শিক্ষামন্ত্রী

  • ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছায় ‘ট্রান্সজেন্ডার’ বলেছি: শিক্ষামন্ত্রী

    ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছায় ‘ট্রান্সজেন্ডার’ বলেছি: শিক্ষামন্ত্রী

    তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে বোঝাতে গিয়ে একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ বক্তব্যের শব্দচয়ন সংশোধন করে তিনি বলেছেন, সেখানে তার অভিপ্রেত শব্দ ছিল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’।

    শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    ফেসবুক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন লেখেন, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া আমার বক্তব্যে ব্যবহৃত একটি শব্দের সংশোধন ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করতে চাই। তিনি লিখেছেন, সেদিনের অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন। তার এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষায় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার প্রসঙ্গে আমি কথা বলেছিলাম। সমাজে তারা অনেকেই অবহেলা, বঞ্চনা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হন। এসব বাধা পেরিয়ে তাদের শিক্ষায় এগিয়ে আসার বিষয়টিই ছিল আমার বক্তব্যের মূল কথা। শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, বক্তব্যের সময় ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছি। এখানে আমার অভিপ্রেত শব্দ ছিল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’।

    দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতির প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে উল্লেখ করে শেষে তিনি লেখেন, সেদিনের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষার সুযোগ ও তাদের শিক্ষাগত অর্জনকে উৎসাহিত করা।

  • আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে: শিক্ষামন্ত্রী

    আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে: শিক্ষামন্ত্রী

    আগামীতে স্কুল ও মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নপত্রে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মাদ্রাসায় জিপিএ-৫ বেশি পাওয়ার অভিযোগের কারণ অনুসন্ধানে এভাবে পরীক্ষা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মাদ্রাসায় সবচেয়ে বেশি জিপিএ পাওয়া যায়। সকলে আমাকে বলল, এটার কী ব্যবস্থা করা যায়? আমি বললাম, আগামী দিন থেকে মাদ্রাসা ও স্কুল একই প্রশ্ন হবে। নাকি আলাদা হবে? কেন? আলাদা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। ঢাকা ইউনিভার্সিটিসহ সব জায়গায় ভর্তি হয় একই সাবজেক্টে, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। তাই এরপর থেকে আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় আগামীতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে, তারপরে দেখব মাদ্রাসায় কেন বেশি জিপিএ পায়, তারপর এক্সামিন করব।’

    পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা সামনে এসেছে। তার দাবি, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

    এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই এক্সামিনার কারা কারা এই দুষ্টুমি করেছে, তাদেরকে আমি আইনের আওতায় আনব।’

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টি আমার মাথায় প্রচন্ড বোঝা! আমি এনটিআরসি করেছিলাম বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে। সেই এনটিআরসিতে আমরা সার্টিফিকেট দেব, শিক্ষকরা গিয়ে এলাকার ম্যানেজমেন্ট কমিটির কাছে যাবে, সেখানে তারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেবে। লাস্ট গভর্নমেন্ট তাদেরকে ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছে, ঢালাও অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছে, ঢালাও জায়গায় জায়গায় পোস্টিং দিয়েছে!’

    তিনি বলেন, ‘এখন কচুয়ার পোস্টিং নিয়েছে রংপুরেরটা, রংপুরেরটা নিয়েছে বরিশালে, বরিশালেরটা নিয়েছে খাগড়াছড়িতে। এখন আমি আসার পরে সব আমার মাথায় ঢুকলো যে আমাদের ট্রান্সফার করতে হবে। আমি দেখলাম অবভিয়াসলি কচুয়ার যদি রংপুরের ছেলে থাকে তাকে রংপুর পাঠিয়ে দিই। আমি একটা অ্যাপস তৈরি করলাম ট্রান্সফারগুলি করার জন্য।’

    শিক্ষকদের বদলির আবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সবাই ট্রান্সফার চায়। কচুয়া থেকে চায় ভিকারুননিসা! কচুয়া থেকে চায় আইডিয়াল স্কুল! কচুয়া থেকে চায় মনিপুর, শাহিন স্কুল! বুঝলেন তো?’

    বদলি নিয়ে শিক্ষকদের চাপের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি হয়ে আমাকে ধমক দেয়—৩১শে অক্টোবরের মধ্যে যদি ট্রান্সফার না হয়, তাহলে দেখে নেবে! কাকে? আমাকে! বুঝলেন তো? আপনি এমপিও শিক্ষক, আপনি স্কুলে গিয়ে পড়ান, মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ান। আপনার দায়িত্ব এটা না, এটা আমার দায়িত্ব! লেট মি ডু ইট (আমাকে করতে দিন)!’

  • চীন সম্মেলনে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার রূপরেখা তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী

    চীন সম্মেলনে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার রূপরেখা তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী

    চীনের তিয়ানজিনে ২০২৬ সালের বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ‌তিনি দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতে জাতীয় রূপকল্প তুলে ধরেন।

    চীনের তিয়ানজিন মেইজিয়াং কনভেনশন এন্ড এক্সিভিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য “TVET Co‑Embracing Change, Co‑Forging Standards, Co‑Creating Future”।

    উচ্চপর্যায়ের এ বৈশ্বিক সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, শিল্পখাতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়প্রধান এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিশেষজ্ঞরাও এতে উপস্থিত রয়েছেন।

    সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, চীনের স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেস্কোর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্বোধনী অধিবেশনের প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ তার জনগণ এবং মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি। তিনি টিভেটকে এমন এক অপরিহার্য সেতুবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন, যা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে, একাডেমিক জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে এবং তরুণদের সম্ভাবনাকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করে।

    তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি এবং সবুজ প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক শ্রমবাজারের দ্রুত পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, “ভবিষ্যতের অর্থনীতির চাহিদা পূরণে কেবল একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত এবং ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় অপরিহার্য। ”

    মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের টিভেট সংস্কার কর্মসূচি শুধুমাত্র নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি, যেখানে পাঠ্যক্রম বাস্তব শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে; শিক্ষকরা দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের নিয়মিত হালনাগাদ রাখবেন; শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিল্প-সংযুক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করবে; এবং জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো সরাসরি কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরি করবে। ”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা। ”

    ২০২৬ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “উভয় দেশ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ”

    তিনি জানান, বাংলাদেশ চীনের সফল অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের টিভেট খাতকে আধুনিকায়ন, শিল্প-প্রতিষ্ঠান সংযোগ জোরদার, শিক্ষকদের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং শিল্প-সংযুক্ত ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে কাজ করবে।

    সম্মেলনের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্যের আলোকে শিক্ষামন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। সেগুলো হলো-
    উদীয়মান প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে আরও অভিযোজনক্ষম ও গতিশীল করা; কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বৈশ্বিক মানদণ্ড নিজ নিজ দেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজারের বাস্তবতা এবং জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকারের আলোকে অভিযোজিত করতে পারা; এবং সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, নিয়োগদাতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং তরুণ সমাজকে অংশীদারিত্বমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা।

    সম্মেলনের ফাঁকে শিক্ষামন্ত্রী চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে বিদ্যমান বাংলাদেশি কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তি সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সহযোগিতা বিষয়ক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ এসব অগ্রাধিকারমূলক সহযোগিতা উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়।

  • প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়াদের বিষয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য

    প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়াদের বিষয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগপত্র দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে এ দাবি করেন শিক্ষামন্ত্রী।

    শিক্ষামন্ত্রী লিখেছেন, আমরা লক্ষ্য করছি যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তীতে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে। আরও বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।

    প্রসঙ্গত, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ) অনুষ্ঠিত হয়। এত উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

    গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

  • ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম: শিক্ষামন্ত্রী

    ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষায় আমরা পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছি, কারিকুলাম পরিবর্তন করছি। ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম চালু হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় অনেক বেশি কঠোর হচ্ছে। আমাদের এখন ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যাক্রেডিটেশনের জন্য একটি শক্তিশালী ‘বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল’ গঠন করেছি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে তৃতীয় ঢাকা-চায়না ডে-২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশন এজেন্সির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। শিক্ষা খাতে কীভাবে আরও উন্নতি করা যায় তা আমরা দেখছি। মোনাশ ইউনিভার্সিটি আমাদের দেশে একটি ক্যাম্পাস তৈরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে এবং আমরা তা বাস্তবায়ন করব। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আরও উন্নত পরিবেশ তৈরি করব। এভাবেই আমরা আমাদের শিক্ষার উন্নয়ন করব এবং শিক্ষাই আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটিই আমাদের জাতির সাফল্যের চাবিকাঠি এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের অনেক অবদান রাখছে। ’

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগে এটি আমাদের জিডিপির মাত্র ১.৩৯ শতাংশ ছিল, এখন আমরা অনেক বেশি পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি এই বাজেট ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করবেন। তাই বাজেট আমাদের কোনো সমস্যা নয়। আমরা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে চীন বা পশ্চিমা দেশগুলোর মতো উন্নত করতে পারি এবং আমরা তা করে দেখাব—এটিই আমাদের মিশন। ’

    সমাজে তরুণদের পথভ্রষ্ট হতে দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমরা রাজনীতি নয়, সমাজ পরিবর্তনের একটি কর্মসূচি চাই। এই সমাজ কে পরিবর্তন করবে? প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত কেবল শিক্ষা খাতই তা করতে পারে। আমাদের দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং নেতিবাচকতার ধারা বন্ধ করতে জাতিকে সাহায্য করতে হবে। ’

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হবে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হবে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রীড়া ক্ষেত্রে সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করা আমাদের অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে। সেই লক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম চালু হবে। সুপ্ত প্রতিভাদের বিকাশের পথ উন্মুক্ত করা আমাদের লক্ষ্য। নারী ক্রীড়াবিদের নিরাপত্তা ও সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। স্পোর্টস ইকোনমি সম্প্রসারণ করা; আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করা; যুব সমাজকে খেলাধুলা মাধ্যমে সুস্থ ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে একই দিনে একই সময়ে দেশের সব উপজেলায় এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হবে। তবে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির কারণে পূর্বনির্ধারিত ৯ আগস্টের পরিবর্তে আগামী ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই প্রতিযোগিতায় মাদরাসা এবং স্কুল কলেজের ছাত্রীদের অংশগ্রহণ অপশনাল বা ঐচ্ছিক। ইচ্ছে করলে জয়েন করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন। এটা ঐচ্ছিক বিষয়ে আমরা রেখেছি।

    বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কিছু অঙ্গীকার রয়েছে শিক্ষায়। প্রথমত তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা সম্প্রসারণ। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও আমাদের ইশতেহারের একটি অঙ্গীকার।

    ড. মিলন জানান, দেশের প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবে। দেশের ১৯ হাজার ২২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ৯৫৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩ হাজার ৩৮০টি কলেজ, ৯ হাজার ২৯৬টি মাদরাসা এবং ৬৭৮টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।এসময় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

    এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যেসব শিক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত একই তারিখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্রে যে দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল সেগুলোতে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

    বুধবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়ার এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ পাঁচটি জেলা তথা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও ঢাকাসহ দেশের কিছু কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও বহুবিধ কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখে, ওই সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেহেতু এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ তাই বিশেষ বিবেচনায় এই বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হলো। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্রে ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়ী ব্যক্তিদের ইতোমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মাননীয় স্পিকার আমি আবারো বলছি- পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্র ছয় নম্বর প্রশ্ন এবং সাত নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

  • ডিগ্রি কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    ডিগ্রি কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকার কর্তৃক পর্যায়ক্রমে এমপিওবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে এবং এমপিওভুক্তির নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এমপিওবিহীন ডিগ্রি কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৫০টি একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ডিগ্রি (পাস) কলেজ এবং ৬৯৮টি একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ডিগ্রি (সম্মান) কলেজ রয়েছে।

    এছাড়া বর্তমানে ১ হাজার ৫৬টি ডিগ্রি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত কলেজ রয়েছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদে তারা বৈঠক করছেন।

    বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে এ সময় শিক্ষার্থী আন্দোলন ও এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে সারা দেশে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিনদফা জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি পূরণে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। দাবিগুলো হলো- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, তার বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত।

  • পাঠদান পদ্ধতি পাল্টাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    পাঠদান পদ্ধতি পাল্টাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষকদের শিক্ষাদান পদ্ধতি পাল্টাতে হবে। ক্লাসরুম এডুকেশন দিতে হবে, ক্রিয়েটিভ এডুকেশন আনতে হবে। শিক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতেই হবে।

    সোমবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের শিক্ষকরা নিজের স্কুলে নিজের ছেলে-মেয়েকে পড়ান না, কতটা আত্মবিশ্বাস কম। এই হচ্ছে আমাদের শিক্ষকদের মানসিকতা। নিজের প্রতিষ্ঠানকে কেনো ওই প্রতিষ্ঠান বানাতে পারেন না – এই প্রশ্নটা আপনাকে করতে হবে।

    তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তার মতো আপনারাও সার্ভিসটা দেবেন নাকি? আপনারা ইনহাউজ কোচিং করান। এখানে মোড় দেন টু হান্ট্রেড শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান রয়েছেন। আপনারা ইনহাউজ কোচিং না করলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে ভালো করবেন। ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসির সিলেবাস শেষ হয়েছে, তাদের ইনহাউজ কোচিং করান। তাহলেই রেজাল্ট বাড়বে। সবাই মিলে ইনহাউজ কোচিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। কতজন স্কুলের শিক্ষক আছেন এখানে যিনি নিজের স্কুলেই নিজের সন্তানকে পড়ান? নিজের স্কুলে নিজের ছেলে-মেয়েকে পড়ান না কতটা আত্মবিশ্বাস কম। এই হচ্ছে আমাদের শিক্ষকদের মানসিকতা। নিজের প্রতিষ্ঠানকে কেনো ওই প্রতিষ্ঠান বানাতে পারেন না – এই প্রশ্নটা আপনাকে করতে হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছেন? আমি জানি না এভাবে আর কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী এভাবে সাধারণ জীবন-যাপন করেন কিনা। আপনারা দেখেছেন কিনা। তিনি চান একটি যোগ্য প্রজন্ম। নকল প্রতিরোধ কে করেছিলেন? মিলন নাকি আপনারা? আগামী প্রজন্ম তৈরি কে করেছিলেন। আপনারাই তো করেন। প্লিজ আপনাদের স্কুলে আপনাদের ছেলে-মেয়েদের পড়ান। আপনি কি মনে মনে করেন না, আপনি যেগ্য?

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাতারাতি প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো। আমি নতুন পদ্ধতিতে গেলাম। আমি বললাম আগেই ট্রের্নিংয়ে যেতে হবে। আমাদের এতো হাজার শিক্ষকে ট্রের্নিং দেয়ার সক্ষমতা নেই। তাই আমি দুই মাস ট্রের্নিংয়ের ব্যবস্থা করলাম। এরপর তারা জয়েন করবেন।

    মামলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এনটিআরসিএতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করেছি। সেটা নিয়েও মামলা, আটকে দেয়। আরে কোথায় যাবো। যেইটা করি সেইটায় মামলা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৩০ হাজারের বেশি মামলা রয়েছে। আমার নিজেরও কয়েকটা মামলা রয়েছে। আদালত সুদৃষ্টি এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর। প্রতিটি মামলার জট খুলে যাবে। আমরা আস্তে-আস্ত শিক্ষক নিয়োগ শুরু করবো। এনটিআরসিএতে ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছেন। রংপুরের শিক্ষক কচুয়ায় চাকরি করছেন, কুমিল্লার শিক্ষক বরিশালে চাকরি করছেন, তারা সবাই বসে আছেন। যত শিগগির পারি ট্রান্সফারের ব্যবস্থা করতে, আমরা এগুলো নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করছি।

    অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি ২‘শ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। এরমধ্য থেকে আমি আশাকরি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষদের টাকা দেবো। আমাদের শুরুটা করতে হবে।