ট্যাগ যুক্তরাষ্ট্র

  • বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক কান্তনগর কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। জেলা প্রশাসন ও রাজদেবোত্তর এস্টেটের আয়োজনে তিনি এ পরিদর্শনে আসেন।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সফরের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়ের উন্নয়ন নিয়েও আগামী দিনে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    কান্তজিউ মন্দিরে পৌঁছালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও ট্রাস্টি মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও স্থানীয় লোকসংস্কৃতি সমৃদ্ধ উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।

    বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    পরে রাষ্ট্রদূত মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় কান্তজিউ মন্দিরের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী, টেরাকোটা অলংকরণ এবং এর প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে ডা. ডিসি রায় রাষ্ট্রদূতকে মন্দিরের ঐতিহাসিক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।

    পরিদর্শন শেষে রাজদেবোত্তর এস্টেটের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি লিপিবদ্ধ করেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

    এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে সহধর্মিণী ডিয়ান ডাও ও প্রটোকল কর্মকর্তা ক্লারিয়ান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও রাজদেবোত্তর এস্টেটের ট্রাস্টি মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম হাবিবুল হাসান, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শেখ হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাঝহারুল ইসলাম, কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেদা খাতুন মিম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ ও কান্তনগর প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তা সিহাব হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার সফরসঙ্গীদের স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বরণ করা হয়। এ সময় মল্লিকা দাস ও তার সহযোগীরা ধর্মীয় পরিবেশনায় অতিথিদের স্বাগত জানান। পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী সাংস্কৃতিক দলের নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে তাদের অভ্যর্থনা জানানো হয়।

    দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তনগরে অবস্থিত কান্তজিউ মন্দির দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। অষ্টাদশ শতকে নির্মিত এ মন্দিরের দেয়ালজুড়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন টেরাকোটা অলংকরণ বাংলার প্রাচীন শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অনন্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

  • সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

    সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

    বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা-প্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে শুরু হওয়া একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসা-সেবা বিষয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

    গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিস্তারিত বা কত দিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত থাকবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি পররাষ্ট্র দপ্তর।

    পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রশিক্ষণের লক্ষ্য কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন ভিসা-প্রার্থী শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। একই সঙ্গে ভিসা-প্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিক ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য।

    সাক্ষাৎকারের তারিখ পরে জানানো হবে

    ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীদের যেসব সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারিত ছিল, তাদের ই-মেইল করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনর্নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসননীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার এবং অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে তার প্রশাসন।

    ট্রাম্পের এই অভিযানের আওতায় বিভিন্ন কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যে ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ এবং ইসরাইলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো বিষয়ও রয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, এসব কঠোর পদক্ষেপের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।

    বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ

    অভিবাসনবিরোধী নীতি বাস্তবায়নে ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য কিছু আইনি বাধার মুখেও পড়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার আওতায় বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।

    আদালত বলেন, ওই নীতি কার্যকর করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। এর মধ্যেই এবার বিশ্বজুড়ে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা এল।

    মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা

    ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারও এতে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

    সংগঠনগুলোর আরো অভিযোগ, কঠোর অভিবাসননীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জাতিগত পরিচয়ের কারণে তাদের সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির মুখে পড়তে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।

    ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর তার প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকেও কঠোর করেছে। এবার বিশ্বজুড়ে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত সেই কঠোরতারই আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • শক্তিশালী অবস্থানে থেকে যুদ্ধ শেষ করতে চাই: ইরানি প্রেসিডেন্ট

    শক্তিশালী অবস্থানে থেকে যুদ্ধ শেষ করতে চাই: ইরানি প্রেসিডেন্ট

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধ এখনই শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যেই তিনি বলেছেন, ইরান এখন ‘শক্তিশালী অবস্থানে’ রয়েছে।

    গতকাল শুক্রবার চিকিৎসকদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যেহেতু আমরা এখন শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আছি, তাই এখনই এই যুদ্ধ শেষ করা আমাদের জন্য ভালো।’

    পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘পুরো বিশ্ব আমাদের বিজয় স্বীকার করছে। সবাই বলছে, যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে আমাদের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। এ কারণে তারা এখন বিশ্বজুড়ে ঘৃণিত।’

    গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন পেজেশকিয়ান। ইরানের পার্লামেন্টের কট্টরপন্থী সদস্যরা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর সরকার ওই সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দিয়েছে।

    জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘এই সমঝোতার একটি ধারাও তাঁরা দেখাতে পারবেন না, যেখানে আত্মসমর্পণের কথা বলা হয়েছে; বরং সব প্রতিশ্রুতি অপর পক্ষকেই পূরণ করতে হবে।’

    তবে সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সামরিক নেতৃত্ব নতুন কোনো হুমকি এলে পাল্টা হামলার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে।

    ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহিকে উদ্ধৃত করে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, স্থল, সমুদ্র, আকাশ, বিমান প্রতিরক্ষা, এমনকি সাইবার হামলা চালাতেও ইরানের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। নতুন কোনো হুমকি এলে বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা

    ওমান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত শুক্রবার ফোনে কথা বলেছেন। ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই মন্ত্রী আলোচনা ও কূটনৈতিক সংলাপ আবার শুরু করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।

    ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখনো আংশিক বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নৌ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারের গোপন বহর চলাচল করছে। এসব ট্যাংকারকে মার্কিন নৌবাহিনী পাহারা দিচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে বলে এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি

    আলোচনায় বসতে ইরান আগ্রহী কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে, তা দেখার অপেক্ষায় আছি।’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি এবং এর আশপাশের স্থলভূমিসহ পুরো অঞ্চলের ওপর আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তারা একটি চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমার মতে, তারা সঠিক চুক্তি করার জন্য এখনো প্রস্তুত নয়।’

    ইরানকে সহায়তা দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের সরকারকে ‘ধসিয়ে দেওয়া’ হবে।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গরের বৈঠক: সরকারে আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের, বিনিয়োগের ইঙ্গিত

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গরের বৈঠক: সরকারে আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের, বিনিয়োগের ইঙ্গিত

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করে দেশের বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশের প্রশংসা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে নতুন করে বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে ভ্রমণ সতর্কতা (টুরিস্ট অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

    আজ শনিবার সকালে ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি সার্জিও গর এসব কথা জানান।

    উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে মার্কিন বিশেষ দূত বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং এতে মার্কিন প্রশাসন পূর্ণ আস্থা রাখছে।

    সার্জিও গরউল্লেখ করেন, এই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সতর্কতা ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে, যা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ যে এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছাবে।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে আরও বড় আকারের মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে সয়াবিন, তুলা, গম এবং অন্যান্য কৃষি পণ্যের ওয়্যার হাউজিং বা সংরক্ষণ সুবিধা তৈরিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ কামনা করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসব খাতে মার্কিন বিনিয়োগ গড়ে উঠলে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) তৈরি করা সম্ভব হবে।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সার্জিও গর জানান, আইটি খাতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটি প্যাক্স সিলিকা (PAX Silica) উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হতে পারে।

    দুই পক্ষই যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সহযোগিতায় বাংলাদেশে ওষুধ ও খাদ্য পণ্যের পরীক্ষাগার চালুর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

    বৈঠকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মার্কিন প্রতিনিধিদল। আগের দিনই সার্জিও গর কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন।

    সংকটটি মোকাবিলায় এবং বিপুলসংখ্যক মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ায় সার্জিও গর বাংলাদেশ সরকার ও সাধারণ মানুষের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    সার্জিও গর জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

    অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে যে পরিমাণ আর্থিক ও মানবিক সাহায্য আসে, তার অর্ধেকেরও বেশি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কিন সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বাংলাদেশ পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন এবং ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

    মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শহরে গাইবেন কনা

    যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শহরে গাইবেন কনা

    জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কনসার্টের উদ্দেশে আমেরিকা ট্যুরে গেছেন। তবে কবে, কোথায় গাইবেন, সেসব না জানিয়ে পাড়ি জমান সাতসমুদ্দর তেরো নদীর ওপারে। রেখেছিলেন গোপন। শনিবার সেটি প্রকাশ করলেন। কনা জানান, তার এই ট্যুর আয়োজন করছে দেশি মিউজিক এন্টারটেইনমেন্ট।

    একটি সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শহরে গান গাইবেন গায়িকা কনা। যেসব শহরে গাইবেন, তার মধ্যে রয়েছে— ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, আটলান্টিক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেসে, ওকলোহামা সিটি, ডালাস, হিউস্টন, শিকাগো, বস্টন, অরল্যান্ডো, ওয়াশিংটন ডিসি, মিয়ামি, আটলান্টা, আবেয়া, অ্যারিজোনা ও নিউইয়র্ক। তার এ কনসার্ট ট্যুর শুরু হচ্ছে ২৫ জুলাই থেকে। আর শেষ হবে আগামী ৩ অক্টোবর। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি দেশটির বিভিন্ন শহরে গান শোনাবেন। দেশের শিল্পীদের মধ্যে এটা অন্যতম দীর্ঘ সংগীত সফর বটে।

    আমেরিকা যাওয়ার সামাজিক মাধ্যমে এ সংগীতশিল্পী ঘোষণা দিয়েছেন। সেখানে কনা লিখেছেন— ‘প্রিয় আমেরিকাবাসী, আমি আসছি তোমাদের শহরে। চলো, একসঙ্গে স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত উপভোগ করি।’

    এর আগে কনার সর্বশেষ গান প্রকাশ হয়েছে ১১ জুলাই সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে— ‘তোমার হতে চাই’ গানটি। রবিউল ইসলাম জীবনের কথায় গানটির সুর ও সংগীত করেছেন সজীব দাস। গানে কনার সঙ্গে দ্বৈত গেয়েছেনও সজীব। এটি ব্যবহৃত হয়েছে রাফাত মজুমদার রিংকুর নাটক ‘ভালোবাসার গল্প’তে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বেড়েছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। শুধু অংশগ্রহণ নয়, পুরস্কার জেতার খবরও আসছে নিয়মিত। এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এনএবিসি উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলনে সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘মানুষের বাগান’। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন (আইএফএফএম) ২০২৬-এ জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের তিন সিনেমা ‘রইদ’, ‘দেলুপি’ ও ‘বালুর নগরীতে’।

    ২ থেকে ৬ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ৪৬তম নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স। চার দিনের এই বঙ্গ সম্মেলনে একত্র হয়েছিলেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। সংগীত, নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উদ্‌যাপন করা হয় এই আয়োজনে। উৎসবের শেষ দিনে প্রদর্শিত হয় নুরুল আলম আতিক পরিচালিত মানুষের বাগান। উপস্থিত দর্শকেরা প্রশংসা করেন সিনেমাটির। দর্শকদের প্রশংসার পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় মানুষের বাগান। এর আগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে সিনেমাটি।

    সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাঁচটি গল্প নিয়ে এগিয়েছে মানুষের বাগান সিনেমার কাহিনি। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, প্রসূন আজাদ, মুনিরা মিঠু, দীপান্বিতা মার্টিন প্রমুখ।

    এদিকে আগামী ১৩ থেকে ২৩ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নের ১৭তম আসর। উৎসবের বেস্ট ফিল্ম ফ্রম দ্য সাবকন্টিনেন্ট বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে মেজবাউর রহমান সুমনের রইদ, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের দেলুপি এবং মেহেদি হাসানের বালুর নগরীতে।

    এই উৎসবে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা। এই বিভাগে আরও রয়েছে আফগানিস্তানের দুটি, নেপালের দুটি ও শ্রীলঙ্কার একটি সিনেমা। এর আগে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছে রইদ, দেলুপি ও বালুর নগরীতে। রইদ ও দেলুপি ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। গত ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া রইদ এখনো চলছে সিনেপ্লেক্সে

  • যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে কোয়ার্টারে বেলজিয়াম

    যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে কোয়ার্টারে বেলজিয়াম

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    এই ম্যাচে আলোচনার নাম ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগান। আগের ম্যাচে লাল খেয়ে এই ম্যাচে তার খেলার কথা না থাকলেও ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মাঠে নামেন বালোগান। তবে এই ফরোয়ার্ডের ফেরাও মাঠে খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বেলজিয়ামের দাপুটে ফুটবলের সামনে উড়ে গেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে চার্লস ডি কেটেলাইরের জোড়া গোলে সহ-স্বাগতিকদের ৪-১ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি।

    বেলজিয়ামের হয়ে প্রথমার্ধে দুই গোল করেন চার্লস ডি কেটেইলার। দ্বিতীয়ার্ধে একটি করে গোল করেন হ্যান্স ভানাকেন ও তারকা খেলোয়াড় রোমেলু লুকাকুু। প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে একটি গোল শোধ করেন মালিক তিলমান।কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ ইউরোপের অন্যতম সেরা দল স্পেন। যারা রাতের অন্য ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। ১১ জুলাই রাত ১টায় সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। নবম মিনিটে চার্লস ডি কেটেলাইরের গোলে এগিয়ে যায় তারা। গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, আর মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারির উচ্ছ্বাস।তবে ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি মার্কিনরা। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে সমতায় ফেরান মালিক তিলমান। গোলের পর নতুন উদ্দীপনায় খেলতে শুরু করে স্বাগতিকরা।

    কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। সমতায় ফেরার মাত্র দুই মিনিট পরই আবারও আঘাত হানে বেলজিয়াম। লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের নিখুঁত ক্রসে হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন চার্লস ডি কেটেলাইরে। তাতেই আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।প্রথমার্ধের বাকি সময় দুই দলই একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও আর কোনো গোলের দেখা মেলেনি। ফলে ২-১ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

    দ্বিতীয়ার্ধে চাপ ধরে রেখে খেলে যায় বেলজিয়াম। ফল আসে ৫৭তম মিনিটে। আগের দুই গোলের কারিগর কেটেলাইর এবার সহায়তাকারীর ভূমিকায়। তার পাস থেকে ৫৭তম মিনিটে জাল খুঁজে নেন হ্যান্স ভানাকেন।

    এরপর দুদল একের পর এক আক্রমণ করে যায়। বেলজিয়াম রক্ষণ শক্ত করায় জোর দেয়। যুক্তরাষ্ট্র খেলোয়াড় বদলি করেও স্কোরলাইন পাল্টাতে পারেনি। রক্ষণ জমাট করার ফাঁকেই শেষদিকে আরেকবার ভেলকি দেখায় বেলজিয়াম।যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে হঠাৎ করেই বল নিয়ে পাল্টা আক্রমণে ওঠেন তৃতীয় গোলদাতা ভানাকেন। তিনি দুর্দান্ত এক পাস বাড়ান রোমেলু লুকাকুর দিকে। তারকা খেলোয়াড় কোনো ভুল করেননি। শেষ পেরেকটা ঠুকে দেন স্বাগতিকদের কফিনে। ফলে দুর্দান্ত জয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।

  • সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র না বেলজিয়াম হাসবে?

    সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র না বেলজিয়াম হাসবে?

    ফিফার বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ের নয়ে বেলজিয়াম। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৬ নম্বরে। এ হিসাবে কাগজে-কলমে এগিয়ে বেলজিয়ামই। কিন্তু বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সকাল ৬টায় সিয়াটলে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের এগিয়ে রাখতে নারাজ বেলজিয়াম দলের উইঙ্গার দোদি লুকেবাকিও। উল্টো তিনি এই ম্যাচে দুই দলেরই ‘ফিফটি-ফিফটি’ সম্ভাবনা দেখেন।

    র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার পরও কেন তাঁদের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনা দেখছেন লুকেবাকিও—কারণ, যুক্তরাষ্ট্র খেলবে ঘরের মাঠে, সমর্থকভরা গ্যালারির সমর্থন নিয়ে। তাঁর ভাষায়, ‘বিশ্বকাপে সবকিছুই আলাদা। যুক্তরাষ্ট্র এবার নিজেদের মাঠে খেলছে, দর্শকদের সমর্থনও পাবে। তাই ম্যাচটা হবে ৫০-৫০।’

    অবশ্য পরিসংখ্যানও প্রায় একই কথা বলছে। অপ্টর সুপারকম্পিউটার ৯০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ৩৭.২ শতাংশ, আর বেলজিয়ামের ৩৬.৫ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের সম্ভবনার ব্যবধান খুবই সামান্য।

    ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ বত্রিশে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্র। ওই পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় মরিসিও পচেত্তিনোর দল। টানা চার ম্যাচে অন্তত দুই গোল করে তারা গড়েছে নতুন কীর্তি। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার কীর্তি পচেত্তিনোর দলের।

    মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে বেলজিয়াম। ছবি: আজকের পত্রিকা গ্রাফিকস
    মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে বেলজিয়াম।

    অন্যদিকে বেলজিয়াম খুব একটা স্বস্তি নিয়ে শেষ ষোলোয় আসেনি। গ্রুপে মাত্র একটি জয় পেলেও গোল ব্যবধানে শীর্ষে থেকে নকআউটে ওঠে তারা। শেষ বত্রিশে সেনেগালের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় বেলজিয়ানরা।

    তবে নকআউটের অভিজ্ঞতায় এগিয়ে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে তাদের শেষ সাতটি নকআউট ম্যাচের পাঁচটিতেই জিতেছে তারা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি শেষ ষোলোর পাঁচটিতেই বিদায় নিয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ২০০২ সালে, যখন মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা।

    মার্চে আটলান্টায় প্রীতি ম্যাচে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল। সেদিন ৫-২ ব্যবধানে জিতেছিল বেলজিয়াম, যেখানে শেষ দুটি গোল করেছিলেন লুকেবাকিও। তবে এবার তাঁর বিশ্বাস, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলতে নামা যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রতিপক্ষ। তাই সিয়াটলে শেষ আটের টিকিটের লড়াইয়ে জমজমাট এক ম্যাচেরই অপেক্ষা।

  • বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

    বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্র

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখল যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে ফোলারিন বালোগানের গোল, অন্যদিকে তার লাল কার্ড, নাটকীয়তায় ভরা লড়াইয়ে ১০ জন নিয়েও দারুণ লড়াই করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারিয়েছে মার্কিনরা।

    সানফ্রানসিসকোর বে অ্যারিয়া স্টেডিয়ামে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। নিজেদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়েছে দলটি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী সোমবার সিয়াটলে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বেলজিয়াম।

    ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও প্রাণবন্ত ফুটবল খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিপক্ষ বসনিয়া পুরো ম্যাচেই ছিল অনেকটাই রক্ষণাত্মক, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছিল মার্কিনরা।

    গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝেই ম্যাচের ৪৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বসনিয়ার গোলকিক মাঝমাঠে পাস দেন অধিনায়ক টিম রিম। সেখান থেকে মালিক টিলম্যানের বাড়ানো বল প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে পৌঁছে যায় ফোলারিন বালোগানের সামনে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

    এর আগে অবশ্য কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও গোল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। বালোগানের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়, আর পেনাল্টির দাবিও নাকচ করে দেন রেফারি।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বসনিয়া আক্রমণের গতি বাড়ালেও ৬৪তম মিনিটে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। তারিক মুহারেমোভিচের পায়ের ওপর স্টাড লাগানোর ঘটনায় ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় বালোগানকে। ফলে শেষ প্রায় আধা ঘণ্টা ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে।

    একজন কম নিয়ে খেললেও দমে যায়নি স্বাগতিকরা। বরং ৮২তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নিজেদের দিকে টেনে নেয় তারা। বক্সের ঠিক বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে দারুণ বাঁকানো শটে গোল করেন মালিক টিলম্যান। বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিল বল ছুঁয়েও রুখতে পারেননি।শেষ দিকে বসনিয়া মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণ ছিল দৃঢ়। যোগ করা সময়েও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও কোনোটি কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

  • কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

    কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

    যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অবশেষে সেই অবধারিত ঘটনাই ঘটল। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা, দলের অভ্যন্তরীণ প্রবল চাপ এবং দেশজুড়ে কমতে থাকা জনপ্রিয়তার মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

    তার এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে লেবার পার্টির নেতৃত্বে এবং দেশের শাসনভারে এক বড় ধরনের পালাবদলের পথ প্রশস্ত হলো। আর এই দৌড়ে ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী বাসিন্দা হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম, যাকে এখন ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় নিশ্চিত ধরে নেওয়া হচ্ছে।

    স্টারমারের এই বিদায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই তার সরকারের প্রতি জনসমর্থনে ধস নামতে শুরু করে। নির্বাচনী প্রচারণায় এড়িয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকটগুলো সামনে এনে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার যখন কর বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের মতো অজনপ্রিয় নীতি গ্রহণ করে, তখন থেকেই ভোটাররা ক্ষুব্ধ হতে শুরু করেন।

    তবে তার সরকারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকা হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। জেফরি এপস্টেইনের বিতর্কিত বন্ধু পিটার ম্যান্ডেলসনকে আমেরিকায় ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে গোটা দেশে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে, যেখানে লেবার পার্টি এক ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। ফলস্বরূপ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং-সহ দলের প্রায় ১০০ জন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন।

    স্টারমারের পদত্যাগের ফলে এখন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রেডিকশন মার্কেট বা বেটিং বাজারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ডি বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা এখন রেকর্ড ৯৫ শতাংশ। লেবার পার্টির ‘কিং অব দ্য নর্থ’ খ্যাত বার্নহাম সম্প্রতি তার রাজনৈতিক সক্ষমতার এক বিশাল প্রমাণ দিয়েছেন।

    গত ১৮ জুন মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে তিনি এক দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে আনেন। স্থানীয় নির্বাচনে এই আসনটিতে ডানপন্থী পপুলিস্ট দল ‘রিফর্ম ইউকে’ একচেটিয়া জয় পেলেও, উপ-নির্বাচনে বার্নহাম ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তাদের সহজেই পরাজিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমেই তিনি পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন এবং দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি যোগ্যতা অর্জন করেন।

    নেতৃত্ব নির্বাচনের এই লড়াইয়ে বার্নহামের পাশাপাশি ওয়েস স্ট্রিটিং বা সাবেক সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসের মতো নেতারাও মাঠে নামতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রিটিংয়ের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন নেতা হতে হলে প্রার্থীদের লেবার পার্টির ৪০৩ জন এমপির মধ্যে অন্তত ৮১ জনের সমর্থন নিশ্চিত করে মনোনয়ন পেতে হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের সাধারণ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সদস্যদের সরাসরি ভোটে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ বলছে, সাধারণ দলের সদস্যদের মাঝে বার্নহাম বিপুল ব্যবধানে জনপ্রিয় এবং তিনি অনায়াসেই এই নির্বাচনে জয়লাভ করবেন।

    তবে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের চাবি হাতে পেলেও অ্যান্ডি বার্নহামের সামনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ হবে না। ইউগভের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মে থেকে জুনের মধ্যে সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছে বার্নহামের প্রতি অনীহার হার ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা তার জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

    একদিকে যেমন দেশের অভ্যন্তরে স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করার কঠিন কাজ তার কাঁধে পড়বে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে—বিশেষ করে একজন খামখেয়ালি আমেরিকান প্রেসিডেন্টের সাথে ব্রিটেনের কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার মতো অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতিও তাকে অত্যন্ত সাবধানে সামলাতে হবে। দেশ পরিচালনার এই নতুন অধ্যায়ে বার্নহাম কতটুকু সফল হবেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা যুক্তরাজ্য।