শোকজ

  • সংঘর্ষ জড়িত জবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে শোকজ

    সংঘর্ষ জড়িত জবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে শোকজ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের নবীনবরণ ও কনসার্ট অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।

    বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অফিশিয়াল প্যাডে এ শোকজ দেওয়া হয়।

    শোকজ পাওয়া দুই নেতা হলেন- জবি শাখা ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি।

    নোটিশে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে ওই দুই নেতার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

    নোটিশে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ নির্দেশনা দিয়েছেন।উল্লেখ্য, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জবি শাখা ছাত্রদল আয়োজিত কনসার্ট অনুষ্ঠান চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঁঠালতলা এলাকায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হন বলে জানা যায়। আহতদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত লাগে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আহতদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কনসার্ট চলাকালে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের এক গ্রুপের কর্মীর সঙ্গে অন্য গ্রুপের এক কর্মীর কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঁঠালতলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে জানা গেছে।

    তবে জবি শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার ও সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

  • ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ: শিক্ষা কার্যালয়ের ২ কর্মীকে শোকজ

    ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ: শিক্ষা কার্যালয়ের ২ কর্মীকে শোকজ

    মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে বারবার ঘুষ দাবির মুখে পড়েছিল একটি পরিবার। নিজের পাসপোর্ট করতেও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় ১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদ। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষের এই অপসংস্কৃতির প্রতিবাদ জানাতে সে তৈরি করে ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site) নামের একটি ওয়েবসাইট।

    শাহেদের তৈরি ওয়েবসাইটের নেপথ্যের কারণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুই কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    নোটিশ পাওয়া দুজন হলেন- হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান (সবুজ) এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মজিবুর রহমান।

    সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে তাদের নোটিশ দেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন।

    তিনি বলেন, কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, তা লিখিতভাবে জানাতে দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    ‘মায়ের মৃত্যুর পর পেনশনের টাকা পেতে ঘুষ দাবি, ক্ষোভে কিশোর শাহেদের ‘ঘুষ.সাইট’’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শাহেদের বাবা ও প্রয়াত শিক্ষিকা আমিনা খাতুনের স্বামী শরীফুল ইসলামকে (শামীম) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে ডাকা হয়। বেলা ১১টার দিকে তিনি সেখানে যান। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।

    শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের পর খুব দ্রুত কাজ হতে শুরু করেছে। আগের তৈরি নথিপত্র পরিবর্তন করে নতুন নথি প্রস্তুতের কাজ করা হচ্ছে। এটি করতে আরও কিছু সময় লাগবে। আশা করছি, দ্রুত আমাদের পাওনা পেয়ে যাব।’

    শাহেদ শরীফ আহমেদ ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বাবার সঙ্গে থাকে। সে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীন কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছে। তার বাবা শরীফুল ইসলাম (শামীম) আগে সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। শাহেদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকায়।

    তার মা আমিনা খাতুন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর শারীরিক অসুস্থতায় তিনি মারা যান।

    পরিবারের অভিযোগ, চাকরির ১৩ বছরের মাথায় আমিনা খাতুনের মৃত্যুর পর তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের (ভবিষ্য তহবিল) প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ দিতে হয়েছে। এরমধ্যে ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার টাকা, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার টাকা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৮ হাজার টাকা- সব মিলিয়ে ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

    এছাড়া কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ টাকা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্য ৮ লাখ টাকা পেতে শিক্ষা কার্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

    পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সরকারি পাওনা পেতে ঘুষের দাবিতে ক্ষুব্ধ হয়েই শাহেদ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘুষের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে সে তৈরি করে ‘ঘুষ.সাইট’ নামের ওয়েব সাইটটি।