ট্যাগ মেসি

  • দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    দেশের মাটিতে ৩ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, মেসি কি খেলবেন?

    বিশ্বকাপের পর এবার নিজের দেশে খেলবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। ফিফার সেপ্টেম্বর-অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিরতিতে (২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর) তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে কোচ লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

    এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও সব কিছু মোটামুটি নিশ্চিত, জানাচ্ছে ওলে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) মঙ্গলবার দুপুরে সব কিছু জানাবে। তবে একটাই জিনিস বাকি আছে — ফিফা নিশ্চিত করবে কিনা যে এই ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হিসেবে গণ্য হবে কি না। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এতে সম্মতি দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    তিনটি প্রীতি ম্যাচের সূচি ইতিমধ্যে ঠিক হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর কর্ডোবায় বলিভিয়ার বিরুদ্ধে, ৩ অক্টোবর এল মনুমেন্তালে বুরকিনা ফাসোর বিরুদ্ধে এবং ৬ অক্টোবর একই মাঠে বেনিনের বিরুদ্ধে খেলবে আর্জেন্টিনা।

    এএফএ মঙ্গলবার প্রতিপক্ষ, তারিখ ও মাঠের কথা জানাবে। তবে দলের তালিকা একই দিনে ঘোষণা হবে কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। ২২ বা ২৩ সেপ্টেম্বর ইজেইজায় অনুশীলন শুরু হতে পারে। বড় দল ডাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপজয়ী সব খেলোয়াড়ের পাশাপাশি কিছু নতুন মুখও থাকতে পারেন।

    ম্যাচগুলো ‘ক্লাস এ’ হওয়া জরুরি কারণ এতে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মলিনা ও তিয়াগো আলমাদা বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারির ঘটনায় পাওয়া নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কাটাতে পারবেন। এ ছাড়া ‘ক্লাস এ’ হলে ম্যাচগুলো ফিফা র‍্যাঙ্কিং ও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও যোগ হবে।

    এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ। এএফএ চায় তিনি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকুন। সে কথা তাকে জানানোও হয়েছে। কিন্তু স্কালোনি এখনও সিদ্ধান্ত দেননি। বিশ্বকাপের পর ৫০ দিন ধরে এএফএর কৌশল ছিল তাকে একা থাকতে দেওয়া। কেউ ফোন করেননি, কোনো চাপ দেওয়া হয়নি। কোচিং স্টাফের বেশিরভাগ সদস্য চালিয়ে যেতে রাজি বলে জানা গেছে, যা ইতিবাচক লক্ষণ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্কালোনিরই।

    তবে একটি বিষয় পরিষ্কার — কোচিং স্টাফ আর আগের মতো থাকবে না। ওয়াল্টার স্যামুয়েল জানিয়ে দিয়েছেন, ডিসেম্বরে তার চুক্তি শেষ হলে তিনি আর জাতীয় দলে থাকবেন না। কারণ তিনি নিজে কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান। বিশ্বকাপের আগেও ইউরোপের কিছু ক্লাব থেকে তার কাছে প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু চুক্তি ও সহকর্মীদের প্রতি দেওয়া কথার সম্মানে তিনি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

    স্কালোনি যদি থাকেন, তাহলে স্যামুয়েলের শূন্য আসন পূরণ করতে নতুন কাউকে আনতে হবে। স্যামুয়েল দলে বিশেষ ভূমিকা রাখতেন — সেট পিসের কৌশল তৈরির দায়িত্ব ছিল তার। রবার্তো আয়ালা, পাবলো আইমার, গোলকিপার কোচ মার্তিন তোকালি, ভিডিও বিশ্লেষক মাতিয়াস মান্না ও প্রশিক্ষক লুইস মার্তিন — এরা সবাই স্কালোনি থাকলে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এই সব কিছুর মাঝে একটি আবেগের জায়গাও আছে। মেসিকে দেশের মাঠে শেষবার দেখার স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা। মেসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি আর জাতীয় দলে খেলবেন না। কিন্তু একটা বিদায়ী মুহূর্তের জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন। বিশ্বকাপ, ২০২৬ সালের ফাইনাল, দুটো কোপা আমেরিকা — দুই দশকেরও বেশি সময়ের অসাধারণ এক যাত্রার সমাপ্তিতে গোটা বিশ্ব এখন মেসির প্রশংসায় মুখর।

  • রোনালদোকে ছাড়িয়ে মেসির পাশে রাফিনিয়া

    রোনালদোকে ছাড়িয়ে মেসির পাশে রাফিনিয়া

    পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির পাশে স্থান করে নিলেন ব্রাজিলের তারকা রাফিনিয়া।

    শনিবার লা লিগার ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এই ম্যাচে গোল পেয়েছেন রাফিনিয়া। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে ফার্মিন লোপেজের ক্রস থেকে জালে বল জড়ান বার্সেলোনার এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এই গোলের সুবাদে চলতি মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচেই রাফিনিয়ার গোল হলো ৬টি।

    এই গোলের সুবাদে রাফিনিয়া পেছনে ফেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। তিনটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে প্রথম চার ম্যাচ শেষে পাঁচটি করে গোল করেছিলেন রোনালদো। সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন রাফিনিয়া।

    ব্রাজিলিয়ান তারকা নাম লিখিয়েছেন বার্সেলোনারই সাবেক তারকা লিওনেল মেসির পাশে। ক্লাবটির হয়ে দুই মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে ৬টি গোলের কীর্তি আছে মেসির। ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথম চার ম্যাচে ৬টি করে গোল করেছিলেন মেসি।

    রাফিনিয়ার সামনে সুযোগ রয়েছে আরও রেকর্ডে নাম লেখানোর। বার্সার হয়ে টানা ৫ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড আছে দুইজন ফুটবলারের। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে সিজার রদ্রিগেজ (৮ গোল) আর ২০০৯-১০ মৌসুমে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ (৫ গোল) এই কীর্তি গড়েছিলেন।

  • মেসির অনন্য রেকর্ডের দিন মায়ামির হোঁচট

    মেসির অনন্য রেকর্ডের দিন মায়ামির হোঁচট

    আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর পর প্রথমবারের মতো ইন্টার মায়ামির জার্সিতে নামলেন লিওনেল মেসি। নেমেই গড়লেন ইতিহাস। মায়ামির হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করে মেজর লীগ সকারে (এমএলএস) অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ঘরের মাঠে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হলেও গ্যালারির উত্তাপ ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ম্যাচটি রূপ নেয় এক ভিন্ন চিত্রে।

    বাংলাদেশ সময় আজ সকালের এই ম্যাচে বল মাঠে গড়ানোর আগে শুরু হয় তীব্র ঝড় ও বজ্রপাত। ফলে ৯০ মিনিটের এক বাধ্যতামূলক আবহাওয়া বিলম্ব ঘটে। তবে খেলা শুরু হতেই নিজের চিরচেনা ছন্দে জ্বলে ওঠেন মেসি। ৩২ মিনিটে তার নিখুঁত কর্নার কিক থেকে হেডে গোল করেন ব্রাজিলের তারকা কাসেমিরো। এর কিছুক্ষণ পর সাবেক প্রিমিয়ার লীগ তারকা মিগুয়েল আলমিরন গোল করে আটলান্টাকে সমতায় ফেরান। তবে প্রথমার্ধের ঠিক অন্তিম মুহূর্তে লুইস সুয়ারেজের চমৎকার ফিনিশিংয়ে আবারও লিড পায় মায়ামি।

    এই জোড়া অ্যাসিস্টের সুবাদে চলতি মৌসুমে মেসির মোট গোল অবদান ১৮ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট মিলিয়ে পৌঁছে গেল ঠিক ৩০টিতে। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ভিন্ন তিন মৌসুমে ৩০ বা তার বেশি গোল অবদানের রেকর্ড গড়েন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির দেনিস বোয়াঙ্গা কিংবা সিনসিনাটির এভান্ডারের মতো হেভিওয়েট তারকাদের পেছনে ফেলে এই কীর্তি গড়লেন এই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। চলতি বছরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ভুলে যাওয়ার মতো এক বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান এই কিংবদন্তি। তবে ক্লাব ফুটবলে তার জাদুকরি ফর্ম এতটুকুও ম্লান হয়নি।

    মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ম্যাচটি আলোচনায় ছিল গ্যালারির উত্তেজনার কারনেও। কাসেমিরোর গোলের পর আটলান্টা ইউনাইটেডের সমর্থকরা মাঠে মেসির বিরুদ্ধে একটি ব্যঙ্গাত্মক ‘পেসি’ ব্যানার উন্মোচন করেন, যা পুরো স্টেডিয়ামের আবহকে আরও উসকে দেয়। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে বর্তমান এমএলএস চ্যাম্পিয়ন মায়ামি শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে আটলান্টার নতুন খেলোয়াড় ও সুইস স্ট্রাইকার ব্রেয়েল এমবোলো পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান।

    ইনজুরি টাইমে খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা ছড়িয়ে পড়ে। আটলান্টার ম্যাথিউ এডওয়ার্ডস অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় মায়ামিকে। ফলে এমএলএসের শিরোপা ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়লো ফ্লোরিডার ক্লাবটির জন্য। ২৩ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে মেসিরা। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্টের ব্যবধানে চূড়ায় ন্যাশভিল।

  • একই জার্সিতে দেখা যাবে মেসি-রোনালদোকে!

    একই জার্সিতে দেখা যাবে মেসি-রোনালদোকে!

    ফুটবল ইতিহাসের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কি এবার একই দলের হয়ে মাঠে নামবেন? বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মনে এমন প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিএনটি স্পোর্টস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্লোস তেভেজের বিদায়ী ম্যাচে এই অসম্ভবকে সম্ভব করার পরিকল্পনা চলছে।

    আগামী ডিসেম্বরে মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে ‘অ্যাপাচি’ খ্যাত তেভেজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ সংবর্ধনা ম্যাচটি। বোকা জুনিয়র্স ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন তেভেজ। তার ইচ্ছা, এই বিশেষ আয়োজনে দুই ভিনগ্রহের ফুটবলার মেসি ও রোনালদোকে একসঙ্গে একই একাদশে খেলাবেন।

    ক্যারিয়ারজুড়ে বিশ্ব ফুটবলের বহু নামী ক্লাবে খেলেছেন তেভেজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস কিংবা আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে দেখা গেছে তাকে। ইউনাইটেডের হয়ে খেলার সময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গেও ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, তার এই ঐতিহাসিক বিদায়ী ম্যাচে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০ জন সাবেক সতীর্থ অংশ নেবেন।

    ২০২২ সালের জুনে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানানো এই ফরোয়ার্ড কোচিং পেশার সঙ্গেও যুক্ত আছেন। রোসারিও সেন্ট্রাল ও ইন্দেপেন্দিয়েন্তের পর বর্তমানে তায়েরেস কোর্দোবার ডাগআউট সামলাচ্ছেন তিনি। তবে কোচিংয়ের ব্যস্ততা ছাপিয়ে এখন তার সব মনোযোগ ঐতিহাসিক এই বিদায়ী আয়োজন নিয়ে।

    সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বোকা জুনিয়র্সের বিখ্যাত হোমগ্রাউন্ড লা বমবুনেরা স্টেডিয়ামে আগামী ডিসেম্বরের ১২-১৩ কিংবা ১৮-১৯ তারিখে এই প্রদর্শনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে আর্জেন্টাইন লীগের সূচির সঙ্গে যাতে ম্যাচটির তারিখের সংঘাত না ঘটে, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

  • মেসিকে মিস করবেন মরিনিও

    মেসিকে মিস করবেন মরিনিও

    বল নিয়ে কাড়াকাড়ি তাঁরা করেননি। একজন ছিলেন মাঠে, অন্যজন ডাগআউটে। তবু একসময় এল ক্লাসিকোতে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ফুটবল–বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত লড়াইগুলোর একটি। একজনের পায়ের নৈপুণ্য আর অন্যজনের মাথার ট্যাকটিকসের লড়াই অনেকের কাছেই ছিল উপভোগ্য।

    এরপর অবশ্য এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মেসি। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মরিনিও বলেছেন, মেসির মতো খেলোয়াড়কে তিনি সব সময়ই মিস করবেন।

    আগামীকাল লা লিগায় রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে খেলবে রিয়াল মাদ্রিদ। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেসির জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মরিনিও বলেন, ‘মেসিকে নিয়ে কথা বলা কঠিন। তার খেলোয়াড়ি মান নিয়ে বলার মতো খুব বেশি কিছু নেই। এমনকি এই যে বিশ্বকাপ, সেখানে ৩৮ বা ৩৯ বছর বয়সেও সে আমাদের দেখিয়েছে, সে কী করতে পারে।’

    ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো মেসি এবারও দলকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এরপরই ঘোষণা দেন—জাতীয় দলের হয়ে তাঁর পথচলা শেষ। মেসির বিদায় যে ফুটবলের একটি যুগেরও অবসান, মরিনিওর কথায় সেটিই ফুটে উঠেছে, ‘কখনো কখনো এমন খেলোয়াড় থাকে, যাদের আপনি মিস করবেন। তার শেষ কয়েক বছর বা মৌসুমগুলোকে উপভোগ করতে আমাদের হয়তো কিছু এমএলএস ম্যাচ দেখতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা এমএলএস দেখতে পছন্দ করি না, কিন্তু তাকে দেখতে হলে দেখতে হবে। কারণ, সে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আপনি সব সময়ই মিস করবেন।’

    যখন মেসি ছিলেন বার্সেলোনায়, মরিনিও রিয়ালে

    যখন মেসি ছিলেন বার্সেলোনায়, মরিনিও রিয়ালেছবি: এক্স

    মরিনিও ও মেসি কখনো সরাসরি একই দলের হয়ে কাজ করেননি বা খেলেননি। মেসি বার্সেলোনায় থাকার সময় ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ছিলেন মরিনিও। সেই সময়ের এল ক্লাসিকো উত্তাপ ও বিতর্ক মিলিয়ে উত্তেজনাময় ছিল। কোচ হিসেবে মরিনিওকে বারবারই মোকাবিলা করতে হয়েছে মেসির বার্সেলোনাকে।

    তবে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেসির প্রতি মরিনিওর শ্রদ্ধা কমাতে পারেনি। পর্তুগিজ কোচ বলেছেন, ‘গত দুই দশকে আমাদের প্রজন্মের জন্য সে কী প্রতিনিধিত্ব করে, সেটা আমরা সবাই জানি।’

  • মেসির অবসরে ভেস্তে গেল আর্জেন্টিনার এশিয়া সফর

    মেসির অবসরে ভেস্তে গেল আর্জেন্টিনার এশিয়া সফর

    লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের পর বদলে গেছে আর্জেন্টিনার পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচির পরিকল্পনা। তারকা ফরোয়ার্ডকে ঘিরে এশিয়া সফরের যে পরিকল্পনা করেছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), সেটি এখন বাতিল হওয়ার পথে।

    এশিয়া সফর বাতিল করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে দেশের মাটিতে তিনটি ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা।

    ইএসপিএন আর্জেন্টিনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তিন ম্যাচের একটি ঘরোয়া সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে এএফএ। প্রথম ম্যাচটি বুয়েনস এইরেসের এল মনুমেন্টালে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দল অথবা কনক্যাকাফ অঞ্চলের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি দুটি ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে এগিয়ে আছে কর্দোবা ও রোজারিও।

    এর আগে এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে এশিয়া সফরের পরিকল্পনা ছিল আর্জেন্টিনার। চীনের বিপক্ষে একটি ম্যাচও প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মেসি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে।

    ইএসপিএনের সাংবাদিক দিয়েগো মনরোইগ জানিয়েছেন, পুরো আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনার দেশের মাটিতে খেলার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। স্পোর্টসসেন্টারের সকালের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘দলটির ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে পুরো সময়টা ঘরের মাঠে কাটানোর।’

    মেসিকে ছাড়া নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজানোর ক্ষেত্রে ঘরের মাঠের এই তিন ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য। জুলাইয়ে স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে ১-০ গোলে হারের পর দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ এখন এই কোচের সামনে।

    এর পর ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর আরেকটি ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডো রয়েছে। ফলে ২০২৭ সালের ব্যস্ত সূচি শুরুর আগে মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার নতুন দলকে প্রস্তুত করার জন্য আগামী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো স্কালোনির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ।

  • আর্জেন্টিনায় না ফিরে মেসিকে কেন যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যেতে বললেন রিকেলমে

    আর্জেন্টিনায় না ফিরে মেসিকে কেন যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যেতে বললেন রিকেলমে

    একটা সময় আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির গল্পটা ছিল শুধুই আক্ষেপের। বারবার ফাইনালে উঠে হেরে যাওয়া, আর্জেন্টিনাকে ট্রফি দিতে না পারার আক্ষেপই ছিল বেশি। সেই মেসিই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপসহ পূরণ করেছেন নিজের এবং আর্জেন্টাইনদের সব স্বপ্ন।

    সব ট্রফি জেতা মেসি সম্প্রতি আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিদায় বলেছেন। এখন মেসিকে তাঁর মতো করে ফুটবল উপভোগ করতে দেওয়ার পক্ষে আর্জেন্টিনার সাবেক ফুটবলার হোয়ান রোমান রিকেলমে। সে কারণে মেসির এই সাবেক জাতীয় দল সতীর্থ চান, মেসি আর্জেন্টিনায় না ফিরে যুক্তরাষ্ট্রেই থাকুক।

    আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসির প্রশংসা করে রিকেলমে বলেছেন, আর্জেন্টাইনদের উচিত এখন তাকে আরও বেশি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানানো।

    রিকেলমের ভাষায়, ‘আমাদের উচিত মেসিকে আরও বেশি ধন্যবাদ জানানো। ও যা করেছে, এরপর আমরা মেসির কাছে আর কী চাইতে পারি? মেসি নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছে, আমাদের স্বপ্নও পূরণ করেছে। মেসি সর্বকালের সেরা কি না জানি না, তবে সেরাদের একজন। কোনো ফুটবলার এত বছর ধরে সেরা পর্যায়ে থাকতে পারেনি। এটা অবিশ্বাস্য।’

    মেসির দীর্ঘ সংগ্রামের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন রিকেলমে। শুরুতে জাতীয় দলের হয়ে সাফল্য না পেলেও মেসি কীভাবে লড়াই করে গেছেন, সেটিও তুলে ধরেন তিনি, ‘আর্জেন্টাইনরা মেসিকে যে ভালোবাসা দিচ্ছে, সবটুকুই ওর প্রাপ্য। কারণ, মেসি নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছে। অনেক কষ্ট করেছে। শুরুতে জিততে পারেনি, অনেক সংগ্রাম করেছে। শেষ পর্যন্ত মেসি সবকিছু অর্জন করেছেন। ঈশ্বর মেসির প্রতি ন্যায়বিচার করেছে, এটা সত্যিই দারুণ। এখন আমাদের উচিত মেসিকে ভালোবাসা। আর্জেন্টিনার ফুটবল ও পুরো ফুটবলের জন্য মেসি যা করেছে, তার জন্য মেসিকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। পুরো বিশ্ব মেসিকে ভালোবাসে আর ও সেই ভালোবাসার যোগ্য।’

    মেসির সঙ্গে রিকেলমের সম্পর্কও বেশ পুরোনো। জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলেছেন। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার হয়ে জিতেছেন সোনার পদক। সেই সম্পর্ক এখনো অটুট। ২০২৩ সালে রিকেলমের বিদায়ী ম্যাচেও উপস্থিত ছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি মেসির আগে পরেছেন রিকেলমে। এখন বোকা জুনিয়র্সে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক এ মিডফিল্ডার।

    লিওনেল মেসি ও হুয়ান রোমান রিকেলমে

    লিওনেল মেসি ও হুয়ান রোমান রিকেলমে ইনস্টাগ্রাম

    মেসির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রিকেলমে বলেন, ‘আমি সব সময় মেসির সঙ্গে কথা বলি। আমাদের সম্পর্কটা দারুণ। মেসি আমাকে খুব ভালোবাসে, আমিও ওকে খুব ভালোবাসি। আমি ওর সঙ্গে আরও অনেক বেশি খেলতে চেয়েছিলাম। তবে যতটুকু খেলতে পেরেছি, এটাই আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। আমাদের মধ্যে যে ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মান আছে, সেটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।’

    মেসির মতো খেলোয়াড় আবার আসবেন কি না, সেটি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন রিকেলমে। তবে আর্জেন্টাইনরা তাঁর মতো কাউকে পেয়েছিল বলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন রিকেলমে।

    শুনুন তাঁর মুখেই, ‘আমরা আর কখনো মেসির মতো খেলোয়াড় পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করব কি না, জানি না। ম্যারাডোনা মারা যাওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম, এমন কেউ আর আসবে না। এরপর এমন একজন এল, যিনি তাঁর মতোই ভালো, কিংবা আরও ভালো। আমরা আর্জেন্টাইনরা খুবই ভাগ্যবান।’

    মেসিকে এখন নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করতে দিতে চান রিকেলমে। আর্জেন্টিনার জার্সি তুলে রাখলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন মেসি।

    এর আগে জানা গিয়েছিল, ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে আর্জেন্টিনায় নিজের শৈশবের ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজে মেসির ফেরার ইচ্ছা আছে।

    লিওনেল মেসি এখন ইন্টার মায়ামির হয়ে

    লিওনেল মেসি এখন ইন্টার মায়ামির হয়ে এএফপি

    কিন্তু রিকেলমে মনে করেন, আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে ফেরার চেয়ে মেসি যুক্তরাষ্ট্রে থাকাই ভালো, ‘এখন মেসিকে যুক্তরাষ্ট্রে যত দিন ইচ্ছা ফুটবল উপভোগ করতে দেওয়া উচিত। আমরা আর্জেন্টাইনরা মেসিকে সব সময় অনেক ভালোবাসা ও স্নেহ দেব। আমাদের উচিত মেসিকে একা ছেড়ে দেওয়া। যত দিন মেসি খেলতে চায়, তাকে খেলতে দেওয়া উচিত। ওর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকাই ভালো। আর আমরা আর্জেন্টিনার সব ফুটবলপ্রেমী মেসিকে সমর্থন করে যাব।’

  • মেসির ইনস্টাগ্রামে ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কের অবসান!

    মেসির ইনস্টাগ্রামে ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কের অবসান!

    সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? পেলে, ম্যারাডোনা, মেসি না রোনালদো? এ নিয়ে তর্ক যেন শেষ হওয়ার নয়। নিজে অবশ্য কখনোই নিজেকে সর্বকালের সেরা বলেননি মেসি। তবে অবসরের ঠিক পরপরই নিজের ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে দেখা গেছে, বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে মেসিকেই বলা হয়েছে ‘সর্বকালের সেরা’।

    গত ৩১ আগস্ট আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলেছেন মেসি। মেসির ইনস্টাগ্রামে এই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে গতকাল। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘২০ বছরের বেশি সময়। ছয়টি ফিফা বিশ্বকাপ ও অগণিত স্মৃতি। আমার পথচলার প্রতিটি ধাপে পাশে থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

    ইনস্টাগ্রামের এই ভিডিও পোস্টে অবশ্য ট্যাগ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিয়ার কোম্পানি মাইকেলব আল্ট্রাকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির সব অর্জন দেখানো হয়েছে এক রেস্তোরাঁর রসিদে। সেই রসিদের শেষ লাইনে সর্বকালের সেরা নিয়ে বিতর্কের অবসানও টানা হয়েছে।

    ভিডিওতে দেখা যায়, রসিদে একের পর এক লাইনে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সব অর্জন। তবে এটি কিন্তু একটি নতুন ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইনের অংশ।

    রসিদে উঠে এসেছে মেসির প্রভাবের কথাও। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলে তিনি যে কোটি কোটি ভক্তকে অনুপ্রাণিত করেছেন, সেটিও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের কতটা যন্ত্রণা দিয়েছেন, সেটাও বাদ যায়নি। আর সবশেষে লেখা হয়েছে—‘গোট ডিবেট সেটেলড।’

  • মেসির সম্মানে ১০ মিনিটে থামবে খেলা, চলবে এক মিনিটের করতালি

    মেসির সম্মানে ১০ মিনিটে থামবে খেলা, চলবে এক মিনিটের করতালি

    মাঠ থেকে নয়, লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে আর না খেলার কথা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর দুই দশকের বর্ণিল পথচলাকে মাঠেই বিশেষভাবে সম্মান জানাতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    চলতি সপ্তাহান্তে আর্জেন্টিনার সব ঘরোয়া ম্যাচের দশম মিনিটে খেলা থামবে। দেওয়া হবে এক মিনিটের করতালি। মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণার পর তাঁকে সম্মান জানাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আর্জেন্টিনা দলে ১০ নম্বর জার্সি পরেছেন মেসি। সে জন্যই খেলা থামানো হবে দশম মিনিটে। পুরুষ ও নারীদের সব ধরনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হবে। গত বুধবার এএফএ এক বিবৃতিতে খবরটি জানায়।

    শুধু করতালিতেই শেষ হচ্ছে না মেসির জন্য আয়োজন। যেসব স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিন রয়েছে, সেসব মাঠে ম্যাচ শুরুর আগে মেসিকে নিয়ে একটি বিশেষ ভিডিও প্রদর্শন করা হবে। মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এএফএর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল।

    গত সোমবার ইনস্টাগ্রামে স্প্যানিশ ভাষায় হাতে লেখা তিনটি কাগজের ছবি পোস্ট করে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। সেখানে তিনি নিশ্চিত করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর শেষ ম্যাচ। ৩৯ বছর বয়সে জাতীয় দল অধ্যায়ের ইতি টানলেন কিংবদন্তি।

    মেসি লিখেছেন, ‘আমি আমার সবটুকু দিয়েছি; দেওয়ার মতো আর কিছুই বাকি নেই।’ সিদ্ধান্তটি তাঁকে কষ্ট দিয়েছে এবং এখনো ভেতর থেকে কষ্ট দেয় বলেও জানান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে সময়টা এসে গেছে—এমন উপলব্ধি থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেসি।

    ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার মূল দলে অভিষেক মেসির। এরপর জাতীয় দলের হয়ে করেছেন ১২৫ গোল, যা দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ। খেলেছেন রেকর্ড ছয়টি বিশ্বকাপ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেন মেসি। সেটি ছিল ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ এবং দেশটির ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়।

    বিশ্বকাপেও একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন মেসি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৩৪ ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর। সবচেয়ে বেশি ২৩টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও তাঁর দখলে।

    আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ অধ্যায় তাই শুধু একটি অবসরের গল্প নয়। দুই দশকের বেশি সময়ের এক বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি। আর সেই ক্যারিয়ারকেই এবার দেশের প্রতিটি ঘরোয়া প্রতিযোগিতার মাঠে এক মিনিটের করতালিতে সম্মান জানাবে এএফএ।

  • কেন আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানালেন মেসি

    কেন আর্জেন্টিনাকে বিদায় জানালেন মেসি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জাতীয় দল তো একদিন ছাড়তেই হতো। বয়সও হয়ে গিয়েছিল ৩৯ বছর। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সম্ভাব্য সবকিছুই জেতা হয়েছে। তবু কারও কারও কাছে গতকাল রাতে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দল থেকে অবসরের ঘোষণা এসেছে চমক হয়ে। কারণ, এ সিদ্ধান্ত মেসি প্রকাশের আগপর্যন্ত ব্যাপারটা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে আজই (গতকাল) সেই দিন!

    তাই জল্পনা–কল্পনা এখনো থামেনি। মেসি কেন এখন অবসর ঘোষণা করলেন, উঠছে সে প্রশ্নও। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, গত ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালের ৪৩ দিন আগে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মেসি। এ তথ্যের সঙ্গে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে নেওয়া যায়।

    মেসি তাঁর অবসরবার্তার শেষ অংশে লিখেছেন, ‘এই (অবসরবার্তা) কথাগুলো আমি ২১ জুলাই লিখেছিলাম, ফাইনালের দুই দিন পর। আমার বাবার ঘটনার পর আজ (গতকাল) আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’

    বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৯ দিন। অর্থাৎ বিশ্বকাপের আগেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন মেসি। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১–০ গোলে হারের পর সেই সিদ্ধান্ত আরেকটু পাকা হয়। এরপর গত ৮ আগস্ট বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

    মেসি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছিলেন। বাবাকে হারানোর পর স্বীকার করেছিলেন, তাঁর শরীর আর আগের মতো সায় দিচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সতীর্থদেরও ইঙ্গিত ছিল যে মেসির অবসরের দিন ঘনিয়ে আসছে। গত ২৫ আগস্ট যেমন তাঁর জাতীয় দল সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস বুঝিয়ে দেন, জাতীয় দলে শেষ ম্যাচটা খেলে ফেলেছেন মেসি। আর সেই ম্যাচটি হলো বিশ্বকাপের ফাইনাল। পারেদেসের ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, সে ঠিক করেই রেখেছিল যে এটিই জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ।’

    পারেদসের সেই কথা এবং মেসির অবসরবার্তার কয়েকটি কথা মেলালে ব্যাপারটা কিছুটা পরিষ্কার হয়। অবসরবার্তায় মেসি বলেছেন, ‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই। তা ছাড়া পেছনে অনেক দুর্দান্ত তরুণ খেলোয়াড় আসছে, যাদের (জাতীয় দলে) থাকাটা প্রাপ্য।’

    বিশ্বকাপ ফাইনালটা স্মরণ করা যায়। স্পেনের বিপক্ষে রীতিমতো পর্যুদস্ত হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেটাও মেসি মাঠে থাকতে—যেটা তাঁর ক্যারিয়ারেই বিরল ঘটনা।

    ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে সেই বিরল তেতো স্বাদ পাওয়ার মুহূর্তে কি মেসির মনে হয়েছে, তাঁর আর কিছু দেওয়ার নেই? পাশাপাশি নিকো পাজ–থিয়াগো আলমাদার মতো তরুণেরাও উঠে এসেছেন। সে জন্যই কি মেসির মনে হয়েছে, সময়টা এখনই? প্রশ্নটি তোলা যায়, কারণ সেই ফাইনালকে জাতীয় দলে নিজের শেষ ম্যাচ বানিয়ে অবসরবার্তায় মেসি বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি যে এটাই সঠিক সময়।’

    বিশ্বকাপের পর ফিফার প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। তার আগে অবসরের ঘোষণা দিলেন মেসি। অর্থাৎ চার বছরের নতুন একটি বিশ্বকাপ চক্র শুরুর আগের এ সময়কে আকাশি–সাদা জার্সি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সঠিক সময় বলে মনে হয়েছে কিংবদন্তির। এই বিরতিতে প্রতিটি জাতীয় দল এক থেকে চারটি ম্যাচ খেলতে পারবে। লা নাসিওন জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) বুয়েনস এইরেসে বিশ্বকাপ রানার্সআপ আর্জেন্টিনা দল এবং মেসিকে সম্মান জানাতে জমকালো বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে। সুতরাং জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁকে অন্তত আরও একবার মাঠে দেখার সম্ভাবনা আছে।লা নাসিওন আরও জানিয়েছে, ২৩ দিন আগে বাবার মৃত্যু মেসির এ সিদ্ধান্তে প্রভাব রেখেছে। সে সময় মেসি বলেছিলেন, ‘আমি আর কত দিন ফুটবল চালিয়ে যাব, এখন তা নিয়ে আমার সংশয় আছে।’ আরও একটি কারণ অনুমান করা যায়। জাতীয় দলে যে প্রজন্মের সঙ্গে তিনি বছরের পর বছর কাটিয়েছেন, সেই দলটি ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ সামনে রেখে আর্জেন্টিনা এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলটির বেশ কয়েকজন সতীর্থের ক্যারিয়ারের চক্র শেষের পথে, দল পুনর্গঠন করতে হবে। এমনকি আগামী ডিসেম্বরের পর কোচ লিওনেল স্কালোনির থাকা নিয়েও সংশয় আছে।পাশাপাশি সহ-আয়োজক হিসেবে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ দীর্ঘ বাছাইপর্ব খেলতে হবে না। সে হিসাবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের পরবর্তী বড় টুর্নামেন্ট ২০২৮ কোপা আমেরিকা। ৩৯ বছর বয়সী মেসি সম্ভবত মাঝের এই দুই বছরে নিজের বয়স আরও ভারী করে সে পর্যন্ত আর অপেক্ষা করতে চাননি।

    এএফএর অনেকেই আশা করেছিলেন, মেসি জাতীয় দলে আরও কিছুদিন খেলবেন। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ স্মৃতিটি কোনো হেরে যাওয়া ফাইনাল যেন না হয়, সেটা ছিল এই আশার পেছনের কারণ। অন্তত কোপা আমেরিকা পর্যন্ত খেলবেন, এই আশাও করেছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু মেসিকে জানা থাকলে একটি বিষয় ভেবে নেওয়াই যায়। জাতীয় দলে সব সময় নিজের সেরাটা দিতে পারেন—এই বিশ্বাস সব সময়ই ছিল মেসির। দুই বছর পর কোপায় সেটা দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কি সন্দেহে ভুগেছেন? মেসির অবসরবার্তাতেই সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অবসরবার্তাতেই বলে দিয়েছেন, ‘নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দিয়েছি।’

    অর্থাৎ আর দেওয়ার কিছু নেই? সেটা মেসি বুঝেছেন বলেই কি সরে দাঁড়ালেন!