ছাত্রীদের ক্ষোভ
শিক্ষা ডেস্ক:
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) মেয়েদের তাপসী রাবেয়া হলের ডাইনিং ব্যবস্থার নানা অনিয়ম ও খাবারের নিম্নমান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবাসিক ছাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, খাবারের মান ও স্বাদ সন্তোষজনক নয়, এছাড়া খাবার পরিবেশনকারীদের আচরণও অমার্জিত। ফলে খাবার নিম্নমানের হলেও মিল রেট (৫০ টাকা) বেশি হওয়ায় অনেকেই নিয়মিত টোকেন কাটতে আগ্রহী নন। এদিকে জুলাই মাস থেকে নূন্যতম ২৫টি টোকেন বাধ্যতামূলক করেছে হল প্রশাসন।
এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হলের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ডাইনিংয়ের খাবারের মান উন্নয়ন ও সেবার মান নিশ্চিত না করে কেবল খাবারের দাম বাড়িয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য নয়।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপ সামলাতে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খুবই প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের হলের খাবারের স্বাদ ও মান সন্তোষজনক নয়। অনেক সময় আলু আধাসেদ্ধ থাকে, মুরগির টুকরা খুবই ছোট ও সামান্য দেয়া হয় এবং খাবার মুখে তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া যারা খাবার পরিবেশন করে, তাদের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। আগামী মাস থেকে মিলের মূল্য বাড়ানো হচ্ছে, কিন্তু খাবারের মান উন্নয়নের কোনো নিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে না। আমি মনে করি, খাবারের মান ও স্বাদ ভালো হলে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই টোকেন কাটত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, সময়মত খাবার পরিবেশন না করা এবং দায়িত্বে থাকা কর্মীদের রূঢ় আচরণ নিয়ে আমি অসন্তুষ্ট। পরীক্ষার সময় নির্ধারিত সময় গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় খাবার প্রস্তুত থাকলেও দেয়া হয় না, আবার কর্মীরাও দেরি করে আসেন। খাবারের স্বাদ ও মানও ভালো নয়। ভাত শক্ত থাকে, আলু ঠিকমত সেদ্ধ হয় না এবং অনেক সময় মেঝেতে খাবার রেখে প্রস্তুত করা হয়। এসব খাবার খেয়ে আমি অসুস্থও হয়েছিলাম। আগামী মাস থেকে খাবারের দাম বাড়ানো এবং বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হচ্ছে। খাবারের মান ভালো হলে বাড়তি দাম দিয়ে খেতে আপত্তি নেই। তবে প্রতিদিন একঘেয়ে, স্বাদহীন ও নিম্নমানের খাবার বাধ্যতামূলকভাবে নেয়া সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে তাপসী রাবেয়া হলের প্রভোস্ট ড. নাজনীন নাহার বলেন, হলে বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা থাকেন। সবার খাবারের স্বাদ বা পছন্দ এক হবে না, এটাই স্বাভাবিক। তারপরও আমি সবসময় চেষ্টা করি, রাঁধুনি ও ডাইনিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তদারকিতে রাখতে, যাতে খাবারের মান ভালো থাকে এবং শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট হন।
তিনি আরও বলেন, আরেকটি বড় সমস্যা হলো অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত টোকেন কাটেন না। এতে ডাইনিং পরিচালনায় আর্থিক চাপ তৈরি হয়। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী টোকেন কাটার কারণে মিল রেটও তুলনামূলক বেশি রাখতে হয়। বিষয়টি সমাধানে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।