ট্যাগ শিশু

  • শিশুদের সুরক্ষায় স্মার্টফোন নয়, প্রয়োজন স্মার্ট অভ্যাস

    শিশুদের সুরক্ষায় স্মার্টফোন নয়, প্রয়োজন স্মার্ট অভ্যাস

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ১৮ বছরের নিচের শিশু-কিশোরদের মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে পরিবারকে সচেতন ও পরিকল্পিত ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রথমেই মোবাইল ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা জরুরি। পড়াশোনা, খাওয়া ও ঘুমের সময় মোবাইল ব্যবহার না করার নিয়ম করা যেতে পারে। বিশেষ করে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বন্ধ রাখতে উৎসাহ দেওয়া উচিত।

    শিশুদের বিকল্প বিনোদনের সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা, বই পড়া, ছবি আঁকা, গান, নাচ বা অন্যান্য সৃজনশীল কাজে যুক্ত করলে তারা মোবাইলের প্রতি কম আকৃষ্ট হবে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ দিলে তাদের সামাজিক যোগাযোগও বৃদ্ধি পাবে।

    অভিভাবকদের নিজেদের আচরণেও সচেতন হতে হবে। শিশুদের সামনে সারাক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করলে তারা সেটিই অনুসরণ করবে। তাই পরিবারের সবাই মিলে ‘নো মোবাইল আওয়ার’ বা মোবাইলমুক্ত সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

    পড়াশোনার সময় মোবাইল অন্য কক্ষে রাখা এবং প্রয়োজন হলে স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণকারী অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি অনলাইনের সুবিধা ও অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে শিশুদের সহজ ভাষায় বোঝানো প্রয়োজন।শিশু কোনো নিয়ম মেনে চললে তাকে প্রশংসা করা বা ছোট পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। তবে মোবাইলকে পুরস্কার বা শাস্তির প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জোর করে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার পরিবর্তে তাদের জন্য আনন্দদায়ক ও শিক্ষামূলক বিকল্প কার্যক্রম তৈরি করা। ধৈর্য, ভালোবাসা ও নিয়মিত দিকনির্দেশনার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মোবাইল ব্যবহারে ভারসাম্য আনা সম্ভব।

  • ইরানে আড়াই হাজারের বেশি শিশু হতাহত হয়েছে: ইউনিসেফ

    ইরানে আড়াই হাজারের বেশি শিশু হতাহত হয়েছে: ইউনিসেফ

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরান ও এর প্রতিবেশী মার্কিন মিত্রদেশগুলোতে হতাহত শিশুর সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক আবদুল ফোফানা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে গত শুক্রবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোয় যুদ্ধের রেশ রয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজবাড়ি, বিদ্যালয় আর এলাকা—যেসব জায়গায় শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদে থাকার কথা, সেখানেই প্রাণ হারাচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে তারা।

    সবশেষ ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে কেশম দ্বীপের একটি আবাসিক ভবনে ৩০ জুলাই মার্কিন হামলায় মা–বাবার সঙ্গে দুই বছরের একটি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত হয়েছে আরও দুই শিশু—এমনটাই জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

    বিবৃতিতে ইউনিসেফের এই কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, পুরো অঞ্চলজুড়ে শিশুরা সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য চোকাচ্ছে। গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে এ অঞ্চলের ছয় দেশে ৪ হাজারের বেশি শিশু নিহত কিংবা আহত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইরানে হতাহত শিশুর সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। দেশটিতে চলমান যুদ্ধে ৩৮৬ শিশু নিহত এবং আরও ২ হাজার ১১৭ শিশু আহত হয়েছে।

    ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতির স্ক্রিনশট।

    ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতির স্ক্রিনশট।

    সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর শিশুদের এমন দুর্ভোগকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া উচিত হবে না। কারণ, যে সংঘাত শিশুরা শুরু করেনি এবং যা থামানোর কোনো ক্ষমতাও শিশুদের নেই, সেই সংঘাতের সবচেয়ে ভয়াবহ শিকার শিশুরাই হয়—বলেন আবদুল ফোফানা।

    মধ্যপ্রাচ্যে বিবদমান পক্ষগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে তা কার্যকর করতে হবে, এখনই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। যেখানেই থাকুক না কেন, শিশুদের সার্বক্ষণিক সুরক্ষা নিশ্চিতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

  • নির্যাতন নয়, স্নেহ ভালোবাসায় বিকশিত হোক প্রতিটি শিশু

    নির্যাতন নয়, স্নেহ ভালোবাসায় বিকশিত হোক প্রতিটি শিশু

    আজকের শিশুই আগামীর দেশ ও জাতির প্রকৃত সম্পদ। তারাই মূলত দেশ ও জাতি গঠনের কারিগর। একটি শিশুর জন্মের সঙ্গে শুধু একটি পরিবারের নতুন সদস্যের আগমন ঘটে না; জন্ম হয় একটি জাতির নতুন সম্ভাবনার।

    আজ যে শিশু মায়ের কোলে, আগামীকাল সেই-ই হতে পারে একজন আলিম, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, বিচারপতি, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা, সাহিত্যিক, রাজনীতিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, এমপি মন্ত্রী, সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান কিংবা দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত উন্নত মানবিক চরিত্রের অধিকারী সুনাগরিক।

    তাই শিশুদের নিরাপদ, সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা কেবল পারিবারিক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ এবং সমগ্র মানবসমাজের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।

    কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও অসংখ্য শিশু এখনো শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নির্যাতন কেবল দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বিত্তবান পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, এমনকি ডিজিটাল জগতেও শিশুরা নানা ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে।

    অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রেই “শাসন”, “শিক্ষা” কিংবা “শৃঙ্খলা”র নামে শিশু নির্যাতনকে বৈধতা দেওয়ার প্রয়াস পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। অন্যথায় নিষ্পাপ ও সম্ভাবনাময় এই শিশুদের উজ্জল ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

    শাসন ও নির্যাতনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে

    শিশু সন্তানকে সৎ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা প্রতিটি অভিভাবকের প্রধানতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। একইভাবে তাদের চরিত্র গঠন ও প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মানিত শিক্ষকগণের ভুমিকা নি:সন্দেহে অপরিসীম।

    তাদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনে শাসন করবেন। তবে শাসনের নামে তাদেরকে অপমান, তুচ্ছতাচ্ছিল্য, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, কোনরূপ ভয় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    শাসনের উদ্দেশ্য হলো ভুল সংশোধন, নৈতিক শিক্ষা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তোলা। অপরদিকে নির্যাতনের ফল হলো ভয়, অপমান, আত্মবিশ্বাসহীনতা এবং মানসিক ক্ষত।

    একজন শিশু যদি তার অভিভাবক বা শিক্ষককে সম্মান নয়, বরং ভয় করতে শেখে, তাহলে সেখানে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। ভয় সাময়িক আনুগত্য সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু তা কখনো সুস্থ ব্যক্তিত্ব গঠনে ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে পারে না।

    মানসিক নির্যাতন নীরব কিন্তু ক্ষত অত্যন্ত গভীর

    আমাদের সমাজে শারীরিক আঘাতকে নির্যাতন হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও মানসিক নির্যাতনকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ক্ষেত্রবিশেষে অবহেলা করা হয়ে থাকে।

    “তুমি কিছুই পারবে না”, “তুমি অন্যদের মতো নও”, “তুমি আমাদের লজ্জা” “ তুমি অথর্ব অকর্মণ্য ইত্যাদি বাক্যের বহুল ব্যবহার শিশুর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে।

    সবার সামনে অপমান করা, ভাই-বোন বা সহপাঠীর সঙ্গে তুলনা করা, ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করা, শিশুর মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া কিংবা তার প্রতিটি ভুলকে ব্যক্তিত্বের ব্যর্থতা হিসেবে উপস্থাপন করা—এসব আচরণ দীর্ঘমেয়াদে শিশুর আত্মমর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

    অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ আজও শৈশবে শোনা অপমানজনক কথাগুলো ভুলতে পারেন না। শারীরিক আঘাতের ক্ষত একসময় সেরে যায়, কিন্তু মানসিক আঘাত কখনো সখনো সারাজীবন বহন করতে হয়।

    শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে নির্যাতনের নেতিবাচক প্রভাব

    মানুষের মস্তিষ্কের সবচেয়ে দ্রুত বিকাশের সময় হলো শৈশবকাল। এ সময় নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও ইতিবাচক সম্পর্ক শিশুর মানসিক বিকাশের ভিত্তি গড়ে তোলে।

    অন্যদিকে দীর্ঘদিন ভয়, অপমান ও সহিংসতার পরিবেশে বেড়ে উঠলে শিশুর শেখার ক্ষমতা, মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সম্পর্ক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন এবং পারিবারিক জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    ইসলামের শিক্ষা: দয়া, ভালোবাসা ও মর্যাদা

    ইসলামের মূল শিক্ষা হলো রহমত, ন্যায় ও মানবিকতা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের প্রতি অসাধারণ স্নেহ, ভালোবাসা, ধৈর্য ও কোমলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    তিনি শিশুদের সালাম দিতেন, তাদের সঙ্গে খেলতেন, কোলে নিতেন এবং তাদের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাতেন। তিনি বলেছেন:

    “যে আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (জামে তিরমিজি)

    পবিত্র কুরআনেও আল্লাহ তাআলা ন্যায়, দয়া ও উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা তাই ইসলামের নৈতিক আদর্শের সঙ্গে মোটেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

    আইন ও নৈতিকতার সমন্বয় জরুরি

    শিশুদের সুরক্ষায় যথাযথ আইন প্রণয়ন অপরিহার্য। পাশাপাশি আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ে বিচার কার্যকর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    যেখানে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়, সেখানে অপরাধীরা উৎসাহিত হয় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবাইকে শিশু সুরক্ষায় “শূন্য সহনশীলতা” নীতি গ্রহণ করতে হবে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোক নিরাপদ আশ্রয়

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে হবে এমন, যেখানে শিশুরা আনন্দ উৎসাহ নিয়ে শিখবে, প্রশ্ন করবে এবং নিজের মধ্যে সুপ্ত প্রতিভা সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ লাভ করবে।শিক্ষকের হাতে যদি ভয়, অপমান বা সহিংসতার উপাদান থাকে, তবে শিক্ষা তার মানবিক উদ্দেশ্য হারায়।

    শিক্ষককে কেবল পাঠদাতা নয়, একজন পথপ্রদর্শক ও চরিত্র নির্মাতা হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। ইতিবাচক শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা এবং ন্যায়সঙ্গত আচরণই শিক্ষার প্রকৃত ভিত্তি।

    ডিজিটাল যুগে নতুন চ্যালেঞ্জ

    আজকের শিশুরা বাস্তব জগতের পাশাপাশি ডিজিটাল জগতেও বেড়ে উঠছে। সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান—এসবও মানসিক নির্যাতনের আধুনিক রূপ। তাই শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন সময়ের দাবি।

    সমাজের করণীয়

    শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য—

    * পরিবারে অহিংস ও ইতিবাচক অভিভাবকত্বের চর্চা।

    * শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।

    * শিশুদের অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা।

    * শিক্ষক, অভিভাবক ও ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ।

    * শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা।

    * গণমাধ্যমে শিশু অধিকারবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি।

    * নির্যাতনের প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

    একটি সভ্য সমাজের প্রকৃত শক্তি তার শিশুদের হাসিতে, তাদের আত্মবিশ্বাসে এবং তাদের নিরাপদ শৈশবে। শিশুদের ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন শুধু একটি শিশুর ক্ষতি করে না; ক্ষতি করে একটি জাতির ভবিষ্যতের অমিত সম্ভাবনাকে।

    আমাদের মনে রাখতে হবে, শিশুরা দুর্বল নয়; তারা সম্ভাবনার বীজ। সেই বীজকে সহিংসতার আগুনে পোড়ানো নয়, বরং ভালোবাসা, নৈতিক শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব।

    শিশুকে ভয় নয়, স্বপ্ন দেখাতে হবে; হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি নয়, ভালোবাসার বীজ বপন করতে হবে ; নির্যাতন নয়, মানবিকতার স্পর্শ দিয়ে আগলে রাখতে হবে। একটি নিরাপদ শৈশবই একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করতে পারে।

    লেখক: মো. মুখলেছুর রহমান, সাবেক প্রিন্সিপাল, জামেয়া দ্বীনীয়া ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, তা’মিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা টঙ্গী শাখা।

  • নড়াইলে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নড়াইলে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের হলদা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে সাড়ে তিন বছরের শিশু নুসরাতের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নুসরাত হলদা গ্রামের স্কুলশিক্ষক শহিদুল্লার মেয়ে।

    নুসরাতের বাবা শহিদুল্লাহ জানান, তার মেয়ে নুসরাত সকালে বাড়িতে খেলা করছিল। পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নতুন দালাল ঘর নির্মাণ কাজে সহযোগিতা করছিলেন। খেলার ফাঁকে শিশুটি বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। উঠানে নুসরাতকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজির শুরু করেন। এক পর্যায়ে পুকুর থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু তালেব মোল্যা বলেন, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারসহ এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

  • হাম উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৬৩টি শিশু হাসপাতালে এসেছে।

    রোববার (২১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হামে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৮৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৮০ জন শিশু মারা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬২ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১। এ সময়ে ৯৫৭টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৭৯ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯২ হাজার ৭৯০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ১১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭৬ হাজার ৮৫৯ রোগী, যাদের মধ্যে ৭২ হাজার ৮৪৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।

  • জিম্বাবুয়েতে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৯

    জিম্বাবুয়েতে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৯

    জিম্বাবুয়ের দক্ষিণে একটি মালবাহী ট্রেনের সাথে বাসের সংঘর্ষে দুই শিশুসহ নয়জন নিহত এবং আরো ২৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ন্যাশনাল রেলওয়েজ অফ জিম্বাবুয়ের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু কানাম্বুরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিরেডজি জেলার ট্রায়াঙ্গেলের এমবিজি রোডে এই সংঘর্ষটি ঘটে।

    জিম্বাবুয়ের জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র পল নায়াথি বলেন, নিহতদের মধ্যে সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক ও দুইজন শিশু রয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, পুলিশ এখনো তদন্ত করছে। শিগগিরই আরো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

    এর আগে, মধ্য জিম্বাবুয়েতে স্কুলছাত্র বহনকারী একটি মিনিবাসে আগুন লেগে সাতজন নিহত হয়। এর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটল।