রাজস্ব

  • রাজস্ব নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

    রাজস্ব নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

    রাজস্ব নিয়ে জনগণের মধ্যে থাকা বিভ্রান্তি দূর করাই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে প্রয়োজনীয় খাতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে। যার যা কাজ সেটি ঠিকভাবে করলেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

    তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য সামনে এগিয়ে যাওয়া, অতীতে ফিরে যাওয়া নয়। সেজন্যই আমরা সকলকে নিয়ে সামনে বাড়তে চাই। আমাদেরকে যদি সামনে এগোতে হয় তাহলে আমাদেরকে সকলকে একত্রিত কাজ করতে হবে, একত্রে যেতে হবে।’

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।

    দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ফাঁকি রোধ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায়ের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

  • অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ

    অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ৪৭ লাখ

    ২০২৫-২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্নের মাধ্যমে সফলভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এর ফলে করদাতারা ঘরে বসেই সহজে তাদের বাৎসরিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দিতে পারছেন।আজ বুধবার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২৭ করবর্ষের অনলাইন আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিলের সেবা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নীট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা) প্রণোদনা দেওয়া হবে।

    এনবিআর জানায়, ২০২১ সালে অনলাইন রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এটি করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ২০২৫-২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্নের মাধ্যমে সফলভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এর ফলে করদাতারা ঘরে বসেই সহজে তাদের বাৎসরিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দিতে পারছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এনবিআরের বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সব স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা কাগজে (পেপার) রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

    এছাড়া ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো ব্যক্তি অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

    কর পরিশোধ বিষয়ে এনবিআর জানায়, www.etaxnbr.gov.bd সিস্টেমের মাধ্যমে করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ অন্যান্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করা যাবে।

    ই-রিটার্ন দাখিলে কোনো সমস্যা হলে সরকারি ছুটি ছাড়া অফিস চলাকালীন সময়ে এনবিআরের কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে জুলাই-সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নীট প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা) প্রণোদনা পাওয়া যাবে। তবে এ সময়ের পর রিটার্ন দাখিল করলে এ প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। আর ডিসেম্বরের পর রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত কর দিতে হবে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতাদের বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

  • তিন বছরের মধ্যে সুদ পরিশোধ না করলে আয় হিসেবে গণ্য হবে

    তিন বছরের মধ্যে সুদ পরিশোধ না করলে আয় হিসেবে গণ্য হবে

    আয়কর আইন অনুযায়ী কোম্পানিগুলো তাদের বার্ষিক মুনাফা থেকে ঋণের সুদকে ‘ব্যয়’ হিসেবে বাদ দিয়ে নিট মুনাফা দেখায়। এর ফলে কোম্পানিগুলোর করে হিসেবে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে এটি উপস্থাপন করেন।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মূল উদ্দেশ্য হলো—কোম্পানিগুলো যেন ঋণের সুদের বিপরীতে বারবার ‘ব্যয়ের’ সুবিধা নিয়ে সরকারকে কর ফাঁকি দিতে না পারে। কোম্পানি সুদের যে ব্যয় দাবি করে, তা তিন বছরের মধ্যে পরিশোধ না করলে সরকার ধরে নেবে—এটি আসলে ব্যয় ছিল না, বরং মুনাফা ছিল। তাই ওই সুদের ওপর এখন কর দিতে হবে।

    এ বিষয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, অ্যাকাউন্টিংয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অ্যাক্রুয়াল বেসিসে হিসাব করা হয়। কিন্তু আয়কর আইনে যে বিধানটি রয়েছে, সেটা করা হয়েছে কস্ট বেসিসে। এখন নতুন ধারা যুক্ত করে অ্যাকাউন্টিংয়ের ক্ষেত্রে আইএফআরএসের (ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং সিস্টেমের) সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য কোম্পানির ব্যয়ের হিসাবকেও অ্যাক্রুয়াল বেসিসে করা হয়েছে। আয়কর আইনের ইংরেজি ভার্সনে বিষয়টি ঠিকই আছে, কিন্তু বাংলায় অনুবাদ করতে গিয়ে কোনো কারণে মিসিং হয়ে গিয়েছিল। ফলে নতুন করে এ ধারাটি সংযোজন করতে হচ্ছে।

    অ্যাক্রুয়াল ও কস্ট বেসিসে হিসাবের পার্থক্যটি নিচের উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করা যেতে পারে। ধরা যাক, একটি কোম্পানি একটি ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যার বার্ষিক সুদ ১০ লাখ টাকা।

    অ্যাক্রুয়াল বেসিস : হিসাববিজ্ঞানের নিয়ম (আইএফআরএস) অনুযায়ী, আপনি এই বছর টাকা পরিশোধ না করলেও ওই ১০ লাখ টাকা আপনার চলতি বছরের ‘খরচ’ । কারণ, সুদটি এই বছরেরই এবং কোম্পানি এটি পরিশোধ করতে বাধ্য। তাই আর্থিক বিবরণীতে আপনি ১০ লাখ টাকাই খরচ দেখাবেন।

    কস্ট বেসিস : আয়কর আইন অনুযায়ী, এনবিআর আগে বলত—‘টাকা পকেট থেকে না গেলে (বা পরিশোধ না হলে) সেটি খরচ হিসেবে গণ্য হবে না।’ ফলে কোম্পানি ওই ১০ লাখ টাকা খরচ হিসেবে দেখালেও, ট্যাক্স রিটার্নে এনবিআর ওই খরচটি বাতিল করে দিত এবং ওই টাকার ওপর কর আরোপ করত।

    সমস্যাটি কোথায় ছিল?

    এতে কোম্পানির বইতে একটি বা সময়ের পার্থক্য তৈরি হতো। অ্যাকাউন্টিং বলছে এটা খরচ, কিন্তু ট্যাক্স ল বলছে এটা খরচ নয়। নতুন ধারার অর্থ হলো—এনবিআর এখন বলছে, ‘ঠিক আছে, তোমরা তো অ্যাক্রুয়াল বেসিসে এটাকে খরচ হিসেবে দেখাচ্ছ, আমরা সেটাকে অনুমোদন দেব। কিন্তু এই সুযোগ অনন্তকাল চলতে পারে না।’

    অর্থাৎ, যদি তিন বছর পর্যন্ত সুদ পরিশোধ না করে ওই টাকাটা ঋণের মূলধনের সঙ্গে যোগ করে বা অন্যভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়, তবে সরকার চতুর্থ বছরে এসে সেটিকে আয় হিসেবে গণ্য করে কর দাবি করবে।

  • ১৫০ সিসির ঊর্ধ্বে মোটরসাইকেল নিবন্ধনে লাগবে টিআইএন

    ১৫০ সিসির ঊর্ধ্বে মোটরসাইকেল নিবন্ধনে লাগবে টিআইএন

    আগামী অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ের কাঠামোয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১৫০ সিসির ঊর্ধ্বে মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।

    ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩.৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় এক লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

    আগামী অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ের কাঠামোয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।

    প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য তিন লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে তিন লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ছয় লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

    সরকার ধীরে ধীরে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। সে অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ২৭.২৭ শতাংশ। একইসাথে পরিচালন ব্যয়ের অংশ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মোট ব্যয়ের ৭২.৭৩ শতাংশ পরিচালন খাতে ব্যয় হলেও আগামী অর্থবছরে তা কমিয়ে ৬৬.৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।