মানিক পশারী

  • মানিক পশারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন পিরোজপুরের দুই মুক্তিযোদ্ধা

    মানিক পশারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন পিরোজপুরের দুই মুক্তিযোদ্ধা

    মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীকে এবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেছেন পিরোজপুরের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাদের দাবি, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছিল।

    গত ২৪ অক্টোবর মানিকের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া ও দাফন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে তাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করার পর এ বিষয়ে মুখ খুললেন এই দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

    পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন বলেন, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছে। সাঈদী সাহেব কখনো রাজাকার ছিলেন না।

    “১৯৭১ সালে মানুষ তাকে চিনত না। তিনি পিরোজপুরেও ছিলেন না। সাঈদী সাহেব একজন ভালো বয়ানকারী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি বক্তা ছিলেন।তিনি আরও বলেন, যেহেতু মানিক পশারী সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা, সে কারণে পুলিশ প্রশাসন তাকে গার্ড অব অনার দিতে বাধ্য হয়েছে। সাঈদী সাহেবের বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তৎকালীন সরকার পুরস্কার হিসেবে তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে। সাঈদীর অনুসারীরা গার্ড অব অর্নার না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল। আমরাও জানি, তিনি একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।”

    আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জহিরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। সেখানে চাপে হোক বা যেভাবেই হোক, মানিক পশারী সাঈদীর বিপক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেন। এরপর তাকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়। পরে আর যাচাই-বাছাই হয়নি। তিনি আরও বলেন, তার মৃত্যুর পর সরকারি নিয়মে তাকে গার্ড অব অনার দেবে, কারণ তিনি এখনো গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। হয়তো সে কারনে সেখানে গার্ড অব অনার দিতে জামায়াত আপত্তি জানায়।

    গত ২৪ অক্টোবর সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে ৮৭ বছর বয়সি মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। দুপুরে তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হয়। পরে গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে জটিলতার মধ্যে বিকালে পুলিশ লাইনসে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে মরদেহ নিজ বাড়িতে নেওয়া হয় এবং রাতেই দাফন সম্পন্ন হয়।

    সুত্র: দৈনিক যুগন্তর

  • মানিক পশারীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন ছোটভাই

    মানিক পশারীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন ছোটভাই

    জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও অন্যতম সাক্ষী মানিক পশারীর দাফন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনলেন তার ছোটভাই চান মিয়া পশারী।

    সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে চান পশারী জানান, তিনি নিজেও মুক্তিযোদ্ধা। তবে সাঈদীর পক্ষে কথা বলায় তার ভাই মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম দেয়নি।

    তিনি দাবি করেন, ‘তখন আমার ভাই (মানিক পশারী) মেট্রিক পাশ। আমরা ওই সময় ছোট। আমরা জঙ্গলে যাইয়া পলাইছি। ’চান পশারী আরও বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আমার নাম ভাই (মানিক পশারী) দেয় নাই। কেন নাম দেয় নাই, সে ভালো বলতে পারে। আমার ভাই যারে যারে ভালো লাগছে, তারে তারে মুক্তিযোদ্ধায় (তালিকা) নাম দেছে। আমার নামটা দেয় নাই। কারণ সাঈদী রে ভালো বলছি এ কারণে। আমার ভাই দুই টাকা দিয়া কোনো সময় সাহায্য করে নাই। সাঈদীর গুণগান কইরা আসছি, এই কারণে মুক্তিযুদ্ধে আমার নাম আমার ভাই দেয় নাই। আমি যদি সাঈদীর কথা ভালো না বলতাম, তাহলে তো আমার নামটা মুক্তিবাহিনীতে থাকত।’এদিকে মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তার ছোটভাই চান পশারীর একটি পুরোনো ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছেন পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে চান মিয়া পশারীকে বলতে শোনা যায়— তিনি ও তার ভাই মানিক পশারীকে আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয়। তিনি আর্থিক লোভে না পড়লেও তার বড়ভাই মানিক পশারী অর্থের প্রলোভনে সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে এবং সাক্ষী দেয়।তার এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে চান মিয়া পশারীর বাড়িতে যান এ প্রতিনিধি। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটি তার নিজেরই।এক প্রশ্নের উত্তরে চান পশারী বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাজাকার ছিলেন না। সেই সময় অনেক ছোট ছিল সাঈদী। রাজাকার ছিল রামেস মোল্লা, মোসলেম মাওলানা, সেকেন্দার শিকদার।

    এদিন মানিক পশারীর বোন হাসিনা বেগম বলেন, ‘আমরা সবাই আওয়ামী লীগ, সবাই মুক্তিযোদ্ধা। আমাগো ঘোড়াঘাট সব আওয়ামী লীগ।’

    মানিক পশারী টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছেন কিনা— এমন প্রশ্নে তিনি ঠাট্টার ছলে বলেন, ‘হয় আমার ভাই রে ছালা ছালা টাহা দেছে একছের, টাহার বইন্যা হইয়া গেছে।’অপরদিকে সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মানিক পশারীর আরেক বোন হেনা পশারী। তবে তার ভাই কেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

    ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। পরে এ বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ভাইয়ের কাছে কিছু জানতেও চাননি তারা।

    সূত্র: দৈনিক যুগন্তর