সরকার

  • তিন মাসে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার

    তিন মাসে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক খাত থেকে ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া ঋণের চেয়ে বেশি পরিশোধ করেছিল সরকার। ফলে ওই সময়ে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ৬ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল।

    খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হওয়ায় পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে সরকারের। অন্যদিকে, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে চাপে রয়েছে বেসরকারি খাত। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, আবার চালু প্রতিষ্ঠানগুলোও উৎপাদন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়ও চাপে পড়েছে। এজন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বেড়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২৩ হাজার ২২৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ৪ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ তখন সরকার ঋণ নেওয়ার চেয়ে বেশি পরিশোধ করেছিল।

    এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।

    চলতি অর্থবছরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের মোট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রথম তিন মাসেই এর প্রায় ২১ দশমিক ৬৫ শতাংশ ঋণ নিয়েছে সরকার।

    বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। অতীতের কোনো সময়েই এনবিআর এ ধরনের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি যেতে পারেনি।

    তিনি আরো বলেন, আগামীতে সরকারের ঋণের বোঝা ও আর্থিক চাপ আরো বাড়বে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে সরকারের পরিচালন ব্যয়ে ন্যূনতম ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত যোগ হবে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা খাতে নতুন কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় ভর্তুকির ব্যয়ও বেড়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমানো গেলেও তা পুরোপুরি কমানো সম্ভব হবে না।

    জাহিদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন কারণে সরকারের ব্যয়ের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে অদূর ভবিষ্যতে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই। এমনকি আগের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ধরে রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি বেড়েছে ২৩ হাজার ২২৮ কোটি টাকা।

    অন্যদিকে, গত সেপ্টেম্বর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। গত জুন শেষে এর পরিমাণ ছিল ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৭২১ কোটি টাকা।

    ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ায় আপাতত বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। তবে সরকারের ঋণের সুদের হার কমে আসায় ব্যাংকগুলোর আয় কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের ঋণের সুদহার আমানতের সুদহারের চেয়েও কমে গেছে। এতে ব্যাংকগুলোর মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

    এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত জুলাই ও আগস্টে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এ সময় লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে এনবিআর।

  • ডিজেলে দৈনিক ১০৯ কোটি টাকা লোকসান গুনছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

    ডিজেলে দৈনিক ১০৯ কোটি টাকা লোকসান গুনছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

    বর্তমানে শুধু ডিজেলেই প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৮৯ টাকা করে লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য জানান জাহেদ উর রহমান। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় জানাতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

    ব্রিফিংয়ে জাহেদ উর রহমান আরও জানান, প্রতিদিন কেবল ডিজেল খাতেই প্রায় ১০৯ কোটি টাকা সরকার লোকসান দিচ্ছে। অর্থাৎ শুধু ডিজেলে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা সরকারের লোকসান হবে।

    উপদেষ্টা আরও জানান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান মেনে নিয়ে দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু এ ধারাবাহিক লোকসান হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে জ্বালানি তেল পাচারের বড় ঝুঁকি এড়াতে সরকারকে জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্নির্ধারণ বা সমন্বয় করতে হয়েছে।

    লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিনের মূল্য ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    পার্শ্ববর্তী ও এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি তেলের দামের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে তথ্য উপদেষ্টা জানান, ভারতের কলকাতায় বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১৩৪.৭৬ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪.৮৩ টাকা, নেপালে ১৬১.২৪ টাকা, শ্রীলংকায় ১৭৯.৪২ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১.২২ টাকা এবং পাকিস্তানে ১৮৫.৪৮ টাকা।

    বাংলাদেশে দর সবচেয়ে কম থাকায় প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় কেনা তেল সীমান্তে পাচারের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লিটারে ২০ টাকা সমন্বয় করায় বছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে।

    জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উদ্যোগ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপ উদ্বোধনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে করে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাবে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বিজিএফসিএলের অধীন এলাকাগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।

    ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

    সম্পাদকের নোট: দাম সমন্বয়ের পর প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারের লোকসান প্রায় ৭০ টাকা বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রতি লিটারে প্রায় ৮৯ টাকা লোকসানের হিসাবটি ২১ সেপ্টেম্বর দাম সমন্বয়ের আগের অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

  • মহাসড়কের পাশে ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু হচ্ছে, বদলে যাচ্ছে নাম

    মহাসড়কের পাশে ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুত চালু হচ্ছে, বদলে যাচ্ছে নাম

    দেশের মহাসড়কগুলোর পাশে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃতভাবে পড়ে থাকা ২৪টি ট্রমা সেন্টার দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এসব ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে নামকরণ করা হবে। একই সাথে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    দীর্ঘদিন পড়ে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য লজিস্টিকস নিশ্চিত করে ২৪টি কেন্দ্রেই পর্যায়ক্রমে চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে। গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক বৈঠকে এসব কেন্দ্র চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    বৈঠকে বিদ্যমান ২৪টি ট্রমা সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ নামে নামকরণ করতে হবে এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সাথে আলোচনা করে সড়ক ও মহাসড়কের পাশে খালি জায়গায় প্রকল্পের মাধ্যমে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধন্ত গ্রহণ করা হয়।

    এ ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স ও যন্ত্রপাতির সংস্থান স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অনুমোদিত বাজেট থেকে নির্বাহ করতে হবে বলেও বৈঠকে নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

    সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন সময়ে এই ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালু করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল আহতদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় এনে প্রাণহানি কমানোই। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায়, বছরের পর বছর ধরে এসব সেন্টার অব্যবহৃত পড়ে আছে।

    স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি ও ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে মাত্র দুটিতে সীমিত পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। একটি সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল বিশেষ করে মাথা, বুক, মেরুদণ্ড ও হাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীর দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। তিন তলা ভবনে ২০ শয্যার আইসিইউ ও ৪০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

    এমনই একটি কেন্দ্র হলো সিরাজগঞ্জ সদরের মুলিবাড়ি ট্রমা সেন্টার। ঢাকা-রাজশাহী-রংপুর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে ২০২০ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়। ছয় বছর অব্যবহৃত থাকার পর গত কোরবানির ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের সেবা দিতে ২১ মে থেকে ১৪ দিনের জন্য অস্থায়ীভাবে কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। পরে এটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।

    পাবনার আটঘরিয়া, বগুড়ার শেরপুর, সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গোপালগঞ্জ সদর, মাদারীপুরের শিবচর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, শরীয়তপুরের জাজিরা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা (মধুখালী), মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর, ঢাকার ধামরাই, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, হাটহাজারী ও রাউজান, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ময়মনসিংহের ভালুকা, সুনামগঞ্জের ছাতক এবং হবিগঞ্জের বাহুবলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব কেন্দ্র অবস্থিত।

    মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রমা সেন্টারে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেটিস্ট ও দুজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা ছিল।

    এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন নার্সের পাশাপাশি ফার্মাসিস্ট, রেডিওগ্রাফার ও অন্যান্য টেকনিশিয়ান থাকার কথা ছিল।

    তবে কোনো কেন্দ্রেই প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বাসস’কে বলেন, ‘মহাসড়কগুলোকে কেন্দ্র করে আমরা চব্বিশটি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই এগুলোকে ‘অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সেন্টার’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতে এটিকে আমাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যব্যবস্থার (হেলথ সিস্টেম) একটি টেকসই অংশ হিসেবে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

  • কাউকে গুম করেনি সরকার, ভবিষ্যতেও করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কাউকে গুম করেনি সরকার, ভবিষ্যতেও করতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে গুম করতে দেবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নতুন গুমবিরোধী আইনের মাধ্যমে দেশে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

    রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। বরং জুলাইয়ের ঘটনাকে ‘জঙ্গি হামলা’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এটিকে তিনি বিশ্বব্যাপী লজ্জাজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরও বিচার নিশ্চিত করা হবে।

    নিজে গুমের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিজে গুমের শিকার হওয়ার পর এই আইন দুর্বল হোক, সেটা কী চাইতে পারি?’ তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কাউকে গুম করেনি এবং ভবিষ্যতেও কাউকে গুম করতে দেবে না।

    বিরোধী দলের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন ও ওয়াকআউটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াকআউট কোনো সমাধান নয়। বরং সব বিষয়ে আলোচনা করা উচিত। কোনো কিছু না বলে বা না শুনে ওয়াকআউট করলে জাতি তাদের বক্তব্য থেকে বঞ্চিত হবে।

    জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগের তুলনায় গুমবিরোধী আইন আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। গুমের শিকার ব্যক্তিরা মামলা করলে সরকার তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।

  • কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল ও প্রশ্নের মান নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি, এই আন্দোলনে অনেক অছাত্রও এসেছিল। তাই এখন পর্যন্ত বিষয়টিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। সরকারকে বিব্রত করতে চায় কিছু মহল। তারা মূলত ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এমন আন্দোলনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছে, সরকারকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে যে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় তাদের আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞানের দুটি প্রশ্ন ভুল হয়েছিল, সে জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত পরিচালনা করবে। দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে। তবে ওই দুটি প্রশ্নের নম্বর যুক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যারা পরীক্ষার্থী তারা সন্তুষ্ট। এর পরেও যদি কেউ তার পরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে থাকে বা না করতে পারে, তাদের পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা চলার সময় সুযোগ দেওয়া হবে। এখানে তো সমস্যার সমাধান হয়ে গেল।

    এসময় তিনি বলেন, একটা মন্তব্যের কারণে অনেকে দুঃখ পেয়েছেন, আর সে জন্য শিক্ষামন্ত্রী সংসদে তার বক্তৃতায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

    যারা সরকারকে বিব্রত করতে চাচ্ছে তাদের জন্য কী বার্তা, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো আমরা খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। আমরা দু-একটি জেলায় ও ঢাকার দু-একটি স্পটে দেখেছি, তাদের সংখ্যা বেশি না যারা এগুলো নিয়ে কথা-বার্তা বলছে। হয়তো মিডিয়াতে এসেছে, এ জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। এগুলোতে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না।