মেটা

  • ক্যামেরাবিহীন এআই চশমা আনছে মেটা

    ক্যামেরাবিহীন এআই চশমা আনছে মেটা

    বিশ্বজুড়ে গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং নারীদের অজান্তে তাদের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত একাধিক নতুন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি উন্মোচন করেছে মেটা। এর মধ্যে রয়েছে ক্যামেরাবিহীন, শুধু অডিও সুবিধা সংবলিত এক জোড়া স্মার্ট চশমা।

    মেনলো পার্কে মেটার সদর দপ্তরে আয়োজিত বার্ষিক ‘কানেক্ট’ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ চশমার এই নতুন লাইনআপের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি তাদের নতুন পার্সোনাল এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘মিউজ’-এর সুবিধাও তুলে ধরেন।

    ডেভেলপার ও শীর্ষ নির্বাহীদের উদ্দেশে জাকারবার্গ বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ চশমা ব্যবহার করেন। আমরা মনে করি যে আগামী বছরগুলোতে তাদের বড় একটি অংশ এআই চশমায় উন্নীত হবে।’

    স্মার্ট চশমা ও অন্যান্য ডিভাইসে থাকা ক্ষুদ্র ক্যামেরার মাধ্যমে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই অডিও-ভিত্তিক চশমা বাজারে আনছে মেটা। সমালোচকেরা এই ধরনের গোপন ক্যামেরা সম্বলিত চশমাকে ‘বিকৃত চশমা’ নামে অভিহিত করেছেন।

    সাধারণ স্মার্ট চশমার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ড করা, গান শোনা, ফোন কল করা, ভাষা অনুবাদ বা এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের সাথে মিথস্ক্রিয়া করার সুযোগ পান।

    ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা রয়েছেÑএমন আরো ডজন খানেক নতুন স্মার্ট চশমা মডেলের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে বাজারে থাকবে এই ক্যামেরাবিহীন অডিও সংস্করণটি।

    বুধবার এএফপি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেটার এআই প্রোডাক্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশাল শাহ বলেন, রেকর্ডিং নির্দেশক ইন্ডিকেটর লাইটের মতো প্রাইভেসির ফিচার যুক্ত করা ‘সত্যিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেয়েছিলাম মানুষ যেন স্পষ্ট বুঝতে পারে যে ডিভাইসটি দিয়ে কিছু রেকর্ড করা হচ্ছে। তাই সময়ের সাথে সাথে আমরা এই ইন্ডিকেটর লাইটটি আরো দৃশ্যমান করেছি।

    তিনি আরো বলেন, ‘চশমাটি প্রথম উন্মোচনের সময় আমরা বিষয়টি নিয়ে অনেক কথা বলেছিলাম। তবে সম্প্রতি আমাদের মনে হচ্ছে এই বিষয়টি নিয়ে আরো বেশি প্রচার করা প্রয়োজন। কারণ, প্রাইভেসির এই বিষয়গুলো কিন্তু এতটুকুও পরিবর্তন হয়নি।

    মেটা ২০২১ সালে তাদের প্রথম স্মার্ট চশমা বাজারে আনে এবং সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তিটি আরো উন্নত হয়েছে।

    গত বছর কোম্পানিটি ‘ডিসপ্লে’ চশমা উন্মোচন করে, যা চশমার লেন্সে ছবি ও তথ্য ফুটিয়ে তুলতে পারে।

    চলতি বছরের শুরুর দিকে চশমা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসিলোর-লাক্সোটিকা’র সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে উৎপাদিত রে-ব্যান ও ওকলি মেটা মডেলগুলোর বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব ‘মেটা’ ব্র্যান্ডের এআই চশমা উন্মোচন করে কোম্পানিটি।

    এছাড়া তাদের মূলধারার মেটা রে-ব্যান চশমারও বেশ কিছু নতুন স্টাইল চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। এর ডিসপ্লে সংস্করণটির প্রাথমিক মূল্য রাখা হয়েছে ৭৯৯ ডলার এবং যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি ও কানাডাসহ নতুন নতুন বাজারে এটি শিগগিরই পাওয়া যাবে।

    কোম্পানিটি খুব শিগগিরই তাদের পূর্বের ‘কোয়েস্ট ভিআর’ হেডসেটের চেয়ে অনেকটাই হালকা ও উন্নত ‘মিক্সড রিয়েলিটি’ চশমা বাজারে আনবে।

    ‘মেটা ভিআর গ্লাসেস’ নামের এই ডিভাইসটিতে তারযুক্ত একটি এক্সটার্নাল ব্যাটারি ও মেমোরি প্যাক ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে মূল হেডসেটটি অনেক হালকা রাখা সম্ভব হয়েছে।

    জাকারবার্গ জানান, এই চশমাটির ওজন একটি তাসের প্যাকেটের মতোই হালকা। এটিতে বাইরের কোনো দৃশ্যমান সুইচ বা বোতাম নেই; এটি কেবল হাতের অঙ্গভঙ্গি (হ্যান্ড জেসচার) এবং ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

    ভিআর চশমাটি ২০২৭ সালে ১ হাজার ২৯৯ ডলার মূল্যে বাজারে পাওয়া যাবে।

  • ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ, মেটার নতুন চমক

    ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ, মেটার নতুন চমক

    স্মার্টফোনে যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে বড় পরিবর্তন আনছে মেটা। নতুন সুবিধা চালু হলে অন্য ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর শেয়ার করতে হবে না। এর পরিবর্তে অনন্য ‘ইউজার নেম’ ব্যবহার করে যোগাযোগ করা যাবে।

    বিশ্বজুড়ে ৩০০ কোটির বেশি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। এতদিন অ্যাপটিতে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে মোবাইল নম্বর আদান-প্রদান করতে হতো। বিশেষ করে গ্রুপ চ্যাট বা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এতে ব্যক্তিগত নম্বর প্রকাশের ঝুঁকি থাকত।

    এই সমস্যা কমাতে চলতি বছর থেকেই ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে ইউজার নেম সুবিধা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। ইতোমধ্যে কিছু ব্যবহারকারীর জন্য ইউজার নেম বুকিং বা সংরক্ষণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। নতুন সুবিধা পুরোপুরি চালু হলে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হলেও সেটি অন্য ব্যবহারকারীদের কাছে দৃশ্যমান থাকবে না। নতুন কারও সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে শুধু ইউজার নেম শেয়ার করলেই হবে।

    হোয়াটসঅ্যাপের প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার কথা মাথায় রেখেই এই ফিচার তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত হওয়ার সময় ব্যক্তিগত নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি কাজে আসবে। ব্যবহারকারীরা চাইলে পরে নিজেদের ইউজার নেম পরিবর্তন বা মুছেও ফেলতে পারবেন।

    ইউজার নেম তৈরির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রাখা হয়েছে। নামটি কমপক্ষে তিন এবং সর্বোচ্চ ৩৫ অক্ষরের হতে হবে। এতে ইংরেজি ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা, ফুলস্টপ ও আন্ডারস্কোর ব্যবহার করা যাবে। তবে ‘www.’ দিয়ে ইউজার নেম শুরু করা যাবে না এবং নামের শেষে কোনো ডোমেইন যুক্ত করা যাবে না। শুধু সংখ্যা বা প্রতীক দিয়ে ইউজার নেম তৈরি করা যাবে না; অন্তত একটি ইংরেজি অক্ষর থাকতে হবে।

    পরিচিত ব্যক্তি, তারকা বা সরকারি কর্মকর্তাদের নামে বিভ্রান্তি ও প্রতারণা ঠেকাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইউজার নেম আগেই সংরক্ষণ করে রাখছে হোয়াটসঅ্যাপ। ফলে অন্য ব্যবহারকারীরা এসব নামে ইউজার নেম নিতে পারবেন না। নতুন ফিচারটি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কনটেন্ট নির্মাতা ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে ব্যবহৃত একই ইউজার নেম হোয়াটসঅ্যাপেও নিতে চাইলে অ্যাকাউন্টস সেন্টারের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট যুক্ত করে মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। তবে ইউজার নেমটি ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে অন্য কেউ আগে ব্যবহার করলে সেটি হোয়াটসঅ্যাপে খালি থাকলেও দাবি করা যাবে না।

    ফিচারটি বর্তমানে পর্যায়ক্রমে চালু করা হচ্ছে। নিজের অ্যাকাউন্টে সুবিধাটি এসেছে কি না, তা হোয়াটসঅ্যাপের প্রোফাইল সেটিংসে গিয়ে দেখা যাবে। চালু হলে সেখানে ইউজার নেম বেছে নেওয়ার অপশন পাওয়া যাবে। ইউজার নেম বুকিংয়ের প্রক্রিয়াটি শুধু মোবাইল অ্যাপ থেকেই করা যাবে। তবে নতুন ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রাইভেসি নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনে সুরক্ষিত থাকলেও সাইবার বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মেটাডেটা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, ইউজার নেম ব্যক্তিগত নম্বর আড়াল করলেও গোপনীয়তার সব ঝুঁকি দূর করবে না।

    এ ছাড়া নতুন ব্যবস্থায় প্রতারণার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। অপব্যবহার ঠেকাতে একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। এর মধ্যে ‘ইউজার নেম কি’ নামে একটি বিশেষ সংক্ষিপ্ত কোড ব্যবস্থাও রয়েছে। এটি সক্রিয় থাকলে নির্দিষ্ট ইউজার নেম ও ওই কোড না জানা পর্যন্ত অপরিচিত কেউ প্রথমবার মেসেজ পাঠাতে পারবে না। পাশাপাশি আগের মতোই অবাঞ্ছিত ব্যবহারকারীকে ব্লক ও রিপোর্ট করার সুবিধা থাকবে।

  • ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

    বাংলাদেশে ফেসবুকের বিপুল ব্যবহারকারী ও অনলাইন ব্যবসার সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় নিয়ে রাজধানী ঢাকায় কার্যালয় স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একই সঙ্গে দেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শামা ওবায়েদ বলেন, মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সময়সূচির কারণে তিনি এতে অংশ নিতে পারেননি। তবে বাংলাদেশের পক্ষে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

    ঢাকায় মেটার কার্যালয় স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অফিস খোলার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত আগ্রহী। ঢাকাকে তাদের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

    বাংলাদেশে ফেসবুকের বড় ব্যবহারকারীভিত্তিও মেটার এ আগ্রহের অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন ডিজিটাল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশে ফেসবুকের আনুমানিক ব্যবহারকারী ছিল ৭ কোটি ৫১ লাখের বেশি। তবে এসব তথ্য মেটার বিজ্ঞাপনভিত্তিক পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া; এগুলোকে প্রকৃত সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।বৈঠকে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ ডিজিটাল খাতের বিভিন্ন নীতিগত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ই-কমার্স, অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্য ও ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণে মেটার সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।

    বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সম্প্রতি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য পেমেন্ট সুবিধাও চালু করেছে মেটা। এর ফলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বিকাশের মতো স্থানীয় পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন। এতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়ছে। এ ছাড়া মেটা ও লাইটক্যাসল পার্টনার্স সম্প্রতি ঢাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে একটি আয়োজন করে। এতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে ডিজিটাল বিপণন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবসায়িক সরঞ্জাম ব্যবহারে প্রশিক্ষণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

    মেটার ‘স্মল বিজনেস গ্রোথ একাডেমি’র আওতায় বাংলাদেশে এক হাজারের বেশি ছোট ও মাঝারি ব্যবসাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে।

    শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং দ্রুত সম্প্রসারিত অনলাইন ব্যবসার বাজারকে কাজে লাগিয়ে মেটার সঙ্গে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল বাণিজ্য, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, অনলাইন নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানে এ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • নতুন সাবস্ক্রিপশন সক্রিয় করল মেটা

    নতুন সাবস্ক্রিপশন সক্রিয় করল মেটা

    প্রযুক্তি ডেস্ক:

    নতুন সাবস্ক্রিপশন পরিষেবা মেটা ওয়ান ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। কনটেন্ট ক্রিয়েটর, সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই পরিষেবায় ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ
    ও মেটা এআইর বেশ কয়েকটি বাড়তি ফিচার পাওয়া যাবে। সংস্থাটি বলছে, মূল অ্যাপ ও মেটা এআইর সাধারণ পরিষেবা আগের মতোই বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। কিন্তু সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে মিলবে বিশেষ ফিচার, বেশি এআই ব্যবহার করার সুবিধা ও মানোন্নত ক্রিয়েটিভ টুল।

    তিন সংস্করণে নতুনত্ব
    মেটা ওয়ানের আওতায় এখন ৫০টির বেশি ফিচার সক্রিয় রয়েছে। ভবিষ্যতে এডিটস অ্যাপ ও এআই স্মার্টগ্লাসে এই পরিষেবা সক্রিয় করা হবে। সাধারণ গ্রাহকের জন্য রয়েছে ইনস্টাগ্রাম প্লাস, ফেসবুক প্লাস ও হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস।সাবস্ক্রিপশনে ব্যয় কেমন
    অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, এতে কেমন খরচ হবে? জানা গেছে, ইনস্টাগ্রাম প্লাসে মাসে ব্যয় হবে ৩.৯৯ ডলার, ফেসবুক প্লাস সংস্করণে ব্যয় হবে ৩.৯৯ ডলার। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস নিতে ব্যয় হবে ২.৯৯ ডলার। এসব প্ল্যানে কাস্টম ফন্ট, বিশেষ থিম, অতিরিক্ত চ্যাট পিন, কাস্টম অ্যাপ আইকন ও নানা কাস্টমাইজ পরিষেবা পাওয়া যাবে।
    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে কোর ও প্রিমিয়াম সংস্করণের ফিচার।
    প্রিমিয়াম প্ল্যান
    এতে মেটা এআই দিয়ে অনেক বেশি ছবি ও ভিডিও তৈরি, ইনস্টাগ্রামে বেশি রিস্টাইল
    ও ভয়েস ইফেক্টস ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। প্রিমিয়াম প্ল্যানের জন্য মাসে গুনতে হবে ১৯.৯৯ ডলার। এতে মিলবে এআইর বাড়তি সুবিধা।
    ক্রিয়েটর ও ব্যবসায়ীদের জন্য রয়েছে এসেনসিয়াল, অ্যাডভান্সড, এক্সপার্ট ও ম্যাক্স প্ল্যান। এসেনসিয়াল সংস্করণ পেতে গুনতে হবে ১৪.৯৯ ডলার। এই সংস্করণে ভেরিফায়েড ব্যাজ, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস সংস্করণে ভেরিফায়েড চ্যানেল ও মেটা বিজনেস এজেন্ট ব্যবহারের
    সুবিধা থাকবে। অ্যাডভান্সড প্ল্যানের শুরুটা ৪৯.৯৯ ডলার থেকে। এতে আগাম পোস্ট শিডিউলিং, অর্গানিক পোস্টে লিঙ্ক ও টিম অ্যাকসেসের মতো বহুমাত্রিক সুবিধা পাওয়া যাবে। এসব প্ল্যান বড় টিম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।