সংসদ

  • সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিতে স্পিকার; শোকর করেন অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন

    সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিতে স্পিকার; শোকর করেন অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন

    জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান। তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, শোকর করেন যে অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন এখানে।

    আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনার সময় অনেক মন্ত্রীর আসন ফাঁকা ছিল। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি নিয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাইফুল আলম খান। তিনি বলেন, তিনি লক্ষ করছেন বাজেট অধিবেশনে বেশির ভাগ সময় অধিকাংশ মন্ত্রী উপস্থিত থাকেন না।

    জামায়াতে ইসলামীর এই সদস্য বলেন, ‘এইখানে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তারপরে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অনেক মন্ত্রী নাই। মন্ত্রীদের চেয়ার সব খালি। এ ব্যাপারে আপনার সহযোগিতা চাচ্ছি মাননীয় স্পিকার।’

    জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি দেখতে চাই। শোকর করেন যে অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন এখানে। কিন্তু অন্যান্য মন্ত্রীদেরও অনুরোধ জানাবেন সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে। বাজেট সেশন গুরুত্বপূর্ণ সেশন। তাঁরা থাকলে আমরা বাধিত হব।’

    স্পিকারের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অনেক মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন, তবে সংসদে তাঁদের উপস্থিত থাকা উচিত। অর্থমন্ত্রী আগাগোড়াই এখানে উপস্থিত আছেন। বাজেট–সংক্রান্ত বিষয়ে সব খাতের বিষয়ে সবশেষে অর্থমন্ত্রীই বলবেন।’

    চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সব সময় উপস্থিত থাকেন। অন্য মন্ত্রীরাও থাকেন। তবে তিনি আশা করেন, যাঁরা উপস্থিত থাকেন না তাঁরা যেন উপস্থিত থেকে সংসদ উপভোগ করেন।’

    এ পর্যায়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিরোধী দলের সংসদ সদস্য বললেন আমাদের মন্ত্রীরা নাই, ঠিক আছে। বলার আগে যদি নিজের দিকে তাকিয়ে বলতেন, সংসদে বিরোধী দলের নেতা এবং উপনেতা দুজনের কেউই নাই। তারাও যাতে ঠিকমতো থাকে।’

    প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের নেতা না থাকলে অসুবিধা নেই, মন্ত্রীদের থাকা প্রয়োজন। তবু সংসদের সৌন্দর্য রক্ষার্থে সবারই থাকা বাঞ্ছনীয়।

  • এমপি মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি চবি ছাত্রী সংস্থার

    এমপি মনিরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি চবি ছাত্রী সংস্থার

    বোরকা-নিকাব নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে কুমিল্লা-৬ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রী সংস্থা। সোমবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে সংগঠনটির নেত্রীরা এসব দাবি উত্থাপন করেন। মানববন্ধনে ছাত্রী সংস্থার নেতাকর্মীরা বোরকা-নিকাব ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল, ‘আমার পোশাক হিজাব-নিকাব, আমার আভিজাত্য’, ‘ধর্মীয় অবমাননার শেষ কোথায়?’, ‘পর্দা আমার ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার’, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে হেয় করার স্বাধীনতা হতে পারে না’ প্রভৃতি।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চবি শাখা ছাত্রী সংস্থার সেক্রেটারি জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা। তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়ে সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য বোরকা-নিকাবকে বউ বদলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বিরোধী দলীয় নারী সংসদ সদস্যদেরও কটাক্ষ করেছেন। দেশের সাধারণ মানুষ একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশা করে না।”

    তিনি আরও বলেন, “একজন সংসদ সদস্য যখন জাতীয় সংসদের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দাঁড়িয়ে এ ধরনের মন্তব্য করেন, তখন দেশের নারী সমাজ ব্যথিত হয়। আমরা তার এই বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং দেশের নারী সমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানাচ্ছি।”

    মানববন্ধন শেষে সংগঠনের প্রচার সম্পাদিকা তাওফিকা রহমান আট দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— জাতীয় সংসদে নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিয়ে দেওয়া অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা; জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে নারীর ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা; ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাকের কারণে নারীদের প্রতি বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন; দেশে সংঘটিত সকল ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।

    এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনপরিসরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

    সংগঠনটির নেত্রীরা বলেন, নারীর ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক ও মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে একটি নিরাপদ, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।