শান্তি চুক্তি

  • ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানাল বিশ্বনেতারা

    ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানাল বিশ্বনেতারা

    ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন বিশ্বনেতারা

    দীর্ঘ বৈরিতা ও সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। উভয় পক্ষই এই ঐতিহাসিক সমঝোতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। দুই দেশের এমন আকস্মিক ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ ও স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রনেতারা।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করবে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও নিশ্চিত করেছেন যে, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর শুক্রবার সুইজারল্যান্ডেই পরবর্তী করণীয় নিয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

    দুই চিরবৈরী দেশের এই সমঝোতাকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্বনেতারা।

    সফল এই শান্তি আলোচনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মধ্যস্থতাকারী দেশ—পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাতিসংঘ প্রধান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চুক্তিকে ‘সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই চুক্তির অগ্রগতিকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।

    চুক্তিটিকে স্বাগত জানালেও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা।

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে এর শর্তগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি লেবানন সংকটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এই কাঠামোগত চুক্তিকে স্বাগত জানালেও একটি বিষয়ে গভীর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী শুক্রবার চূড়ান্ত স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন যেকোনো বক্তব্য, উসকানি এবং সম্ভাব্য নাশকতা থেকে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

    প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দুই প্রভাবশালী দেশও এই চুক্তি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই ঐতিহাসিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই শান্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে। তবে তাঁরা মনে করিয়ে দেন, ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বের দীর্ঘদিনের উদ্বেগগুলো দূর করতে হবে।

    অন্যদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক্স-এ লিখেছেন, তিনি আশা প্রকাশ করেন এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় ‘নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল’ নিশ্চিত হবে এবং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য অমীমাংসিত সংকটের দ্রুত সমাধান ঘটবে।