ট্যাগ শিক্ষার্থী

  • ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষে বিঘ্ন কমানো এবং বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হবে। তবে সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের শুরুতে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে শিশু ও কিশোরদের প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠে।

    জুলাইয়ে ফরাসি আইনপ্রণেতারা নতুন আইন অনুমোদন করেন। ২১ জুলাই পার্লামেন্টে পাশ হওয়া আইনে ১৫ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়। আইনটি পাশের পর সরকার জানায়, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

    এরপর ২৪ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করা হয়। সরকারের মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনের দিন হয়ে উঠেছে।ফ্রান্সে স্কুল পর্যায়ে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এবার সেই বিধিনিষেধ হাইস্কুল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। সরকারের যুক্তি, শিক্ষার্থীরা দিনের বড় একটি সময় ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ কমতে পারে। একই সঙ্গে বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা কিংবা সরাসরি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগও কমে যায়।

    নতুন নিয়মের মাধ্যমে স্কুলের সময়টুকুকে আরও মনোযোগী ও সামাজিক করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এটি প্রযুক্তিবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং শিক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পদ্ধতি সব হাইস্কুলে এক হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিধিমালায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করবে। কোথায় ফোন রাখা হবে, কখন ব্যবহার করা যাবে এবং নিয়ম ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় স্কুলভেদে নির্ধারিত হতে পারে।

    কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যাগের মধ্যে বন্ধ করে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান ফোন রাখার জন্য বিশেষ বাক্স, পকেট বা লকার ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বড় স্কুলগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা তৈরি করা সহজ নয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও বড় ক্যাম্পাসের কারণে ফোন সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নিরাপদে ফেরত দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

    এখানেই নতুন আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ২৭ আগস্টের প্রতিবেদনে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য মন্ড জানায়, অনেক হাইস্কুল ১ সেপ্টেম্বরের আগে নতুন নিয়ম পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে পারেনি। কারণ অভ্যন্তরীণ বিধিমালা পরিবর্তনের জন্য স্কুল পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন। গ্রীষ্মের ছুটির সময়ে আইনটি চূড়ান্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রস্তুতির সময়ও কম ছিল।

    কিছু স্কুল অবশ্য আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্যারিসের বুফোঁ হাইস্কুল এবং বেজিয়েরের জ্যাঁ মুলাঁ হাইস্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। কোথাও স্কুলের নির্দিষ্ট অংশে ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথাও বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগের ধরন প্রতিষ্ঠানভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে।

    নতুন ব্যবস্থায় বিশেষ পরিস্থিতির জন্য ব্যতিক্রমও থাকবে। চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন বা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে। ফলে নিয়মটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    নিয়ম ভাঙলে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করা হতে পারে। কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিধিমালার ওপর নির্ভর করবে। উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া নয়; বরং স্কুলে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের ওপর একটি স্পষ্ট সীমা তৈরি করা।

    তবে ফ্রান্সের এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একই সময়ে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই ডিজিটাল হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা সময়সূচি, বাড়ির কাজ, স্কুলের নোটিশ ও বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। অনেক স্কুলে খাবারের ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দৈনন্দিন সেবাতেও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। ফলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা কীভাবে সচল রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্য এই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ফোনের ব্যবহার কমলে ক্লাস চলাকালে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাবে। সরকারের প্রত্যাশা, এতে স্কুলের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে।

    বাংলাদেশের জন্যও ফ্রান্সের এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে আলোচনার বিষয় হতে পারে। বাংলাদেশেও স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা ও অনলাইন বিনোদনে তরুণদের সময় ব্যয়ের বিষয়টি অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বাস্তবতায় ফ্রান্সের মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর দেশ কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করছে, তা শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এখন মূল বিষয় হবে এর বাস্তব ফলাফল। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কতটা বাড়ে, স্কুলের পরিবেশে কী পরিবর্তন আসে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা সহজে মানিয়ে নিতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।

  • শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ভিডিও মুছে ফেলার নির্দেশ দিল আইআইটি মাদ্রাজ

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ভিডিও মুছে ফেলার নির্দেশ দিল আইআইটি মাদ্রাজ

    দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট ও ভিডিও মুছে ফেলার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিয়েছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) মাদ্রাজ। দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ ও অনশন কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষার্থী ইনস্টাগ্রামে এসব ভিডিও পোস্ট করেছিলেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ডিন ও ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজরের নির্দেশে তাদের এই পোস্টগুলো সরাতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় উল্লেখ করা হয়, কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপর পর সংহতি প্রকাশ করে তৈরি করা সমস্ত ভিডিও ও পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    সম্প্রতি সারা দেশের শিক্ষার্থীরা স্লোগান, ব্যানার ও সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওর মাধ্যমে যন্তর মন্তরের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে আইআইটি মাদ্রাজ কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

  • নড়াইলে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে, বড়বোন নিহত, ছোটবোন আহত

    নড়াইলে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতঘরে, বড়বোন নিহত, ছোটবোন আহত

    নড়াইল প্রতিনিধি

    নড়াইলে গভীর রাতে পাথর বোঝাই ট্রাক (খুলনা মেট্রো-শ ১১-০৫০২) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে বসতঘরে ঢুকে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় দুইবোন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

    রোববার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে লোহাগড়া উপজেলার নলদী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বড়বোন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার সেতু (১৪) এবং আহত ছোটবোন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিতু (১২) আহত হয়েছে। তারা স্থানীয় বি এস এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নলদী গ্রামের কাঁচামাল দোকানি হাফিজুর মোল্যার দুই মেয়ে সেতু ও মিতুু রোববার রাতের খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে। এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাথরবোঝাই ট্রাক পথ ভুলে নলদী এলাকার খালপাড়ের সরু রাস্তায় ঢুকে পড়ে। ট্রাকটি হাফিজুল মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের বসতঘরের উপর আচড়ে পড়ে। এ সময় ট্রাকের পাথরগুলো সেতু ও মিতুর গায়ে পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। মিতুকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের পরিবারসহ গ্রামবাসীর মাঝে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

    লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে।

  • দেশের কল্যাণে কাজ করতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    দেশের কল্যাণে কাজ করতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের দুপুরের বিরতিতে অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

    মাদারীপুর জেলার ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন শিক্ষার্থী বাজেট অধিবেশন দেখতে আসেন। দুপুরে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমান ছিলেন তারা। নিজ কার্যালয় থেকে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

    এসময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য সৃজনশীল কার্যক্রমে যুক্ত থাকার পরামর্শ দেন।
    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে স্মরণীয় এই অভিজ্ঞতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানায়।

    মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার উদ্যোগে তার নির্বাচনী এলাকার ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা বাজেট অধিবেশন দেখতে আসে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ডোনাভান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজৈর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং টেকেরহাট পপুলার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
    অধিবেশন দেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করে সংসদের ইতিহাস, স্থাপত্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করে।

  • সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

    সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

    রোববার সংসদ ভবনের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের আয়োজনে জাতীয় সংসদ ভবনে মধ্যাহ্নভোজ করেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীরা।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, মধ্যাহ্নভোজে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর আইন বিভাগের ২৯ জন শিক্ষার্থী, গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগী সংস্থা ‘সুরভী’র মাধ্যমে আসা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ২১ জন এবং তেজগাঁও কলেজ ডিবেটিং সোসাইটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ ১৬ জন অংশ নেন।

    জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে এবং নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সরকারপ্রধানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

    উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবন পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করে।

    এ ছাড়া, সংসদ লাইব্রেরি পরিদর্শন, উত্তর প্লাজায় ফটোসেশন এবং সংসদ অধিবেশন কক্ষে সংসদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেছে তারা।

  • নড়াইলে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সমাবেশ, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, গাছের চারা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

    নড়াইলে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সমাবেশ, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, গাছের চারা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

    নড়াইল প্রতিনিধি

    সবার হাতে হাতে গাছের চারা ও শিক্ষা উপকরণ। মুখে নির্মল হাসি। আনন্দ-আবেগে ভরপুর পুরো স্কুল আঙিনা। পড়ন্ত বিকেলে সুন্দর প্রকৃতির মাঝে এ এক অন্যরকম আনন্দ উৎসব। এ যেন এক টকুরা ‘সবুজ বাংলাদেশ’। স্কুল আঙিনায় সবুজ বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। এ দৃশ্যের দেখা মেলে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বড়দিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় চত্বরে।

    শিক্ষার মানোন্নয়নে ওই বিদ্যালয় মিলনায়তনে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ, ফুটবল, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে বুধবার বিকেলে কালিয়া উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠানে ওই বিদ্যালয়ের ২৫০ জন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন।

    ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে মুগ্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এই অনুষ্ঠানে ২৫০ জন ছাত্রীর মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ২৫০টি গাছের চারা, বাল্যবিয়ে রোধে আলোচনা, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, সঞ্চয়কৃত টাকার চেক প্রদান, খাতা, কলম, ইংরেজি অভিধানসহ শিক্ষা উপকরণ পেয়ে মহাখুশি শিক্ষার্থীরা।

    বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহরীন চৌধুরী বলে, গাছের চারা পেয়ে যেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার পেয়েছি। ডিসি স্যার ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) কর্মকর্তারা আমাদের সুন্দর উপহার দিয়েছেন।

    দশম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী আফরিন রহমান মৌ বলে, ডিসি স্যার অনেক মূল্যবান কথা বলেছেন। ওনার (ডিসি) কথা হৃদয়ে এতোটা গেঁথে গেছে যে, অন্যায়ের পথে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

    বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কালিয়া উপজেলা কর্মকর্তা সুজন কুমার চন্দ্র বলেন, শিক্ষা জীবন থেকেই সঞ্চয়ের মানসিকতা গড়ে তুলতে ‘সঞ্চয় সেবা’, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও সচেনতামূলক প্রশিক্ষণসহ নানা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছি। ভালো সাড়া পেয়েছি।

    বিআরডিবি নড়াইলের উপ-পরিচালক গোলাম রসুল জানান, একজন শিক্ষার্থী যদি প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে বছরে ২ হাজার ৪০০ টাকা সঞ্চয় জমা করে তাহলে সরকারি প্রণোদনা পাবে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। ফলে বছর শেষে একজন শিক্ষার্থী সঞ্চয় ও প্রণোদনাসহ পাচ্ছে ৭ হাজার ২০০ টাকা। এতে তার পড়ালেখার খরচ চালিয়ে নেয়াসহ আর্থিক সুবিধা হচ্ছে। নড়াইলে ছয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র মেধাবী ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী এ প্রকল্পের সুফল পাচ্ছে। তবে, ১৮ বছরের আগে অর্থাৎ বাল্যবিয়ে হলে ওই শিক্ষার্থী সরকারি প্রণোদনার টাকা পাবে না। শুধু তার জমাকৃত টাকা পাবে। এর প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাল্যবিয়ে রোধ করে ছাত্রীদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেয়া।

    সার্থকি দাস বলেন, আমি এখন উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছি। ডিসি ও বিআরডিবি স্যারদের হাত থেকে আজ ২০ হাজার ৭০০ টাকা চেক পেয়েছি। বড়দিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে সঞ্চয় করে আজ এই টাকা (২০ হাজার ৭০০) পেলাম। আমি খুব আনন্দিত।

    এদিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, একজন সন্তানকে ভালো ভাবে মানুষ করতে এবং পড়ালেখা শেখাতে তার বাবা-মাকে অনেক কষ্ট করতে হয়। বাবা হয়ত রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অনেক পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করেন। মা সংসারে অনেক কষ্ট করেন। তবু বাবা-মা সন্তানকে পড়ালেখা শেখান। ভালো ভাবে মানুষ করতে চান। তাই বাবা-মাকে সম্মান করতে হবে। পারিবারিক বন্ধন এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ‘ভালো মানুষ’ হতে হবে। তাহলে জীবন সার্থক হবে। দেশ ও জনকল্যাণে কাজ হবে।

    অনুষ্ঠানের সভাপতি কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, একটি ভালো চিন্তা, আরেকটি ভলো চিন্তার জন্ম দেয়। তাই শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সবসময় ভালো চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। পড়ালেখায় মনোযোগী হতে হবে। কোনো ধরণের অন্যায়-অপকর্মকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবণী বিশ^াস, কালিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা চৌধুরীসহ অনেকে।

  • ছাত্রাবাস থেকে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    ছাত্রাবাস থেকে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেলের দিকে নগরীর আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি ছাত্রাবাস থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

    নিহত শিক্ষার্থীর বন্ধু ও মেস সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুরের সঙ্গে কিছুদিন ধরে তাঁর এক বান্ধবীর সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। আজ বেলা ২টার দিকে তাঁদের মধ্যে ভিডিও কলে কথা হচ্ছিল। কথা বলার একপর্যায়ে ওই বান্ধবী মেস ম্যানেজারের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে মাহফুজুরের কক্ষে (৪১৫ নম্বর) দ্রুত যেতে বলেন। মেস ম্যানেজার ও সেখানে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা গিয়ে কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এরপর একাধিকবার ধাক্কা দেওয়ার পর কক্ষের দরজা খুলে গেলে মাহফুজুরকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেসের অন্য শিক্ষার্থীদের ধারণা, বান্ধবীকে ভিডিও কলে রেখেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

    মাহফুজুরের সহপাঠী মোবাল্লেক জানান, মাহফুজুরের চার-পাঁচ বছর ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। মাঝে কিছুদিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে, কিন্তু সেটার সমাধান হয়েছিল। ঈদের বন্ধে সবাই বাড়িতে চলে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছে। তবে তার দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।’

    এ বিষয়ে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মতিন বলেন, ‘মাহফুজুরের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। মরদেহটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ফ্রিজিং ভ্যানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চাচ্ছি, ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

    মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবীর বলেন, ‘আমরা মরদেহের সুরতহাল পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

    ওসি আরও বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তাঁর পরিবার, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শিক্ষার্থীরা না চাইলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।