ট্যাগ শিবির

  • নওগাঁয় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিবিরের সংবর্ধনা

    নওগাঁয় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিবিরের সংবর্ধনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নওগাঁয় এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬শ’ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

    নওগাঁয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
    শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে “মেধা সততা দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৬০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদেরকে ক্রেস্ট, বই এবং শিক্ষা উপকরণাদি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শিবিরের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নোমান হোসেন নয়নসহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, যোগ্য মানুষ তৈরীর কারিগর শিবির। আজকের এই মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এজন্য তাদেরকে সৎ এবং যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিবির শিক্ষার্থীদেরকে সৎ এবং যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে।

    এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের অভিব্যক্তি তুলে ধরেন। শিবিরের এমন সংবর্ধনা পেয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।

  • ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সমঝোতা, সহাবস্থানের সিদ্ধান্ত

    ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সমঝোতা, সহাবস্থানের সিদ্ধান্ত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিরসনে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অতীতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরস্পরকে দোষারোপ না করে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই সংগঠনের নেতারা।

    রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. হামিদুর রহমান হামিদ এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন। এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন উপকমিশনার (ডিসি), মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ এবং ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    বৈঠকে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের মধ্যে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা হয়। ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাতের পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষের নেতারা মত দেন।

    বৈঠক শেষে এস এম ফরহাদ বলেন, অতীতে কী ঘটেছে, তা নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ না করে সামনে কীভাবে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা যায়, সেটিই আলোচনার মূল বিষয় ছিল। ক্যাম্পাসে সবাই যেন সহাবস্থান করতে পারে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাতের পরিবেশ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘাত থেকে সরে আসার বিষয়ে বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকে ঢাকা আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেসব শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

    এদিকে সমঝোতা বৈঠক শেষে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুল আলিমের সঙ্গে ছাত্রদলের এক নেতাকে কোলাকুলি করতে দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালি দিয়ে তাদের স্বাগত জানান।

    বৈঠকে উপস্থিত নেতারা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই সংঘাত বা শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের কারণ না হয়। পারস্পরিক সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

  • ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

    ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

    ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের ওপর হামলা করেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দুপুর দেড়টায় ক্যাম্পাসে মিছিল করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহম্মদ মামুন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২তে শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়েছিল। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক ভাইয়ের নেতৃত্বে ৫/৬ গ্যালারি ডেকেরেশনের কাজ করছিল। এমন সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে অতর্কিত আব্দুল মালেক ভাইসহ অন্যান্যদের মারধর করে।

    তিনি আরও বলেন, আব্দুল মালেক ভাইয়ের মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করেছে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। তাকে চিকিৎসার জন্য পপুলার মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। ভাইয়ের চিকিৎসা চলছে।

    ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘সকাল থেকে ক্যাম্পাসে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা চলছিল আর ছাত্রদলের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বড় ধরনের সংঘর্ষের কোনো ঘটনার খবর এ পর্যন্ত আমার কাছে জানা নেই। তবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

  • এবার ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

    এবার ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হল দখলকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিকেলের দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুরুতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পাল্টা অবস্থান নিয়ে প্রাঙ্গণের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

    সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র হাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও দেশীয় অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে জড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ভিডিওতে কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সহপাঠীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

    তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের সঠিক সংখ্যা ও পরিচয় জানা যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    ঘটনার পর পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

    এ ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

  • জাবি ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই আপরাইজিং’ মিনি ম্যারাথন

    জাবি ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই আপরাইজিং’ মিনি ম্যারাথন

    ‘জুলাই মোদের ধমনিতে টগবগ করবে আমৃত্যু’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জুলাই আপরাইজিং রান ২০২৬’ শীর্ষক মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘রান অ্যাগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ স্লোগানে আয়োজিত এ মিনি ম্যারাথনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ম্যারাথনটি শুরু হয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদ, এম এম হল, ক্যাফেটেরিয়া, ছাত্রী হলসমূহ ও চৌরঙ্গী হয়ে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    ম্যারাথন শেষে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং পার্শ্ববর্তী সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের মানুষের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ জুলাই ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে প্রতিরোধ, ২০ জুলাই কারফিউ ভেঙে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ৫ আগস্টের পরও সাভার-আশুলিয়ার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে এ অঞ্চলের মানুষের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

    তিনি আরও বলেন, সেই আত্মত্যাগ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে আমরা ‘জুলাই আপরাইজিং রান ২০২৬’ আয়োজন করেছি। ‘রান অ্যাগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এই মিনি ম্যারাথনের মাধ্যমে আমরা চাই, নতুন বাংলাদেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এই ম্যারাথন সবার মধ্যে দেশপ্রেম, জুলাইয়ের চেতনা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী মনোভাবকে আরও শক্তিশালী করবে। শহীদ ও গাজীদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করে একটি আদর্শ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অগ্রযাত্রায় এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জুলাই আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে শত শত শহীদ এবং আমাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজকে আমরা এই জুলাই পেয়েছি সেই জুলাই এবং আগস্ট মাসকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং যুগে যুগে যারা ফ্যাসিস্ট হতে চায় তাদের একটা বার্তা দেওয়ার জন্যই মূলত আমাদের আজকে এই আয়োজন। এজন্য যারা আমাদের এই আয়োজনের সাড়া নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন সবাইকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে আন্তরিক মোবারকবাদ এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি, ছাত্রশিবির জুলাইকে যেভাবে ধারণ করে বাংলাদেশের শহীদ পরিবারকে ছাত্রশিবির যেভাবে ধারণ করে তাদের সেই চেতনাকে আমরা বুকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ পুনর্নির্মাণ করব। জুলাই যে আকাঙ্ক্ষা ছিল সেই আকাঙ্ক্ষাকে আমরা বাস্তবায়ন করার জন্য এই জুলাইকে কখনো আমরা ম্যারাথনের মধ্য দিয়ে, কখনো মিছিল মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে আমরা এই জুলাইকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেব।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আমরা জুলাই ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। এখানে দেশের কাঠামোগত একটি পরিবর্তন আমরা চেয়েছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম রাষ্ট্রের যে গুরুত্বপূর্ণ অর্গানস গুলো রয়েছে-জুডিশিয়ারি, এডমিনিস্ট্রেশন, ডিফেন্স ফোর্স রাষ্ট্রের সব জায়গাগুলো অটোনোমাসলি ফাংশন করবে। বাংলাদেশের করাপশন বন্ধ হবে, ট্রান্সপারেন্সি ইনসিওর করা সম্ভব হবে। কিন্তু জুলাইয়ের পরে আমরা দেখেছি শুধু ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে, কার্যত কোনো সংস্কার বা পরিবর্তন হয়নি। যে কথাগুলো বলে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ক্ষমতায় আসীন হয়েছিল সেই নিজের সঙ্গেই নিজেরা আবার প্রতারণা করছে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই যে, এ সরকার যে রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে এসেছে, যে ত্যাগের বিনিময়ে এ সরকার গঠিত হয়েছে, তারা সেই ত্যাগের মূল্যায়ন করবে। অন্যথায় এই তরুণ সমাজ তাদের বিরুদ্ধে আবার দাঁড়িয়ে যাবে। আমরা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশের প্রতিটা অর্গানসকে আগামী নতুন বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগাতে চাই। উন্নত একটি বিশ্বে আমরা নিজেদেরকে যেন সেভাবে দেখতে পাই সে আশা রাখছি। সকলকে আজকে এই রানের অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ।

  • ঢাবিতে অপরাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না: সাদিক কায়েম

    ঢাবিতে অপরাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না: সাদিক কায়েম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে আর কখনো অপরাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

    শুক্রবার (১৭ জুলাই) ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। কর্মসূচি শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ২০২৪ সালের এই বিশেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও প্রতিটি আবাসিক হল চরমপন্থী ছাত্রলীগমুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।

    ম্যারাথন শেষে ঢাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম গণমাধ্যমের সামনে আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ বার্তা তুলে ধরে বলেন, আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই এই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের যে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি, ক্ষমতার অন্যায় দাপট এবং গণরুম-গেস্টরুমের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাসের মতো ব্যবহার করে নির্মম নির্যাতন চালানোর অন্ধকার অপরাজনীতি ছিল, তা আর কখনো এখানে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি মজবুত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই আমাদের এই ‘লীগ ধর’ ম্যারাথনের আয়োজন।

    বর্তমান সময়ের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে কেউ যেন আর কখনো পেশিশক্তির নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত না হয়। সবাই যেন জ্ঞান, আদর্শ ও সুস্থ ধারার ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

    এদিকে ম্যারাথনের পাশাপাশি পুরো জুলাই মাসজুড়ে ঘোষিত ‘৩৬ দিনের কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে আজ থেকে ঢাবিতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

    এই বিশেষ প্রদর্শনীতে জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ, বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা, আন্দোলনে নারীদের অনবদ্য সাহসী ভূমিকা এবং আলেম-ওলামাদের ঐতিহাসিক অবদানের নানা চিত্র তুলে ধরা হবে।

  • বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রশিবিরের

    বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রশিবিরের

    রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    সোমবার (১৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, দেশের বিভিন্ন বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বর্তমানে অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি। অসংখ্য উপজেলা ও শহরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক পরীক্ষাকেন্দ্র জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে, যা পরীক্ষা গ্রহণের অনুকূল পরিবেশকে বিনষ্ট করেছে। এমন জাতীয় সংকটের মুহূর্তে বাস্তব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরীক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। তাই চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

    শিবির নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের মানসিক স্থিতিশীলতা ও উপযুক্ত পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ চরম প্রতিকূলতা ও বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্লাবিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রম করে প্রতিকূল পরিবেশে অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের এই অনমনীয় অবস্থান শিক্ষার্থীদের শারীরিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই শিক্ষার্থীবান্ধব বা মানবিক হতে পারে না।

    শিবির সভাপতি ও সেক্রেটারি বলেন, এই দুর্যোগের সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথেও। চলমান পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা এবং মাঠপর্যায়ের অব্যবস্থাপনার কারণে পরীক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় থেকে বঞ্চিত হবে। ফলে তাদের উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, সুযোগ ও মেধা বিকাশ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে।

    নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যেকোনো সংকটে শিক্ষার্থীদের জীবন, স্বাস্থ্য ও মানসিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। তাই বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া এবং পরীক্ষা পরিচালনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা চলমান এইচএসসি পরীক্ষা অবিলম্বে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

  • শিবির থেকে বিদায় নিলেন ৯ কেন্দ্রীয় নেতা

    শিবির থেকে বিদায় নিলেন ৯ কেন্দ্রীয় নেতা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ও সংগঠনটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্রীয় ৯ নেতা।

    সোমবার (১৩ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

    সাদিক কায়েম ছাড়া বিদায় নেওয়া অন্যরা হলেন, কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী, এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিব, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা, পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান ও দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ।

  • শিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    শিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে “জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনটির সভাপতি নূরুল ইসলাম।

    জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন; রক্তাক্ত জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে গল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ ও সাময়িকী প্রকাশ; রাজধানীতে “শিশুদের চোখে জুলাই জাগরণ” শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন।

    “জুলাই জাগরণ” ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন; সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রিসার্চ কনফারেন্স, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন; সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে “জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ” শীর্ষক আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন।

    আরো কর্মসূচি হলো জুলাইয়ের স্মৃতি বলা, স্মৃতিলিখন, বক্তব্য, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রভৃতি আয়োজন; নিজ নিজ জেলায় শহীদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা; “জুলাই শহীদ স্মৃতি” ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন; শহীদ পরিবার, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গাজীদের নিয়ে “লাল জুলাই” শীর্ষক সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও পডকাস্টের আয়োজন; শহীদদের কবর জিয়ারত, শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মত বিনিময়; জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন এবং ‘Echoes of July’ শিরোনামে ৩৬ দিনব্যাপী অনলাইন ক্যাম্পেইন পরিচালনা।

    জুলাইয়ের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ ছাত্রশিবিরের সব বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ও জেলা শাখার তত্ত্বাবধানে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়িত করা হবে বলে জানানো ।

    লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের শহীদ আবু সাঈদ, আলী রায়হান, মুগ্ধ, ওয়াসিম, শান্ত ও শরীফ ওসমান হাদীসহ সকল বীর শহীদ, আহত এবং অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এ সময় তিনি শহীদদের হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।

    ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে অবজ্ঞা করছে। প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন চলছে এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে বিচার বিভাগকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    অর্থনৈতিক ও সামাজিক নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকারের ৫৯ শতাংশ সংসদ সদস্যই ঋণখেলাপি, যা রাষ্ট্রকে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলেছে। এছাড়া টিআইবি ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনে দেশজুড়ে ৯১৫টি খুন, ২০৯টি ধর্ষণসহ চরম অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস প্র

    তিষ্ঠা। কিন্তু সরকারদলীয় সংগঠন ছাত্রদল বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে আবারও বর্বরোচিত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্য হামলা চালানো হচ্ছে।

    শিবির সভাপতি বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ক্ষমতালিপ্সার কাছে অভ্যুত্থানের অর্জনকে ব্যর্থ হতে না দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আগামী ৩৬ দিনব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে ছাত্রশিবিরের জনশক্তি, ছাত্রসমাজ এবং দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক এবং ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদসহ অন্যান্য নেতারা।

  • শিবির নেতা জিসানকে নিয়ে কথা বলা দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

    শিবির নেতা জিসানকে নিয়ে কথা বলা দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল

    কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী ও অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    চিঠির অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ও দায়রা জজ, পাবলিক প্রসিকিউটরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইন ও বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা নিয়োগ সংক্রান্ত স্মারকের মাধ্যমে তাদের যে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছিল, নির্দেশিত হয়ে তাদের সেই নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো। তবে ওই চিঠিতে নিয়োগ বাতিলের কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

    এর আগে, গত মঙ্গলবার ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার কুমিল্লার আলোচিত শিবির নেতা জিসান প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন ওই দুই আইনজীবী।

    ওইদিন বিকেলে জিসানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিনের আদালতে হাজির করা হয়। পরে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে এপিপি মনির হোসেন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুরু থেকেই পুলিশ মামলা নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। মামলার শুনানি করতে আইনজীবীদের ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে পুলিশ জিসানকে কারাগারে নিয়ে গেছে। ধর্ষণ মামলার অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা আদালতে জিসানের সুচিকিৎসার আবেদন করেছি।’

    অপর এপিপি সাইদুল ইসলামও অনুরূপ বক্তব্য দেন।

    অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী সমকালকে বলেন, ‘অধিকাংশ এপিপি নিজ আদালতের বাইরে আসামি পক্ষে সব ধরনের মামলা পরিচালনা করছেন। এর প্রমাণও আছে। আমরা দুই এপিপি আসামির পক্ষে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে হয়নি। জিসানের পক্ষে তার ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেছেন। আমরা শুধু আসামির পক্ষে আদালতের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেছিলাম। তবে এ কারণে আমাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে কিনা, চিঠিতে তা স্পষ্ট উল্লেখ নেই।’

    কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু সমকালকে বলেন, ‘আমরা পিপি এবং এপিপিরা কী করতে পারব আর কী করতে পারব না, তা বিধিতে বলা আছে। এপিপিদের সরকারের বিরুদ্ধে কোনো মামলায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।’

    মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জিসানের সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া এক বিধবা নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে বিয়ের চাপ দিলে পরদিন গত ১২ জুন বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১১ জুন রাতে জিসান আত্মগোপনে চলে যান। পরদিন রাতে জেলার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই রাতে ওই নারী বাদী হয়ে জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা করেন। এ ছাড়া ধর্ষণের সহায়তায় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।

    ওই মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর থেকে তিনি পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১৬ জুন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।