মালয়েশিয়া

  • মালয়েশিয়া যেতে লাগতে পারে ৭ লাখ টাকা

    মালয়েশিয়া যেতে লাগতে পারে ৭ লাখ টাকা

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা এলেও অভিবাসন ব্যয় নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। এরই মধ্যে কর্মীপ্রতি সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা খরচ হতে পারে—এমন প্রচারণা চালিয়ে সম্ভাব্য কর্মীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ শুরু করেছে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগী। এতে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের খরচ অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বাস্তবসম্মত অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণের পাশাপাশি অর্থ পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করা প্রয়োজন। তা না হলে এজেন্সিগুলো ইচ্ছামতো অর্থ আদায় করতে পারে। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বলছে, আগের নির্ধারিত ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না। নতুন করে ব্যয় নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

    গত ১৫ অক্টোবর অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয় মন্ত্রণালয়। এরপর সম্ভাব্য কর্মীদের মধ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম শুরুর ঘোষণাও আসে। তবে কর্মীপ্রতি মোট খরচ, বিভিন্ন ধাপের ফি এবং অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় অনিশ্চয়তা কাটছে না।

    ব্যয় নিয়ে এজেন্সিগুলোর দাবি

    শ্রমশক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত আগের অভিবাসন ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না। ২০২২ সালেও এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। এবারও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যয় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

    ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আগে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর চাহিদাপত্র সংগ্রহে ব্যয় হতো

    ২-৩ হাজার রিঙ্গিত। এখন তা বেড়ে ৮-১০ হাজার রিঙ্গিত হয়েছে। কোনো কোনো ব্যবসায়ীর হিসাবে এই ব্যয় ১০ থেকে ১২ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত উঠেছে। ফলে কর্মীপ্রতি খরচও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

    তথ্যানুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মোট অভিবাসন ব্যয় ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। এর মধ্যে ছিল পাসপোর্ট ফি, মেডিকেল পরীক্ষা ফি, রিক্রুটিং এজেন্সির সার্ভিস চার্জ, রেজিস্ট্রেশন ফি, কল্যাণ ফি, বিমা বা ইন্স্যুরেন্স ফি। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। বিভিন্ন স্তরে দালাল ও এজেন্সির সিন্ডিকেটের জন্য ওই সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের খরচ দাঁড়িয়েছিল ৫-৬ লাখ টাকা। অথচ নেপালের নাগরিকদের খরচ হয় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। ইন্দোনেশিয়ান কর্মীদের খরচ হয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। ফিলিপাইন নাগরিকদের খরচ হয় পঞ্চাশ থেকে আশি হাজার টাকা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাব-এজেন্সির তালিকাভুক্ত এক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক বলেন, তিনি ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। আরো পাসপোর্ট সংগ্রহ চলছে। তার দাবি, আগ্রহীদের অন্তত সাত লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। চূড়ান্ত ব্যয় নির্ধারিত না হওয়ায় এই অঙ্ক আরো বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

    ওই ব্যবসায়ীর ভাষ্য, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে চাহিদাপত্র সংগ্রহে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছেন বড় ব্যবসায়ীরা। এর বাইরে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্বত্বভোগীদেরও অর্থ দিতে হয়। ফলে ছোট এজেন্সিগুলোর পক্ষে কম খরচে কর্মী পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

    জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। তার আশঙ্কা, বর্তমান প্রক্রিয়ায় অভিবাসন ব্যয় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। কর্মীদের জন্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় নির্ধারণ করা বাস্তবসম্মত বলেও মনে করেন তিনি।

    কর্মীদের দুশ্চিন্তা

    এদিকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা সম্ভাব্য কর্মীদের মধ্যেও বাড়তি খরচের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুনামগঞ্জের আলমাছ আলী গ্রামে মুদি দোকান চালিয়ে সংসার চালান। আড়াই বছর ধরে তিনি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার অপেক্ষায় ছিলেন। সম্প্রতি এক প্রতিবেশী তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে পাসপোর্ট জমা দিতে বলেন। খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে সাত লাখ টাকার বেশি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়।

    ঢাকার রামপুরার বাসিন্দা মুন্না মিয়া একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর খবর দেখে পরিচিত একটি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। মুন্না বলেন, এবার খরচ বেশি হবে জানিয়ে তাকে প্রাথমিকভাবে সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

    সরকার নির্ধারণ করবে নতুন ব্যয়

    মন্ত্রণালয়ের ১৫ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিসহ মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ।

    তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেরাই মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করা, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ, কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অন্যদিকে, কলিং ভিসা ও ই-ভিসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাজে বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি সহায়তা দেবে। এরপর বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করা হবে।

    প্রতিটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনে তাদের নির্বাচিত কর্মীদের বিএমইটি ছাড়পত্র নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রসেসিং অথবা সার্ভিস এজেন্সিগুলো প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কথাও জানানো হয়। তবে কর্মীপ্রতি অভিবাসন ব্যয় কত হবে এবং কারা বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগের নির্ধারিত ব্যয় সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। তাদের দাবি, প্রায় ৭৯ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও একটি এজেন্সির প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভের সুযোগ ছিল। এরপরও কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ঠেকানো যায়নি। এজেন্সি মালিকরা যেন কর্মীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা না নেয় এজন্য নতুন করে আরেকটি অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করার চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়।

    ওইপি ব্যবস্থায় অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব

    অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর আমার দেশকে বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য দ্রুত বাস্তবসম্মত অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) মাধ্যমে পুরো অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা উচিত।

    তার মতে, মূল এজেন্সি ও সাব-এজেন্সির সার্ভিস চার্জসহ কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষামূলকভাবে ওইপি সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা যেতে পারে।

    এখনই যারা পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন, তাদের কার্যক্রমও খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। পাসপোর্ট জমা দেওয়া কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে কত টাকা দাবি করা হচ্ছে, তা যাচাই এবং প্রয়োজনে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই বিশেষজ্ঞ।

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, আগের নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় বাস্তবসম্মত ছিল না এবং এটা কেউ মানেনি। সরকারি সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচ আনুমানিক এক লাখ ৫৫ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ব্যয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ করে নির্ধারণ করা হবে।

    আগেও বেড়েছিল ব্যয়

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার আট বছর পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির পর ২০২২ সালে আবার কর্মী পাঠানো শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের ১ জুন ফের বন্ধ হয়ে যায় শ্রমবাজারটি।

    ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করা হয়। সে সময় সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ছিল ৩৩ হাজার ৩৭৫ টাকা। কিন্তু কর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া হতো দুই থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা।

    পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে শ্রমবাজার চালুর পর প্রথমে ২৫টি এবং পরে ১০১টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তখনও কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কয়েক লাখ টাকায় পৌঁছায়।

  • মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শুরু বাংলাদেশের, রপ্তানিতে বড় ব্যবধান

    মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা শুরু বাংলাদেশের, রপ্তানিতে বড় ব্যবধান

    বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ঢাকায় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি শেষ করার লক্ষ্য দুই দেশের। বারনামার প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রতি এক ডলারের পণ্য কেনার বিপরীতে দেশটি বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ ডলারের পণ্য বিক্রি করেছে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ইয়ার্ড। ফাইল ছবি: রাফায়েল রাসেল, সিসি বাই-এসএ ৪.০, উইকিমিডিয়া কমন্স।

    সংক্ষেপে

    • প্রথম দফার আলোচনা ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। দুই পক্ষ আলোচনার কার্যপরিধিতে সই করেছে এবং ২০২৭ সালে চুক্তি শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
    • মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক রাশিদি সাইদ ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশের দলের নেতৃত্বে আছেন অতিরিক্ত বাণিজ্যসচিব খাদিজা নাজনীন। আলোচনার উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
    • জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৭ সালের মধ্যে টেকসই ও উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক চুক্তি শেষ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই আলোচনা।
    • ২৪ নভেম্বর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের নির্ধারিত সময় সামনে রেখে বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি করতে চাইছে। আলোচনা শুরু হলেই শুল্কসুবিধা নিশ্চিত হয় না; সুবিধা নির্ভর করবে চূড়ান্ত চুক্তি ও তা কার্যকর হওয়ার ওপর।

    সোনারগাঁওয়ে আলোচনা

    প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে মঙ্গলবার আলোচনা শুরু হয়। কার্যপরিধিতে আলোচনার কাঠামো ও বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই দেশ প্রাথমিক খসড়া বিনিময় করেছে। প্রথম দফায় খসড়ার ভাষা, বাজারে প্রবেশাধিকার, পণ্যের তালিকা ও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রস্তাবিত চুক্তিতে পণ্য, সেবা, শুল্কপ্রক্রিয়া ও পণ্যের উৎসবিধি রয়েছে। কোনো পণ্য অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে কি না, তা এই উৎসবিধি দিয়ে নির্ধারিত হয়।

    চৌধুরী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বৈচিত্র্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ আছে। উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও রপ্তানির প্রতিযোগিতা ধরে রাখার একটি উপায় হিসেবে তিনি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কথা বলেন। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণব্যবস্থা এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা জানান। আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে যোগ দেওয়ার বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষায় সমর্থনের জন্যও তিনি মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান।

    সাইদ প্রস্তাবিত চুক্তিকে শুল্ক কমানোর বাইরেও বিস্তৃত একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন। দুই পক্ষই বলে, ২০২৭ সালের লক্ষ্য পূরণে নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত রূপরেখা লাগবে।

    বাণিজ্যের দুটি হিসাব

    বারনামার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল প্রায় ২৮৪ কোটি ডলার। মালয়েশিয়া বাংলাদেশে প্রায় ২৩৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের পণ্য কেনে। এই আনুমানিক দুটি অঙ্কের যোগফল প্রায় ২৮৫ কোটি ডলার। তাই এগুলোকে নির্ভুল অঙ্ক ধরে উল্লিখিত মোটের সঙ্গে মেলানো যাবে না।

    দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনের হিসাব ভিন্ন সময়ের। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং আমদানি করে ২২৯ কোটি ডলারের পণ্য। ঘাটতি প্রায় ২০১ কোটি ডলার। অর্থবছরের এই হিসাবের সঙ্গে পঞ্জিকাবর্ষের হিসাব তুলনা করে আগের বছরের তুলনায় পরিবর্তন নির্ধারণ করা যাবে না।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তি হলে তৈরি পোশাকের বাইরে কৃষিপণ্য, চামড়া, জুতা, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও প্রকৌশলপণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়তে পারে। কোন কোন পণ্যে শুল্কসুবিধা মিলবে এবং রপ্তানিকারকদের কোন উৎসবিধি মানতে হবে, তা আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।

    চুক্তি ও উত্তরণ

    ডেইলি স্টার জানিয়েছে, বাংলাদেশ জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই করেছে। দুটি চুক্তিই অনুসমর্থনের অপেক্ষায়। সই, অনুসমর্থন ও কার্যকর হওয়া আলাদা ধাপ; মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তিটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে।

    উত্তরণের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ আট থেকে দশটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইছে। উত্তরণের নির্ধারিত তারিখ ২৪ নভেম্বর। তবে ওই দিনই সব বাজারে সব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা শেষ হবে না। বাণিজ্যিক অংশীদারভেদে অন্তর্বর্তী সুবিধা আলাদা। ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তির সুবিধা নির্ভর করবে এর আওতা ও বাস্তবায়নের তারিখের ওপর।

    এরপর কী

    • খসড়া, পণ্যের তালিকা ও ২০২৭ সাল পর্যন্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনার পর প্রথম দফা ২৯ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা।
    • আনোয়ার ইব্রাহিমের আসন্ন বাংলাদেশ সফর আলোচনাকে এগিয়ে নেবে বলে দুই পক্ষ আশা করছে। প্রথম দফার উদ্বোধনে সম্পন্ন কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।
    • রপ্তানিকারকদের জন্য চূড়ান্ত শুল্কতালিকা ও উৎসবিধি নির্ধারণ করতে হবে। এরপর চুক্তি কার্যকরের প্রয়োজনীয় ধাপগুলো শেষ করতে হবে।
  • স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’

    স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’

    ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করছে মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল (MHTC)। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মালয়েশিয়াকে একটি বিশ্বস্ত, মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসা গন্তব্য হিসেবে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

    বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, করপোরেট ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এই ক্যাম্পেইন কার্যক্রম পরিচালনা করছে MHTC।

    বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের সঙ্গে বৈঠক করেছে MHTC। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী মালয়েশিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা গন্তব্য হিসেবে সমর্থন করেন এবং দুই দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান—Alpha IVF Specialist Center, IHH Healthcare Malaysia, KL Fertility and Gynecology Centre, Sunway Medical Centre এবং KPJ Ampang Puteri Specialist Hospital। প্রতিষ্ঠানগুলো ফার্টিলিটি, অনকোলজি, কার্ডিওলজি, গাইনোকলজি ও অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায় তাদের দক্ষতা ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরবে।

    বাংলাদেশ বর্তমানে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। মালয়েশিয়ার হাসপাতালগুলোতে ১০,৮০০-এরও বেশি বাংলাদেশি স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণকারীর মাধ্যমে প্রায় RM ১০.৪ মিলিয়ন রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।

    ঢাকায় কার্যক্রমের পাশাপাশি MHTC ১৭–১৯ সেপ্টেম্বর ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (ATF)-এ অংশগ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি রোগী, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের অংশীজনদের মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।

    ঢাকার বাইরে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে Malaysia Healthcare Week আয়োজন করতে যাচ্ছে MHTC। এর মাধ্যমে ‘ইউ-টার্ন টু মালয়েশিয়া’ ক্যাম্পেইনের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং রাজধানীর বাইরে বাংলাদেশের রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের কাছে মালয়েশিয়ার উন্নত চিকিৎসাসেবা ও বিশেষায়িত সুবিধাগুলো আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।