রিয়াল মাদ্রিদ

  • লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারালো রিয়াল

    লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারালো রিয়াল

    সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে জোসে মরিনহোর দল। মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে এই জয় রিয়ালের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে।

    নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে স্বাগতিকেরা। রিয়ালের হয়ে গোল করেন বার্নার্দো সিলভা, আরদা গুলের, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইয়ান দিওমান্দে। অন্যদিকে লাইপজিগের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন তিদিয়াম গোমিস।

    ম্যাচের প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল লাইপজিগ। তবে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় সেসব সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। ২৮ মিনিটে রোমুলোর শট এবং ৪১ মিনিটে ক্রিস্টোফার এনকুনকুর গোলের সম্ভাবনা দারুণ দক্ষতায় নস্যাৎ করে দেন বেলজিয়ামের এই গোলরক্ষক।

    প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যায় রিয়াল। ৪৩ মিনিটে আরদা গুলেরের শট ফিরিয়ে দেন লাইপজিগের গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠান পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা। রিয়ালের জার্সিতে এটিই তার প্রথম গোল। এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিক দল।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ায় রিয়াল। ৫২ মিনিটে জুড বেলিংহামের ক্রস থেকে এমবাপ্পের হেডে বল পান আরদা গুলের। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন তুরস্কের এই তরুণ ফুটবলার।

    ম্যাচের ৮৩ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইয়ান দিওমান্দের পাস ধরে বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচে এটি তার ১২তম গোল।

    এর দুই মিনিট পর, ৮৫ মিনিটে লাইপজিগের হয়ে ব্যবধান কমান বদলি খেলোয়াড় তিদিয়াম গোমিস। তবে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা শেষ করে দেয় রিয়াল। ৮৭ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত ক্রস থেকে দৃষ্টিনন্দন ভলিতে দলের চতুর্থ গোলটি করেন ইয়ান দিওমান্দে। তাতেই ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।

    এই জয়ের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তিন ম্যাচে জয়ের রেকর্ড গড়ল রিয়াল মাদ্রিদ। গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা। অন্যদিকে, দুই ম্যাচে ১০ গোল হজম করে তালিকার ২৯ নম্বরে নেমে গেছে লাইপজিগ।

    চ্যাম্পিয়নস লিগের এই জয়ের পর এবার রিয়ালের নজর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার দিকে। আগামী রোববার রাতে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় মুখোমুখি হবে দুই স্প্যানিশ পরাশক্তি।

  • ১০ জনের রিয়ালকে হারিয়ে বার্সার আরও কাছে আতলেতিকো

    ১০ জনের রিয়ালকে হারিয়ে বার্সার আরও কাছে আতলেতিকো

    লা লিগার মাদ্রিদ ডার্বিতে ১০ জনের রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে আতলেতিকো। অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে এটি রিয়ালের দ্বিতীয় হার।

    রোববারের ম্যাচে রিয়ালের হয়ে শুরু থেকেই আক্রমণভাগে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহাম। তবে প্রথমার্ধে তারকাখচিত দুই দলের লড়াইয়ে উত্তেজনা থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি।

    প্রথমার্ধের উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল বেলিংহাম ও আতলেতিকোর ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর মধ্যকার সংঘর্ষ। বেলিংহামকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে সিদ্ধান্ত বদলে রোমেরোকে কার্ড দেখানো হয়।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। গোলমুখে এগিয়ে যাওয়া জুলিয়ানো সিমিওনেকে বক্সের মধ্যে টেনে ধরেন রিয়ালের ডিফেন্ডার ডিন হুইসেন। ভিএআর পর্যালোচনার পর হুইসেনকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং আতলেতিকো পেনাল্টি পায়। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো।

    গোল হজমের পর দ্রুত দুটি পরিবর্তন করেন রিয়াল কোচ হোসে মরিনহো। ভিনিসিয়ুস ও আরদা গুলেরকে তুলে ইয়ান দিয়োমান্দে ও আন্তোনিও রুডিগারকে মাঠে নামান তিনি। তবে রিয়ালের ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে আতলেতিকো।

    ৫৯ মিনিটে জুলিয়ানো সিমিওনের নিচু ক্রস থেকে বল পেয়ে গোল করেন কানাডার ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড। এটি ছিল আতলেতিকোর হয়ে টানা তিন ম্যাচে তার তৃতীয় গোল।

    এরপর আতলেতিকো তৃতীয় গোলের কাছাকাছি গেলেও রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া জুলিয়ান আলভারেজের প্রচেষ্টা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বলে গ্রিমালদোর শটও গোললাইন থেকে হেড করে ফেরান ইব্রাহিমা কোনাতে।

    শেষদিকে রিয়াল একটি গোল শোধ করে। বের্নার্দো সিলভার ক্রস থেকে হেড করে গোল করেন রুডিগার। তবে শেষ মুহূর্তের সেই গোল দলকে সমতায় ফেরানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

    জয়ে আতলেতিকো উঠে এসেছে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। তাদের পয়েন্ট বার্সেলোনার চেয়ে পাঁচ কম এবং রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে এক বেশি। রিয়াল এই হারে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে।

  • এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে হারল রিয়াল

    এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে হারল রিয়াল

    গোলের একের পর এক সুযোগ নষ্ট, তিনবার পোস্টে আঘাত আর শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি মিস; সব মিলিয়ে হতাশার এক রাত কাটল রিয়াল মাদ্রিদের। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি ব্যর্থতার ম্যাচে রিয়াল বেটিসের কাছে ১-০ গোলে হেরে মৌসুমে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে হোসে মরিনহোর দল।

    সেভিয়ার লা কার্তুহা স্টেডিয়ামে শুক্রবারের ম্যাচটি ৮০ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য ছিল। তবে এরপর ট্রয় প্যারোটের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক বেটিস। শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি রিয়াল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল মাদ্রিদের দল। ১৪ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লাগে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপ্পেও গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে দুইবার চেষ্টা করেও বল জালে পাঠাতে পারেননি।

    বিরতির আগে জুড বেলিংহ্যামের হেড ঠেকান বেটিস গোলরক্ষক আলভারো ভালেস। পরে ডিন হুইজসেনের হেড ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে।

    দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না রিয়াল। শেষ পর্যন্ত ৮১ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে ফিরতি বলে গোল করেন বেটিসের ট্রয় প্যারোট। এরপর রিয়াল একটি গোল করলেও ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

    যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। দায়িত্ব নেন এমবাপ্পে। তবে তার স্পট কিকের দিক আগে থেকেই বুঝে ফেলেন গোলরক্ষক আলভারো ভালেস। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্বল শটটি ঠেকিয়ে দেন তিনি।

    এর আগে লা লিগার প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু বেটিসের বিপক্ষে তিনটি ভালো সুযোগ নষ্ট করার পাশাপাশি পেনাল্টিও মিস করেন ফরাসি তারকা।

    চার ম্যাচ শেষে প্রথম হারের পর ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নেমেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেটিস, আর এক ম্যাচ কম খেলেও ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।

  • রোদ্রিকে দলে নিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ

    রোদ্রিকে দলে নিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ

    রিয়াল মাদ্রিদ তাদের মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে রোদ্রিকে দলে ভেড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইয়ান দিওমান্দের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ম্যানচেস্টার সিটির এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবটির।

    স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘মার্কা’–এর দাবি, রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেস ৩০ বছর বয়সী রোদ্রিকে দলে নেওয়ার পরিকল্পনায় এরই মধ্যেই সবুজ সংকেত দিয়েছেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়ালের প্রধান কোচ হোসে মরিনহো প্রথমে মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে এনসো ফের্নান্দেস এবং মাতেউস ফের্নান্দেস সহ আরও কয়েকটি বিকল্প বিবেচনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত রোদ্রিকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে রোদ্রির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং গোল্ডেন বল জেতা এই সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করেছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম।

    রোদ্রির সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে তিনি চুক্তি নবায়ন করতে আগ্রহী নন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ৫ থেকে ৬ কোটি ইউরোর বিনিময়ে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়ানো সম্ভব হবে বলে বিশ্বাস করছে রিয়াল মাদ্রিদ।

  • পেরেজ আবার প্রেসিডেন্ট হলে রিয়ালের নতুন কোচ হবেন মরিনিও

    পেরেজ আবার প্রেসিডেন্ট হলে রিয়ালের নতুন কোচ হবেন মরিনিও

    রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তী কোচ কে হবেন, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ক্লাবটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। আসন্ন নির্বাচনে তিনি পুনর্নির্বাচিত হলে হোসে মরিনিওকে রিয়াল মাদ্রিদের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বেইন স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ ঘোষণা দেন পেরেজ।

    এই ঘোষণার মাধ্যমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হোসে মরিনিওর বহুল আলোচিত প্রত্যাবর্তনের পথ উন্মুক্ত হলো। বেনফিকায় দায়িত্ব পালনের পর এবার রিয়াল মাদ্রিদে নিজের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ এই কোচ।

    ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ‘আরও ইতিহাস তৈরির পথে’ স্লোগানসংবলিত ভিডিওতে রিয়ালের জার্সি পরিহিত মরিনিওকে দেখা যায়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি শুধু বলেন, ‘হ্যাঁ’।

    রিয়াল মাদ্রিদে মরিনিওর প্রথম মেয়াদ ছিল ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। সেই সময়ে তার অধীনে দলটি একটি লা লিগা, একটি কোপা দেল রে এবং একটি স্প্যানিশ সুপার কাপ শিরোপা জেতে। এছাড়া তার নেতৃত্বেই রিয়াল মাদ্রিদ লিগে ঐতিহাসিক ১০০ পয়েন্ট অর্জনের কীর্তি গড়ে।

    তবে প্রথম মেয়াদে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারেননি মরিনিও। ফলে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নিলে ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব ট্রফিটি জয় করাই হবে তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    এদিকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় অধ্যায়ে মরিনিওকে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। সেটি হলো, রিয়াল মাদ্রিদের দুই মৌসুমের শিরোপা খরা দূর করে দলকে আবারও সাফল্যের ধারায় ফিরিয়ে আনা।