ট্যাগ মির্জা ফখরুল

  • রাষ্ট্রপতি যাচ্ছেন, উৎসবের আমেজ ঠাকুরগাঁওয়ে

    রাষ্ট্রপতি যাচ্ছেন, উৎসবের আমেজ ঠাকুরগাঁওয়ে

    শৈশব-কৈশোর কেটেছে ঠাকুরগাঁও শহরের কোলাহলে। নিজ বাড়ির পাশেই শহরের প্রাণকেন্দ্র বড় মাঠ। শহরের অলিগলি, বাজার-পাড়া, রাস্তাঘাটও তার দীর্ঘদিনের পরিচিত। সেই নিজ শহরেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার আগমন ঘিরে ঠাকুরগাঁওজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।

    রাষ্ট্রপতির সফর সামনে রেখে কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, কোথাও চলছে আলোকসজ্জার কাজ। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ততা বেড়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি করে তুলতে দিন-রাত কাজ করছেন পৌরসভার কর্মীরা। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজ শহরে প্রিয় সন্তানকে প্রথমবার বরণ করে নিতে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁওবাসী। পথে পথে চলছে তার আগমনের অপেক্ষা। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস।

    রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী রবি ও সোমবার সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রীয় এই সফর ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও আবেগ।

    ঠাকুরগাঁওয়ের কারও কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ, কারও কাছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতা। আবার অনেকের কাছে তিনি এখনো পরিচিত ‘আলমগীর স্যার’—নিজ শহরের আপনজন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর শেকড়ের টানে নিজ মাটিতে তার ফিরে আসা ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে তাই শুধু রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি গর্ব, আনন্দ, ভালোবাসা ও আবেগেরও মুহূর্ত।

    রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তার অবতরণের কথা রয়েছে। পরে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে যাবেন এবং সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন।

    এরপর শহরের সেনুয়াপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন রাষ্ট্রপতি।

    কবর জিয়ারত শেষে তিনি শহরের কালীবাড়িতে নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

    সংবর্ধনা শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন রাষ্ট্রপতি। সেখানেই তার রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে।

    সফরের দ্বিতীয় দিন ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। পরে নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেবেন। এরপর সার্কিট হাউসে গিয়ে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তার।

    রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সম্ভাব্য সফরস্থল, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

    রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, ‘তিনি শুধু রাষ্ট্রপতি নন, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি নিজের মানুষের কাছে ফিরছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত। আমরা চাই, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে তাকে স্বাগত জানাক।’

    জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আগমন জেলার মানুষের জন্য আনন্দ, গর্ব ও আবেগের বিষয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

    ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয়সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

  • তৃণমূলের থেকে দেশের সর্বোচ্চ পদে বসতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

    তৃণমূলের থেকে দেশের সর্বোচ্চ পদে বসতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

    তৃণমূলের রাজনীতি থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছাত্রজীবনে ছিলেন ছাত্রনেতা, কর্মজীবনে অর্থনীতির শিক্ষক। পরবর্তীতে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম এবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ তাকে বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। ৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও এগিয়েছেন তিনি।

    ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছর দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত করা হয়।

    ছাত্রজীবন থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময় তিনি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন। তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি শাখার সভাপতি ছিলেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল অধ্যাপনা পেশায় যোগদান করেন। ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতার পর তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন।

    ১৯৮৮ সালে মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। ৯০-এর দশকের শুরুতে এরশাদ বিরোধী দেশব্যাপী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে মির্জা ফখরুল প্রথমে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং পরবর্তীতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হন।

    দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার আগে তিনি বিএনপির কৃষক সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহ-সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়লাভ করেন তিনি। তবে, দেশজুড়ে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

    বিএনপির ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন ও সংকটময় সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম দলের অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্বে আসেন। এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনকালে বিএনপি তীব্র দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সাল থেকে প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন।

    পরবর্তীতে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। অন্যদিকে, ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে চলে যান এবং সেখান থেকেই দল পরিচালনা করতে থাকেন।

    এমন এক পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলামই দেশে থেকে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রম ও আন্দোলনের মূল কাণ্ডারী হয়ে ওঠেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিনবার কারাবরণ করেন তিনি।

    ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। সেই থেকে টানা এ দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ছাত্র রাজনীতি ও শিক্ষকতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতৃত্ব অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত তিনি বিএনপির মহাসচিব হন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন পেশায় আইনজীবী ছিলেন। তিনি পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের দুইবারের সদস্য এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ছিলেন। এরশাদ সরকারের আমলে তিনি মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তাঁর মা মির্জা ফাতেমা আমিন।

    ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। তবে তার রাজনীতির শেকড় গড়ে উঠেছিল ছাত্রজীবনেই। বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু করে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরির পথ পেরিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।

    বিএনপি মহাসচিব হিসেবে দলের নীতি-নির্ধারণ ও সার্বিক কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। কঠিন সময়ে বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখা এবং দলের রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ১৩তম জাতীয় সংসদে তার আসনটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঠিক পাশেই। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, দলের চরম সংকটে দীর্ঘদিনের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে সম্মানিত করা হচ্ছে।

    ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম পারিবারিক জীবনকেন্দ্রিক এক ব্যক্তিত্ব। স্ত্রী রাহাত আরা বেগম এবং দুই কন্যা মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে তাঁর পরিবার। তার স্ত্রী বেসরকারি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বর্তমানে তিনি অবসর জীবন কাটাচ্ছেন। তার বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এবং সিডনিতে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো। ছোট মেয়ে ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

    ছাত্রনেতা ও শিক্ষক থেকে শুরু করে তৃণমূলের রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক পথচলা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। রাষ্ট্রপতি পদে তার এ মনোনয়ন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

  • মির্জা ফখরুল বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ

    মির্জা ফখরুল বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ

    রংপুরের মানুষের ভোটের পছন্দের সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা।

    আজ বুধবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগরের উদ্যোগে নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি সিটি বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব ও গ্র্যান্ড হোটেল মোড় ঘুরে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল। বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হকসহ অন্য নেতারা।

    এটিএম আজম খান বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে এমন ধারণা পাওয়া যায় যে রংপুরের মানুষ বিএনপির পরিবর্তে জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ায় এ অঞ্চল উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য রংপুরবাসীর রাজনৈতিক সচেতনতা ও সাংবিধানিক অধিকারকে খাটো করে। তিনি বলেন, কোন দলকে ভোট দেওয়া হবে, তা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। রাজনৈতিক পছন্দের সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। দল-মত নির্বিশেষে সব অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

    রংপুরের বৈষম্য দূর করতে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান এটিএম আজম খান।

    সমাবেশ থেকে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতের ১১ এমপি।

    উল্লেখ্য, রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ৯ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে রংপুরের মানুষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা, আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি সরকার আসবে তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি, যখন বিএনপি সরকার আসবে তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’

  • বিএনপি সরকারে আসবে, আপনারা জাতীয় পার্টি-জামায়াত করবেন। কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?- রংপুরে মির্জা ফখরুল

    বিএনপি সরকারে আসবে, আপনারা জাতীয় পার্টি-জামায়াত করবেন। কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?- রংপুরে মির্জা ফখরুল

    ‘হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত, বিরোধী দলও ওই ভাষাতেই কথা বলতেছে’, এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’

    আজ রোববার বেলা দেড়টায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা লাভ শেয়ার বিডি অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প’–এর উদ্বোধন এবং রংপুর অঞ্চলের ২৫ সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তির মধ্যে ২৫টি চা–ঘর হস্তান্তর করা হয়।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের একটা বিরোধী দল আছে। এই বিরোধী দল দুর্ভাগ্যক্রমে আবার সেই আগের মতোই ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। হাসিনা যে ভাষায় কথা বলত, এরাও ওই করতে দেব না, চলতে দেব না…ভাষাতেই কথা বলতেছে।’ এই সরকারের বয়স যে মাত্র চার–পাঁচ মাস এবং এই সময়ে যে সরকার অনেকগুলো কাজ করেছে, সেই কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

    গ্যাস–সংকট নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের একটা প্রতিষ্ঠান আছে বাপেক্স, যে বাপেক্সকে দিয়ে আমরা এই গ্যাস বা তেল আহরণ করার চেষ্টা করি, খোঁজার চেষ্টা করি কূপ খনন করে, সেটাকে পঙ্গু করে রেখে দিয়েছিল। সেটাকে আবার চালু করা হয়েছে। বিদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের এখানে গ্যাস অনুসন্ধান করার জন্য টেন্ডার করা হয়েছে, সেগুলো আসতেছে।’

    জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তেল ও গ্যাস বিদেশ থেকে আনতে হয় জাহাজে এবং সেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের প্রায় চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়ে গেছে পেমেন্ট করতে গিয়ে। তারপরও কেউ তেল ছাড়া, গ্যাস ছাড়া এক দিনও থাকেনি। কমেছে, তবে পাওয়া তো যাচ্ছে।’

    রংপুর ও উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আরেকটি কথা বলেছেন যে তিনি এই রংপুর বিভাগ, উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চান। যার ফলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, কাজ পাব, বেকার থাকব না।’ রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রংপুরের লোকেরা আমরা সব সময় পিছিয়ে পড়া। কেন পিছিয়ে পড়া? আমরা তো সঠিক জিনিসটাই বুঝি না। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জাতীয় পার্টি। যখন বিএনপি গভর্নমেন্টে আসবে, তখন আপনারা করবেন জামায়াত। তাহলে কেমনে হবে? পাবেন কেমনে?’

    সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, পার্লামেন্ট হয়েছে, কথা বলার সুযোগ আছে, পত্রিকাগুলো এখন যা খুশি লিখতে পারে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাহিদ খান।