ট্যাগ সরকারি কর্মচারী

  • তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন, ২০২৮ থেকে একযোগে নতুন ভাতা

    তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন, ২০২৮ থেকে একযোগে নতুন ভাতা

    সব সরকারি চাকরিজীবী পাবেন মোবাইল ভাতা, পেনশনে বড় পরিবর্তন

    নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন। এত দিন নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সুবিধা পেতেন। একই সঙ্গে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের নিট পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    তবে নতুন বেতন কাঠামোর সব সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পেনশনও ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

    সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন স্কেলটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

    সবার জন্য মোবাইল ভাতা
    নতুন বেতন কাঠামোর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের একটি হলো মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানো। নতুন জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী ১ম থেকে ২০তম-সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী এ ভাতা পাবেন।

    এত দিন ৫ম গ্রেড পর্যন্ত নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পেতেন। সরকারি দপ্তরগুলোতে ই-মেইল, অনলাইন সভা, ডিজিটাল ফাইল ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক কাজ বাড়ায় প্রায় সব পর্যায়ের কর্মচারীকেই ব্যক্তিগত মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে।

    কম পেনশন যাদের, বাড়বে তাদের বেশি
    নতুন বেতন কাঠামোয় পুরোনো পেনশনারদের জন্যও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র‌্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি) এখনই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি এবং এর জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে এটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    এর আগে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পেনশন বাড়ানোর নতুন ফর্মুলা অনুমোদন করা হয়েছে। এতে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা বেশি হারে সুবিধা পাবেন।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
    ৯ হাজার টাকা বা এর কম নিট পেনশন হলে বাড়বে ১০০ শতাংশ।
    ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৭৫ শতাংশ।
    ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৬৫ শতাংশ।
    ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৬০ শতাংশ।
    ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি হলে বাড়বে ৫৫ শতাংশ।

    ফলে দীর্ঘদিন আগে অবসর নেওয়া এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা এ সিদ্ধান্তে বেশি সুবিধা পাবেন।

    মূল বেতন বাড়বে তিন ধাপে
    জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ সরকারি চাকরির ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

    সরকারের হিসাবে, নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন আগের তুলনায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে।

    তবে পুরো বেতন বৃদ্ধি একবারে কার্যকর হবে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    সরকারের এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অন্যতম কারণ একসঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয়ের চাপ এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা।

    প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা
    নতুন বেতনস্কেলে প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসিক ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য একজন সরকারি কর্মচারী মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অতিরিক্ত পরিচর্যা ও পরিবারের বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    উপকৃত হবেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ
    নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।

    সব মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ নতুন ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন।

    এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এ ব্যয়ের সংস্থান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • ১ জুলাই পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে বাতিল হবে ‘বিশেষ সুবিধা’

    ১ জুলাই পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে বাতিল হবে ‘বিশেষ সুবিধা’

    সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চালু থাকা ‘বিশেষ সুবিধা’ বা বিশেষ ইনক্রিমেন্ট আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বাতিল হতে পারে। কারণ ওই সময় থেকে নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলের আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন (বেসিক) সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। বেতন কাঠামোয় এ ধরনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হওয়ায় বর্তমানে চালু থাকা বিশেষ সুবিধা নতুন পে স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাহার করা হবে।

    বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা ভোগ করছেন। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা পাচ্ছেন ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা।

    সূত্র জানায়, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের মূল বেতন প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়বে প্রায় ৪০ শতাংশ। ফলে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বহাল রাখার প্রয়োজনীয়তা থাকবে না এবং তা বাতিল করা হবে।