লিও মেসি

  • তাহলে কোন একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

    তাহলে কোন একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা

    আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। ডালাস স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হতে যাওয়া ম্যাচটি জিতলেই নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাবে লা আলবিসেলেস্তেদের। তার আগে আলোচনায় তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের সম্ভাব্য একাদশ।

    আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সের পরও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের একাদশে একটি পরিবর্তন আসবে। চোটের কারণে রাইটব্যাক গনসালো মন্তিয়েলকে বিশ্রাম দেবেন লিওনেল স্কালোনি। ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান অনুভব করায় তাঁকে বেঞ্চে রাখা হচ্ছে। মন্তিয়েলের অনুপস্থিতিতে শুরুর একাদশে রাখা হবে নাউয়েল মলিনাকে। এই পজিশনে স্কালোনির প্রথম পছন্দ তিনি।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু রাইব্যাকই নয়, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে আরও দুটি পরিবর্তন আসতে পারে আর্জেন্টিনার একাদশে। শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে হুলিয়ান আলভারেসকে। গোড়ালির চোট কাটিয়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তবে আতলেতিকো মাদ্রিদ তারকা এখনো পুরোপুরি ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাননি বলে কিছুটা শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আলজেরিয়া ম্যাচের মতো অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও লাউতারো মার্তিনেস শুরুর একাদশে নামলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

    আক্রমণভাগে আরও একটি পরিবর্তন নিয়ে ভাবছেন স্কালোনি। থিয়াগো আলমাদা একাদশে থাকবেন নাকি তাঁর জায়গায় সুযোগ পাবেন নিকোলাস গনসালেস—এখনো সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরু করা আলমাদার ওপরই আবারও আস্থা রাখার সম্ভাবনা বেশি—এমনটাই দাবি টিওয়াইসি স্পোর্টসের।

    লেফটব্যাক পজিশনে ফাকুন্দো মেদিনাকেই ধরে রাখছেন স্কালোনি। কাফের চোট কাটিয়ে নিকোলাস তালিয়াফিকো দলে ফিরলেও তাঁকে শুরু থেকেই খেলিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না কোচিং স্টাফ। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যেতে পারে এই ডিফেন্ডারকে। ধীরে ধীরে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়ায় লিয়ান্দ্রো পারেদেসকেও কিছুটা সময় খেলাতে পারেন স্কালোনি, বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেস, নাউয়েল মলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, ফাকুন্দো মেদিনা; রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস মাক আলিস্তার, এনসো ফার্নান্দেস, থিয়াগো আলমাদা অথবা নিকোলাস গনসালেস, লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্তিনেস।

  • ‘মেসি সেরাদের সেরা’

    ‘মেসি সেরাদের সেরা’

    বিশ্বকাপের শুরুতেই নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে যেন বুঝিয়েছেন, ৩৯ ছুঁইছুই বয়সেও দলের জন্য কতটা কার্যকর তিনি। এমন পারফরম্যান্সের পর চারদিক থেকে এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে প্রশংসা বাক্য শোনা যাচ্ছে। সবশেষ মেসিকে প্রশংসায় ভাসালেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

    প্রথম ম্যাচেই দারুণ হ্যাটট্রিক করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বড় জয়ে নেতৃত্ব দেন মেসি। গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে আলোচনায় সবার আগে দশ নম্বর জার্সিধারী। মেসির সঙ্গে এই আলোচনায় আছে এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন ও আরলিং হালান্ডের নাম। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনজনই জোড়া গোল করেছেন। এখন পর্যন্ত গোল্ডেন বুটের আলোচনায় আছেন এই চারজন।

    এই চারজনের মধ্যে দ্বিধাহীনভাবে মেসিকে এগিয়ে রাখলেন এমবাপ্পে। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফরাসি তারকা বলেন, ‘মেসি এই চারজনের মধ্যে সেরা। এটা পরিষ্কার। সে সেরাদেরও সেরা, ঠিক যেমন ক্রিস্টিয়ান রোনালদো।’

    মেসির প্রশংসা করে এমবাপ্পে আরও বলেন, ‘সে (মেসি) গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে অসাধারণ মান দেখিয়ে আসছে। বাকিদের নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু সেটা সাংবাদিক ও ভক্তদের বিষয়। এটা আমার মাথায় নেই। আমি শুধু নিজের পারফরম্যান্স দেখানোর চেষ্টা করি।’

    কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায় ফ্রান্স। দল শিরোপা জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে রঙিন ছিলেন এমবাপ্পে। সে আসরের গোল্ডেন বুট উঠেছিল তাঁর হাতে। তবে এই ফরোয়ার্ড জানালেন, ব্যক্তিগত নয়, তাঁর কাছে দলগত সাফল্যই সবার আগে, ‘আমি জানতাম মেসি গোল করবে, সে সব সময়ই এটা করে। সে আমার চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু আমি দলের জন্য গোল করে যেতে চাই। গোল করলে রেকর্ড ভাঙা যায়, কিন্তু আমার লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয়।’

    বিশ্বকাপে ‘আই’ গ্রুপে আজ রাতে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স। যেটা হবে এমবাপ্পের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এমন একটি ম্যাচের আগেও তাঁর ভাবনায় দল, ‘জাতীয় দলে খেলা সব সময়ই বিশেষ কিছু। ১০০তম ম্যাচ বিশ্বকাপে খেলাটা ঐতিহাসিক। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জয় তুলে নেওয়া।’

  • মেসি-জাদুতে’ মোহগ্রস্ত ফুটবল

    মেসি-জাদুতে’ মোহগ্রস্ত ফুটবল

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    মেসিকে এতটা অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল কী?’‘মেসিকে এতটা অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল কী?’

    প্রশ্নটা করা হয়েছিল আলজেরিয়ার মিডফিল্ডার ইব্রাহিম মাজাকে। এই প্রশ্ন শুনে মাজা স্বভাবসুলভ হাসিটাই দিলেন। সাধারণ কীভাবে অসাধারণ হয়ে ওঠে সেটাকে না হয় ব্যাখ্যা করা যায় কিন্তু অসাধারণকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবে সে? মেসির পক্ষ-প্রতিপক্ষ যে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে বহুবার। সেই প্রশ্নের উত্তর মাজাও দিলেন একইভাবে, “মেসি-জাদু। এর ব্যাখ্যা দেওয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। ম্যাচটা দেখলেই বুঝবেন ‘মেসি-জাদু’ বলতে কী বোঝায়। আজ যেমন দেখলেন, সে একাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।”

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে কয়েকটি রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। যার মধ্যে একটি হলো- বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ডে ভাগ বসানো। মেসির গোল ১৫টি, আর একটি হলেই এককভাবে বসবেন সিংহাসনে। তবে মেসির এসব নিয়ে আগ্রহ নেই। সেটা জানিয়ে গেলেন ম্যাচ শেষে হাতে ‘সুপিরিয়র প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ ট্রফি নিয়ে, ‘সত্যি বলতে, এই রেকর্ড নিয়ে আমি ভাবছি না। ক্লোসের পাশে নিজের নাম দেখতে পারা সম্মানের। ব্রাজিলের রোনালদোও আছেন সেখানে। এমবাপ্পেও আছে, সে আজ দুটি গোল করেছে। শেষ পর্যন্ত এগুলো কেবল পরিসংখ্যান, এর বেশি কিছু নয়।’

    এ কথা যেন মুহূর্তেই বিস্ময় জাগিয়ে দিল ভরা মজলিসে! বিস্ময়ের সমুদ্রে ডুবে থাকা সাংবাদিকের প্রশ্ন তাই ছুটে গেল মেসির সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলের দিকে, ‘মেসি কি আসলেই এসব রেকর্ড নিয়ে ভাবেন না?’ ডি পল জবাব দিলেন হাস্যরসে, ‘সে এসব নিয়ে মাথাই ঘামায় না। তার সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় এসব মনে করিয়ে দিলেও সে এসব নিয়ে ভাবে না। এটা কীভাবে সম্ভব, আমি জানি না।’

    মেসি বলেই তো সম্ভব। রেকর্ড তো মেসির পায়ে লুটিয়ে পড়েছে যুগ-যুগান্তর। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যে খুদে জাদুকরের কীর্তিগাথা জেনেছে, তিনি কেন এসব নিয়ে ভাববেন? তিনি তো শুধু উপভোগ করতে চান ফুটবলটাই আর বিস্মিত করতে চান সতীর্থ-প্রতিপক্ষ থেকে শুরু করে পুরো বিশ্বকে। যে কারণে ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময়ও প্রায় ৭০ হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে উল্লাসধ্বনি তোলেন কিংবদন্তির নামে। ভালোবাসায় আপ্লুত মেসির দুই হাতও জবাবী হয়ে ওঠে অভিবাদনে!

    মেসি, যার কীর্তিগাথায় ডুবে থাকেন সাইডলাইনে দাঁড়ানো স্কালোনি। আবেগে ভেসে যায় দুকূল! অবলীলায় স্বীকার করে নেন সাধারণ অথচ অসাধারণত্বের চিরন্তন বাণী, ‘এ নিয়ে বলার মতো কোনো ভাষা নেই। আমি যা-ই বলি, তা কম হয়ে যাবে। সে ২০ বছর ধরে এমনই করে আসছে। ফুটবলপ্রেমীরা ঠিক এটাই দেখতে চায়।’আর কতদিন এ জাদুতে ফুটবলপ্রেমীদের মোহগ্রস্ত করে রাখতে পারবেন মেসি? প্রশ্নের উত্তর তোলা থাক জাদুকরের মহাকাব্যের শেষ উপাখ্যানের জন্যেই।

  • লিওনেল মেসি কী খেতে ভালোবাসেন?

    লিওনেল মেসি কী খেতে ভালোবাসেন?

    লাইফস্টাইল

    বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর জাদুকরী খেলার ভক্ত কোটি মানুষ। ভক্তদের কৌতূহল তাঁর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়েও। ফুটবলের এ জাদুকরের প্রিয় খাবার কী, তাঁর প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোন ধরনের খাবার থাকে তা নিয়ে মেসিভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই।

    মেসি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব কম কথা বলেন, কিন্তু তাঁর পুষ্টিবিদদের মাধ্যমে জানা যায়, কীভাবে তিনি নিজের ফিটনেস ধরে রাখেন। মূলত কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, বিজ্ঞানভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণেই তিনি ফিট থাকেন।

    কোটি কোটি ডলারের মালিক, বিশ্বের নানা দেশের বিলাসবহুল খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও মেসির সবচেয়ে প্রিয় খাবার কিন্তু কোনো দামি ইউরোপীয় পদ নয়। বরং শৈশবের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা মায়ের হাতে তৈরি একটি আর্জেন্টাইন খাবারই তাঁর প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে।

    প্রিয় খাবার মায়ের হাতের মিলানেসা নাপোলিতানা
    বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মেসি জানিয়েছেন, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খাবার মিলানেসা নাপোলিতানা। এটি মূলত ব্রেডক্রাম্বে মোড়ানো মাংস বা চিকেন কাটলেট, যার ওপর টমেটো সস, হ্যাম ও গলানো চিজ দেওয়া হয়। তবে মেসির কাছে সবচেয়ে বিশেষ হলো তাঁর মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনির হাতে তৈরি মিলানেসা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক ভালো মিলানেসা খেলেও মায়ের রান্নার স্বাদকে তিনি কখনো ছাড়িয়ে যেতে দেখেননি।

    আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ‘আসাদো’
    মেসির আরেকটি প্রিয় খাবার আসাদো। এটি আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী বারবিকিউ, যেখানে গরু, ভেড়া বা সসেজসহ নানা ধরনের মাংস ধীরে ধীরে আগুনে গ্রিল করা হয়। আর্জেন্টিনায় আসাদো শুধু খাবার নয়, পরিবার ও বন্ধুদের মিলনমেলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেসির মায়ামির বাড়িতেও বড় গ্রিল স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে পরিবার নিয়ে আসাদো উপভোগ করেন তিনি।

    পাস্তা, চকোলেট আর আইসক্রিমের প্রতি দুর্বলতা
    কঠোর ডায়েট মেনে চললেও মেসি মিষ্টিজাতীয় খাবার খুব পছন্দ করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, পাস্তা, চকোলেট, ডুলসে দে লেচে (দুধের তৈরি আর্জেন্টাইন মিষ্টি), আইসক্রিম-সবই তাঁর প্রিয়। বিশেষ করে মিষ্টির প্রতি তাঁর দুর্বলতা দীর্ঘদিনের। তবে ফিটনেস ধরে রাখতে তিনি এসব খাবার পরিমিত পরিমাণে খান।

    ইয়ারবা ম্যাটে

    মেসির সবচেয়ে পরিচিত অভ্যাসগুলোর একটি হলো ইয়ারবা ম্যাটে পান করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে প্রায়ই বিশেষ ধরনের পাত্রে মাতে পান করতে দেখা যায়। দক্ষিণ আমেরিকায় জনপ্রিয় এই পানীয়টি কফির বিকল্প হিসেবে পরিচিত এবং এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রাকৃতিক ক্যাফেইন। এক সাক্ষাৎকারে মেসি জানান, আগে তিনি মিষ্টি ম্যাটে পছন্দ করলেও এখন তিতা স্বাদের ম্যাটে পান করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ইয়ারবা ম্যাটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ পানীয়। এটি ক্লান্তি কমাতে, শক্তি বাড়াতে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

    বদলে গেছে খাদ্যাভ্যাস
    তরুণ বয়সে পিৎজা, সফট ড্রিংকস ও বিভিন্ন ভারী খাবার খেতে ভালোবাসলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনেন মেসি। পুষ্টিবিদদের পরামর্শে তিনি চিনি, অতিরিক্ত লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দেন। বর্তমানে তাঁর খাদ্যতালিকায় বেশি থাকে তাজা শাকসবজি, ফলমূল, বিভিন্ন ধরনের শস্য, মাছ, অলিভ অয়েল ও ভিটামিনসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাবার।

    তাঁর পুষ্টিবিদদের মাধ্যমে জানা যায়, আগে সালাদ বা সবজি, তারপর মাছ বা মাংস, শেষে ভাত বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে না এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি থাকে। মেসি ঠিক সেভাবেই ক্রম মেনে খাবার খান। খেলোয়াড়দের জন্য শস্য, ডাল ও আলুর মতো জটিল কার্বোহাইড্রেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর সঙ্গে ডিম, মাছ, মুরগি কিংবা সয়া প্রোটিন যুক্ত হলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় বলে মনে করেন মেসির পুষ্টিবিদরা।

  • মেসির সঙ্গে রোনালদিনহোর সম্পর্ক কেমন ছিল, পর্দায় সেই সময়ের গল্প

    মেসির সঙ্গে রোনালদিনহোর সম্পর্ক কেমন ছিল, পর্দায় সেই সময়ের গল্প

    তাঁর কথা শুনলেই পরিসংখ্যানের আগে চোখে ভেসে ওঠে আনন্দ। গোল, শিরোপা কিংবা রেকর্ড নয়, তাঁদের স্মরণ করা হয় খেলার সৌন্দর্যের জন্য। ব্রাজিলের সাবেক খেলোয়াড় রোনালদিনহো সেই তালিকার অন্যতম।

    মাঠে বল পায়ে তাঁর হাসি, প্রতিপক্ষকে বোকা বানানো ড্রিবল, অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলা পাস কিংবা দর্শকদের জন্য ফুটবলকে বিনোদনের শিল্পে পরিণত করার ক্ষমতা তাঁকে অন্য সবার থেকে আলাদা করেছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলপ্রেমীদের মনে একই প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে—রোনালদিনহো আসলে কে?

    সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই নতুন তথ্যচিত্র ‘রোনালদিনহো: দ্য ওয়ান অ্যান্ড অনলি’। বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে গত এপ্রিলে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় তথ্যচিত্রটি। তিন পর্বের এই তথ্যচিত্র শুধু একজন ফুটবলারের গল্প নয়; এটি এক দরিদ্র ব্রাজিলিয়ান ছেলের বিশ্বজয়ের কাহিনি, যার মুখে সব সময় হাসি ছিল, কিন্তু জীবনে ছিল সংগ্রাম, ট্র্যাজেডি, বিতর্ক এবং অবিশ্বাস্য সাফল্য।

    পোর্তো অ্যালেগ্রের ছোট্ট ছেলেটি
    রোনালদিনহোর জন্ম ১৯৮০ সালে ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলের শহর পোর্তো অ্যালেগ্রেতে। তাঁর পুরো নাম রোনালদো দে আসিস মোরেইরা। ফুটবল তাঁর পরিবারের রক্তেই ছিল। বাবা জোয়াও ছিলেন অপেশাদার ফুটবলার এবং জাহাজ নির্মাণ কারখানার কর্মী। বড় ভাই রবার্তো পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।

    কিন্তু রোনালদিনহোর শৈশব সুখের ছিল না। মাত্র আট বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। পরিবারের ওপর নেমে আসে আর্থিক সংকট। তথ্যচিত্রে পরিবারের সদস্যরা সেই সময়ের কথা স্মরণ করেছেন। সেখানে দেখা যায়, ফুটবলই ছিল ছোট্ট রোনালদিনহোর একমাত্র আশ্রয়।

    রাস্তার ফুটবল থেকে বিশ্বমঞ্চ
    ব্রাজিলের অলিগলি, সৈকত আর ছোট ছোট মাঠে ফুটবল খেলেই বড় হয়েছেন রোনালদিনহো। তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে কীভাবে অল্প বয়সেই তাঁর অসাধারণ প্রতিভা সবার নজর কাড়ে। ১৩ বছর বয়সে এক ম্যাচে ২৩ গোল করার ঘটনাও আবার আলোচনায় এসেছে। খুব দ্রুতই তিনি ব্রাজিলিয়ান ক্লাব গ্রেমিওর নজরে আসেন। সেখান থেকেই শুরু পেশাদার ফুটবলের যাত্রা।

    তথ্যচিত্রে পুরোনো ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কিশোর রোনালদিনহোর খেলার ধরন তখনই অন্যদের থেকে আলাদা ছিল। তিনি শুধু গোল করতে চাইতেন না; দর্শকদের আনন্দ দিতে চাইতেন।

    ‘রোনালদিনহো: দ্য ওয়ান অ্যান্ড অনলি’র দৃশ্য। নেটফ্লিক্স

    ইউরোপ জয়
    ফ্রান্সের পিএসজি ক্লাবে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় ফুটবলে প্রবেশ করেন রোনালদিনহো। কিন্তু তাঁর প্রকৃত উত্থান ঘটে স্পেনের বার্সেলোনায়।
    তথ্যচিত্রের সবচেয়ে আবেগঘন অংশগুলোর একটি হলো বার্সেলোনা অধ্যায়। ক্লাবটি তখন সংকটের মধ্যে। সমর্থকেরা হতাশ। সেই সময় রোনালদিনহো এসে শুধু দলটিকেই বদলে দেননি, বদলে দিয়েছিলেন পুরো ক্লাবের মানসিকতা।

    ২০০৫ সালে তিনি জেতেন ব্যালন ডিঅর। একই সময়ে বার্সেলোনাকে আবার ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর একটিতে পরিণত করেন। তথ্যচিত্রে সাবেক সতীর্থদের ভাষ্য থেকে জানা যায়, রোনালদিনহোর উপস্থিতি ছিল সংক্রামক। তিনি মাঠে যেমন হাসতেন, অনুশীলনেও তেমনি আনন্দ ছড়িয়ে দিতেন।

    মেসির জীবনে রোনালদিনহো
    তথ্যচিত্রের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ হলো লিওনেল মেসির সঙ্গে রোনালদিনহোর সম্পর্ক। আজকের মেসিকে সবাই চেনে। কিন্তু ২০০৪ সালে তিনি ছিলেন লাজুক এক কিশোর। রোনালদিনহোই প্রথম তাঁকে ড্রেসিংরুমে আপন করে নিয়েছিলেন। বার্সেলোনার মূল দলে মেসির অভিষেকের সময় রোনালদিনহো ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা। মেসির প্রথম গোলটির অ্যাসিস্টও করেছিলেন রোনালদিনহো। তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে, কীভাবে তিনি তরুণ মেসিকে আগলে রেখেছিলেন এবং ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, বার্সেলোনার ইতিহাসে মেসির উত্থানের পেছনে রোনালদিনহোর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যচিত্রে মেসিও সেই সময়ের স্মৃতি ভাগাভাগি করেছেন।

    রোনালদোর গল্পেও তাঁর ছায়া
    আরেকটি মজার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তথ্যচিত্রে। ২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড রোনালদিনহোকে দলে নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি বার্সেলোনা বেছে নেন। ফলে ইউনাইটেডে একটি উইঙ্গারের জায়গা খালি থেকে যায়। সেই সুযোগেই ক্লাবে আসেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

    ২০০২ বিশ্বকাপের নায়ক
    ব্রাজিলের পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ও তথ্যচিত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ২০০২ সালে রিভালদো, রোনালদো ও রোনালদিনহোকে নিয়ে গঠিত আক্রমণভাগ ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর ত্রয়ী। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই বিখ্যাত ফ্রি-কিক গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। সেটি কি শট ছিল, নাকি ক্রস? প্রশ্নটির উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি। কিন্তু গোলটি ব্রাজিলকে সেমিফাইনালে নিয়ে যায়। পরে দলটি বিশ্বকাপও জিতে নেয়।

    ‘রোনালদিনহো: দ্য ওয়ান অ্যান্ড অনলি’র পোস্টার। নেটফ্লিক্স

    শুধু সাফল্য নয়, বিতর্কও
    তথ্যচিত্রটি রোনালদিনহোর জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলোও এড়িয়ে যায়নি। ক্যারিয়ারের শেষভাগে ফিটনেস সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং মাঠের বাইরের নানা সমালোচনার বিষয় উঠে এসেছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে প্যারাগুয়েতে ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি তথ্যচিত্রে আলোচিত হয়েছে।
    নির্মাতারা দেখানোর চেষ্টা করেছেন, বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা কখনো কখনো একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনকে কতটা জটিল করে তুলতে পারে।

    কেন তিনি এত প্রিয়?
    রোনালদিনহোর ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান অসাধারণ। তিনি বিশ্বকাপ জিতেছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন, ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। কিন্তু তথ্যচিত্রটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে—মানুষ তাঁকে শুধু শিরোপার জন্য মনে রাখে না। কারণ, তিনি ফুটবল খেলতেন আনন্দ নিয়ে। যে যুগে ফুটবল ক্রমেই কৌশল, অর্থনীতি এবং ব্যবসার মধ্যে বন্দী হয়ে পড়ছিল, সেই সময় রোনালদিনহো দর্শকদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে ফুটবল মূলত আনন্দের খেলা। তথ্যচিত্রটি দেখায়, কীভাবে তিনি শুধু ম্যাচ জিতেননি, ফুটবল খেলার ধরনও বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর ‘নো-লুক পাস’, ‘এলাস্টিকো’ ড্রিবল, অসম্ভব ফ্রি-কিক কিংবা প্রতিপক্ষকে অপদস্থ করে দেওয়া স্কিল আজও ইউটিউব যুগের আগের ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে জীবন্ত।

    এই তথ্যচিত্রের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, এটি রোনালদিনহোকে দেবতা বানানোর চেষ্টা করেনি। বরং একজন মানুষ হিসেবে তাঁকে দেখিয়েছে। এখানে যেমন আছে কিংবদন্তির উত্থান, তেমনি আছে ভুল সিদ্ধান্ত। যেমন আছে সাফল্যের ঝলক, তেমনি আছে ব্যর্থতার অন্ধকার। ফলে দর্শক শুধু একজন ফুটবল তারকাকে দেখেন না; একজন মানুষকেও চিনতে পারেন।