পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক ঢুকছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে মাদক চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্ডারের ওপারে বসে ইয়াবা চোরাকারবারিরা পরিকল্পনা করছে। ড্রোনের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মাদক এখন আর শুধু খুলনার সমস্যা নয়। সে কারণে সারা দেশে ডোপ টেস্টের ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
সন্ত্রাস দমন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারে যাবে না সরকার। মানবাধিকার রক্ষা করে প্রয়োজনে প্রচলিত আইনকে আরও শক্তিশালী করে সন্ত্রাস দমন করা হবে।
তিনি বলেন, সরকারের বয়স ছয় মাস। এ সরকারকে আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য সময় দিতে হবে। তবে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে পচন ধরেছে, সে পচনকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ছয় মাসে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাকে উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল এমপি, আমির এজাজ খান এমপি, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মাদক তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মিসরের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারা খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এএফপি।
কায়রোর একটি আদালতে হওয়া এই মামলায় ৩৯ বছর বয়সী সারা খলিফার পাশাপাশি আরও ১১ আসামির বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালতের রায়ে তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত অনুযায়ী, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশ থেকে মাদক তৈরির বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করা, সেগুলো দিয়ে কৃত্রিম মাদক প্রস্তুত করা এবং পরে পাচারের জন্য মজুত রাখা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি চক্রটির সদস্যদের কাছে অনুমোদনহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও ছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক তৈরির উপাদান উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা সামগ্রীর পরিমাণ ৭৫০ কেজিরও বেশি।
তদন্তে দুটি অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ, এসব জায়গাকে মাদক তৈরির গোপন স্থাপনা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
সেখান থেকে মাদক তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল ও অন্যান্য সরঞ্জামের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আনা উপকরণগুলো ব্যবহার করে সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদক প্রস্তুত করা এবং পরবর্তী সময়ে তা পাচারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হতো।
মিসরের টেলিভিশন দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ সারা খলিফা। দেশটির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মিশন ইমপসিবল’ উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা, অপরাধ এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা হতো।
টেলিভিশন ক্যারিয়ারের বাইরেও ব্যবসায় যুক্ত রয়েছেন সারা। তার মালিকানায় একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক রয়েছে। পাশাপাশি পার্টি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করেন তিনি।
মাদক মামলার বাইরে সারা খলিফার বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগে মামলা চলছিল। এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় তার সঙ্গে কয়েকজন আসামিকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
ওই মামলায় সারা খলিফাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পৃথক মামলাতেও কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন এই টেলিভিশন উপস্থাপিকা। তবে কায়রোর আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ই শেষ সিদ্ধান্ত নয়। মিসরের আইন অনুযায়ী, আসামিদের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
বগুড়ার নন্দীগ্রামে ১২০০ পিস ইয়াবাসহ রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২। গ্রেপ্তার রবিউল নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় রবিউলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সর্বশেষ বুধবার (২৬ আগস্ট) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের নুন্দহ-মুরাদপুর আঞ্চলিক সড়কের নুন্দহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার নুন্দহ গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। পরে এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেছে র্যাব।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, র্যাব-১২ একটি দল নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহলরত অবস্থায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে এক ব্যক্তি ইয়াবা নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে নুন্দহ গ্রামের দিকে যাচ্ছে। এ খবর পেয়ে র্যাব সদস্যরা নুন্দহ থেকে মুরাদপুরগামী পাকা সড়কের নুন্দহ এলাকায় চেকপোস্ট বসান। পরে রাত আনুমানিক ৯টা ৫মিনিটের দিকে একটি নম্বরবিহীন যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেকপোস্টে পৌঁছালে সেটি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। অটোরিকশায় থাকা একমাত্র যাত্রী রবিউল ইসলামকে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার পরিহিত জিন্স প্যান্টের পকেট তল্লাশি করে ছয়টি পলিথিনের ব্যাগে রাখা ১২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক বিক্রির ৩ হাজার ১৫০ টাকাও জব্দ করা হয়।
নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান তারেক বলেন, আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন যে আমরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে সহযোগিতা করেছি। আমরা মাদকমুক্ত নন্দীগ্রাম চাই।
রবিউলের সাংগঠনিক পরিচয় নিশ্চিত করে তিনি আরও বলেন, দল কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় নেবে না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানার পর ইতোমধ্যে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, র্যাবের দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সকালে গ্রেপ্তার আসামিকে নন্দীগ্রাম থানা থেকে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভারতের মুম্বাইয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি মুম্বাই কংগ্রেসের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরা এক সদস্য বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফের আন্দোলনে এলে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন।
গত কয়েক দিনে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ডাকে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক, চেম্বুর ও আজাদ ময়দানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পুলিশ ভ্যানে কয়েকজন তরুণকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের বিক্ষোভস্থল থেকে আটক করা হয়েছিল। সামনের আসনে বসা এক পুলিশ সদস্য তাদের বাড়ি ফিরে যেতে এবং আর কখনো বিক্ষোভে না আসতে বলেন।
ভিডিওতে ওই পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘আবার এখানে দেখা গেলে তোমাদের জীবন শেষ করে দেব।’ এরপর তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের ব্যাগে ৫০-৫০ গ্রাম মাদক রেখে মিথ্যা মামলা দেব, তখন সারাজীবন শেষ হয়ে যাবে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে তার নিজের জীবনও কঠিন হয়ে উঠেছে। ভিডিওটি প্রকাশ করে মুম্বাই কংগ্রেস দাবি করেছে, যদি ঘটনাটি সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। দলটির বক্তব্য, প্রতিবাদ করা কোনো অপরাধ নয়; শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাব জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেওয়া উচিত, হুমকি দিয়ে নয়।
এ ঘটনার পর মুম্বাই পুলিশ ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনার প্রেক্ষাপট তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিডিওতে দেখা পুলিশের গাড়িচালককে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে মুম্বাই পুলিশের কৌশল নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ডিজিটাল মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের নজরদারি করছে এবং অনেকের বাড়িতে গিয়েও সতর্ক করছে।
এ ছাড়া, যাদের বিরুদ্ধে আগে মামলা বা আইনি নোটিশ ছিল, তাদের অনেককে স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে ফোন করা হয়েছে এবং হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন চালু রেখে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ৩৫(৩) ধারার আওতায় কিছু শিক্ষার্থীকে ভোরবেলায় মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়ে আগের বিক্ষোভের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার উত্তর শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাদকবিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে প্রথমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন-কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী।
মাদকবিরোধী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ইয়ার আলী মোল্যা, ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার রহমান খান, আব্দুল্লাহ সরদার, এনায়েত মোল্যা, মন্টু শেখ, তারা মিয়া সরদার, ফাহাদ সরদারসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, নড়াইলের শুক্তগ্রামে মাদকের থাবা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই গ্রামের অনেকেই মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে গ্রামটি। এদের আবার অনেকে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। শুক্তগ্রাম হয়ে নড়াইলের লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক প্রবেশ করছে। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এজন্য পুলিশ প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, মাদক দমনের ব্যাপারে পুলিশ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। তবে মাদক কারবারিদের দমন করতে হলে গ্রামবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক কারবারিদের ব্যাপারে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিতে হবে।
তিনি কঠোর হুশিয়ারি করে বলেন, আমাদের কোনো পুলিশ সদস্য মাদক কারবারে জড়িত নেই। তারপরও পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে যদি আপনাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ তাকে, তাহলে আমাকে বা পুলিশ সুপার স্যারকে অবগত করলে; অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো পুলিশ সদস্য অন্যায়-অপকর্মে জড়িয়ে পড়লে তাদেরকে চাকরি হারাতে হচ্ছে। অনেকের বাড়ি চলে যেতে হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এলাকায় অন্যায়-অপকর্ম বন্ধে অভিভাবকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রতিটি সন্তানকে ভালো ভাবে দেখভাল করতে হবে। সন্ধ্যার পর সন্তান পড়ার টেবিলে আছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস করছে কিনা খোঁজখবর রাখতে হবে। বিলাসিতা না করে সাধারণ ভাবে জীবনযাপন করতে হবে। সুনাগরিক হিসেবে সন্তানদের গড়ে তুলতে হবে।
এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শুক্তগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কালিয়া-লোহাগড়া সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মাদক কারবারিদের হামলায় আহত শুক্তগ্রামের গোলাম ফারুকের আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
আয়োজকরা জানান, গত ৯ জুন সকাল ৬টার দিকে শুক্তগ্রামের গোলাম ফারুক বাড়ির পাশের মাঠে গরু বাঁধতে গেলে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে ওই গ্রামের আলমগীর সরদার (৫০), মিজান সরদার (৪৫) বিল্লাল সরদার (৪০), মুন্না সরদার (২৫) জিন্নাহ সরদার (২০), সাগর সরদার (২২), জামাল সরদারসহ (৩০) অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জন রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে (ফারুক) রক্তাক্ত করে। এ হামলায় ফারুকের বাম হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।
মাদক বেচাকেনায় বাধা দেয়ায় গোলাম ফারুককে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারসহ গ্রামবাসী। ফারুক বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গোলাম ফারুক নিজেই বাদী হয়ে গত ১৪ জুন মামলা দায়ের করেন। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।
এ ব্যাপারে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, আসামিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদেরকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বন্ধুসভার সহযোগিতায় প্রথম আলো ট্রাস্ট শুক্রবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। ’
এতে শিক্ষাবিদ, ক্রীড়াবিদ, রাজনীতিক , নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি ,সাংবাদিক, কবি-সাহিত্যিক-ছড়াকার , সুশীল সমাজের প্রতিনিধি , নারী উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
প্রথম আলোর চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি শাহ আলম সনির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা বন্ধুসভার সভাপতি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. সিদ্দিকুর রহমান , মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক হামিদুল হক মুন্সী , কৃষক জোটের সাধারণ সম্পাদক চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস , চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ , জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এমএম আলাউদ্দিন , বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক ও নারী উদ্যোক্তা জাহানারা খাতুন ।
প্রথম আলো ট্রাস্টের এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করতে অন্যান্যের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি রফিক রহমান, বিশিষ্ট ছড়াকার আহাদ আলী মোল্লা , ক্রীড়া সংগঠক ও সাংবাদিক ইসলাম রকিব , ক্রীড়াবিদ রোকন উদ্দিন , জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
সরকারের পুরো সিন্ডিকেট মাদকের সঙ্গে জড়িত: ছাত্রশিবির সভাপতি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ‘সরকারের পুরো সিন্ডিকেট মাদকের সঙ্গে জড়িত। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা তারা নিয়ন্ত্রণ করে। সমাজকে তারা স্থিতিশীল থাকতে দেয় না। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেই আমরা রাজাকার হয়ে যাই। সিলেটের ডিসি মাজারে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণার এক দিনের মধ্যে তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো।’
সোমবার সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ব্লেম দেয় বাজেটে মাদকের দাম বাড়ানোর কারণে নাকি জামায়াত অখুশি। একটা ভুয়া ফেক ফটোকার্ড দেখে প্রধানমন্ত্রী এমন কথা বলেন। করুণা হয়, একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী বাজেটের নিয়ম সম্পর্কে ঠিকমতো জানেন না। আইন-কানুন সম্পর্কে তিনি জানেন না বলে আমার ধারণা। তিনি রাষ্ট্র চালাচ্ছেন। মিথ্যা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করবেন না।’
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জিয়াউর রহমান ফাহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতর আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলাম বকুল, সদর উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আব্দুর রহিম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের রহমান এবং সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অধিভুক্ত আধাপাকা দুটি সরকারি ভবন মাদকসেবীদের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকির অভাবে ভবন দুটির দরজা-জানালা ও বারান্দার চালার অধিকাংশ টিন খুলে নিয়ে গেছে মাদকসেবীরা। ফলে ভবন দুটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় এই ভবনগুলোতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও জমিদাতাদের করা মামলার কারণে এবং ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দপ্তরটি ভাড়া বাসায় স্থানান্তর করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন কোনো তদারকি না থাকায় ভবন দুটি মাদক সেবন, জুয়া এবং নানাবিধ অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি মাদক বেচাকেনার নিরাপদ স্থান হিসেবেও এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদর সুবিদখালী থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে পশ্চিম সুবিদখালী–বটতলা সড়কের পাশে অবস্থিত ভবন দুটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সীমানাপ্রাচীর থাকলেও লোহার গেটের একটি দরজা ভেঙে পড়ে রয়েছে। দরজা-জানালা ও বারান্দার টিনের চালার অধিকাংশ টিন না থাকায় ভবন দুটি কঙ্কালে পরিণত হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের আলামত, মাদক ব্যবহারের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং সিগারেটের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে এসব কক্ষে মাদক সেবনের পাশাপাশি জুয়ার আসর বসে। চলে অসামাজিক কার্যকলাপও। আবাসিক এলাকার ভেতরে অবস্থিত হওয়ায় নারী, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক জানান, রাত হলেই দলবেঁধে মাদকসেবীরা ভবনটিতে প্রবেশ করে। সীমানা প্রাচীর থাকলেও গেট ভাঙা থাকায় মূল ফটক দিয়েই তারা দলবল নিয়ে অবাধে ভেতরে ঢুকে আড্ডা বসিয়ে মাদক সেবন করে। আবাসিক এলাকা হওয়ার এখানে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের ৬-৮টি পরিবারসহ স্থানীয় প্রায় অর্ধশত পবিরারের বসবাস। মাদকসেবীদের মধ্যে ২-৪ জন যুবক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে কিছু বলতে পারি না।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মির্জাগঞ্জ ফাউন্ডেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পরিত্যক্ত ভবন দুটি মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। বিষয়টি কখনোই কাম্য নয়। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদার করে মাদকসেবী ও কারবারিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।’
মির্জাগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিদা বেগম (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, ‘ব্যবহার-অনুপযোগী হওয়ায় ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে অফিসটি ভাড়া বাসায় স্থানান্তর করা হয়। ভবনটির জমিদাতারা মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেছিলেন, যেখানে আমাদের পক্ষে রায় এসেছে। ইতোমধ্যে ভবনগুলোর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। মাদকসেবীদের আড্ডার বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছি।’
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. ছালাম বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে থাকে। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। আমার কাছে এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য নেই। কেউ অভিযোগ দিলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মলিহা খানম বলেন, ‘সরকারি পরিত্যক্ত ভবনে মাদক সেবনের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। মাদক সেবন করা হচ্ছে—এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) সীমান্ত নাফনদী ঘেঁষা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, মাদক প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে দীর্ঘদিন ধরে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ব্যাটালিয়ন সদরের একটি বিশেষ টহলদল বড় জামছড়ি এলাকার পাহাড়ি পথ থেকে মালিকবিহীন পড়ে থাকা ৯ হাজার ৮৫০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ২৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, টহলদল সীমান্তবর্তী বড় জামছড়ি এলাকায় সন্দেহজনক নড়াচড়া লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। টহলের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারীরা ইয়াবার ব্যাগটি ফেলে পাহাড়ি ঝোপঝাড়ের ভেতর পালিয়ে যায়। পরে এলাকাটি তল্লাশি করে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস কে এম কফিল উদ্দিন কায়েস বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমাদের টহলদল নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া প্রণয়নের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মিরাজুলকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মিরাজ ওই এলাকার মাদক কারবারি।শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত চলছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।