ট্যাগ মামলা

  • জুলাই হত্যাযজ্ঞ: ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের মামলার রায় আগামীকাল

    জুলাই হত্যাযজ্ঞ: ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের মামলার রায় আগামীকাল

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে।

    আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

    এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

    এর আগে গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হলে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন মোট ২৯ জন সাক্ষী।

    চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই আদালত।

    প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

  • ভারতে সার্কিট হাউজে নামাজ পড়ায় পুলিশের মামলা

    ভারতে সার্কিট হাউজে নামাজ পড়ায় পুলিশের মামলা

    ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের সার্কিট হাউসে নামাজ আদায়ের অভিযোগে সমাজবাদী পার্টির জেলা সহসভাপতি হাজি মোহাম্মদ উসমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৫ ও ২৯২ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

    একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পার্ক করা গাড়ির পেছনে উসমান নামাজ আদায় করছেন। পুলিশের দাবি, এতে সার্কিট হাউসে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। তবে ভিডিওতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে দেখা যায়নি।

    উসমান সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক মোহাম্মদ ফাহিম ইরফানের চাচা। দলীয় নেতাদের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা লাল বিহারি যাদবের বৈঠকে যোগ দিতে তিনি সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন।

    পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সহকারী প্রকৌশলী অনিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরটি করা হয়। এর আগে নামাজের ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশ সরকার সড়কে নামাজ পড়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেও সরকারি স্থাপনায় নামাজ পড়া বেআইনি নয়।

    সূত্র: দ্য ওয়্যার

  • দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, দক্ষ ও জনবান্ধব করতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মামলার জট কমানো সম্ভব।

    বুধবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (জেএটিআই) ‘দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব নিরসন: বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইন ও বিচার বিভাগ এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।

    আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে এখনও এমন বহু দেওয়ানি মামলা রয়েছে, যেগুলো অনেক পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন এসব মামলা বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে এবং বিচারব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতা থেকে উত্তরণে সরকার বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর বিচারসেবা চালু এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

    তিনি বলেন, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় ও জাইকাসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের উপ-মহাপরিচালক কাজুনোরি নোসে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাপানের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ মো. শাফায়েত এবং জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের অধ্যাপক ওয়াকাযোনো রেই। সমাপনী বক্তব্য রাখেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেমউল কায়েস। সেমিনারে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইন মন্ত্রণালয়, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত

    সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত

    সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না, হাইকোর্টের দেওয়া এমন আদেশ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের জারি করা রুল আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক ১৪টি করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার এই আদেশ দেন।

    আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির আগেই জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এজাহারে নাম নেই এমন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হকসহ কারাগার বা হেফাজতে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর পক্ষে হাইকোর্টে পৃথক ১৫টি রিট করা হয়।

    এসব রিট আবেদনের পর রুলসহ পৃথক আদেশ দেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনকারীকে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার জন্য আবেদনকারীকে বারবার গ্রেপ্তার দেখানো ও আবেদনকারীকে ফাঁসানোর এমন কর্মকাণ্ড কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। বিভিন্ন সময় দেওয়া হাইকোর্টের এমন আদেশ স্থগিত চেয়ে পৃথক ১৫টি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরমধ্যে আপিল বিভাগ ১৪টি আবেদন নিস্পত্তি করেন। একটি আবেদনের ওপর আগামী রোববার শুনানি হবে।

    বুধবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশে তদন্ত সংস্থার স্বাধীন তদন্তে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। এমন আইন থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকতো না।

    তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এর অর্থ হচ্ছে ফৌজদারি অভিযোগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ত ব্যক্তির এজাহারে নাম নাও থাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে যদি সম্পৃক্ততা পেয়ে থাকেন, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর অবশ্যই আবেদন করতে পারবেন।

    আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, আইনজীবী এ কে এম ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

  • ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

    ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

    হামে অবহেলাজনিত কারণে মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস,সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন এক বাবা। রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই খারিজ আদেশ প্রদান করেন।

    গত ৫ জুলাই মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সী সাউদা মুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম এই মামলার আবেদন করেন। সেদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেন। পরে জানানো হয় ১২ জুলাই আদেশ দেয়া হবে। বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন— ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং স্বাস্থ্য অধিপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর।

    মামলায় অভিযোগ করা হয়— গেল ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এবং মার্চের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে মুসকান হঠাৎ প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। তৎক্ষনাত স্থানীয় ফার্মেসী থেকে ওষুধ খাওয়ানো হয় কিন্তু জ্বর নিরাময় হয় না। তাকে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে মুসকানের শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতির প্রেক্ষিতে বাবা সিরাজুল তাকে ২২ মার্চ ভর্তি করেন। সেখানে ভর্তির পর থেকে মুসকানের অবস্থা মারাত্মক অবনতিকালীন সময় সিরাজুলে পরিলক্ষিত হয়, ডাক্তার ও নার্সদের অসহযোগিতা ও অবহেলা। ২৬ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মুসকান।সিরাজুল অভিযোগ করেন, দেশে শিশুদের যথাযথ টিকার প্রকৃত যোগান সময়মত না থাকা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়া এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মারাত্মক খামখেয়ালীপনা করে।

    যথাসময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা আমদানী না করার ফলে দুই বছরের নিচের বয়সী শিশুদের যথা সময়ে হামের প্রতিরোধক টিকা না দেয়ার ফলে অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট ২০২৪ পরবর্তী ইউনুস সরকার ও তার ‘রাষ্ট্র যন্ত্রের মারাত্মক অবহেলা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতে প্রানঘাতী হামের টিকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বারবার তাগদা দেওয়া সত্ত্বেও ইউনুস সরকার টিকা ক্রয় না করা এবং মারাত্মক অবহেলা জনিত কারনে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ছয় শতাধিকের অধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে সাউদা মুসকান অন্যতম এবং দেশব্যাপী এহেন শিশুর রাষ্ট্রযন্ত্রের অবহেলার জনিত মৃত্যুর কারনের দায়ভার আসামিদের ওপর বর্তায়। রাষ্ট্র যন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা সত্বেও তারা কোন হাম জনিত শিশু মৃত্যুর প্রতিরোধ কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি এবং অবহেলা জনিত দ্বায়ভারের জন্য একইভাবে দ্বায়ী ও প্রচলিত আইনে শান্তিপাওয়ার যোগ্য।এরআগে গত ৮ জুন একই অভিযোগ এনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তবে আদালত আবেদন খারিজ করে দেয়।

  • এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা

    এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা

    রাজনীতি ডেস্ক:

    সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে হাতবোমা (ককটেল) বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    সোমবার (৬ জুলাই) রাতে এনসিপির ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার বাদী জানান, সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা। এতে দলের ৬ নেতাকর্মী আহত হন।

    মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ওসি তদন্ত নুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

    বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব ও সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সার্জিস আলম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

    এটি একটি পরিকল্পিত হামলা দাবি করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত যুগান্তরকে বলেন, হামলার কিছুক্ষণ আগে সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর হঠাৎ বেশ কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এটি একটি পরিকল্পিত হামলা।

    এ ঘটনায় জুলাই শহীদ শ্রাবণ গাজীর বাবা মান্নান গাজী ও দুজন সাংবাদিকসহ ছয়জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা- হলেন মান্নান গাজী, শাহীন খন্দকার, জসীম উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরা পারসন মো. মজনু এবং এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. সাঈদুল ইসলাম।

    এনসিপি নেতাকর্মীরা জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জে কর্মসূচি শেষ করে নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা রাত ৯টার দিকে সাভারে পৌঁছান। পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে পদযাত্রা করে সমাবেশস্থলে আসেন। তারা পৌঁছানোর পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে উঠেন এবং অনুষ্ঠান শুরু হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মঞ্চের সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান ছিল। তাদের পেছনে বাঁশ দিয়ে ঘেরা স্থানে সাধারণ মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নাবিলা তাসনিমের বক্তব্য চলাকালে ওই স্থানেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং সমাবেশে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ ফিরে আসে।

    বোমা হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে নাহিদ ইসলামসহ নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। পরে তারা সাভার মডেল থানার সামনে গিয়ে জড়ো হন। সেখান থেকে এনসিপির নেতারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন।

    সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমালোচনা করেন এবং হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানান।

    সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের আসামি করে মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে।

  • প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে মামলার রায় ২ জুলাই

    প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে মামলার রায় ২ জুলাই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মামলাজটের কারণে আটকে আছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদের পদোন্নতি। শূন্য থাকা এই পদগুলোতে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব না হওয়ায়, স্বাভাবিকভাবেই সমসংখ্যক পদে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটিও এখন থমকে গেছে। এ অবস্থায় স্থবির হয়ে পড়া শিক্ষা প্রশাসনে গতি ফেরাতে শিক্ষা-সংক্রান্ত মামলাগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট এখতিয়ার সম্পন্ন বিশেষ বেঞ্চকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ৮ হাজার ৫৫৮টি, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ১ হাজার ১২০টি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩ হাজার ৯১৪টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির ভাগ্য।

    মামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি বিষয় হলো—২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ চাকরিকাল গণনা করে জ্যেষ্ঠতার (গ্রেডেশন) তালিকা তৈরি, প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্কেল প্রাপ্তি এবং বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা আদায়ের দাবি। এ নিয়ে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে হাইকোর্টে প্রথম একটি রিট দায়ের করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে আরও বেশ কয়েকটি রিট হয়। হাইকোর্ট এসব রিটের ওপর রায় দেওয়ার পর, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে বিষয়টি আপিল বিভাগে গড়ায় (সিভিল আপিল নং- ৭৩/২০২৩)।

    গত ১৮ জুন এই সিভিল আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে এবং আপিল বিভাগ আগামী ২ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন। মূলত এই একটি মামলার সঙ্গেই সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের পদোন্নতি এবং দেশের সমসংখ্যক প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি সরাসরি জড়িত। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, আগামী ২ জুলাই কাঙ্ক্ষিত রায়টি হলে শিক্ষা খাতের এই বিশাল আইনি জটিলতা ও স্থবিরতার অবসান ঘটবে।

    সম্প্রতি জাতীয় সংসদের পয়েন্ট অব অর্ডারে করা এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা খাতের মামলাজট নিয়ে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    তিনি বলেন, আইনি জটিলতা ও মামলার বেড়াজালে আটকে থাকার কারণে আমরা শিক্ষক নিয়োগ সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান করতে পারছি না। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় চার মাস কেটে গেল। দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম সপ্তাহ থেকেই আদালত পাড়ায় এই মামলাগুলোর জট খোলার জন্য আমরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, মামলাগুলো এখনও আপিল বিভাগের কার্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে, সারা দেশেই যে তীব্র শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে।

    সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকের পদোন্নতি মামলার দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্যানেল আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, আপিল বিভাগে অন্তত পাঁচবার মামলাটি শুনানির চেষ্টা করা হলেও বেঞ্চ পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘ বিলম্বের পর অবশেষে শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ২ জুলাই রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। এই রায়টি হলে শিক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।