ট্যাগ লা লিগা

  • লা লিগায় মেসি-রোনালদোর যুগ মনে করাচ্ছেন রাফিনিয়া

    লা লিগায় মেসি-রোনালদোর যুগ মনে করাচ্ছেন রাফিনিয়া

    একটা সময় লা লিগায় নিয়মিতই দেখা যেত অবিশ্বাস্য সব গোল আর রেকর্ডের পর রেকর্ড। লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যুগে এক মৌসুমে ৪৮ বা ৫০ গোল করা ছিল যেন জলভাত। সময়ের পরিক্রমায় অনেকেই ধরে নিয়েছিল, ওই রূপকথার দিনগুলোর বুঝি চিরতরে অবসান ঘটেছে। তবে সব হিসাব পাল্টে দিয়ে সেই অসম্ভব রেকর্ডের দরজায় কড়া নাড়ছেন বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া।

    চলতি লা লিগা মৌসুমে নিজের প্রথম ৭ ম্যাচেই অভাবনীয় ১২টি গোল করে ফেলেছেন এই সেলেসাও তারকা। এই পরিসংখ্যান তাকে সরাসরি বসিয়ে দিয়েছে ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের কাতারে, যা মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই মেসি-রোনালদোর স্বর্ণালী শুরুর দিনগুলোকে। কিন্তু রাফিনিয়ার পায়ে চলতি মৌসুমের এই অবিশ্বাস্য গোল উৎসবের পেছনে রয়েছে এক অন্য গল্প।

    এবারের ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা না পাওয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন রাফিনিয়া। তবে কোনো কথার লড়াইয়ে না জড়িয়ে তিনি মাঠেই এর সবচেয়ে কড়া জবাব দিয়ে যাচ্ছেন গোলের পর গোল করে। হান্সি ফ্লিকের অধীনে নতুন ট্যাকটিক্যাল পজিশনে খেলে রাফিনিয়া এখন লা লিগায় যে কোনো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ত্রাস হয়ে উঠেছেন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম সাত ম্যাচের গোলের হিসেবে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন রাফিনিয়া। ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে প্রথম ৭ ম্যাচে ১৩ গোল করেছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০১৭-১৮ মৌসুমে বার্সেলোনার জার্সিতে মেসি করেছিলেন প্রথম ৭ ম্যাচে ১১ গোল। আর চলতি মৌসুমে ১২ গোল করে মেসিকেও ছাড়িয়ে গেছেন রাফিনিয়া।

    এছাড়া লা লিগার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০১১-১২ মৌসুমে রেকর্ড ৫০ গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি। পরের স্থানটিই রোনালদোর। ২০১৪-১৫ মৌসুমে তিনি ৪৮ গোল করেন। দুই মহাতারকা লা লিগা ছাড়ার পর থেকে ৪০ বা ৫০ গোলের ঘটনা হারিয়ে গিয়েছিল। লুইস সুয়ারেস (৪০ গোল) কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পে বা রবার্ট লেভানদোভস্কিরা চেষ্টা করলেও সেই যুগের পাগলাটে পরিসংখ্যান ছুঁতে পারেননি।

    কিন্তু রাফিনিয়ার বর্তমান ফর্ম নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। প্রতি ম্যাচে ১.৭১ গড়ে গোল করে চলা এই ব্রাজিলিয়ান যদি এই ধারা অব্যাহত রাখেন, তবে গাণিতিক হিসাবে মৌসুম শেষে তার গোলের সংখ্যা গিয়ে ঠেকতে পারে ৬৫টিতে! যদিও পুরো মৌসুমে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন, তবুও তার বর্তমান ফর্ম ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে পুরোনো সেই সোনালী দিনগুলোর কথা।

    -গোল ডটকম অবলম্বনে

  • ১০ জনের রিয়ালকে হারিয়ে বার্সার আরও কাছে আতলেতিকো

    ১০ জনের রিয়ালকে হারিয়ে বার্সার আরও কাছে আতলেতিকো

    লা লিগার মাদ্রিদ ডার্বিতে ১০ জনের রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে আতলেতিকো। অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে এটি রিয়ালের দ্বিতীয় হার।

    রোববারের ম্যাচে রিয়ালের হয়ে শুরু থেকেই আক্রমণভাগে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহাম। তবে প্রথমার্ধে তারকাখচিত দুই দলের লড়াইয়ে উত্তেজনা থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি।

    প্রথমার্ধের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল বেলিংহাম ও আতলেতিকোর ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর মধ্যকার সংঘর্ষ। বেলিংহামকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে সিদ্ধান্ত বদলে রোমেরোকে কার্ড দেখানো হয়।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। গোলমুখে এগিয়ে যাওয়া জুলিয়ানো সিমিওনেকে বক্সের মধ্যে টেনে ধরেন রিয়ালের ডিফেন্ডার ডিন হুইসেন। ভিএআর পর্যালোচনার পর হুইসেনকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং আতলেতিকো পেনাল্টি পায়। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো।

    গোল হজমের পর দ্রুত দুটি পরিবর্তন করেন রিয়াল কোচ হোসে মরিনহো। ভিনিসিয়ুস ও আরদা গুলেরকে তুলে ইয়ান দিয়োমান্দে ও আন্তোনিও রুডিগারকে মাঠে নামান তিনি। তবে রিয়ালের ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে আতলেতিকো।

    ৫৯ মিনিটে জুলিয়ানো সিমিওনের নিচু ক্রস থেকে বল পেয়ে গোল করেন কানাডার ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড। এটি ছিল আতলেতিকোর হয়ে টানা তিন ম্যাচে তার তৃতীয় গোল।

    এরপর আতলেতিকো তৃতীয় গোলের কাছাকাছি গেলেও রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া জুলিয়ান আলভারেজের প্রচেষ্টা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বলে গ্রিমালদোর শটও গোললাইন থেকে হেড করে ফেরান ইব্রাহিমা কোনাতে।

    শেষদিকে রিয়াল একটি গোল শোধ করে। বের্নার্দো সিলভার ক্রস থেকে হেড করে গোল করেন রুডিগার। তবে শেষ মুহূর্তের সেই গোল দলকে সমতায় ফেরানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

    জয়ে আতলেতিকো উঠে এসেছে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। তাদের পয়েন্ট বার্সেলোনার চেয়ে পাঁচ কম এবং রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে এক বেশি। রিয়াল এই হারে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে।

  • বার্সার সাতে সাত

    বার্সার সাতে সাত

    লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন রাফিনিয়া। সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলের জয় এনে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে একুশ শতকে লা লিগার কোনো মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচে গোল করার দিক থেকে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

    সেভিয়ার মাঠে গত শনিবার রাতে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে বার্সা। র‌্যামন সানচেজ স্টেডিয়ামে ১৯ মিনিটে ইউসুফ ফোফানার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। চার মিনিট পরই রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফেরে বার্সা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তারকা ফুটবলার। অনায়াস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালান ক্লাবটি।

    এই জয়ে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ ও তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল বেটিসের চেয়ে তারা ৬ পয়েন্ট এগিয়ে। তবে বার্সা একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে।

    ম্যাচের শুরুতে অবশ্য এগিয়ে যায় সেভিয়াই। ১৯ মিনিটে ফেলিক্স কোরেইয়ার ক্রস থেকে জাল খুঁজে নেন ইউসুফ ফোফানা। হেড থেকে গোল করেন তিনি।

    তবে মিনিট তিনেকের মধ্যেই বার্সাকে সমতায় ফেরান রাফিনহা। ভেতরের দিকে ঢুকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে সেভিয়ার গোলরক্ষক ওদিসেয়াস ভ্লাখোদিমোসকে পরাস্ত করেন তিনি।

    পরের দুই গোলেই রাফিনহাকে সহায়তা করেন লামিনে ইয়ামাল। ৫২ মিনিটে গোলমুখ থেকে দূরে সরে গিয়ে কয়েকজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ইয়ামাল ক্রস বাড়ান রাফিনিয়ার উদ্দেশে। সাবেক লিডস ফরোয়ার্ড হেডে বল জালে পাঠান।

    এরপর ৬৯ মিনিটে আবারও রাফিনিয়ার গোলের কারিগর ইয়ামাল। অসাধারণ এক পাসে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি। ২৯ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এরপর চমৎকার কৌশলে বলটি ভ্লাখোদিমোসের মাথার ওপর দিয়ে তুলে জালে পাঠান। লামিনে ইয়ামালের সহায়তায় দলের ও নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনহা।

    রাফিনিয়ার এই হ্যাটট্রিকেই নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার টানা সপ্তম জয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের টানা অষ্টম জয়। এই হারের পরও ১৩ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পঞ্চম স্থানে রয়েছে সেভিয়া।