মালয়েশিয়া

  • শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ফলপ্রসূ আলোচনা

    শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ফলপ্রসূ আলোচনা

    শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আজ বুধবার ও গতকাল মঙ্গলবার-এই দুই দিনে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম রামানানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, জনশক্তি রপ্তানি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা এবং শ্রম অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধি এবং শ্রমবাজার-সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার, শ্রমবাজারে বিদ্যমান সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

    বর্তমানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

    সফর চলাকালে প্রথমদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ফোনালাপে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জ্বালানি, বিনিয়োগ, বন্দর উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়। এছাড়াও আলোচনায় বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে সহযোগিতা, এক্সিটা গ্রুপ বারহাডের বিনিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি, কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্ভাবনা এবং এমএমসি করপোরেশন বারহাডের সঙ্গে বন্দর ও অবকাঠামো খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এই উচ্চপর্যায়ের সফর ও ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রা লাভ করবে।

  • মালয়েশিয়ায় ১৭৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

    মালয়েশিয়ায় ১৭৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

    মালয়েশিয়ার ক্যামেরন হাইল্যান্ডে অভিবাসন বিভাগের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগে ৪৬৮ বিদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৭৪ জনই বাংলাদেশি। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযান চালানো হয়। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা বারনামা জানায়, এই অভিযানে অভিবাসন বিভাগের ৫৪৭ জন সদস্য অংশ নেয়। পাহাড়ি অঞ্চলের চারটি জোনজুড়ে ব্যবসায়িক এলাকা, নির্মাণকাজের স্থান ও সবজিখামারে এ অভিযান চালানো হয়।

    অনেক বিদেশিকে সবজি প্যাক করার সময় গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি টের না পাওয়ায় তারা পালানোর সুযোগ পায়নি। ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাআবান জানান, কমিউনিটির অভিযোগের ভিত্তিতে এক মাস আগেই অভিযানটি পরিকল্পনা করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আমরা দেখতে পেয়েছি যে এই জেলাটি আশেপাশের এলাকায় কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি বিদেশীদের কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।’ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পাহাড়ি অঞ্চলে বিদেশি শ্রমিকের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

    পাহাড়ি এলাকা এবং শহর থেকে দূরবর্তী অবস্থান হওয়ায় বিদেশিদের জন্য এলাকাটি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এছাড়া অনেক স্থানীয় ব্যবসায়ী বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে আগ্রহী হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।

    অভিযানে মোট এক হাজার ৮৮৬ বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করা হয় এবং এর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয় ৪৬৮ জনকে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ পাস, ভ্রমণ নথির অভাব এবং কিছু ক্ষেত্রে জাল সন্দেহের অস্থায়ী কর্মপাস প্রদর্শন।

    গ্রেপ্তার হওয়া বিদেশিদের মধ্যে রয়েছে মিয়ানমারের ১৭৫ জন, বাংলাদেশের ১৭৪ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ৬৭ জন, নেপালের ২০ জন, পাকিস্তানের ১৬ জন, ভারতের ১১ জন এবং ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, চীন, কম্বোডিয়ায় ১ জন করে গ্রেপ্তার হয়েছে।

    এদের মধ্যে ৩৮৮ জন পুরুষ, ৭৬ জন নারী এবং ৪ শিশু রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ২০ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে এবং তাদের কেলান্তান, পেরাক ও সেলাঙ্গরের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

    অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে অভিযানে মোট ৮৩ হাজার ৯৯৪ বিদেশিকে আটক করা হয়েছে।