৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নিতে খুলনা থেকে ঢাকায় আসছিলেন শেখ মিশা খাতুন। পথে গোপালগঞ্জের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।
নিহত শেখ মিশা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। শোকবার্তায় বলা হয়, শেখ মিশা খাতুন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনে খুলনায় পরীক্ষক (কেমিক্যাল) পদে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও নিজের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে ৫০তম বিসিএসের ভাইভায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি ঢাকার পথে যাত্রা করেছিলেন। তবে সেই যাত্রাই তার জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়।
শেখ মিশা খাতুনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। শোকবার্তায় বলা হয়, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও সম্ভাবনাময় প্রাণের এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত অপূরণীয় ক্ষতি। তার স্মৃতি সবার মাঝে চিরদিন বেঁচে থাকবে।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদের সই করা শোকবার্তায় মিশা খাতুনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়া শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দার উদ্দেশে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরগামী একটি গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই জনের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়।
সোমবার দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কানাইঘাটের দুই প্রবাসী হলেন আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। তারা উপজেলার গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামের বাসিন্দা।তবে অন্য দুই জনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান তারা।
দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর পাওয়ার পর তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাদের সান্ত্বনা দেন। এ ঘটনাকে পরিবার দুটির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন তিনি।উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী নিহত হন। এরপর জুলাই মাসে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও এক কানাইঘাট প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে তায়েফে নতুন করে দুই কানাইঘাট প্রবাসীর প্রাণহানির ঘটনায় উপজেলাজুড়ে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬২ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৭৫০ জন। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর সড়ক দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের স্বাক্ষর করা প্রতিবেদনটি গত ১২ জুলাই অনুমোদন করা হয় এবং ১৩ জুলাই অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সারাদেশের বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ১৭১টি দুর্ঘটনায় ১৪৩ জন নিহত এবং ২৬৪ জন আহত হয়েছেন।
ঢাকা বিভাগে ১১৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০৩ জন, আহত হয়েছেন ১৭৬ জন। রাজশাহী বিভাগে ৬৫টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ৬৬ জন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ৮৮ জন আহত হয়েছেন। বরিশালে ৩৫টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত এবং ৭৯ জন আহত হয়েছেন। সিলেটে ২১টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। রংপুরে ৪৭টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন। ময়মনসিংহে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন।বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৮২৭টি যানবাহন জড়িত ছিল। এর মধ্যে মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রয়েছে।
যানবাহনভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। শুধু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১২১ জন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনায় ৭১ জন, অন্যান্য যানবাহনের দুর্ঘটনায় ৯৪ জন, বাস ও মিনিবাস দুর্ঘটনায় ৪৫ জন, অটোরিকশা দুর্ঘটনায় ৪১ জন, পিকআপ দুর্ঘটনায় ২৬ জন এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। বিআরটিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, জুন মাসে মোটরকার বা জিপ দুর্ঘটনায় ১২ জন, মাইক্রোবাসে ৬ জন, অ্যাম্বুলেন্সে ৪ জন, ভ্যান দুর্ঘটনায় ১১ জন, ট্রাক্টরে ২ জন এবং ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সচেতন করা গেলে নিরাপদ সড়ক বিনির্মাণের পাশাপাশি সুশৃঙ্খল জাতী গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, মিরসরাই ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতনতা তৈরির মত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাণহানি ঘটছে। আহত হচ্ছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে ৩২০ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ১০৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
মিরসরাই ট্রাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ ১১ জুলাই শনিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব এ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হয়। দেশের ইতিহাসে এক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির এমন দুর্ঘটনার পরে সরকার শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতামুলক কোন কর্মসূচি নেয়নি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠেনি। এমন বাস্তবতায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝড়ছে দাবি করে অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান জীবন রক্ষায় ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭শিক্ষার্থী নিহত ও ১১আহত হয়েছে। মার্চ মাসে
৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭শিক্ষার্থী নিহত ও ০১ জন আহত হয়েছে। এপ্রিল মাসে ৫১টি সড়ক দুর্ঘটনা ৫৬শিক্ষার্থী নিহত ও ২৫জন আহত হয়েছে। মে মাসে ৬১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৩শিক্ষার্থী নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছে। জুন মাসে ৫৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬০শিক্ষার্থী নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে।
সড়কে প্রাণহানি কমাতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ৫ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে।
১.পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচতেনতামূলক পাঠ্যসূচি অন্তর্ভুক্ত করা।
২.প্রতিমাসে কমপক্ষে ০১ বার কমন রুমে ঘণ্টাব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞদের সমম্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা।
৩.জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রতিটি সড়ক পারপারের স্পটে, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্র্থীদের পারাপার স্থানে জেব্রা ক্রসিং অংকন করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড সাঁটানো।
৪.জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সড়ক পারাপারে “রোড সেইফটি গার্ড” লাল পতাকা হাতে নিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করা।
৫.প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ও শিক্ষকের সমম্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা।
স্ত্রী ও তিন সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ শহিদুল, শোকে স্তব্ধ ঝিকরগাছা
মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১১ বছর পর দেশে ফিরছিলেন ছেলে। তাঁকে আনতে ঢাকা বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন মা, ভাই-বোন ও স্বজনরা। কিন্তু বাড়ি ফেরা আর হলো না তাঁদের। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পরিবারের চার সদস্য। আর বাড়িতে থাকার কারণে বেঁচে গেছেন শুধু বাবা শহিদুল ইসলাম। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হারিয়ে এখন তিনি পাগলপ্রায়। এক পরিবারের চারজনের মৃত্যুর খবরে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
আজ মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় নিহত হন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের নুরজাহান বেগম, তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলাম ও রাকিবুল ইসলাম এবং মেয়ে আয়েশা বেগম। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান গাড়িচালকও। এ ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে আরিফুলের বোনের তিন বছর বয়সী মেয়ে ও ছয় বছরের ছেলে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে আসতে শুরু করেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তাঁদের আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।
স্থানীয়রা জানান, পরিবারটির সুখের দিন ফিরেছিল অনেক কষ্টের পর। বড় ছেলে আরিফুল ইসলাম ১১ বছর আগে অভাবের সংসারের হাল ধরতে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে উপার্জিত অর্থে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরে। তাঁর দেশে ফেরাকে ঘিরে বাড়িতে ছিল উৎসবের আমেজ। আগামীকালই তাঁর পাত্রী দেখতে যাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে। দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে হারিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শহিদুল ইসলাম। পরিবারের ৫ সদস্যের মধ্যে শুধু বাড়িতে থাকার কারণে বেঁচে গেছেন তিনি। স্বজনদের হারিয়ে পাগলপ্রায় শহিদুল ইসলাম।
আরিফুলের মামা নজরুল ইসলাম বলেন, আরিফ ১১ বছর বিদেশ ছিল। সোমবার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরে নেমেছিল। সন্তানকে আনতে গিয়েছিলেন মা নূরজাহান বেগম ও তাঁর দুই সন্তান, নাতি–নাতনি। ফেরার পথে একই পরিবারের চারজন মারা গেছেন। বাবা শহিদুল ইসলাম ছাড়া এখন পরিবারের আর কেউ থাকল না।
একই পরিবারের চারজনকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারি। ছবি: সংগৃহীত
আরেক মামা আবদুল কাদের বলেন, ১৮ বছর বয়সে বিদেশ গিয়েছিল আরিফুল। অভাবের সংসার ছিল। এখন তাদের সুখের সংসার। যখন সুখ ভোগ করবে তখন পরিবারের চারজন চলে গেল।
মামাতো ভাই মিন্টু রহমান বলেন, ফরিদপুরে তাঁদের মরদেহ আনতে গেছেন স্বজনেরা। রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিস-উর রহমান বলেন, আরিফুলের মা নুরজাহান বেগম সংরক্ষিত ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করায় এলাকায় বেশ পরিচিত ছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে খোশালনগর-বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা ফায়ার স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর বলেন, ‘ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সংবাদ পেয়ে আমরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাইভেট কারের চালক ও যাত্রীদের উদ্ধার করি। এ সময় প্রাইভেট কারের চালক প্রাইভেট কারসহ ট্রাকের পেছনে আটকে ছিল। পরবর্তীতে প্রাইভেট কারটি কিছু অংশ কেটে চালকের লাশ উদ্ধার করা হয়।’ তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নীলফামারীর ডোমারে বাস, ট্রাক ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে নীলফামারী থেকে ডোমার মহাসড়কের হরিণচড়া ইউনিয়নের শালমারা নিলাহাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ডেস্ক নিউজঃ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডোমার বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে এসে একটি যাত্রীবাহী বাস নীলফামারীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময়ে শালমারা নিলাহাটি নামক স্থানে পোঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসের ধাক্কায় পাশে থাকা একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। একইসঙ্গে যাত্রীবাহী বাসটিও সড়কের নিচে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে বাস ও অটোরিকশার ১২ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ডোমার থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে যানবাহনগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বাস, ট্রাক ও অটোরিকশাটি থানা হেফাজতে রয়েছে।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় শিমুলিয়া ভান্ডারির মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার রুবেল (২০) ও রিতি (৮)। তারা সিএনজির যাত্রী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি সিএনজি নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই রুবেল মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় রিতিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
দুর্ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন এবং তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ পাঠানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ইজিবাইক (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) ও মাহেন্দ্র অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে তিন মাস বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে সাতজন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চাপরাইল ব্রিজ-সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী।
নিহত শিশু ঋষি মজুমদার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের জোয়ারিয়া গ্রামের রায়মোহন মজুমদারের ছেলে।
ওসি আইয়ুব আলী বলেন, যাত্রীবাহী একটি মাহেন্দ্র কোটালীপাড়া থেকে টুঙ্গিপাড়া আসছিল। অন্যদিকে যাত্রীবাহী একটি ইজিবাইক জোয়ারিয়া থেকে কোটালীপাড়ার মাঝবাড়ি যাচ্ছিল। গাড়ি দুটি গোপালপুরের চাপড়াইল ব্রিজ-সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তখন ইজিবাইকে থাকা মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তিন মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছে। স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে নেয়।
এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান ওসি।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় জীবন চন্দ্র (২০) নামের এক গার্মেন্টস শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে লিংক রোডের চাঁদমারী এলাকায় ট্যাক্সিস্ট্যান্ডের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জীবন চন্দ্র নামের এক তরুণ বাইসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় ইজিবাইকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে যান। এরপরেই পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান তাঁকে চাপা দেয়। চাপা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাভার্ড ভ্যানটি দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক মিলন ফকির জানান, নিহত তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক আইনে মামলা করা হবে।
ঝিনাইদহ সদরে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় রাশিদুল ইসলাম ওরফে মধু মুন্সি (৬৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার কোদালিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাশিদুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে স্থানীয় মসজিদে যাচ্ছিলেন রাশিদুল ইসলাম।পথে একটি পিকআপ ভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’