শান্তি

  • ইসরাইল আসলেই শান্তি চায় না: তুরস্ক

    ইসরাইল আসলেই শান্তি চায় না: তুরস্ক

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলাগুলোই আবার প্রমাণ করেছে যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো সদিচ্ছা বা মানসিকতা নেই।

    সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা উল্লেখ করেছে।

    বিবৃতিতে তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘নেতানিয়াহুর একমাত্র মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব জন্মভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত করা এবং এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পরিবেশকে নস্যাৎ করা।’

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নেতানিয়াহু ক্রমাগত এমন সব পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর আঞ্চলিক ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা শান্তি ও মধ্যস্থতার বিভিন্ন প্রচেষ্টাকে তিনি বারবার ভেস্তে দিচ্ছেন।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে তুরস্ক জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর সম্প্রসারণবাদী ও সামরিক নীতি গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি বড় ধরনের সংঘাতের অঞ্চলে পরিণত করতে চাচ্ছে। তাই তার এই আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিশ্বের আরো দৃঢ়, সংহত ও কঠোর অবস্থান নেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

    উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকায় দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি একটি বড় ধরনের পরিকল্পনা বা রূপরেখা ঘোষণা করে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু এই প্রস্তাব ঘোষণার পরপরই রবিবার গাজাজুড়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

  • বিজিবি-বিএসএফের যৌথ বিবৃতি

    বিজিবি-বিএসএফের যৌথ বিবৃতি

    দিল্লির বৈঠক থেকে শান্তির বার্তা, একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার

    সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও উত্তেজনার ঘটনার মধ্যেও আলোচনার পথেই এগিয়ে চলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

    গত ৯ জুন শুরু হয়ে ১১ জুন শেষ হওয়া ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।

    যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের সীমান্তকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং অপরাধমুক্ত রাখতে উভয় বাহিনী ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে। সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমিয়ে আনা, পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।

    বৈঠকে সীমান্ত হত্যা, অনিয়মিত অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয়পক্ষই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

    কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতপার্থক্য দেখা দিলেও দুই দেশের শীর্ষ সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনা হওয়া একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। কারণ, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই ধরনের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বহু ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।

    যৌথ বিবৃতিতে উভয় বাহিনী সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে যখন সীমান্ত প্রশ্নে নানা ধরনের উত্তেজনা ও সংঘাত দেখা যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে। দিল্লির এই বৈঠক তাই শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।