লিওনেল স্কালোনি

  • ‘মেসির বিদায়ী ম্যাচ; পাঁচটা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও যথেষ্ট না’

    ‘মেসির বিদায়ী ম্যাচ; পাঁচটা মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও যথেষ্ট না’

    লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনায় যে আবেগের সঞ্চার হয়েছে, সেটিই ফুটে উঠেছে কোচ লিওনেল স্কালোনির কথায়।

    বেনিনের বিপক্ষে মেসির শেষ ম্যাচ দেখতে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার চেয়েও যে চাহিদা বেশি, সেটি বোঝাতে স্কালোনি বলেছেন, ‘যদি পাঁচটি মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও থাকত, সবগুলো পূর্ণ হয়ে যেত।’

    বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে মেসির বিদায় নিয়ে কথা বলেন স্কালোনি। তার মতে, এখন আর মেসির বিদায় নিয়ে বলার মতো কিছু বাকি নেই, সময়টা শুধু উপভোগ করার। ‘আমি সব জায়গা থেকে বার্তা পেয়েছি। হাহা। আমার মনে হয়, সবকিছু বলা হয়ে গেছে। এখন শুধু উপভোগ করার পালা,’ বলেন আর্জেন্টাইন কোচ।

    ২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার ফুটবলে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমাসহ একাধিক শিরোপা জয়ের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। স্কালোনির মতে, মেসির বিদায়ের পর তাঁর অভাব প্রতিটি মুহূর্তেই অনুভূত হবে। ‘আমরা সবসময় যে নস্টালজিয়ার কথা বলি, সে যখন থাকবে না, তখন সেটা অনুভব হবে। এখন সে আর এখানে থাকবে না,’ বলেন স্কালোনি।

    মেসির শেষ ম্যাচের আবেগ নিয়েও কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন কোচ। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি সবাই আবেগপ্রবণ থাকবে। মেসিও থাকবে। সে যেদিন মনুমেন্টালের মাঠে পা রাখবে, সেদিনটি সবার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

    মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনা অবশ্যই এগিয়ে যাবে, তবে তার মতো অনুভূতি আর কেউ দিতে পারবেন না বলেই মনে করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের খেলতে হবে, দলও চলবে। কিন্তু মাঠে তাকে থাকার যে অনুভূতি, তা অনন্য। মাঠে সে যে অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়, অন্য কারও মধ্যে আমি কখনো এমন কিছু দেখিনি। আমরা সেটাই সবচেয়ে বেশি মিস করব। তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল চলতে থাকবে।’

    বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে মেসির জাতীয় দলের হয়ে ২০৮তম। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এখন পর্যন্ত ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন তিনি। বিদায়ী ম্যাচের আগে মেসির সঙ্গে আরও দুটি অনুশীলন সেশন পাচ্ছেন স্কালোনি। তাই শেষ মুহূর্তগুলোও উপভোগ করতে চান আর্জেন্টাইন কোচ।

  • নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন লিওনেল স্কালোনি

    নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন লিওনেল স্কালোনি

    জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। ফিফা উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এই সিরিজেই বিদায় জানানো হবে লিওনেল মেসিকে। এই সফরে দেশে আসার আগে এশিয়ার গণমাধ্যম মিগুকে সাক্ষাৎকার দেন স্কালোনি।

    বুয়েনস এইরেসে পৌঁছানোর আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কালোনি সরাসরি বলেননি যে তিনি থাকবেন কিনা। বরং এই সিদ্ধান্তকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেই মনে করেন তিনি। নিজের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করবো, আমরা থাকি বা না থাকি’।

    ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকছেন স্কালোনি, এটা নিশ্চিত। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে চাইছে অন্তত ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। দলটির কোচ হিসেবে তাকে না দেখা যেতে পারে তখনই, যখন তিনি নিজে এএফএকে না বলবেন। সেই তিনিই যখন বলছেন অনিশ্চয়তার কথা, তখন তা নিশ্চিতভাবেই ধোঁয়াশা তৈরি করে। আর তাতেই শুরু হয়ে গেছে নতুন গুঞ্জন।

    সেপ্টেম্বরের এই উইন্ডোর জন্য স্কালোনি নতুন অনেক মুখকে ডেকেছেন ক্যাম্পে। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, আমরা সেটার জন্য সুযোগ তৈরি করবো। সত্যিই তারা এটার যোগ্য। আগামী ম্যাচগুলোতে আমাদের মূল লক্ষ্য হবে এমন তরুণদের সুযোগ দেওয়া, যারা আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ, সুন্দর অধ্যায় শুরু হচ্ছে। দরজায় কড়া নাড়া এই ছেলেদের ওপর আস্থা রাখার সময় এখন। আমি সবসময় বলি বয়স কোনো মাপকাঠি নয়। কেউ থাকবে বা নতুন কেউ আসবে, সেটা নির্ভর করবে তাদের ক্লাবের পারফরম্যান্সের ওপর এবং আমরা তাদের প্রয়োজন মনে করি কিনা তার ওপর। তবে আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো, যারা আমাদের জার্সি গায়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারে, তাদের সবাইকে সুযোগ দেওয়া।’

    নতুন প্রজন্ম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে জেতা কোপা আমেরিকা ২০২৪ এর পরের সময়ের সঙ্গেও তুলনা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘কোপা আমেরিকা ২০২৪ এর পরও আমার মনে হয়েছিল সামনের সময়টা কঠিন হবে। কারণ সব শিরোপা জেতার পর, বিশ্বকাপের দুই বছর বাকি থাকতেই একধরনের সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আবার সেই জায়গায় ফিরে গিয়ে, প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কিনা তা অনুভব করে দেখেছি সত্যিই সেটা সম্ভব ছিল।’

    বিশ্বকাপ পরবর্তী সময় নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল শেষ হওয়ার পর, জিতি বা হারি সেটা বিষয় নয়। এখন থেকে একটা নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে, আমরা সেই সুযোগ তৈরি করবো। শিরোপা পুনরাবৃত্তি করার কথা বলছি না। দলের প্রতি মানুষের যে আবেগ তৈরি হয়েছে, সেটা ধরে রাখাই কঠিন কাজ। এমনটা আবার করা সহজ হবে না। মানুষ এই জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করে ফেলেছে। ভয় লাগে, তবে ভালো অর্থেই ভয় লাগে। আমার মনে হয় এটা আবার চেষ্টা করা কঠিন হবে। সহজ হবে বলছি না। একজন কোচ হিসেবে, দলের প্রধান হিসেবে জানতেই হবে যে এটা কঠিন হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা চেষ্টা করবো, আমরা থাকি বা না থাকি। এটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।’

    স্পেনের বিপক্ষে হারের দুই মাস পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে দলের অবস্থা নিয়ে কাতার বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আগের বিশ্বকাপে আমরা অনেক ভালো অবস্থায় গিয়েছিলাম, ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড় স্বাভাবিক ছিল। এবার আমরা অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। আমার ভিন্ন একটা দিকে অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমাদের খেলোয়াড়েরা শতভাগ ফিট ছিল না, কিন্তু আমরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। আগের চেয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে আমাদের।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেসব খেলোয়াড়কে চেয়েছিলাম, তাদের নিয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। আমাদের যা বলা হয়েছিল তা সত্যি ছিল, তাদের ওপর আস্থা রাখতে হয়েছে। এই আট বছরে যারা সবকিছু দিয়েছে তাদের ওপর আস্থা রাখা জরুরি ছিল। একজন ফুটবলারের চেয়ে মানুষ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তথ্যসূত্র : গোল.কম