মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

  • মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শুরু বাংলাদেশের, রপ্তানিতে বড় ব্যবধান

    মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শুরু বাংলাদেশের, রপ্তানিতে বড় ব্যবধান

    বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ঢাকায় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি শেষ করার লক্ষ্য দুই দেশের। বারনামার প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রতি এক ডলারের পণ্য কেনার বিপরীতে দেশটি বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ ডলারের পণ্য বিক্রি করেছে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ইয়ার্ড। ফাইল ছবি: রাফায়েল রাসেল, সিসি বাই-এসএ ৪.০, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    সংক্ষেপে

    • প্রথম দফার আলোচনা ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। দুই পক্ষ আলোচনার কার্যপরিধিতে সই করেছে এবং ২০২৭ সালে চুক্তি শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
    • মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক রাশিদি সাইদ ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশের দলের নেতৃত্বে আছেন অতিরিক্ত বাণিজ্যসচিব খাদিজা নাজনীন। আলোচনার উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
    • জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৭ সালের মধ্যে টেকসই ও উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক চুক্তি শেষ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই আলোচনা।
    • ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের নির্ধারিত সময় সামনে রেখে বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি করতে চাইছে। আলোচনা শুরু হলেই শুল্কসুবিধা নিশ্চিত হয় না; সুবিধা নির্ভর করবে চূড়ান্ত চুক্তি ও তা কার্যকর হওয়ার ওপর।

    সোনারগাঁওয়ে আলোচনা

    প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে মঙ্গলবার আলোচনা শুরু হয়। কার্যপরিধিতে আলোচনার কাঠামো ও বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই দেশ প্রাথমিক খসড়া বিনিময় করেছে। প্রথম দফায় খসড়ার ভাষা, বাজারে প্রবেশাধিকার, পণ্যের তালিকা ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রস্তাবিত চুক্তিতে পণ্য, সেবা, শুল্কপ্রক্রিয়া ও পণ্যের উৎসবিধি রয়েছে। কোনো পণ্য অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে কি না, তা এই উৎসবিধি দিয়ে নির্ধারিত হয়।

    চৌধুরী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বৈচিত্র্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ আছে। উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও রপ্তানির প্রতিযোগিতা ধরে রাখার একটি উপায় হিসেবে তিনি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কথা বলেন। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণব্যবস্থা এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা জানান। আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে যোগ দেওয়ার বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষায় সমর্থনের জন্যও তিনি মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান।

    সাইদ প্রস্তাবিত চুক্তিকে শুল্ক কমানোর বাইরেও বিস্তৃত একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন। দুই পক্ষই বলে, ২০২৭ সালের লক্ষ্য পূরণে নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত রূপরেখা লাগবে।

    বাণিজ্যের দুটি হিসাব

    বারনামার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল প্রায় ২৮৪ কোটি ডলার। মালয়েশিয়া বাংলাদেশে প্রায় ২৩৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের পণ্য কেনে। এই আনুমানিক দুটি অঙ্কের যোগফল প্রায় ২৮৫ কোটি ডলার। তাই এগুলোকে নির্ভুল অঙ্ক ধরে উল্লিখিত মোটের সঙ্গে মেলানো যাবে না।

    দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনের হিসাব ভিন্ন সময়ের। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং আমদানি করে ২২৯ কোটি ডলারের পণ্য। ঘাটতি প্রায় ২০১ কোটি ডলার। অর্থবছরের এই হিসাবের সঙ্গে পঞ্জিকাবর্ষের হিসাব তুলনা করে আগের বছরের তুলনায় পরিবর্তন নির্ধারণ করা যাবে না।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তি হলে তৈরি পোশাকের বাইরে কৃষিপণ্য, চামড়া, জুতা, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও প্রকৌশলপণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়তে পারে। কোন কোন পণ্যে শুল্কসুবিধা মিলবে এবং রপ্তানিকারকদের কোন উৎসবিধি মানতে হবে, তা আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।

    চুক্তি ও উত্তরণ

    ডেইলি স্টার জানিয়েছে, বাংলাদেশ জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই করেছে। দুটি চুক্তিই অনুসমর্থনের অপেক্ষায়। সই, অনুসমর্থন ও কার্যকর হওয়া আলাদা ধাপ; মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তিটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে।

    উত্তরণের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ আট থেকে দশটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইছে। উত্তরণের নির্ধারিত তারিখ ২৪ নভেম্বর। তবে ওই দিনই সব বাজারে সব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা শেষ হবে না। বাণিজ্যিক অংশীদারভেদে অন্তর্বর্তী সুবিধা আলাদা। ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তির সুবিধা নির্ভর করবে এর আওতা ও বাস্তবায়নের তারিখের ওপর।

    এরপর কী

    • খসড়া, পণ্যের তালিকা ও ২০২৭ সাল পর্যন্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনার পর প্রথম দফা ২৯ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা।
    • আনোয়ার ইব্রাহিমের আসন্ন বাংলাদেশ সফর আলোচনাকে এগিয়ে নেবে বলে দুই পক্ষ আশা করছে। প্রথম দফার উদ্বোধনে সম্পন্ন কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।
    • রপ্তানিকারকদের জন্য চূড়ান্ত শুল্কতালিকা ও উৎসবিধি নির্ধারণ করতে হবে। এরপর চুক্তি কার্যকরের প্রয়োজনীয় ধাপগুলো শেষ করতে হবে।