, কিন্তু কিছু ডিলার সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্তিতিশীল করে তুলেছে। এতে ভীত হয়ে কৃষক আগাম টিএসপি ও ডিএপি কিনতে ভিড় করছেন। ফলে নন ইউরিয়া সারের সরবরাহের চেয়ে চাহিদা বেশি আসায় তাদের প্রত্যাশিত সার পাচ্ছেন না কৃষক।

  • শিরোনামহীন পোস্ট 31355

    সার সংকটে দিশেহারা রাজশাহীর আমন চাষিরা

    আমন মৌসুমে ধানের চারা রোপণ ও পরিচর্যার ব্যস্ত সময়ে রাজশাহীর কৃষকদের নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে সার। এক ডিলারের দোকানে সার না পেয়ে অন্য ডিলারের কাছে ছুটছেন কৃষকেরা। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদার তুলনায় সামান্য সার মিলছে, আবার কোথাও ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। এ সুযোগ নিয়ে সরকারি দামের চেয়ে ৫০০-৭০০ টাকা বেশি দরে সার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

    গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার নজরুল ইসলামের দোকানে সারের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। দেওপাড়া গ্রামের কৃষক আল্লাম জানান, সকাল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাজীহাটা গ্রামের কৃষক বাবলু ১০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। নিজের এলাকার ডিলারের কাছে ইউরিয়া না পেয়ে দেওপাড়ায় এলেও মাত্র ২০ কেজি সার দেওয়ার কথা শুনে তিনি সার না নিয়েই বাড়ি ফেরেন।

    পবার ভিমের ডাইং গ্রামের কৃষক হারুন অর রশিদ ডিএপি না পাওয়ার কথা জানান। গোদাগাড়ীর কদমশহরের কৃষক রাশিদুল ইসলামও নিজের এলাকার ডিলারের কাছে সার না পেয়ে অন্য এলাকায় ছুটেছেন। তিনি বলেন, ‘শুধু ইউরিয়া দিলে ধানের ফলন ঠিক রাখা কঠিন।’ একই এলাকার আকবর আলী দুই বস্তা ইউরিয়া পেলেও ডিএপি পাননি।

    চারঘাটেও একই চিত্র। ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের আকাশ এন্টারপ্রাইজে টিএসপির জন্য কৃষকদের ভিড় দেখা যায়। কেউ

    এক বস্তার বদলে ২৫ কেজি, আবার কেউ দুই বস্তার চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১৫ কেজি সার পেয়েছেন।

    ডিলারের কর্মচারীর দাবি, ১০ মেট্রিক টন টিএসপি পাওয়ার পর অবশিষ্ট ছিল মাত্র ২৯ বস্তা। তাই সবাইকে অল্প অল্প করে দেওয়া হচ্ছে।

    সারের সংকটের পাশাপাশি বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ীহাটে এক কৃষক ৫০ কেজির এক বস্তা ডিএপি ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কিনেছেন, যেখানে সরকারি মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা। একই দোকানে ইউরিয়া বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ডিএপি ৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন।

    জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে রাজশাহীতে ইউরিয়ার বরাদ্দ ৭ হাজার ৫৭৪ মেট্রিক টনের বিপরীতে পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৭২৪ টন। ডিএপির ২ হাজার ৬৪৭ টনের বিপরীতে এসেছে ২ হাজার ১৮২ টন। টিএসপির ১ হাজার ৫১১ টনের মধ্যে পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৪০ টন এবং এমওপির ১ হাজার ৭৬০ টনের বিপরীতে এসেছে ১ হাজার ৪৯৬ টন।চলতি আমন মৌসুমে রাজশাহীতে ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এর বাইরে জেলার প্রায় ১৭ হাজার ৭৭৪ হেক্টর পুকুরে মাছ চাষেও সার ব্যবহৃত হয়। ফলে কৃষিজমির বরাদ্দের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

    রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা কম। বেশি দামে সার বিক্রি বা অবৈধ মজুদের অভিযোগ পেলে অভিযান চালানো হচ্ছে।’

    জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের দাবি, রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। কোথাও বেশি দামে বিক্রি বা পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    মাঠে সার না পাওয়ার তথ্য পেলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    গত কয়েক দিনে পবা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর ও চারঘাটে অভিযান চালিয়ে সার বাইরে বিক্রি ও অবৈধ মজুদের অভিযোগে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

  • বিসিআইসি-বিএডিসি সার ডিলার নামে বিভাজন থাকছে না

    বিসিআইসি-বিএডিসি সার ডিলার নামে বিভাজন থাকছে না

    কৃষকদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন ও সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার ডিলার সংরক্ষণ সংক্রান্ত নীতিমালাÑ২০২৫ (সংশোধিত)’ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
    এ লক্ষ্যে রোববার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিদপ্তর থেকে অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

    জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি উপজেলায় ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার বিতরণের জন্য ন্যূনতম ৯ জন ডিলার রাখতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট জেলার চাহিদা ও কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ বিবেচনায় ডিলারের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও জেলা ডিলার সমবায়ের সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নতুন ডিলারদের নিজস্ব গুদাম, গোডাউন এবং সার বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভিস সেন্টার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


    বিদ্যমান ডিলারদের লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার চাহিদা, জেলাভিত্তিক কোটা এবং নীতিমালার শর্ত পূরণের বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থে জেলা কমিটি ডিলারদের জন্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করবে।নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ডিলার নীতিমালা লঙ্ঘন করলে বা নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করলে তার ডিলারশিপ বাতিল করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।


    এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিতে পারবেন। নীতিমালার বিস্তারিত তথ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
    আদেশে বলা হয়েছে, সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই সংশোধিত নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
    বিলুপ্ত হলো সাব-ডিলার ব্যবস্থা সারাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের কাছে সার বিক্রির জন্য বিসিআইসি ডিলারদের আওয়তায় সরকারিভাবে নিয়োগ দেওয়া হলেও ‘অনিয়ন্ত্রিত’ সাব-ডিলার বা খুচরা সার বিক্রেতা ব্যবস্থা রহিতকরণ করা হয়েছে সংশোধিত নীতিমালায়।


    ফলে সারাদেশের ওয়ার্ড পর্যায়ে নিয়োগ পাওয়া কয়েক লাখ ‘অনিয়ন্ত্রিত’ খুচরা সার বিক্রেতার লাইসেন্স সংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।
    তবে সংশোধিত নীতিমালায় নতুন ডিলারদের নিজস্ব গুদাম, গোডাউন এবং সার বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভিস সেন্টার থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
    বিসিআইসি-বিএডিসি ডিলার নামে বিভাজন থাকবে না দীর্ঘদিন ধরে একই দেশের দুইটি রাষ্টত্ব সংস্থা বিসিআইসি এবং বিএডিসি আলাদা আলাদা সার ডিলার নিয়োগ করে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি কার্যক্রম চালু রেখেছিলো। এতে চাহিদার চেয়ে তুলনামূলক সামান্য বরাদ্ধ পেতেন বিএডিসি ডিলাররা। এতে তাদেরমধ্যে ক্ষোভ-হতাশা ছিলো। তবে সংশোধিত নীতিমালায় পুরাতন সেই আলাদা ডিলার ব্যবস্থা বাতিল করে একটি সমন্বিত ডিলার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে বিসিআইসি ডিলার বা বিএডিসি ডিলার নামক কোনো বিভাজন থাকবে না।


    একই পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ নয়নীতিমালায় একই পরিবারে একাধিক সার ডিলার নিয়োগের সুযোগ রহিতকরণ করা হয়েছে। ফলে একই পরিবারে বিসিআইসি বা বিএডিসির একাধিক সার ডিলার লাইসেন্স থাকলে তা বাতিল হবে।


    সার উৎপাদনকারী-সরবরাহকারীদের ডিলার পর্যায়ে সার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ সংশোধিত নীতিমালায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওয়তাধীন দেশীয় সার উৎপাদনকারী টিএসপি কমপ্লেক্স বা ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এবং বেসরকারিভাবে আমদানী করা নন ইউরিয়া সার আমদানীকারক বা সরকারি সারের পরিবহণ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি ডিলার বা উপজেলা পর্যায়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।