কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতীম নিখোঁজের ঘটনায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ী এলাকার বাসা থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি।
নিখোঁজ ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম সিটি করপোরেশনের কোটবাড়ী গন্ধমতি এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ছেলে। সে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।এদিকে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম ফেসবুকের এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার ছেলেকে আমি বেলা ৩টা থেকে খুঁজে পাচ্ছি না। ওর নাম অপ্রতীম। বয়স ১৩, ক্লাস সেভেনে পড়ে।
ভবিষ্যতে বন্দিবিনিময়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনির লাশ ইসরাইল ধরে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইসরাইলের দৈনিক সংবাদপত্র ‘হারেৎস’ মঙ্গলবার দুই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ইসরাইলের নিরাপত্তাকাঠামোর অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনি ভবিষ্যতে কোনো ইসরাইলি নাগরিক আটক বা নিখোঁজ হলে সম্ভাব্য বন্দিবিনিময়ের জন্য ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীও এই অবস্থানকে সমর্থন করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি ফিলিস্তিনি অধিকার সংগঠন জানিয়েছিল, ইসরাইল গাজায় নিহত প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ সেদে তেইমান সামরিক স্থাপনায় আটকে রেখেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১ হাজার ২৫৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখার বিষয়টি নিহতদের পরিবারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে গভীর মানবিক ও মানসিক সংকটের কারণ হয়ে আছে। স্বজনদের মরদেহ ফেরত দেওয়া এবং যথাযথ ধর্মীয় ও পারিবারিক রীতিতে দাফনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি অধিকার সংগঠন।
খুলনার নিরালা প্রান্তিকা এলাকা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) বাবার লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছে বলে জানিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা শুক্রবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেলে নির্জনার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মা তাকে চড় মারেন। ঘরের ভেতরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি একটি কাঠের লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে মা-বাবা মিলে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে মোটরসাইকেলে করে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে আসেন বলে পুলিশের দাবি।
গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।
তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহত ছাত্রীর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। সে সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং খুলনা ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তের একপর্যায়ে নিহত ছাত্রীর মা আরিফা ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তী সময়ে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পারিবারিক বিরোধের দাবি পুলিশের
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্জনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই পারিবারিক বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে।
আজ সকালে কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। ছবি: সংগৃহীত
মা গ্রেপ্তার, বাবা পলাতক
পুলিশ জানায়, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্ত বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই ঘটনায় তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় খুলনা থানায় আটক নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘গত ২১ এপ্রিল বাড়ি থেকে পালিয়ে তেরখাদা উপজেলার পালেরহাট আজগরা গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনিকে বিয়ে করে নির্জনা। এর তিন দিন পর আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমি ভালো আছি। পরে আমরা জানতে পারলাম ছেলের চরিত্র ভালনা। তাকে ১৭ দিন পর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ওই ছেলে প্রায় মেয়ের সাথে যোগাযোগ রাখত।’
আরিফা ইয়াসমিন আরও বলেন, এ আগে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় নির্জনা পালিয়ে ফকিরহাট উপজেলার বারইপাড়া এলাকার ইকলাসুরের ছেলে মনিরুজ্জামান মনিকে বিয়ে করে। সেখানে একদিন থাকার পর বাড়িতে ফিরে আসে।
ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ
পুলিশের দাবি, পলাতক বাবা আলিম হোসেন আকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন। তিনি একটি চিঠি প্রকাশ করে দাবি করেন, নির্জনা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তবে ওই চিঠির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ছাড়া যেদিন রাতে নির্জনার মরদেহ উদ্ধার হয়, সেদিনই তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো পরিকল্পনা আছে, সকল কষ্ট এবং দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলীম হোসেন আকাশের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত টিকটকার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন টিকটক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতেন।
আলীম হোসেন নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করলেও তার পেশার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা নির্জনার বাবা একজন মাদকাসক্ত। বর্তমানে পলাতক বাবাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।