ট্যাগ রোনালদো

  • রোনালদোকে ছাড়িয়ে মেসির পাশে রাফিনিয়া

    রোনালদোকে ছাড়িয়ে মেসির পাশে রাফিনিয়া

    পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির পাশে স্থান করে নিলেন ব্রাজিলের তারকা রাফিনিয়া।

    শনিবার লা লিগার ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এই ম্যাচে গোল পেয়েছেন রাফিনিয়া। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে ফার্মিন লোপেজের ক্রস থেকে জালে বল জড়ান বার্সেলোনার এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এই গোলের সুবাদে চলতি মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচেই রাফিনিয়ার গোল হলো ৬টি।

    এই গোলের সুবাদে রাফিনিয়া পেছনে ফেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। তিনটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে প্রথম চার ম্যাচ শেষে পাঁচটি করে গোল করেছিলেন রোনালদো। সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন রাফিনিয়া।

    ব্রাজিলিয়ান তারকা নাম লিখিয়েছেন বার্সেলোনারই সাবেক তারকা লিওনেল মেসির পাশে। ক্লাবটির হয়ে দুই মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে ৬টি গোলের কীর্তি আছে মেসির। ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে ৬টি করে গোল করেছিলেন মেসি।

    রাফিনিয়ার সামনে সুযোগ রয়েছে আরও রেকর্ডে নাম লেখানোর। বার্সার হয়ে টানা ৫ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড আছে দুইজন ফুটবলারের। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে সিজার রদ্রিগেজ (৮ গোল) আর ২০০৯-১০ মৌসুমে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ (৫ গোল) এই কীর্তি গড়েছিলেন।

  • একই জার্সিতে দেখা যাবে মেসি-রোনালদোকে!

    একই জার্সিতে দেখা যাবে মেসি-রোনালদোকে!

    ফুটবল ইতিহাসের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি এবার একই দলের হয়ে মাঠে নামবেন? বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মনে এমন প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিএনটি স্পোর্টস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্লোস তেভেজের বিদায়ী ম্যাচে এই অসম্ভবকে সম্ভব করার পরিকল্পনা চলছে।

    আগামী ডিসেম্বরে মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে ‘অ্যাপাচি’ খ্যাত তেভেজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ সংবর্ধনা ম্যাচটি। বোকা জুনিয়র্স ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন তেভেজ। তার ইচ্ছা, এই বিশেষ আয়োজনে দুই ভিনগ্রহের ফুটবলার মেসি ও রোনালদোকে একসঙ্গে একই একাদশে খেলাবেন।

    ক্যারিয়ারজুড়ে বিশ্ব ফুটবলের বহু নামী ক্লাবে খেলেছেন তেভেজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস কিংবা আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে দেখা গেছে তাকে। ইউনাইটেডের হয়ে খেলার সময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গেও ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, তার এই ঐতিহাসিক বিদায়ী ম্যাচে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০ জন সাবেক সতীর্থ অংশ নেবেন।

    ২০২২ সালের জুনে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানো এই ফরোয়ার্ড কোচিং পেশার সঙ্গেও যুক্ত আছেন। রোসারিও সেন্ট্রাল ও ইন্দেপেন্দিয়েন্তের পর বর্তমানে তায়েরেস কোর্দোবার ডাগআউট সামলাচ্ছেন তিনি। তবে কোচিংয়ের ব্যস্ততা ছাপিয়ে এখন তার সব মনোযোগ ঐতিহাসিক এই বিদায়ী আয়োজন নিয়ে।

    সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বোকা জুনিয়র্সের বিখ্যাত হোমগ্রাউন্ড লা বমবুনেরা স্টেডিয়ামে আগামী ডিসেম্বরের ১২-১৩ কিংবা ১৮-১৯ তারিখে এই প্রদর্শনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে আর্জেন্টাইন লীগের সূচির সঙ্গে যাতে ম্যাচটির তারিখের সংঘাত না ঘটে, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

  • রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ

    রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ

    ক্রীড়া ডেস্ক :

    ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের শেষটা যেন ধীরে ধীরে সামনে চলে এলো। পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিশ্চিত করেছেন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপই হবে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।

    বিশ্বকাপ চলাকালীন এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন, ‘আমি এই বিশ্বকাপ উপভোগ করছি—সমর্থক, মানুষ, পুরো পরিবেশটাই দারুণ লাগছে। তবে নিশ্চিতভাবে এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। সিদ্ধান্তটা আমি নিয়েই ফেলেছি।’

    রোনালদোর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে ছড়িয়ে থাকা এক স্বর্ণযুগের সমাপ্তির কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন তিনি। এরপর টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাঁর ষষ্ঠ এবং শেষ অধ্যায় হতে যাচ্ছে।

    আবেগঘন ঘোষণার পাশাপাশি নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতাও তুলে ধরেন রোনালদো। একটি বিমানের ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘একটি ফ্লাইটে আমি বুঝতে পারলাম একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট আর্জেন্টিনার। ও যেভাবে আমার দিকে তাকিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মুখ ফিরিয়ে নিল, আমি বুঝে গিয়েছিলাম। আমি তাকে বললাম- দেখো, আমি জানি তুমি আর্জেন্টিনার। তুমি আমাকে পছন্দ করো না! তবে চিন্তা কোরো না, আমার স্ত্রী কিন্তু আর্জেন্টিনার।’

    বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল এই ফরোয়ার্ড ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদো দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও সর্বাধিক গোলের রেকর্ড তাঁর দখলেই।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে আর দেখা যাবে না রোনালদোকে—এমন ঘোষণা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে আবেগঘন এক মুহূর্ত। তাঁর বিদায়ের সঙ্গে শেষ হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি বড় অধ্যায়।

  • রোনালদো না মদ্রিচ, শেষ হাসি  কার

    রোনালদো না মদ্রিচ, শেষ হাসি কার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ব্লকবাস্টার ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল শুক্রবার ভোর ৫টায় টরন্টো স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। বিশ্বমঞ্চে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা লুকা মদ্রিচের জন্য শেষ ম্যাচ এটি। শুধু দুই কিংবদন্তির একজনের ‘শেষ নৃত্য’ বলে নয়, পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার জন্য বিশ্বকাপে টিকে থাকারও মহারণ। সব দিক বিবেচনায় নকআউট পর্বের এ ম্যাচটি উত্তাপ-উত্তেজনায় বারুদ ছড়াবে বলেই আশা। পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া দুদলের জন্যই ম্যাচটি হবে বাড়তি স্নায়ুচাপের, আর প্রত্যাশা থাকবে আকাশচুম্বী। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। শেষ মিনিট পর্যন্ত সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করবে দুদল। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে রোনালদোর পর্তুগাল, নাকি মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া জয়ের হাসি হাসবেÑসেটি দেখার অপেক্ষা।
    শেষ ষোলোতে ওঠার ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বেশি প্রত্যাশার চাপ থাকবে পর্তুগালের। বিশ্বকাপে শিরোপা লক্ষ্য নিয়ে খেলছে তারা। যদিও গ্রুপ পর্বে পর্তুগাল পর্তুগালের মতো খেলেনি। কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু তাদের। অবশ্য পরের ম্যাচে নবীন দল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। তবে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ের আগে কলম্বিয়ার বিপক্ষে অনুজ্জ্বল ছিল পর্তুগাল। দলের মতোই শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও ছিলেন ‘সুপার ফ্লপ’। বলা হচ্ছে, গত দুই দশকের মধ্যে সেরা দল নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে পর্তুগাল। রোনালদোকে ঘিরে আক্রমণভাগ এবং মিডফিল্ডই তাদের শক্তির জায়গা। কিন্তু পর্তুগালের সেরা পারফরম্যান্সটা এখনো দেখা যায়নি। ফিনিশিং দুর্বলতায় গোল না পাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে ম্যাচে। অধারাবাহিক আর ছন্দহীন দলটিকে ক্রোয়েশিয়ার সামনে কঠিন পরীক্ষাই দিতে হতে পারে। তবে মিডফিল্ড ও উইংয়ের গতি কাজে লাগিয়ে নিখুঁত আক্রমণ করতে পারে পর্তুগাল, তাহলে ক্রোয়েশিয়ার জন্য তাদের আটকানো সহজ হবে না। বিশেষ করে রোনালদো সবচেয়ে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন। স্বরূপে ফিরলে মুহূর্তেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন রোনালদো। তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে পর্তুগাল।অপরদিকে ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে আগের সোনালি প্রজন্মের দল নেই তাদের। ইংল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে বিশ্বকাপযাত্রা শুরু হয় ক্রোয়েশিয়ার। তবে পানামা ও ঘানার বিপক্ষে দুটি জয়ে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। পর্তুগালের বিপক্ষে এই ছন্দ ধরে রাখতে চাইবে দলটি। টুর্নামেন্টে থাকার জন্য সর্বশক্তি দিয়েই লড়াইয়ে নামবে ক্রোয়েশিয়া। গ্রুপ পর্বে পরপর দুই ম্যাচ জিতে নকআউটে ওঠার পর ক্রোয়েশিয়ার কোচ দালিচ বলেছেন, ‘কৌশলগত দিক দিয়ে ক্রোয়েশিয়া দুর্দান্ত খেলেছে এবং মাঠে নিজেদের সংগঠিত রাখতে পেরেছে। আমার মনে হয়, আমরা ঠিক আট বছর আগের সেই জায়গায় ফিরে এসেছি। তবে এটা কেবল প্রথম লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি পদক্ষেপ, আর তা হলো নকআউট পর্বে ওঠা।’ দালিচের কথাতেই বোঝা যাচ্ছে কতটা আত্মবিশ্বাসী ক্রোয়েশিয়া। এবার পর্তুগালের বিপক্ষে নকআউটেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানোর প্রত্যাশায় তারা। এ পর্যন্ত পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া পরস্পরের বিপক্ষে মোট ১০টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে সাতটি জিতেছে পর্তুগাল। আর একটিতে জয় ক্রোয়েশিয়ার; বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

  • পর্তুগিজ গণমাধ্যমে রোনালদোর তীব্র সমালোচনা

    পর্তুগিজ গণমাধ্যমে রোনালদোর তীব্র সমালোচনা

    বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, কাঙ্ক্ষিত পারফর্ম করতে ব্যর্থ পর্তুগাল। গ্রুপপর্বে কঙ্গোর বিপক্ষে টেনেটুনে ড্র দিয়ে শুরু, এরপর উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে দেওয়ার পর শেষ ম্যাচে ফের কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র।

    কলম্বিয়া ম্যাচে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে পর্তুগাল ফুটবল দল। এমনকি দেশটির ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র ‘আ বোলা’ মাঠের সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নিয়েছে রোনালদোকে। তারা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে প্রধান তারকাকে ১০ এর মধ্যে ৪ রেটিং দিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোনালদোর শটগুলো তেমন বিপজ্জনক ছিল না এবং কলম্বিয়া গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাসের মুখোমুখি হয়ে পাওয়া বড় সুযোগটিও কাজে লাগাতে পারেননি। যদিও পরে সেই আক্রমণ অফসাইড হিসেবে বাতিল হয়। ম্যাচটিতে রোনালদো পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন। টুর্নামেন্টে যা ছিল দ্বিতীয়বার রোনালদোর কাছে পাওয়া প্রত্যাশার চেয়ে কম পারফরম্যান্স।

    এর আগে প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচেও ম্লান ছিলেন সিআরসেভেন। তার সেরা পারফরম্যান্স ছিল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে, যেখানে তিনি দুটি গোল করেছিলেন। রোনালদোর সমালোচনা করার পাশাপাশি কলম্বিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের সেরা খেলোয়াড় হিসবে গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তার কথা উল্লেখ করেছে ‘আ বোলা’। তাদের মতে, কস্তা ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় এবং ৮ রেটিং পেয়েছেন।

    কলম্বিয়ার একের পর এক আক্রমণ সামলে ক্লিনশিট ধরে রেখেছেন দিয়োগো কস্তা। তিনি ‘সবকিছুই আটকে দিয়েছেন’ এবং ‘দুর্দান্ত পারফরম্যান্স’ করার কথা উল্লেখ করে গণমাধ্যমটি। কস্তার সেরা সেভের একটি ছিল দ্বিতীয়ার্ধের ৪৩ মিনিটে। হুয়ান কুইন্তেরোর ক্রস থেকে লুইস সুয়ারেজের কাছে বল পৌঁছানোর আগেই তিনি পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন।

    এ নিয়ে গ্রুপপর্বের দুটি ম্যাচে ড্র করেছে পর্তুগাল। ম্যাচের ফল তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও পুরো লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া এবং বেশি সুযোগও তারাই তৈরি করে। অতিরিক্ত সময়ে ডেভিনসন সানচেজ গোল করলেও মিলিমিটার অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। শেষ ৩২–এ রোনালদোর পর্তুগাল ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে লড়বে।

  • কে সেরা, মেসি না রোনালদো?

    কে সেরা, মেসি না রোনালদো?

    কে সেরা। মেসি না রোনালদো? বিশ্বব্যাপী ফুটবল দুনিয়ায় এ নিয়ে অনন্ত বিতর্ক। মাঠের রাজা হচ্ছেন লিওনেল মেসি। আর বলা হয়ে থাকে, নাটকের সম্রাট ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আসলে দু’জনের মধ্যে মহাকাব্যিক যুদ্ধ। ফুটবল দুনিয়ায় এটাই হচ্ছে এক চিরন্তন লড়াই। এই লড়াই মাঠের সবুজ ঘাসেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিলাসবহুল জীবনযাত্রার মধ্যেও। চলতি বিশ্বকাপে এই দুই মহাতারকা আলোচনার কেন্দ্রে। একে অপরকে তারা যেভাবে টেক্কা দিচ্ছেন তা যে কোনো হলিউড থ্রিলারকেও হার মানায়। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এখন পর্যন্ত তিনি এককভাবে সিংহাসনে। অন্যদিকে ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ যুবরাজ রোনালদো উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দুটো গোল করে এক অবিশ্বাস্য নজির স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে টানা ছটি বিশ্বকাপে গোলের সুবাদে। মেসির জন্ম ১৯৮৭ সনে। বাবা হোর্হে হোরাসিও ছিলেন তার প্রথম কোচ। ফুটবলের প্রতি মেসির ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা। তার দাদি সেলিয়া ছাড়া আর কেউ তাকে সমর্থন করতো না। খেলায়ও নিতে চায়তো না অনেকেই। এর বিরুদ্ধে লড়াই করতেন দাদি।

    দুর্ভাগ্য হচ্ছে- মেসির কিংবদন্তি হয়ে ওঠা সেলিয়া দেখে যেতে পারেননি। তিনি মারা যান ১৯৯৮ সনে ৬৭ বছর বয়সে। পাঁচ বছর পর অনেকটা নাটকীয়ভাবে বার্সেলোনায় সুযোগ পান মেসি। ২০০৫ সনে আন্ডার টুয়েন্টিতে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় , বার্সেলোনার সঙ্গে তার চুক্তি হয়েছিল একটি ন্যাপকিনে। এ কারণেই সম্ভবত বলা হয়ে থাকে—একটি ন্যাপকিন মেসির জীবনকে বদলে দেয়। অন্যদিকে পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদোর জন্ম ১৯৮৫ সনে। তিনি ছিলেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। রোনালদো শেষ, তিনি বুড়ো হয়ে গেছেন। এমনটাই ফুটবল দুনিয়ায় চাউর ছিল। কিন্তু এবার ফুটবল দুনিয়া আবিস্কার করলো পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জয়ী অন্য এক রোনালদোকে। ক্যামেরুনের রোজার মিলাও বিশ্বকাপে গোল করে রেকর্ড করেছিলেন। যাইহোক, মেসি এবং রোনালদোর মাঠের বাইরের জীবনযাপনে বিস্ময়কর তফাৎ রয়েছে। রোনালদোর জীবন যেন এক গ্ল্যামারাস সিনেমার মতো। তিনি বরাবরই বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। কোটি টাকার সুপার কার কালেকশন তার যেন এক নেশা। নিজস্ব ব্র্যান্ড রয়েছে সিআর-৭ এর। এরসবই মিডিয়ায় তার জীবন নিয়ে একটা হটকেক আলোচনা। ৪১ বছর বয়সেও তার শরীরে মেদ নেই। যেমনটা থাকে একজন তরুণ অ্যাথলেটের মধ্যে। মেসি কিন্তু এসবের ঊর্ধ্বে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের এক চেনা মুখ। শৈশবের প্রেমিকা আন্তোনেলাকে বিয়ে করে তিন সন্তান নিয়ে ভালোই আছেন। মেসিকে দেখা যায় পরিবারের সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে। বাচ্চাদের নিয়ে মাঝেমধ্যে ফুটবলও খেলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজত্ব আসলে কার হাতে। এর উত্তর খুঁজতে গেলে রোনালদোকে এগিয়ে রাখতে হবে। সবক’টা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরমে তিনি এখন বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি, যার রয়েছে এক বিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার। তিনি অহংকারী, সোজাসাপ্টা কথা বলতে পছন্দ করেন। মেসি এদিক থেকে অনেকটাই সংযত। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বরাবরই মৃদুভাষী। বিতর্ক তাকে স্পর্শ করে না।

    ফুটবল পণ্ডিতরা বলছেন, ব্যক্তিগত জীবনের সামগ্রিক মূল্যায়নে দু’জনকে আলাদা করা খুব কঠিন। মেসির মধ্যে রয়েছে পেশাদারিত্ব। এ কারণেই হয়তো তাকে গোট(GOAT) বলে আখ্যায়িত করেন অনেকেই। মেসির ঝুলিতে রেকর্ডসংখ্যক ট্রফি ও ব্যালন ডি’অর রয়েছে। সমীকরণ যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে, চলতি বিশ্বকাপে আগামী ১১ জুলাই কানসাস সিটিতে একটি সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনালের মুখোমুখি হয়ে যেতে পারেন এই দুই মহাতারকা। এটা অবশ্য নির্ভর করে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল নিজ নিজ নকআউট ম্যাচগুলো জিততে পারলে। তাহলেই কেবল বিশ্বমঞ্চে এই দুই তারকার শেষ যুদ্ধ দেখার সুযোগ হতে পারে ফুটবল বিশ্বের। মাঠের পারফরম্যান্সে মেসি সত্যিই একজন জাদুকর। আর জীবনের ড্রামায় রোনালদোই সত্যিকার বিনোদন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জীবন গ্ল্যামারে ভরা। রোনালদো এর মধ্যেই বলেছেন, আমি ফিরে এসেছি। ইঙ্গিতটা কিন্তু মেসির দিকেই। আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটা গোল করে মেসি ফুটবল ইতিহাস বদলে দেন। এরমধ্যে তো একটা হ্যাটট্রিক আছেই।

    ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তখন পেছনের সারিতে। অবশ্য বেশি সময় নেননি। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দুই গোল করে বিশ্বকে বললেন, আমি আবার ফিরে এসেছি। ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ডও তিনি লিখলেন অন্যভাবে। মেসি কখনো রোনালদোকে নিয়ে বাজে কোনো মন্তব্য করেননি। অনেকক্ষেত্রে প্রশংসাও করেন। কিন্তু রোনালদো তার বিপরীত।