লাইফষ্টাইল

  • ফ্রিজ ছাড়াই আম সংরক্ষণের উপায়

    ফ্রিজ ছাড়াই আম সংরক্ষণের উপায়

    লাইফস্টাইল

    বাজারে এখন নানা জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। ভরা মৌসুমে দাম কিছুটা হাতের নাগালে হওয়ায় অনেকেই একসঙ্গে অনেকটা আম কিনে রাখছেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দিচ্ছে সংরক্ষণে। ফ্রিজে অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি সব আম রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আবার প্রচণ্ড গরমে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আম বাইরে ফেলে রাখলেও দ্রুত মজে যাওয়া বা পচে যাওয়ার ভয় থাকে। এ সমস্যা সমাধানে আম সংরক্ষণের উপায় জানানো হয়েছে ‘আনন্দবাজারের’এক প্রতিদেনে। এতে বলা হয়েছে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলেই আম কিছু দিন ভালো রাখা সম্ভব। যেমন-

    ১. বাজার থেকে আনার পর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা একটি বালতি বা গামলায় ঠান্ডা পানি দিয়ে তাতে আমগুলো ডুবিয়ে রাখুন। এতে আমের ভিতরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমে যায়। এর ফলে দ্রুত পাকতে শুরু করে না। এরপর পানি থেকে তুলে প্রতিটি আম শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিতে হবে।

    ২. আমের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং বাইরের অতিরিক্ত গরম হাওয়া থেকে বাঁচাতে হলে প্রতিটি আম যে কোনও সাধারণ কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে রাখুন। এর পর পিচবোর্ডের বাক্সে বা ঝুড়িতে সেগুলো পাশাপাশি সাজিয়ে রাখুন। এতে আম সহজে মজে যাবে না বা কালো দাগও ধরবে না।

    ৩. প্লাস্টিকের ব্যাগে কখনই আম রাখা ঠিক নয়। বাক্স না থাকলে মেঝেতে চট বা খবরের কাগজ বিছিয়ে তার উপর আমগুলো ছড়িয়ে রাখতে পারেন।

    ৪. আম সংরক্ষণের জন্য ঘরের এমন একটি কোণ বেছে নিন যেখানে সরাসরি রোদ বা তাপ আসে না, কিন্তু বাতাস চলাচল করে।

    ৫. আম সাজিয়ে রাখার সময় গাদাগাদি করে রাখা যাবে না। একটু দুরত্ব রেখে আরেকটি আম রাখুন।

    ৬. প্রতিদিন এক বার করে আমগুলি পরীক্ষা করুন। কোনও আমে কালো দাগ দেখলে বা নরম হতে শুরু করেছে বলে বুঝতে পারলে, সেগুলি বাকি আম থেকে সরিয়ে ফেলুন।

  • আঙুর রাসায়নিকমুক্ত করুন ঘরোয়া উপায়ে

    আঙুর রাসায়নিকমুক্ত করুন ঘরোয়া উপায়ে

    লাইফষ্টাইল

    আঙুর অনেকেরই পছন্দের ফল। তবে বাজার থেকে কেনা যেসব ফল ও সবজিতে সবচেয়ে বেশি কীটনাশকের অবশিষ্ট থাকার ঝুঁকি থাকে, আঙুর তার মধ্যে অন্যতম। যদি সঠিকভাবে ফলটি পরিষ্কার করা না হয় তাহলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    আঙুর থোকায় থাকে এবং এর খোসা অত্যন্ত পাতলা হওয়ায় রাসায়নিক পদার্থগুলো সহজেই এর গায়ে আটকে যায়। এ কারণে শুধু পানি দিয়ে ধুলেই এই রাসায়নিক দূর হয় না। এর জন্য সঠিক পদ্ধতি জানা প্রয়োজন। চাইলে আপনার ঘরেই থাকা সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়েই আঙুর পরিষ্কার করে নিতে পারেন।

    আঙুরে কীটনাশক বেশি থাকার কারণ

    আঙুর গাছ প্রায়ই পোকামাকড়, ছত্রাক এবং মোল্ড বা ছাতা দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে; এ কারণে কৃষকরা এতে ঘনঘন কীটনাশক স্প্রে করে থাকেন। আঙুরের থোকা আকারে ছোট এবং ঘন সন্নিবিষ্ট হয়,এজন্য ফলে রাসায়নিক পদার্থগুলো সহজেই এর ফাঁকে আটকে যায়। আঙুর যদি ভালোভাবে পরিষ্কার করে না খাওয়া হয় তাহলে সেই রাসায়নিকগুলো সহজেই আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
    আঙুর পরিষ্কার করার পদ্ধতি

    প্রথমে কল ছেড়ে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে আঙু ধুয়ে নিন। আলতো করে হাত বুলিয়ে নিন যাতে এর গায়ে লেগে থাকা ধুলোবালি ও ময়লা দূর হয়ে যায়।

    এখন আঙুরগুলো বেকিং সোডার দ্রবণে ভিজিয়ে রাখুন। এটি আঙুর পরিষ্কারের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়। এক লিটার পানির সঙ্গে এক চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে সেই দ্রবণে আঙুরগুলো ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে সেগুলো ধুয়ে ফেলুন। বেকিং সোডার ক্ষারীয় প্রকৃতি কীটনাশকগুলোকে ভেঙে ফেলতে সহায়তা করে।

    এক ভাগ ভিনেগারের সঙ্গে তিন ভাগ পানি মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণে আঙুর পাঁচ থেকে ১০ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। আঙুরের স্বাদে যাতে কোনও পরিবর্তন না আসে, সেজন্য পরিষ্কার পানি দিয়ে সেগুলো ভাল ভাবে ধুয়ে ফেলুন।

    বেকিং সোডা ও ভিনেগার মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর, আঙুরগুলো আবার ভালো ভাবে ধুয়ে নিন। আঙুল দিয়ে অথবা একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ঘষে নিন, যাতে আঙুরে লেগে থাকা অবশিষ্ট কীটনাশকটুকুও দূর হয়ে যায়। এরপর আঙুরগুলো শুকিয়ে নিন। এতে দীর্ঘ সময় ধরে ফরগুলি সতেজ ও তাজা থাকবে।

    সবচেয়ে কম ও কার্যকরী উপায়গুলোর মধ্যে একটি হলো, একটি পাত্রে এক চা চামচ লবণ দিয়ে পানিতে আঙুর ভিজিয়ে রাখুন। ১০-১৫ মিনিট এভাবে ফলগুলো ভিজিয়ে রাখার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ফলে থাকা রাসায়নিক দূর হবে।

    সূত্র : হেলথসাইট, আজকাল