চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের এমন চিত্র চোখে পড়ে, যা জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মান ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টির পর চুয়াডাঙ্গা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর আলমডাঙ্গার নান্দাবারে বজ্রপাত ও ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবন পুরোপুরি অন্ধকারে নিমজ্জিত। পুরোনো ভবনে জেনারেটর চালু থাকলেও নতুন ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরে নতুন ভবনে জেনারেটর চালু করা হলেও জরুরি বিভাগের কক্ষে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়নি।
এ অবস্থায় কাটা-ছেঁড়া ও আহত রোগীদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকদের মোবাইল ফোনের টর্চের আলো ব্যবহার করতে দেখা যায়। অন্তত চারজন রোগীকে টর্চের আলোয় সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, একটি জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো স্বাভাবিক দুর্যোগ মোকাবিলায় হাসপাতালের প্রস্তুতি ও জেনারেটর ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার-এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে হাসপাতালের এমন অব্যবস্থাপনা ও জরুরি বিভাগের বিদ্যুৎ সংকট সম্পর্কে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঝড়ের রাতে বিদ্যুৎহীন হাসপাতালে মোবাইলের আলোয় চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতালের জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জেনারেটর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক করা হোক।
