ট্যাগ রদ্রি

  • মাঠে বল পায়ে না থাকা অবস্থায়ও রদ্রি গুরুত্বপূর্ণ: ফ্লিক

    মাঠে বল পায়ে না থাকা অবস্থায়ও রদ্রি গুরুত্বপূর্ণ: ফ্লিক

    বার্সেলোনার জার্সিতে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে মাঠে নেমেছেন রদ্রিগো হার্নান্দেজ। ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই তারকা ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৬২ মিনিট খেলেছেন। ধীরে ধীরে নিজের পুরোনো ছন্দে ফেরার চেষ্টা করলেও তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ হ্যান্সি ফ্লিক।

    জার্মান কোচের মতে, বল পায়ে কিংবা বল ছাড়া—দুই অবস্থাতেই রদ্রির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতিতেও তার অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন ফ্লিক।

    ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে বার্সেলোনা। ম্যাচ শেষে রদ্রির প্রশংসা করে ফ্লিক বলেন, ‘সে আমাদের দলে আছে বলে আমরা খুশি। মাঠে বল পায়ে সে যা কিছু করে, সবকিছুর মধ্যেই যুক্তি আছে। আক্রমণে বল পায়ে দলকে কাঠামো দেওয়ার পাশাপাশি বল ছাড়া অবস্থায়ও সে গুরুত্বপূর্ণ।’

    তরুণ মিডফিল্ডারদের জন্য রদ্রির উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ফ্লিক আরও বলেন, ‘বার্নালও দারুণ কাজ করছে। তার জন্য এটি একটি ভালো পরিস্থিতি। সে যদি এই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে উন্নতি করবে এবং ক্রমেই আরও ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠবে। এই দলবদলের মাধ্যমে আমরাও সেটিই চেয়েছিলাম। রদ্রি অসাধারণ। শুধু মাঠেই নয়, ড্রেসিংরুমেও সে একজন অসাধারণ নেতা। তাকে দলে পাওয়া দারুণ ব্যাপার।’

    এদিকে স্পেন জাতীয় দলেও রদ্রি ও পেদ্রি একসঙ্গে খেলেছেন। বিশ্বকাপের শুরুতে দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেলেও পরে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলে পেদ্রির জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি দুজন একসঙ্গে খেললে কার্যকর হবেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।

    তবে রদ্রির সঙ্গে খেলা নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পেদ্রি। তিনি বলেন, ‘বলা হয়েছে যে আমরা একসঙ্গে ভালো কাজ করি না। কিন্তু রদ্রির সঙ্গে খেলা খুবই স্বাচ্ছন্দ্যের।’

    স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, ‘সে প্রায় কখনোই বল হারায় না, আর সেটা রক্ষণে অনেক সাহায্য করে। আমরা একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারব এবং যত বেশি ম্যাচ খেলব, আমাদের বোঝাপড়াও তত উন্নত হবে।’

  • গোল-অ্যাসিস্ট ছাড়াই কীভাবে গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি?

    গোল-অ্যাসিস্ট ছাড়াই কীভাবে গোল্ডেন বল জিতলেন রদ্রি?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। এই সাফল্যে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন দলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা রদ্রি। গোল কিংবা অ্যাসিস্টের ঝলক না থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ খেলার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জিতে নিয়েছেন আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট ছাড়া কীভাবে সেরা হলেন তিনি?

    একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে রদ্রির মূল দায়িত্ব গোলের হিসাব মেলানো নয়, বরং খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা। ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের মাঝমাঠকে সুতোয় বেঁধে রেখেছিলেন। বলের দখল রাখা, রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণে ওঠার সংযোগ তৈরি করা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই তা নস্যাৎ করে দেওয়ায় রদ্রি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। স্পেনের রক্ষণভাগ যে পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল হজম করেছে, তার পেছনে রদ্রির রক্ষণাত্মক দক্ষতার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি।

    রদ্রির শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ মেলে পরিসংখ্যানের পাতায়। টুর্নামেন্টের ৮ ম্যাচে তিনি সফল পাস দিয়েছেন ৬৫০টিরও বেশি। মাঠে তার দৌড়ের পরিধি এবং উচ্চগতির দৌড়ের সংখ্যা ছিল অন্য সবার চেয়ে আলাদা। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলগত পরিকল্পনার মূল ভিত্তি ছিলেন রদ্রি। দলের প্রতিটি আক্রমণ বা রক্ষণাত্মক জমাট বাঁধার মুহূর্তে তিনি ছিলেন এক অবিচল স্তম্ভ।

    কেন মেসিকেও পেছনে ফেললেন রদ্রি?ফাইনালে হেরে যাওয়া আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করেও গোল্ডেন বলের লড়াইয়ে হেরেছেন রদ্রির কাছে। অনেকের কাছে এটি অবাক করা বিষয় হলেও, ফিফার মূল্যায়নের মানদণ্ড ভিন্ন। ফিফা শুধু ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান বা গোল-অ্যাসিস্ট দেখে সেরা নির্বাচন করে না। একজন ফুটবলারের খেলার সামগ্রিক প্রভাব, দলের প্রতি অবদান, ধারাবাহিকতা এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। রদ্রি টুর্নামেন্টজুড়ে যে অসামান্য ভারসাম্য এবং দলগত শৃঙ্খলা বজায় রেখেছেন, সেটিই তাকে সবকিছুর উর্ধ্বে জায়গা করে দিয়েছে।