ট্যাগ যানজট

  • ঢাকার যানজট নিরসনে ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

    ঢাকার যানজট নিরসনে ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

    সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান—এ চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া ও বিদ্যমান ডিপো ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, এর পাশাপাশি গাবতলী টার্মিনালের বিকল্প টার্মিনাল সম্প্রসারণ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি করপোরেশনের টার্মিনাল উন্নয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    রোববার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে বাসসকে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে যে নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন কতদূর এগিয়েছে এবং কোন কোন কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, সভায় মূলত এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, যানজট নিরসনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সড়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে শহরের ভেতরে বাস ও গণপরিবহনের অতিরিক্ত চাপ। এ চাপ কমাতে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থানে টার্মিনাল ও ডিপো ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘যানজট নিরসনের জন্য আমাদের যে টার্মিনালগুলো রয়েছে, সেগুলোর কিছু অংশ আপাতত আমাদের যে ডিপোগুলো রয়েছে, সেগুলোতে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা কাচপুর, এরপর পূর্বাচল— এসব জায়গা ব্যবহার করার বিষয়টি দেখছি।’

    প্রতিমন্ত্রী জানান, এছাড়া গাবতলী বাস টার্মিনালকে আরো সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গাবতলীর পাশের নতুন জায়গাগুলো কীভাবে দ্রুত কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথে গণপরিবহনের চাপ কমাতে এসব বিকল্প অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ঢাকার আশপাশের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলোও যানজটের অন্যতম কারণ। এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে সড়কগুলো যান চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, শুধু রাজধানীর ভেতরে যানজট নিরসনের উদ্যোগ নিলে হবে না। বৃহত্তর ঢাকার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং গণপরিবহনের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সভায় মূলত চারটি বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব টার্মিনালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা, বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের সম্ভাবনা, ডিপো ব্যবহারের সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় থাকা টার্মিনালগুলোও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব টার্মিনালে বাস পরিচালনার জন্য কাউন্টার স্থাপন, যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বিশেষ করে এসি বাসগুলোকে নির্দিষ্ট টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। বাস কাউন্টার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা কোথায় এবং কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে শুধু সড়ক প্রশস্ত করা বা নতুন সড়ক নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। গণপরিবহনের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, বাসের চলাচল, পার্কিং, কাউন্টার ব্যবস্থাপনা এবং রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমনপথে যানবাহনের চাপ, সবগুলো বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।

    সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে কাজ ধীরগতিতে চলছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকবৃন্দ এবং সড়ক মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার উড়বে ড্রোন

    রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে এবার উড়বে ড্রোন

    রাজধানী ঢাকায় যানজট বেশ পুরনো সমস্যা। এতে নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কর্মঘণ্টা। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও মেলেনি এ সংকটের স্থায়ী সমাধান। তবে সম্প্রতি যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরার ব্যবহার কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। এবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) উদ্যোগ নিয়েছে ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর।

    সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন এ প্রযুক্তি যুক্ত হলে রাজধানীতে যানজট অনেকাংশ কমে আসবে বলে আশা করছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যক্ত করেন এ আশাবাদ।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ কর্মকর্তার ভাষ্য, পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি ড্রোনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় রিয়েল টাইম তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত, সতর্কবার্তা প্রদান এবং পরবর্তী সময়ে অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) যুক্ত করে ভিডিও মামলা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    আনিছুর রহমান বললেন, ড্রোন সার্ভিলেন্স পৃথিবীর বহু দেশে আছে। তবে, এটি আমাদের জন্য একেবারে নতুন একটি কনসেপ্ট। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও যানজট তৈরি হয়। অনেক সময় এসব যানজটের সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না বা জানতে দেরি হয়। সেজন্য আমরা চিন্তা করেছি, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় যদি আমরা ড্রোন সার্ভিলেন্স চালু করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের তাৎক্ষণিক রিয়েল টাইম ইনফরমেশন দেবে। এতে আমাদের জন্য নির্দেশনা দিতে সহজ হবে।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনে করেন, ড্রোনে যদি অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন (এএনপিআর) প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়, তাহলে অফিসে বসে ভিডিও মামলা দেওয়া সম্ভব হবে।

    আনিছুর রহমান বললেন, ঢাকায় বড় অসুবিধা হলো বাসগুলো নির্দিষ্ট স্থানে থামে না। বাসের কন্ডিশন অনুযায়ী ‘পার ডে’ তারা মালিককে টাকা দেয়। এই টাকা দেওয়ার ফলে নিজেদের মধ্যে কম্পিটিশন করে তারা। কম্পিটিশনের কারণে বাসগুলো যাত্রী ছাউনিতে না থামিয়ে ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে থামে এবং পেছনের পুরো রাস্তা ব্লক করে দেয়।

    ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনে করেন, উন্নত দেশগুলোয় নির্দিষ্ট সময় পরপর বাস চলাচল করে। কোন বাসের পর কোন বাস আসবে এবং কোন বাস কখন কোথায় দাঁড়াবে— সবকিছু একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আমাদের দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। এ কারণে বাসগুলো যাত্রী পাওয়ার জন্য একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। ফলে ঢাকার প্রায় সব বাসের গায়ে অসংখ্য দাগ ও ক্ষত দেখা যায়। দেখতে অনেকটা বসন্ত রোগীর মুখের মতো। এটা যতদিন পর্যন্ত বন্ধ না হবে এবং ই-টিকিটিং সিস্টেম ও বাস রুট রেশনালাইজেশন— এই দুটি কাজ যতদিন আমরা যথাযথভাবে করতে না পারব, ততদিন পর্যন্ত এই ভোগান্তি কমবে না।

    ড্রোনগুলো ঠিক কী ধরনের কাজ করবে— এমন প্রশ্নের জবাবে আনিছুর রহমান জানালেন, ড্রোনে ভয়েস বা শব্দের ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারী যানবাহনকে সতর্কবার্তা দেওয়া যাবে। যেমন— কোনো গাড়ি যানজট সৃষ্টি করলে ড্রোন থেকে বলা যাবে, ‘আপনি যানজট সৃষ্টি করছেন, সরে যান।’

    ‘ড্রোনের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলাও করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। তবে এটি এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একটি সংস্থা পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের কাছে একটি ড্রোন দিয়েছে। আমরা সেটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। আশা করছি, খুব দ্রুত এটি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করতে পারব’, যোগ করেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এ কর্মকর্তা।

    ড্রোনের মাধ্যমে রিয়েল টাইম ডাটা সরাসরি পাওয়া যাবে কি না— জানতে চাইলে আনিছুর রহমান বললেন, একদম রিয়েল টাইম ডাটা পাওয়া সম্ভব। তবে, এগুলো পেতে আমাদের অবকাঠামো লাগবে। কারণ এগুলো সবই হচ্ছে ইন্টারনেট বেইজড, সার্ভার বেইজড। এগুলোর জন্য স্পেস দরকার, অবকাঠামো দরকার। এগুলোর জন্য ব্যয় আছে।

    ড্রোন পরিচালনার জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ দরকার আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেছেন, ড্রোন চালানো একটি কারিগরি বিষয়। তাই আমরা এরই মধ্যে আমাদের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছি। প্রথমে তেজগাঁও বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সেখানে আমাদের একটি দল এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে উত্তরা বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

    এ প্রযুক্তি চালুর বিষয়ে চ্যালেঞ্জের কথা জানাতে গিয়ে আনিছুর রহমান বলেছেন, ‘শুরুতে কিছুটা সময় লাগবে। আমরা প্রথমে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ে কাজ শুরু করেছি। শাহবাগ থেকে শুরু করে ১৪টি এবং লেক রোডে একটি— মোট ১৫টি সিগন্যাল এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএমপির অন্যান্য সিগন্যালও রয়েছে।

    ‘আমরা প্রথমে দেখতে চেয়েছিলাম, এই ব্যবস্থা কাজ করে কি না। আপাতত কাজ করছে। তবে সমস্যা যে নেই, তা নয়। সমস্যা রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, মানুষ যেন ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে শেখে। তবে এই অভ্যাস তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করি, ড্রোনের ক্ষেত্রেও সময় লাগবে। আমরা এটি পরীক্ষা করে দেখব। যদি কোনো নেতিবাচক দিক দেখা যায়, তাহলে এটি চালু করা হবে না’, যোগ করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।