রাম মন্দির

  • রাম মন্দিরে চুরিকে ‘সামান্য বিষয়’ বললেন অনুপম খের

    রাম মন্দিরে চুরিকে ‘সামান্য বিষয়’ বললেন অনুপম খের

    অযোধ্যার রাম মন্দিরে দানের অর্থ চুরির ঘটনা নিয়ে অভিনেতা অনুপম খেরের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দীন শাহের একটি পুরোনো ভিডিও। ২০২০ সালের ওই সাক্ষাৎকারে অনুপম খেরের রাজনৈতিক মতাদর্শের তীব্র সমালোচনা করে তাঁকে ‘জোকার’ বলে সম্বোধন করেছিলেন নাসিরুদ্দীন শাহ।

    সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুপম খের রাম মন্দিরের অর্থ চুরির ঘটনাকে মোগল আমলের কথিত মন্দির ধ্বংস ও লুণ্ঠনের সঙ্গে তুলনা করেন। চুরির এই ঘটনাকে তিনি একটি ‘খুবই সামান্য বিষয়’ বলে অভিহিত করার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে নাসিরুদ্দীন শাহের পুরোনো মন্তব্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে শুরু করে।

    নাসিরুদ্দীন শাহ আসলে কী বলেছিলেন?

    ২০২০ সালের ওই সাক্ষাৎকারে নাসিরুদ্দীন শাহকে চলচ্চিত্র জগতের এমন ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যারা সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    জবাবে নাসিরুদ্দীন শাহ বলেছিলেন, ‘যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের সংখ্যা সরকারের সমর্থকদের চেয়ে কম।’

    অনুপম খেরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেসময় যোগ করেন, ‘অনুপম খেরের মতো মানুষ অত্যন্ত সোচ্চার। আমার মনে হয় না তাঁকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে। তিনি একজন জোকার। এনএসডি (ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা) এবং এফটিআইআই (ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া)-তে তাঁর সমসাময়িক যে কেউ তাঁর এই চাটুকারিতার স্বভাবের কথা নিশ্চিত করতে পারবেন। এটি তাঁর রক্তে, তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।’

    অনুপম খেরের তৎকালীন প্রতিক্রিয়া

    সেসময় নাসিরুদ্দীন শাহের এই মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছিলেন অনুপম খের। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, নাসিরুদ্দীন শাহের চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মীদের সমালোচনা করার একটি দীর্ঘ অভ্যাস রয়েছে।

    ভিডিও বার্তায় অনুপম খের বলেন, ‘আমি আপনার সম্পর্কে কখনো কোনো খারাপ কথা বলিনি, তবে আজ বলব। এত কিছু অর্জন করার পরও আপনি আপনার সারা জীবন হতাশায় কাটিয়ে দিয়েছেন। আপনি যদি দিলীপ কুমার সাহেব, অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্না, শাহরুখ খান এবং বিরাট কোহলির মতো মানুষদের সমালোচনা করতে পারেন, তবে আমি নিশ্চিত যে আমি খুব সঠিক পথেই আছি।’

    নাসিরুদ্দীন শাহের ব্যক্তিগত জীবনকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘তাঁদের কেউ আপনার বক্তব্যকে কখনো গুরুত্ব সহকারে নেননি। কারণ আমরা সবাই জানি যে বছরের পর বছর ধরে আপনি যে ধরনের মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করছেন, তার কারণে আপনি কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল তা বুঝতে পারেন না।’

    রাম মন্দিরের চুরি নিয়ে কী মন্তব্য করেছিলেন অনুপম খের?

    সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনুপম খেরকে যখন অযোধ্যা রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে টাকা চুরির ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এটিকে নগণ্য বলে দাবি করেন।

    তিনি বলেন, ‘মোগলরা যখন আমাদের মন্দির ধ্বংস করেছিল, তখন মন্দির লুণ্ঠন করা হয়েছিল। যখন ব্রাহ্মণদের হত্যা করা হয়েছিল, মন্দিরের ধনসম্পদ লুট করা হয়েছিল এবং মন্দিরের ভেতরে নারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল, সেটি ছিল অনেক বড় ট্র্যাজেডি। আমরা যদি সেই বেদনা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে এই চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত সামান্য বিষয়।’

    চলতি সমালোচনাকে লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এটিকে অনেক বড় ইস্যু বানাচ্ছে। তারা বলছে মন্দিরে লুণ্ঠন হয়েছে…এমন সব শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। লুণ্ঠন তো তখন হয়েছিল যখন মোগল শাসকেরা আমাদের মন্দির ধ্বংস করেছিল, ব্রাহ্মণদের হত্যা করে তাঁদের পৈতা ওজন করেছিল। আমরা যদি তা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে এই সাধারণ চুরির ঘটনাটি খুবই তুচ্ছ বিষয়।’

    উল্লেখ্য, অনুপম খেরকে আগামীতে ‘শ্রী রাম ভূমি’ চলচ্চিত্রে দেখা যাবে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন কামাখ্যা নারায়ণ সিং, যিনি সম্প্রতি ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ পরিচালনা করে আলোচনায় এসেছেন। চলচ্চিত্রটিতে অনুপম খেরের পাশাপাশি অভিনয় করছেন ঋত্বিক ভৌমিক এবং অমৃতা খানভিলকর। এ ছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর অভিনীত ‘খোসলা কা খোসলা ২’ সিনেমাটি।

  • অযোধ্যায় রাম মন্দির ট্রাস্টের  ২০০ কোটি রুপি তছরুপ

    অযোধ্যায় রাম মন্দির ট্রাস্টের ২০০ কোটি রুপি তছরুপ

    অযোধ্যার রাম মন্দিরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মন্দির ট্রাস্টের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ এনে গতকাল মঙ্গলবার একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেছেন ‘ধর্ম সেনা ভারত’-এর প্রধান ও সাবেক করসেবক সন্তোষ দুবে।

    ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা এল কে আদভানির সঙ্গে সন্তোষ দুবেও ছিলেন ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার অন্যতম প্রধান আসামি।

    হিন্দি ভাষায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে দুবে উল্লেখ করেন, ‘আবেদনকারী (সন্তোষ দুবে নিজে) প্রায়ই দর্শনের জন্য রাম জন্মভূমি মন্দিরে যান। তিনি প্রায়ই দেখেছেন, ভক্তরা দানবাক্সে সোনা ও রুপার গয়না, সোনা ও রুপার মুদ্রা এবং নগদ অর্থ দান করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ভক্তদের কাছ থেকে প্রতিদিন দানবাক্সগুলোতে নগদ টাকা, মুদ্রা ও গয়না মিলিয়ে ১ কোটি রুপির বেশি মূল্যের অনুদান জমা পড়ছে।’

    সন্তোষ দুবে বলেন, এই অনুদান সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের ট্রাস্টিদের ওপর ন্যস্ত। কিন্তু তাঁরা এ অর্থ নিরাপদে রাখার বদলে আত্মসাৎ করেছেন। দুবে তাঁর এ অভিযোগে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই বানসাল ও অন্য কর্মচারীদের নাম উল্লেখ করেছেন।

    অভিযোগ তদন্তে পলিগ্রাফ পরীক্ষার দাবি

    অভিযোগপত্রে সন্তোষ দুবে দাবি করেছেন, ‘আবেদনকারীর অভিযোগ হলো, ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই বানসাল, অনিল মিশ্র, গোপাল রাও এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নুসহ (চম্পত রাইয়ের গাড়িচালক হিসেবে পরিচিত) ট্রাস্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে বড় অঙ্কের অর্থ, সোনা ও রুপার গয়না এবং মুদ্রা দানবাক্স থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আত্মসাৎ করা এ অর্থ ও সম্পদের মূল্য ২০০ কোটি রুপির বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    মন্দিরের তহবিল আত্মসাৎ করার জন্য ট্রাস্টের কর্মকর্তারা হিসাবের খাতায় ভুয়া তথ্য ও জাল সংখ্যা বসিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলেন সন্তোষ দুবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে মন্দিরে অনুদান হিসেবে পাওয়া রত্নখচিত গয়না বিক্রি ও কোটি কোটি রুপি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এর মধ্যে কিছু মালামাল সাধারণ চোরদের কাছ থেকে উদ্ধারও করা হয়েছে।’

    এ ঘটনায় উত্তর প্রদেশ পুলিশকে একটি এজাহার বা এফআইআর দায়েরের অনুরোধ জানিয়েছেন সন্তোষ দুবে। তিনি বলেন, ‘ভক্তদের দান করা কোটি কোটি রুপি, সোনা ও রুপার গয়না, মুদ্রা ও মূল্যবান রত্নসামগ্রী উদ্ধার করতে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ন্যায়বিচার ও ধর্মের স্বার্থেই আইনের উপযুক্ত ধারা অনুযায়ী একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা উচিত। সেই সঙ্গে তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পলিগ্রাফ পরীক্ষা (মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা) করা দরকার।’

    মন্দিরের তহবিল তছরুপের এ অভিযোগগুলো সামনে আসার পর বিরোধী দলগুলো উত্তর প্রদেশের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে নিশানা করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এ দুর্নীতির অভিযোগটি ব্যাপকভাবে তুলে ধরছে।

    গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে উত্তর প্রদেশে বিজেপির শাসন দুর্নীতিতে ডুবে গেছে। তা না হলে এখানে এসআইটি (বিশেষ তদন্ত দল) গঠনের বদলে আইআইটি (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) গড়ে উঠত।’