ট্যাগ মোবাইল

  • ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, শ্রেণিকক্ষে বিঘ্ন কমানো এবং বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হবে। তবে সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের শুরুতে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে শিশু ও কিশোরদের প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে ওঠে।

    জুলাইয়ে ফরাসি আইনপ্রণেতারা নতুন আইন অনুমোদন করেন। ২১ জুলাই পার্লামেন্টে পাশ হওয়া আইনে ১৫ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়। আইনটি পাশের পর সরকার জানায়, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

    এরপর ২৪ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করা হয়। সরকারের মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাইস্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনের দিন হয়ে উঠেছে।ফ্রান্সে স্কুল পর্যায়ে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এবার সেই বিধিনিষেধ হাইস্কুল পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। সরকারের যুক্তি, শিক্ষার্থীরা দিনের বড় একটি সময় ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকলে পড়াশোনায় মনোযোগ কমতে পারে। একই সঙ্গে বিরতির সময় সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা কিংবা সরাসরি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগও কমে যায়।

    নতুন নিয়মের মাধ্যমে স্কুলের সময়টুকুকে আরও মনোযোগী ও সামাজিক করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এটি প্রযুক্তিবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং শিক্ষার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পদ্ধতি সব হাইস্কুলে এক হবে না। নতুন আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিধিমালায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করবে। কোথায় ফোন রাখা হবে, কখন ব্যবহার করা যাবে এবং নিয়ম ভাঙলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় স্কুলভেদে নির্ধারিত হতে পারে।

    কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যাগের মধ্যে বন্ধ করে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান ফোন রাখার জন্য বিশেষ বাক্স, পকেট বা লকার ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বড় স্কুলগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা তৈরি করা সহজ নয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও বড় ক্যাম্পাসের কারণে ফোন সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নিরাপদে ফেরত দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

    এখানেই নতুন আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। ২৭ আগস্টের প্রতিবেদনে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য মন্ড জানায়, অনেক হাইস্কুল ১ সেপ্টেম্বরের আগে নতুন নিয়ম পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে পারেনি। কারণ অভ্যন্তরীণ বিধিমালা পরিবর্তনের জন্য স্কুল পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন। গ্রীষ্মের ছুটির সময়ে আইনটি চূড়ান্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রস্তুতির সময়ও কম ছিল।

    কিছু স্কুল অবশ্য আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্যারিসের বুফোঁ হাইস্কুল এবং বেজিয়েরের জ্যাঁ মুলাঁ হাইস্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। কোথাও স্কুলের নির্দিষ্ট অংশে ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখার কথাও বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগের ধরন প্রতিষ্ঠানভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে।

    নতুন ব্যবস্থায় বিশেষ পরিস্থিতির জন্য ব্যতিক্রমও থাকবে। চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন বা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত পরিস্থিতিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা যেতে পারে। ফলে নিয়মটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    নিয়ম ভাঙলে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করা হতে পারে। কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিধিমালার ওপর নির্ভর করবে। উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া নয়; বরং স্কুলে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের ওপর একটি স্পষ্ট সীমা তৈরি করা।

    তবে ফ্রান্সের এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একই সময়ে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমেই ডিজিটাল হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরা সময়সূচি, বাড়ির কাজ, স্কুলের নোটিশ ও বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। অনেক স্কুলে খাবারের ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য দৈনন্দিন সেবাতেও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। ফলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা কীভাবে সচল রাখা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্য এই পরিবর্তনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ফোনের ব্যবহার কমলে ক্লাস চলাকালে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হতে পারে। বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাবে। সরকারের প্রত্যাশা, এতে স্কুলের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়বে।

    বাংলাদেশের জন্যও ফ্রান্সের এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে আলোচনার বিষয় হতে পারে। বাংলাদেশেও স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা ও অনলাইন বিনোদনে তরুণদের সময় ব্যয়ের বিষয়টি অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বাস্তবতায় ফ্রান্সের মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর দেশ কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করছে, তা শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে।

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্রান্সের হাইস্কুলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর এখন মূল বিষয় হবে এর বাস্তব ফলাফল। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কতটা বাড়ে, স্কুলের পরিবেশে কী পরিবর্তন আসে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা সহজে মানিয়ে নিতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই উদ্যোগের সাফল্য।

  • হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করুন মোবাইল দিয়েই

    হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করুন মোবাইল দিয়েই

    ঘুরতে গেলে ভ্রমণ পিপাসুরা সাধারণত হোটেলে বা রিসোর্টে থাকতেই পছন্দ করেন। পর্যটন স্থানগুলোর আসেপাশে তাই প্রচুর হোটেলের দেখা মেলে। কিন্তু এই হোটেলকক্ষগুলোই মাঝে মাঝে হয়ে উঠতে পারে মরণফাঁদ।

    ইদানীং হোটেল রুমে লুকানো গোপন ক্যামেরা বসিয়ে অতিথিদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণের মতো ঘটনা ঘটছে দেশে-বিদেশে। এই ধরনের কার্যকলাপ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে ভ্রমণে নিশ্চিন্তে থাকার আগে সতর্ক থাকা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

    ঘুরতে গেলে তাই আগে আপনার হোটেল বা রিসোর্টের কক্ষটি গোপন ক্যামেরামুক্ত কিনা তা জানা জরুরি। অনেকে মনে করেন, এসব গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করতে আলাদা কোনো আধুনিক যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাস্তবে স্মার্টফোনই হতে পারে কার্যকর হাতিয়ার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্রমণে বের হলে সামান্য কিছু সচেতনতা আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

    যেমন, আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করেই গোপন ক্যামেরার লেন্স খুঁজে পাওয়া সম্ভব। লুকানো ক্যামেরার লেন্স থেকে আলো প্রতিফলিত হয়। এজন্য কক্ষের সব আলো বন্ধ করে ফ্ল্যাশলাইট চালু করতে হবে। এরপর এয়ার ভেন্ট, ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র, ঘড়ি বা আয়নার মতো জায়গায় আলো ফেলতে হবে। আলোয় যদি ক্ষুদ্র প্রতিফলন বা লেন্সের মতো কিছু দেখা যায়, সেটি সন্দেহজনক হতে পারে।

    ক্যামেরার মাধ্যমে ইনফ্রারেড আলো শনাক্ত

    গোপন ক্যামেরা থেকে নির্গত অতি লাল বা ইনফ্রারেড আলো খালি চোখে দেখা যায় না। তবে স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে তা শনাক্ত করা যায়। এজন্য কক্ষের আলো নিভিয়ে ফোনের ক্যামেরা চালু করে সন্দেহজনক স্থানগুলো স্ক্যান করতে হবে। ক্যামেরার স্ক্রিনে ক্ষুদ্র আলোকবিন্দু বা ঝলক দেখা গেলে সেটি ইনফ্রারেড আলো হতে পারে, যা গোপন ক্যামেরার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

    ক্যামেরা শনাক্তকারী অ্যাপ ব্যবহার

    বর্তমানে স্মার্টফোনের জন্য এমন অনেক অ্যাপ রয়েছে, যা দিয়ে গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করা সম্ভব। এসব অ্যাপ ইনফ্রারেড আলো, চৌম্বকক্ষেত্র বা অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত করতে পারে। নির্ভরযোগ্য একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে রুমের সন্দেহজনক স্থানে পরীক্ষা করলেই সম্ভাব্য লুকানো ক্যামেরা ধরা পড়তে পারে।

    ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে সন্দেহজনক ডিভাইস শনাক্ত

    অনেক গোপন ক্যামেরা ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে। স্মার্টফোন দিয়ে রুমের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত যন্ত্র শনাক্ত করা সম্ভব। স্মার্টফোনের ওয়াই-ফাই সেটিংসে গিয়ে নেটওয়ার্কে যুক্ত যন্ত্রগুলোর তালিকা দেখতে হবে। তালিকায় যদি অপরিচিত বা সন্দেহজনক নামের ডিভাইস যেমন আইপি ক্যামেরা বা ক্যামেরা দেখা যায়, সেটি নিয়ে সতর্ক হতে হবে।

  • জুলাই থেকে কি মুঠোফোনের দাম আবার বাড়বে?

    জুলাই থেকে কি মুঠোফোনের দাম আবার বাড়বে?

    নতুন একটি স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা থাকলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই। কারণ, ১ জুলাই থেকে একই ফোন কিনতে কয়েক হাজার টাকা বেশি গুনতে হতে পারে।

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে মুঠোফোন আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্কছাড় দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সাময়িক এই সুবিধার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত না এলে জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে করভার বেড়ে যাবে। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে মুঠোফোনের খুচরা বাজারে।

    মুঠোফোনের প্রতীকী ছবি

    মুঠোফোনের প্রতীকী ছবিছবি: রয়টার্স

    এ নিয়ে মুঠোফোন আমদানিকারকদের সংগঠন মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি) ১৮ জুন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ না বাড়ানো হলে আমদানি করা মুঠোফোনের ওপর মোট করভার বেড়ে ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে।

    এমআইওবি সূত্র বলছে, করভার বেড়ে গেলে আমদানীকৃত মুঠোফোনের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। জানতে চাইলে সংগঠনটির সভাপতি জাকারিয়া শাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপ, মাদারবোর্ড, সিপিইউ, ব্যাটারিসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম বাড়ছে। ফলে মুঠোফোনের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে আমদানি কর বেড়ে গেলে মুঠোফোনের দাম আরও বাড়বে। অনেক ক্রেতা কম দামে ফোন কিনতে আবারও ‘গ্রে মার্কেটের’ দিকে ঝুঁকতে পারেন।

    আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশ থেকে আনা সম্পূর্ণ তৈরি মুঠোফোনের জন্য এই শুল্ক-সুবিধা বহাল রাখার কোনো ঘোষণাও দেওয়া হয়নি। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে বাজার।

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকার আমদানীকৃত মুঠোফোনের ওপর কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছিল। এর ফলে ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর ও অন্যান্য কর মিলিয়ে আমদানি করা মুঠোফোনের ওপর মোট করভার নেমে আসে ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশে। যার মেয়াদ ছিল ৩০ জুন পর্যন্ত।

    এদিকে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশ থেকে আনা সম্পূর্ণ তৈরি মুঠোফোনের জন্য এই শুল্ক-সুবিধা বহাল রাখার কোনো ঘোষণাও দেওয়া হয়নি। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে বাজার।

    বিষয়টি নিয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    ‘আনঅফিশিয়াল’ ফোন বিক্রি কমেনি

    গত এক দশকে দেশে মোবাইল ফোন সংযোজন ও উৎপাদনশিল্প গড়ে উঠেছে। স্থানীয় কারখানাগুলো মূলত নিম্ন ও মধ্যম দামের ফোন সংযোজন করে থাকে। তবে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অ্যাপল, গুগল, হুয়াওয়ে, মটোরোলা, স্যামসাং ও শাওমির অনেক প্রিমিয়াম মডেল স্থানীয়ভাবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। জটিল সরবরাহব্যবস্থা, বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ এবং সীমিত বাজার চাহিদা এর অন্যতম কারণ।

    দেশে ‘অফিশিয়াল’ ও ‘আনঅফিশিয়াল’—এই দুই ধরনের মুঠোফোন বিক্রি হয়। তুলনামূলক কম দামের কারণে অনানুষ্ঠানিকভাবে দেশে আসা ফোনের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি। তবে এতে বছর বছর রাজস্ব হারায় সরকার। এই প্রবণতা কমাতে চলতি বছরের শুরুতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর ঘোষণা দেয় বিটিআরসি। এর উদ্দেশ্য ছিল অনানুষ্ঠানিক বা গ্রে মার্কেটের ফোন নিয়ন্ত্রণে আনা।

    তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুরের মতে, স্মার্টফোন এখন আর বিলাসপণ্য নয়; এটি শিক্ষা, আয়-উপার্জন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার প্রধান মাধ্যম। ফলে এর দাম বাড়ার চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদেরই বহন করতে হবে।

    একই সময়ে বৈধভাবে আমদানি করা মুঠোফোনের দাম কমাতে সরকার শুল্কহ্রাসেরও সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের যুক্তি ছিল, বৈধ ও অবৈধ ফোনের দামের ব্যবধান কমে এলে ক্রেতারা বৈধ পথে আমদানি করা ফোন কিনতে উৎসাহিত হবেন।

    তবে বাজারে প্রত্যাশিত প্রভাব দেখা যায়নি। শুল্ক কমানোর আগেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মুঠোফোনের দাম ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা তখন এর কারণ হিসেবে বৈশ্বিক বাজারে মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছিলেন। অন্যদিকে বন্ধ করা যায়নি আনঅফিশিয়াল মুঠোফোনের বাজারও। রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মলে নিয়মিত আনঅফিশিয়াল ফোন বিক্রি হচ্ছে।

    সরকারের দেওয়া সাময়িক শুল্ক-সুবিধা প্রত্যাহার হলে আমদানি পর্যায়ে করের চাপ আবারও বাড়বে। বাজারে তার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়বে খুচরা দামে। ফলে দিন শেষে বাড়তি ব্যয়ের সেই বোঝা টানতে হবে গ্রাহককেই। ইতিমধ্যে বেড়ে যাওয়া দামের সঙ্গে নতুন কর যুক্ত হয়ে একটি স্মার্টফোন কিনতে ক্রেতার খরচ আরও বাড়বে।

    এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুর। তাঁর মতে, স্মার্টফোন এখন আর বিলাসপণ্য নয়; এটি শিক্ষা, আয়-উপার্জন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার প্রধান মাধ্যম। ফলে এর দাম বাড়ার চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদেরই বহন করতে হবে।

    ফাহিম মাশরুর প্রথম আলোকে বলেন, স্মার্টফোনের দাম বাড়ানো মানে ডিজিটাল সেবার প্রবেশাধিকার আরও ব্যয়বহুল করে তোলা। স্মার্টফোনকে ডিজিটাল অবকাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এর ওপর করের চাপ কমানো প্রয়োজন।