ট্যাগ যশোর

  • যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন

    যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন

    যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম চাকলাদার ও তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    বুধবার দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

    দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জহিরুল ইসলাম চাকলাদারের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

    এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা হবে।

    অন্যদিকে, তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ৪৫৩ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় স্বামী জহিরুল ইসলাম চাকলাদারকে সহায়তাকারী হিসেবে আসামি করা হবে।

    তাদের বিরুদ্ধে ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় পৃথক মামলা হবে।

  • যশোর ও মাদারীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৮

    যশোর ও মাদারীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৮

    ১৫ আগস্ট ঘিরে দেশের দুই জেলায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জেলা দুটি হলো যশোর ও মাদারীপুর। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আটজন আহত হয়েছে। শনিবার সকালে এ ঘটনা।

    যশোরের কেশবপুরে ককটেল বিস্ফোরণে জুয়েল (৩৫) নামে এক মোটরশ্রমিক আহত হয়েছেন। আহত জুয়েলকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে থানার পুলিশ বিস্ফোরিত এলাকাটি ঘিরে রেখে আহত জুয়েলকে তাদের হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছে। ঘটনাস্থলে আরো দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

    এলাকাবাসী ও থানার পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে কেশবপুর পৌর শহরের যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মধ্যকুল এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে মধ্যকুল গ্রামের ব্যবসায়ী খানজের ছেলে জুয়েলের পায়ে বোমার স্প্লিন্টার লেগে তিনি আহত হন। আহত জুয়েলকে পথচারীরা উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত উদ্ধারসহ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। পুলিশ জানায়, ওই স্থানে আরও দুটি পলিথিনে মোড়ানো অবিস্ফোরিত ককটেল রয়েছে।

    এলাকাবাসীরা জানান, ১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতা করতে কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিক মোড়ল, একাধিক মামলার আসামি সাবেক কাউন্সিলর কামাল খানসহ ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে মধ্যকুল এলাকায় মুজিবুর রহমান মুজির মৎস্য খামারে গোপন মিটিং করেন। বিষয়টি এলাকার বিএনপি নেতাসহ গ্রামবাসী থানার অফিসার ইনচার্জ মোছা. রোকসোনা খাতুনকে অবহিত করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। সন্ত্রাসীদের গর্ডফাদার রফিক মোড়ল ও কামাল খান নাশকতাসহ একাধিক মামলায় আটক হওয়ার পর তারা আদালত থেকে জামিনে এসে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে সংঘটিত করতে কাজ করছেন।

    হাসপাতালে কর্মরত ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ককটেল বিস্ফোরণে আহত জুয়েলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    থানার ওসি মোছা. রোকসোনা খাতুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার রাতে মধ্যকুল গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি মৎস্য ঘেরে মিটিংয়ের বিষয়ে তাকে এলাকাবাসী অবহিত করেছিল।

    এদিকে মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বসতঘরের সিঁড়িতে থাকা ককটেল বিস্ফোরণে গোপালপুর দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মাদ্রাসার টিফিনের বিরতি চলাকালীন শিক্ষার্থীরা নাশতা করার উদ্দেশ্যে পাশের ইমন সরদারের বসতঘরের দিকে যায়। সেখানে ঘরের দরজার সিঁড়ির গোড়ায় পড়ে থাকা একটি ককটেল শিক্ষার্থীরা না বুঝে নাড়াচাড়া করতে গেলে হঠাৎ সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়।

    ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা মারাত্মক অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

    যানা যায়, ইমন সরদারের কাজের বুয়া বেবি (৪০) আজ শনিবার সকালে ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় বলের মতো একটি বস্তু বারান্দার সিঁড়িতে দেখতে পেয়ে বাড়ির মালিককে জানালেও তারা গুরুত্ব দেননি।

    সংবাদ পেয়ে মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে রাখেন।

    মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ককটেলটি ওখানে কীভাবে এলো এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়ে‌ছে।

  • সরকারি গুদামে সার, মাঠে হাহাকার!

    সরকারি গুদামে সার, মাঠে হাহাকার!

    আমন ধান রোপণের ভরা মৌসুম। অথচ যশোরের মাঠে এখন সারের জন্য হাহাকার। সরকারি হিসাব বলছে, গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ডিলার ও সাব-ডিলারদের দোকানে সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার। বাধ্য হয়ে অনুমোদনহীন দোকান থেকে প্রায় দ্বিগুণ দামে সার কিনছেন কৃষকরা। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।


    যশোরের চৌগাছা, শার্শা ও সদর উপজেলাসহ জেলার আটটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে আমন চাষ পুরোদমে চললেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার মিলছে না। সবচেয়ে বেশি সংকট ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারে।


    চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বাড়ীয়ালী গ্রামের কৃষক আলী কদর বলেন, ‘সাব-ডিলারের কাছে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার কিনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা দিতে পারছে না। অথচ অনুমোদনহীন দোকানে গেলে দুই গুণ বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে।’
    একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাব-ডিলার কামরুল ইসলাম জানান, তাঁর এলাকায় ৫৪৫ জন কৃষক রয়েছেন। অথচ তিনি পেয়েছেন মাত্র ১০ বস্তা ডিএপি, ১০ বস্তা এমওপি, ৫৫ বস্তা টিএসপি ও ১০০ বস্তা ইউরিয়া।


    তিনি বলেন, ‘এখন আমন রোপণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। কৃষকের প্রয়োজনের তুলনায় যে বরাদ্দ পেয়েছি, তা খুবই অপ্রতুল। কৃষকদের কোনো সমাধান দিতে পারছি না।’
    ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাব-ডিলার কিংকর হালদারও একই অভিযোগ করে বলেন, ‘কৃষক টাকা নিয়েও সার পাচ্ছেন না। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় আমরা বিপাকে পড়েছি।’
    শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের গোকর্ণ গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ধানের প্রথম চাষে সার না দিলে ভালো ফলন হয় না। কিন্তু এখন ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি, এমওপি—সব সারেরই সংকট। মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কোনো মিল নেই।’
    সদর উপজেলার চুরামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ২৫ টাকা, ডিএপি ১৯ টাকা, টিএসপি ২৫ টাকা ও এমওপি ১৮ টাকা কেজি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এমওপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, টিএসপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ডিএপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং ইউরিয়া অনেক জায়গায় ৩০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যশোরে বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার ও সাব-ডিলার রয়েছেন ১৬২ জন এবং বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলার ১৪১ জন।
    বিএডিসি ও কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, জেলার নয়টি গুদামের মোট ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ধারণক্ষমতার প্রায় প্রায় দ্বিগুন ২৪ হাজার মেট্রিক টন নন-ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে। ইউরিয়ার মজুদও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে।


    গত জুন মাসে ডিলারদের মধ্যে ২ হাজার ১০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৮০৮ মেট্রিক টন টিএসপি, ১ হাজার ৭৫৬ মেট্রিক টন ডিএপি এবং ১২৩ মেট্রিক টন এমওপি বিতরণ করা হয়েছে। জুলাই মাসের জন্যও ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির উল্লেখযোগ্য মজুদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
    অর্থাৎ সরকারি হিসাবে সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের সাব-ডিলারদের দাবি, তারা প্রয়োজনের ২০ শতাংশ সারও পাচ্ছেন না।
    সরকার প্রতি কেজি সারে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যে সার ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, সেটি কৃষকদের জন্য ২০ থেকে ২৭ টাকায় সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেই সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকরা।


    কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ২৭ টাকার ইউরিয়া ৩৫ টাকা, ২১ টাকার ডিএপি ৩০ টাকা, ২০ টাকার এমওপি ৩০ টাকা এবং ২৫ টাকার টিএসপি ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত মাঠে গিয়ে সার ও বালাইনাশকের দোকান মনিটরিং করছি। বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। চাহিদা অনুযায়ী সার বিতরণ করা হয়েছে। কোথাও সমস্যা থাকলে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


    তবে কৃষক ও সাব-ডিলারদের দাবি, মনিটরিং কার্যক্রম কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পৌঁছাচ্ছে না।
    কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমন ধানের প্রথম চাষ ও চারা রোপণের সময় প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফলন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে। এক বিঘা জমি প্রস্তুতের সময়ই প্রায় ৫০ কেজি সার প্রয়োজন হয়। ফলে বর্তমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

  • শার্শায় ট্রাক্টর-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

    শার্শায় ট্রাক্টর-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১

    যশোরের শার্শায় ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরেক যুবক আহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গোগা ইউনিয়নের সালামের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাহিদ ইসলাম (৩৫) যশোর সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ভান্ডারীর ছেলে ও উষা রহমান (৩০) বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামের জমাত আলীর ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে তিন যুবক মোটরসাইকেলযোগে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় রুদ্রপুর-গোগাগামী পাকা সড়কের সালামের মোড় নামক এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইটবোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নাহিদ ও উষা নিহত হন। গুরুতর আহত রুবেলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ নাহিদ ও উষার মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ‘স্থানীয় জনতা ট্রাক্টরটি জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

  • শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

    শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

    যশোরের শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন।

    গতকাল ১৪ জুন পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় মামলা করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুড়িয়া ঘোপ গ্রামের হাসিব আল হাসান (১৯), ছোট বসন্তপুর গ্রামের আব্দুর রহমান ইমন (২৪) ও মেহেদি হাসান টুটুল (২৫)। অপর দুই আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৬) ও ইমন (২৪)। তাঁরা পলাতক রয়েছেন।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১২ জুন দিবাগত রাতে প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হলে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। পরে তাঁকে ধর্ষণ করেন। এ সময় কাউকে না বলতে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।

    পরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়ে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা নিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

    শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • চৌগাছা সীমান্ত থেকে নারী শিশুসহ দশ জন আটক

    চৌগাছা সীমান্ত থেকে নারী শিশুসহ দশ জন আটক

    যশোরের চৌগাছায় ভারতীয় সীমান্তের ইন্দ্রোপুর গ্রামের মাঠ থেকে নারী শিশুসহ দশ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার দিবাগত রাতে হিজলি বিওপির বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে আটক করেন। আটককৃতরা সবাই বাংলাদেশী নাগরিক বলে দাবি করেছেন।

    আটককৃতরা হলেন, যশোরের কেশবপুর উপজেলার বুড়িহাটি গ্রামের আবু সাঈদ (৫০), তার স্ত্রী ছকিনা খাতুন (৪৩),সাতক্ষীরা জেলার বড় কুপুট গ্রামের মাছুরা খাতুন (৩৫), তার বড় ছেলে নুর জালাল (১৫), ছোট ছেলে ওমর ফারুক (১২), এবং মেয়ে মিনারা খাতুন (৭), খুলনার তেরখাদা উপজেলার রাব্বি হাসান (২২),তার স্ত্রী নাসিমা খাতুন (১৮), মেয়ে রাহেলা খাতুন (২) এবং নানি মেহেরুন বিবি (৭০)।

    হিজলি বিওপির বিজিবি কমান্ডার সুবেদার শহিদুল ইসলাম বলেন, আটককৃতরা ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার চেষ্টাকালে টহলদলের সদস্যরা তাদেরকে আটক করেন।
    তিনি আরো বলেন, আটককৃতদেরকে বেআইনি ভাবে প্রবেশের অভিযোগে মামলা দিয়ে চৌগাছা থানায় সোর্পদ করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে আটককৃতরা এ প্রতিবদকের নিকট তাদের বাড়ি বাংলাদেশে বলে দাবি করেন।

    তারা বলেন, আমরা ভারতে বিভিন্ন পেশায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমরা দেশে বেড়াতে আসার সময় বিজিবি আমাদেরকে আটক করেছে। আটক নুর জালাল ভারতের একটি মাদ্রাসায়, ওমর ফারুক ও মিনারা খাতুন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে বলে জানান।

  • কেশবপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেল বিরল প্রজাতির হনুমানটি

    কেশবপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেল বিরল প্রজাতির হনুমানটি

    যশোরের কেশবপুরে বিদ্যুৎপৃষ্টে বিরল প্রজাতির ভিন্ন প্রকৃতির একমাত্র মর্দা হনুমানটি মারা গেছে। ২০ নভেম্বর দুপুরে খাদ্যের সন্ধানে গিয়ে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে বিদ্যুতের তারের উপর দিয়ে লাফিয়ে যাওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ওই হনুমানটি মারা যায়। সম্প্রতি ভিন্ন প্রকৃতির ওই হনুমানটি কেশবপুরে আসে। হনুমানটি দেখতে কিছুটা বানর আকৃতির। এই হনুমানটি শহরের অফিস পাড়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাহাপাড়া এলাকায় অন্য কালোমুখ হনুমানের সঙ্গে বিচরণ করতো। হনুমানের খাদ্য সরবরাহকারী ভ্যানচালক আতিয়ার রহমান বলেন, ভিন্ন প্রকৃতির একমাত্র মর্দা হনুমানটি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যাওয়ায় হনুমানের বংশবিস্তারে বেশ ক্ষতি হয়ে গেল।

    উপজেলা বন কর্মকর্তা সমিরন বিশ্বাস বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় হনুমান দলের সঙ্গে ভিন্ন প্রকৃতির ওই হনুমানটি ঘোরাঘুরি করার সময় বৃহ¯পতিবার দুপুরে বিদ্যুৎ পৃষ্টে মারা যায়। খবর পেয়ে ওই হনুমানটি উদ্ধার করে উপজেলা প্রাণি সম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে এনে দেখানোর পর মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

    উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা অলোকেশ কুমার সরকার বলেন, মৃত অবস্থায় বিরল প্রজাতির ওই হনুমানটিকে বন বিভাগের কর্মীরা প্রাণি সম্পদ দপ্তরে নিয়ে আসেন।

  • চৌগাছায় সড়ক দূর্ঘটনায় শিক্ষক নিহত

    চৌগাছায় সড়ক দূর্ঘটনায় শিক্ষক নিহত

    যশোরের চৌগাছায় সাধন কুমার মজুমদার (৫৫) নামে এক শিক্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের গরীবপুর গ্রামের মৃত ওপেন্দ্রনাথ মজুমদারের ছেলে এবং বালিয়া গৌরসুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাধন কুমারের সমর কুমার ও অমল কুমার নামে দুটি ছেলে রয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বেলা দুইটার দিকে স্কুল থেকে ভ্যান যোগে বাড়ি ফিরছিলেন সাধন কুমার। তিনি চৌগাছা ঝিকরগাছা সড়কের পলুয়া গ্রামের বাদল মন্ডলের বাড়ির সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি চালবোঝাই ট্রাক ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাধন কুমার নিহত হন। চৌগাছা থানার পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করেছে। ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ট্রাকের চালককে আটকের চেষ্টা চলছে।

    আর খান

  • যশোর শিক্ষাবোর্ডে পঞ্চাশ কলেজের স্বীকৃতি স্থগিত

    যশোর শিক্ষাবোর্ডে পঞ্চাশ কলেজের স্বীকৃতি স্থগিত

    শর্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করতে না পারায় ৫০ কলেজের একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। কলেজের অধ্যক্ষরা অনলাইনে একাডেমিক স্বীকৃতি নবায়ন করার আবেদন করলে এটি স্থগিত করা হয়। বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর এসএস তৌহিদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বোর্ডের আওতাধীন ৫৮৬ কলেজের একাদশ শ্রেণিতে আসন ২ লাখ ২১ হাজার ৯৪। এই আসনে ভর্তি হয় ১ লাখ ২৮ হাজার ১৪৪ শিক্ষার্থী। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে বোর্ডের ভর্তির শর্ত ছিলো প্রত্যেকটি কলেজে সর্বনিম্ন ১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে হবে। কিন্তু ৫০টি কলেজে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। যে কারণে তাদের একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়েছে।

    বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি ওই ৫০টি কলেজ কর্তৃপক্ষ একাডেমিক স্বীকৃতি নবায়ন করতে বোর্ডে অনলাইন আবেদন করেন। নবায়ন করার আগে ভর্তির তথ্য যাচাইকালে জানানো হয়, কলেজগুলো আমাদের শর্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারেনি। এ কারণে তাদের একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়েছে। পরর্তীতে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম বাতিল হবে কীনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

    এ ব্যাপারে বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর এসএম তৌহিদুজ্জামান জানান, বোর্ডে শর্ত অনুযায়ী যেসব কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি করতে ব্যর্থ হচ্ছে, সেসব কলেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৫০টি কলেজ বোর্ডের শর্ত অনুযায়ী কম শিক্ষার্থী ভর্তি করায় একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শেষ হলে একই পদক্ষেপ নেয়া হবে। যেসব কলেজে শর্ত অনুযায়ী কম শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, ওইসব কলেজের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে শিক্ষকদের সম্মানের স্বার্থে কলেজের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

    আর খান