মৌসুমি ফ্লু

  • হাম-ডেঙ্গুর সঙ্গে মৌসুমি ফ্লু, হাসপাতালে বাড়ছে চাপ

    হাম-ডেঙ্গুর সঙ্গে মৌসুমি ফ্লু, হাসপাতালে বাড়ছে চাপ

    একদিকে ডেঙ্গু ও হামের দাপট, অন্যদিকে বাড়ছে মৌসুমি ফ্লুর প্রকোপ। জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন অসংখ্য রোগী। উপসর্গে মিল থাকায় কোন ভাইরাসে আক্রান্ত, তা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। একসঙ্গে একাধিক ভাইরাসের সংক্রমণে বাড়ছে হাসপাতালের চাপ। জান্নাত, ৪ বছর ৩ মাস বয়সী এই শিশু কোন ভাইরাসে আক্রান্ত তা নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় মা।

    জান্নাতের মা জানান, আমি এখনো টেস্ট করাই নাই। এখন আমি মুক্ত মেডিকেলে নিয়ে যাব। ওখান থেকে যদি আমারে পরীক্ষা দেয়, ওখানে ভর্তি করব। পরীক্ষা-টরীক্ষা করে তারপরে জানতে পারব কী হয়েছে।

    গল্পটা জান্নাতের মায়ের একার নয়, ঢাকার শিশু হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে হাম, ডেঙ্গুর বাইরেও অন্যান্য রোগ নিয়ে দীর্ঘ হচ্ছে সিরিয়াল।

    সন্তান নিয়ে হাসপাতালে আসা কয়েকজন অভিভাবক জানান, হামের টিকা দেয়ার পর আবার ঠান্ডা-জ্বর বেড়ে গেছে। প্রাইভেটে অনেকবারই দেখানো হয়েছে। কিন্তু ওখানে আমার মনে হচ্ছে, আমি সঠিক ট্রিটমেন্ট পাচ্ছি না।

    চিকিৎসকদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—একই ধরনের উপসর্গের আড়ালে থাকা ভিন্ন ভিন্ন রোগ শনাক্ত করা।

    এ বিষয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হালিমা আক্তার বলেছেন, এখন হামের সঙ্গেডেঙ্গুরও আমরা কিছু কিছু মিল পাচ্ছি। যেমন, ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে জ্বর থাকতেছে তিন-চার দিন। এরপর হচ্ছে, জ্বরটা ভালো হয়ে র‍্যাশ উঠতেছে। পাতলা পায়খানা থাকতে পারে মিজলসে। কান দিয়ে পুঁজ পড়া—এটা হচ্ছে, মানে মিজলসে এক্সট্রা থাকতে পারে।
    এদিকে, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক বলেন, এখানে তো এক্সট্রা বেডের কোনো সিস্টেম নাই। তো ন্যাচারালি, চেষ্টা করি, যে রোগী একটু ভালো দিকে চলে গেছে, তাদের রিলিজ দিয়ে সেখানে ইমার্জেন্সি পেশেন্টদের জায়গা করে দেই।

    একসঙ্গে ডেঙ্গু, হাম ও মৌসুমি ফ্লুর মতো সংক্রমণ থাকায় পরিস্থিতি সামলাতে চিকিৎসকদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।