মানিকগঞ্জ

  • মানিকগঞ্জে স্কুলের পাশে তামাকের দোকান থাকলেই জরিমানা

    মানিকগঞ্জে স্কুলের পাশে তামাকের দোকান থাকলেই জরিমানা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মানিকগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আইন বাস্তবায়নে শিগগিরই জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্সের সভাপতি নাজমুন আরা সুলতানা।

    শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক এ তথ্য জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘জেলা পর্যায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে টাস্কফোর্স কমিটির ত্রৈমাসিক সভা’য় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সংশোধিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো ব্যক্তি তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করতে বা করাতে পারবেন না। এ বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং একই অপরাধ পুনরায় করলে পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ জরিমানার বিধান রয়েছে। সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে ওই ১০০ মিটারের সীমা আরও বাড়াতে পারবে।

    এ ছাড়া সংশোধিত আইনে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। আগে এ জরিমানার পরিমাণ ছিল ৩০০ টাকা। দ্বিতীয়বার বা পুনরায় একই অপরাধ করলে জরিমানার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ হবে।

    সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল প্রণীত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। সরকারি আইনভান্ডারেও ২০২৬ সালের ৯১ নম্বর আইন হিসেবে এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে জেলায় ১১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৯ জনকে মোট ৩ হাজার ১৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।

    টাস্কফোর্সের সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের তামাকের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে বিক্রয়কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    জেলা প্রশাসক ও টাস্কফোর্সের সভাপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান, টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যসচিব ও সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আব্দুল্লাহ-আল-আজিজ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন আহমেদ, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মাহবুব কামাল, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোস্তফা হাবীব, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার বন্যা, পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা।

  • আয়ার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক

    আয়ার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক

    আয়ার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আমতলী ফেদু শেখ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা।

    গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে বিদ্যালয় ভবনের ভেতর থেকে তাদের আটক করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের সঙ্গে একই বিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন কর্মরত আয়ার দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল। সকালে প্রধান শিক্ষক ও ওই আয়া একসঙ্গে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজনের সন্দেহ হলে তারা তাদের অনুসরণ করেন। পরে বিদ্যালয় ভবনের ভেতরে দুজনকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাদের ঘিরে ফেলেন। এরপর তাদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা বজলু বলেন, প্রধান শিক্ষক ও ওই আয়ার চালচলন দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। সকালে তাদের একসঙ্গে স্কুলে ঢুকতে দেখে আমরা কয়েকজন পিছু নিই। পরে ভবনের ভেতরে তাদের একসঙ্গে দেখতে পেয়ে আটক করে পুলিশে খবর দিই।

    আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোতালেব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধান শিক্ষকের মতো দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তি যদি এমন নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচয় দেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে কী শিখবে? আমরা এই শিক্ষকের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

    দৌলতপুর থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।