মরক্কো

  • মরক্কোর বিদায়ে অঝোরে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি

    মরক্কোর বিদায়ে অঝোরে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি

    চলছে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। এর মধ্যেই ফ্রান্স ও স্পেন সেমিফাইনালে চলে গেছে। এ লড়াইয়ে ফ্রান্সের কাছে হেরেছে আশরাফ হাকিমির দল মরক্কো। আর সেই পরাজয়ে ভীষণ মন খারাপ করেছেন বলিউড মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি।

    এমনকি মাঠেই অঝোরে কেঁদে ফেলেন তিনি। ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর বিদায়ের পর নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারেননি। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কান্না শুরু করে দেন নোরা ফাতেহি।

    এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেখানে দেখা গেছে, ‘চোখের পানি মুছছেন অভিনেত্রী। পাশে থাকা এক বন্ধু তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।’

    ফুটবল মাঠে আফ্রিকান দেশটির প্রতিটি ম্যাচেই স্টেডিয়ামে বসে খেলা উপভোগ করেছেন নোরা ফাতেহি। স্টেডিয়ামে পৌঁছাতেও তাকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বোস্টনের পথে তীব্র যানজটে আটকে গেলে শেষ পর্যন্ত গাড়ি থেকে নেমে বেশ কিছুটা পথ হেঁটেই স্টেডিয়ামে পৌঁছান। তবু খেলা শুরুর আগেই গ্যালারিতে নিজের আসনে বসতে সক্ষম হন। মরক্কোর প্রতিটি ম্যাচ জয়ে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। কিন্তু ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর পরাজয়ে ভীষণ কষ্ট পান অভিনেত্রী।

    শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলটি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের বিপক্ষে আর চমক দেখাতে পারেনি। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে ২-০ ব্যবধানে হেরে শেষ হয় তাদের স্বপ্নযাত্রা।

    এ পরাজয়ের পরও মরক্কো দলের প্রতি নিজের গর্বের কথা প্রকাশ করেন নোরা ফাতেহি। বিশেষ করে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিসহ পুরো দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

    কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— দক্ষিণ আফ্রিকা মহাদেশের এ দলটির পরাজয়ে ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি কেন কাঁদলেন? কারণ একটাই— নোরা ফাতেহির কথিত প্রেমিক মরক্কো দলের অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। আর গত এক বছর ধরে আশরাফ হাকিমি ও নোরা ফাতেহির সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে গুঞ্জন। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ-ই প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

  • ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’

    ‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’

    কাতারের আল-বায়ত স্টেডিয়ামের রাতটি মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসে আজও এক গভীর স্মৃতি। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে রূপকথার যাত্রা থেমে গিয়েছিল আটলাস লায়নদের। তবে সেই হার শুধু স্বপ্নভঙ্গই নয়, শিখিয়েছিল বড় মঞ্চে ছোট ছোট ভুলের মূল্য কতটা বড় হতে পারে।

    চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কো এবার নামছে প্রতিশোধের আবেগ সঙ্গী করে অতীতের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নতুন ইতিহাস লেখার প্রত্যয়ে।

    মরক্কোর এই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন মিলেছে মিডফিল্ডার আজদিন উনাহির কথায়। ফিফা প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০২২ সালের সেই সেমিফাইনাল স্মরণ করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা জানি আমরা কী কী ভুল করেছিলাম। সেই ম্যাচে আমাদের আরও ভালো ফল পাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু ছোট ছোট কিছু ভুলের খেসারত আমাদের দিতে হয়েছিল।’

    উনাহির এই উপলব্ধি যেন বর্তমান মরক্কোর মানসিকতারই প্রতিচ্ছবি। চার বছর আগের দলটি এখন অনেক বেশি পরিণত। নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে সামনে এগোনোর মানসিকতা গড়ে উঠেছে দলের ভেতরে। সেই সঙ্গে বদলেছে স্কোয়াডও। কাতার বিশ্বকাপের অনেক ফুটবলার এখনো দলে আছেন, আবার নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সংযোজনে বেড়েছে গভীরতা। কোচিং স্টাফেও এসেছে পরিবর্তন।

    উনাহির বিশ্বাস, এই নতুনত্বই মরক্কোর সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁর ভাষায়, ‘এখন আমাদের দলে নতুন কোচিং স্টাফ এবং নতুন একঝাঁক খেলোয়াড় এসেছে। এই দলটার ভেতর একধরনের সতেজতা আছে, যা যেকোনো প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিতে পারে।’

    তবে সামনে যে প্রতিপক্ষ, তাদের শক্তির কথা মরক্কো ভালো করেই জানে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে গড়ে ওঠা ফ্রান্স এখনো শিরোপার অন্যতম দাবিদার। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাদের অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াডের গভীরতা মরক্কোর জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। সেটিও স্বীকার করেছেন উনাহি, ‘যখন আপনি ফ্রান্সের মতো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবেন, তখন লড়াইটা কতটা কঠিন হতে পারে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।’

    এই বিশ্বাসই মরক্কোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালের মতো পরাশক্তিকে বিদায় করে তারা দেখিয়েছিল, সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং অদম্য মানসিকতা থাকলে যেকোনো দলকে হারানো সম্ভব। এবারও সেই কৌশলই তাদের মূল অস্ত্র হতে পারে। তবে আগেরবারের মতো নয়, এবার সেই পরিকল্পনার সঙ্গে যোগ হয়েছে অভিজ্ঞতার পরিপক্বতা এবং ভুল থেকে শেখার শিক্ষা।

    ফ্রান্সও অবশ্য প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে দেখছে না। এমবাপ্পে ইতিমধ্যেই সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন, মরক্কোকে হারাতে হলে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। কিন্তু মরক্কোর এখন অন্য সুর। চার বছর আগের আক্ষেপকে আর বয়ে বেড়াতে চায় না তারা। বরং সেই স্মৃতিকেই শক্তিতে রূপান্তর করে বিশ্বকাপের আরেকটি বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের নতুন প্রমাণ দিতে প্রস্তুত।

    আল-বায়তের সেই রাত মরক্কোকে কাঁদিয়েছিল। এবার বোস্টনের কোয়ার্টার ফাইনাল কি তাদের হাসাবে? উত্তর মিলবে মাঠেই। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—এই মরক্কো শুধু অতীতের স্মৃতি নিয়ে খেলতে নামছে না, বরং সেই স্মৃতিকে ইতিহাস বদলে দেওয়ার প্রেরণায় রূপ দিতে চাইছে।

  • একদিকে অদম্য জেদ অন্যদিকে বদলার আগুন

    একদিকে অদম্য জেদ অন্যদিকে বদলার আগুন

    এক ঐতিহাসিক এবং বিতর্কিত ফুটবল মহাকাব্যের পর আজ একটি মেগা কোয়ার্টার ফাইনাল দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবল। মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তি ফ্রান্স এবং দুনিয়াকে চমকে দেয়া দল মরক্কো। তাই ফুটবলপণ্ডিতরা বলছেন, এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সেই ব্লকবাস্টার সেমিফাইনালের মহারণ। যেখানে মরক্কোর স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছিল। আর এটা করেছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের দল। তবে এবার কিন্তু প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

    একদিকে ফরাসিদের টানা তৃতীয়বার ফাইনালে পৌঁছানোর অদম্য জেদ, অন্যদিকে মরক্কোর বুকে জ্বলছে বদলার আগুন। আমরা সাধারণত কী দেখি। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এই দুই দলের লড়াই কেবল ট্যাকটিক্স বা গোলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে রাজনীতি, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সুপারস্টার হওয়ার প্রবল ইচ্ছা। এবার যখন দল দুটো মুখোমুখি হচ্ছে তখন সামনে আসছে ২০২২-এর এক অসম্পূর্ণ রূপকথার গল্প। বরাবরই ফ্রান্সে বসবাসকারী বিশাল মরক্কান ডায়াসপোরা এই ম্যাচটিকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যায়। ২০২২ সালের ১৪ই ডিসেম্বর।

    কাতারে আল বাইত স্টেডিয়ামে ২-০ গোলে জয়ী হয়েছিল ফ্রান্স। তখন প্যারিসের রাস্তায় উৎসব আর কান্নার অদ্ভুত মিশ্রণ দেখা গিয়েছিল। মরক্কো প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছিল। চমক সৃষ্টি হয়েছিল ফুটবল দুনিয়ায়। তাদের সেই ঐতিহাসিক দৌড় থামিয়ে দিয়েছিল ফরাসিরা। এ কারণেই বলা হচ্ছে, এই ম্যাচটি কেবল মরক্কোর জন্য কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, এটি অসম্পূর্ণ গল্পের নতুন এক অধ্যায়। যার জন্য চার বছর ধরে অপেক্ষা করছে মরক্কো। সেই রাতে মরক্কান খেলোয়াড়দের চোখে ছিল পানি। বোস্টনের মাঠে সেই পানি রূপান্তরিত হতে চলেছে শক্তিতে। এবারের বিশ্বকাপে এমবাপ্পে অপ্রতিরোধ্য। মরক্কোর পুনরুত্থান থামাতে চান। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাই এই খেলাটিকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ফরাসিদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। রাউন্ড অব ষোলোতে ফ্রান্স অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে প্যারাগুয়ের সঙ্গে। অনেকটা কষ্টে এমবাপ্পের দল ১-০ গোলে জয় পায়।

    কড়া মার্কিংয়ের মধ্যে ছিলেন এমবাপ্পে। অন্যদিকে মরক্কো রাউন্ড অব ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে এক ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হয়েছে। তারা প্রমাণ করেছে যে, ২০২২ সালের সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। তাদের রক্ষণভাগ আগের মতোই ইস্পাত কঠিন। আক্রমণভাগ এখন আরও বেশি গতিসম্পন্ন। হাকিম জিয়েশ, ইউসেফ এন নেসিরির মতো তারকারা ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন তারা যেকোনো মুহূর্তে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। আর্জেন্টিনা মিশরের ম্যাচের পর মাঠের বাইরে বিশ্বব্যাপী বিতর্ক জারি রয়েছে। এই খেলায় রেফারি ল্যাতেজিয়ারের ভূমিকা ছিল অনেকটাই রহস্যজনক। বিতর্কিত রেফারি খেলাটির গতি বারবার থামিয়ে দেন। ফ্রান্স-মরক্কোর খেলার আগেই নতুন এক বিতর্ক। এই বিতর্ক খেলা ছেড়ে রেফারিদের নিয়েই। ফিফা এই হাইভোল্টেজের কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য সম্পূর্ণ আর্জেন্টিয়ান রেফারিং প্যানেল নিয়োগ করেছে। মূল রেফারি ফাকুন্দো তেলো, সঙ্গে দুই আর্জেন্টাইন সহকারী হুয়ান পাবলো বেলাত্তি এবং গ্যাব্রিয়েল এই ম্যাচ পরিচালনা করবেন।

    এই সিদ্ধান্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্ষরিক অর্থেই আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ফ্রান্সের সমর্থকরা মনে করছেন- এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কারণ ফ্রান্স যদি এই ম্যাচ জেতে তবে সেমিফাইনাল পেরিয়ে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে যাওয়ার স্মৃতি ফরাসিরা এখনো ভুলতে পারেনি। মিশর-আর্জেন্টিনার মধ্যকার সামপ্রতিক ম্যাচ নিয়ে বিতর্ক চলছেই। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার পক্ষে একটি স্টপেজ টাইম গোল এবং মিশরের বাতিল হওয়া গোল নিয়ে ফিফা এবং রেফারিকে অভিযুক্ত করছেন ফুটবলভক্তরা। ফ্রান্স-মরক্কোর খেলায় আর্জেন্টাইন রেফারি নিয়োগকে অনেকে ফিফা’র পাল্টা চাল হিসেবে দেখছেন। এসবের মধ্যেও দুই তারকার লড়াই জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    একদিকে এমবাপ্পে অন্যদিকে হাকিমি। পিএসজি’র প্রাক্তন সতীর্থ বাস্তবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মজার ব্যাপার হচ্ছে- দেশের জার্সিতে একে অপরের বিপক্ষে যখন মাঠে নামেন তখন বন্ধুত্বের কোনো জায়গা থাকে না। বলতেই হয়, এমবাপ্পে বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের একজন অবিসংবাদিত সম্রাট। পেলে বা ম্যারাডোনার মতো সর্বকালের সেরাদের তালিকায় পাকাপাকিভাবে নিজের নাম লেখানোর ব্যাপারে তিনি মরিয়া। তার অন্যতম লক্ষ্য টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা। যা ফুটবলের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে সারাক্ষণ ছিলেন মার্কিংয়ে। মরক্কোর বিরুদ্ধে তিনি জ্বলে উঠতে চান- এমনটাই বলছেন সংবাদমাধ্যমকে। অন্যদিকে আশরাফ হাকিমি মরক্কোর রক্ষণভাগে আক্রমণের মূল উৎস।

    হাকিমি যদি এমবাপ্পেকে আটকাতে পারেন তবেই তা হবে মরক্কোর জয়ের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। এই ম্যাচে নতুন কোনো সুপারস্টারের জন্ম হতে পারে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মরক্কোর তরুণ প্রতিভাদের জন্য সবচেয়ে বড় মঞ্চ। ইয়াসিন বুনু যদি গোলপোস্টের নিচে আরও একবার দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেন তাহলে এমবাপ্পেকে থামানো সম্ভব।

    অন্যথায় নাটকীয় কিছু ঘটতে পারে। এটা নিছক ৯০ বা ১২০ মিনিটের ফুটবল নয়। ইতিমধ্যেই বলা হচ্ছে, খেলাটি হবে অভিবাসন ও ইতিহাসের এক জটিল ক্যানভাস। আমরা সবাই জানি, ফরাসি দলের অনেক খেলোয়াড়ের শেকড় আফ্রিকায়। যা এই ম্যাচটিকে একটি অদ্ভুত ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বা তীব্র প্রতিযোগিতামূলক রূপ দেবে। মরক্কোর কাছে এটি শুধু আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব নয়। এটা প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ।

    ফ্রান্স শিবিরে তাই টানটান উত্তেজনা। যদি কোনো কারণে ফ্রান্স হেরে যায়- তা হবে এক সোনালি প্রজন্মের আধিপত্যের আকস্মিক পতন। মরক্কোর জয় মানে বিশ্ব ফুটবলের চিরাচরিত ইউরোপ, ল্যাতিন আমেরিকার মেরূকরণ ভেঙে নতুন এক বিশ্ব শক্তির চূড়ান্ত উত্থান। বোস্টনের মাঠে যখন রেফারির বাঁশি বাজবে তখন দুই দলের সামনেই থাকবে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। বলুন তো ফরাসি নীল না মরক্কান লাল? কার রঙে বিশ্বকাপের আকাশ রঙিন হবে।

  • হলিউডকে টানতে মরক্কোয় তৈরি হচ্ছে বিশাল সিনেমা সিটি

    হলিউডকে টানতে মরক্কোয় তৈরি হচ্ছে বিশাল সিনেমা সিটি

    ঐতিহাসিক ও মহাকাব্যিক গল্পের ক্ষেত্রে হলিউড পরিচালকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় লোকেশন মরক্কোর ওয়ারজাজাত শহর। রিডলি স্কটের সাম্প্রতিক সৃষ্টি ‘গ্ল্যাডিয়েটর ২’সহ অসংখ্য ব্লকবাস্টার সিনেমার সেট পড়েছে সেখানে। এবার সেই ওয়ারজাজাতকে কেন্দ্র করে ফিল্ম সিটি নির্মাণের বড় উদ্যোগ নিয়েছে মরক্কো সরকার। সেখানে তৈরি হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের এক বিশাল ফিল্ম প্রোডাকশন হাব, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল সিনেমা সিটি’।

    মরক্কোর যুব, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্টের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে গত ২৭ জুন। ওয়ারজাজাত শহরের মূল প্রবেশদ্বারে ২৪ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই সুবিশাল সিনেমা সিটি। মরক্কো সরকার এই প্রকল্পে ২৪০ মিলিয়ন মরোক্কান দিরহাম বিনিয়োগ করছে।

    অ্যাটলাস পর্বতমালা ও সাহারা মরুভূমির মধ্যবর্তী এই সিনেমা সিটি মূলত একটি ‘ওয়ান-স্টপ-শপ’ হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ একটি সিনেমা বা সিরিজের প্রি-প্রোডাকশন থেকে শুরু করে শুটিং, ভিএফএক্স এবং মুক্তি পর্যন্ত যা যা প্রয়োজন, তার সবই মিলবে এক ছাদের নিচে।

    এই সিনেমা সিটিতে থাকবে বিশ্বমানের একাধিক সাউন্ড স্টেজ, এডিটিং ও স্ক্রিনিং রুম। এ ছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক ইমারসিভ প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে আলাদা ডেডিকেটেড স্পেস। স্থানীয় কলাকুশলী ও নতুন প্রতিভার ব্যক্তিদের বিভিন্ন কারিগরি ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে থাকবে বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং দেশি-বিদেশি শুটিং টিমের আবাসের জন্য আধুনিক হোটেল সুবিধা।

    বর্তমানে হলিউডে সিনেমা নির্মাণের খরচ দিন দিন বাড়তে থাকায় সেখানকার বড় বড় স্টুডিও এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো কম খরচে উন্নত সুবিধার খোঁজে মরক্কোর মতো দেশের দিকে ঝুঁকছে। মরক্কো সরকারও এই সুযোগ লুফে নিতে আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের জন্য ৩০ শতাংশ ক্যাশ রিবেট, সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি, শুটিংয়ের যন্ত্রপাতি ভাড়ার ওপর ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট এবং হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে।

    গত কয়েক বছরে ওয়ারজাজাত শহরে ইন্ডিয়ানা জোন্স ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য ডায়াল অব ডেসটিনি’, নিকোলাস কেজের ‘লর্ড অব ওয়ার’-এর সিকুয়েল, ফরাসি ঐতিহাসিক এপিক ‘ডি গল: রেজিস্ট্যান্স’সহ অনেক আলোচিত সিনেমার শুটিং হয়েছে। এর বাইরেও বিশ্বখ্যাত সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর কিছু অংশ এবং মার্টিন স্করসেসির ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট’-এর মতো ইতিহাস কাঁপানো প্রজেক্টের সেটও বসেছিল সেখানে।

    মরক্কো সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মরক্কোয় শুটিং হওয়া বিদেশি প্রজেক্টগুলো থেকে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে। নতুন সিনেমা সিটি চালু হলে এই বিনিয়োগের পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে নেদারল্যান্ডস, প্রতিপক্ষ মরক্কো

    গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে নেদারল্যান্ডস, প্রতিপক্ষ মরক্কো

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    তিন গোলের দাপুটে জয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করল নেদারল্যান্ডস। তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডাচরা। একই সময়ে জাপান ও সুইডেনের ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে নেদারল্যান্ডস। ফলে নকআউট পর্বে সম্ভাব্য কঠিন প্রতিপক্ষ ব্রাজিলকে এড়িয়ে তারা মুখোমুখি হবে ‘সি’ গ্রুপের রানারআপ মরক্কোর।

    কানসাস সিটির ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের শুরুতেই তিউনিসিয়ার অধিনায়ক এলিস শিকিরি আত্মঘাতী গোল করে ডাচদের এগিয়ে দেন। এরপর সপ্তম মিনিটে ব্রায়ান ব্রবি নিজের বিশ্বকাপের তৃতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ভার্জিল ফন ডাইকের হেড থেকে পাওয়া বল জালে জড়িয়ে দলকে স্বস্তি এনে দেন তিনি।

    দ্বিতীয়ার্ধে তিউনিসিয়া একবার ম্যাচে ফেরার আভাস দেয়। ৫৪তম মিনিটে কর্নার থেকে হাজেম মাসতুরি গোল করে ব্যবধান কমান। তবে সেই আনন্দ বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ৬২তম মিনিটে জ্যান পল ফন হেকের হেড আনিস স্লিমানের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোলে পরিণত হলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নেদারল্যান্ডস।

    ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কায় কিছু সময়ের জন্য খেলা বন্ধও রাখতে হয়। বিরতির পরও অবশ্য বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে সহজেই ম্যাচ শেষ করে ডাচরা।এই জয়ে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নেদারল্যান্ডস। সমান ৫ পয়েন্ট নিয়ে রানারআপ হয়েছে জাপান, যারা নকআউটে খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে। আর চার পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে সুইডেন।

    অন্যদিকে, বিশ্বকাপের শুরু থেকেই হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে তিউনিসিয়া। প্রথম ম্যাচে হারের পর কোচ পরিবর্তন করেও ভাগ্য বদলায়নি। জাপানের কাছে বড় ব্যবধানে হারার পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও পরাজিত হয়ে কোনো জয় ছাড়াই বিশ্বকাপ শেষ করল উত্তর আফ্রিকার দলটি।

    নকআউটে ওঠার আগে টানা দুই জয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে নামবে নেদারল্যান্ডস, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে চমক দেখিয়ে নকআউটে ওঠা মরক্কো।

  • হাইতির বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয়ে নকআউটে মরক্কো

    হাইতির বিপক্ষে ঘাম ঝরানো জয়ে নকআউটে মরক্কো

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    কাগজে-কলমে লড়াইটা ছিল গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট বনাম ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা পুঁচকে হাইতির। তবে আটলান্টা স্টেডিয়ামে শক্তি-সামর্থ্যে ঢের পিছিয়ে থাকা হাইতি রীতিমতো ঘাম ছুটিয়ে ছাড়ল মরক্কোর। ম্যাচে দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে হাইতিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কো।

    টানা দুই ম্যাচ হেরে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল হাইতির। তাই তাদের আজ হারানোর কিছু ছিল না। তাই হয়তো কিছু একটা করে দেখানোর মানসিকতা ছিল। ম্যাচের ১০ম মিনিটে মরক্কোকে স্তব্ধ করে লিড নেয় ক্যারিবীয় দলটি। মরক্কোর তারকা গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর মারাত্মক ভুলে আত্মঘাতী গোল হজম করে বসে অ্যাটলাস লায়ন্সরা। এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে হাইতির প্রথম এবং চলতি বিশ্বকাপের ১৫০তম গোল।

    পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া মরক্কো ৩৯ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়। এল খান্নুসের শট হাইতি গোলরক্ষক প্লাসিড ঠেকালেও ফিরতি বল গোলমুখে পেয়ে সহজেই জালে জড়ান আশরাফ হাকিমি। তবে মরক্কোর এই স্বস্তি স্থায়ী হয় মাত্র ৪ মিনিট। ৪৩ মিনিটে মরক্কো রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার শটে বল জালে পাঠিয়ে হাইতিকে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন উইলসন ইসিদোর।

    প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মরক্কোর স্বস্তি ফেরান ইসমায়েল সাইবারি। হাকিমির নিচু ক্রসে বক্সের মাঝখান থেকে প্রথম ছোঁয়ার শটে বল জালে জড়িয়ে ২-২ সমতায় বিরতিতে যায় মরক্কো।

    বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ালেও হাইতির সুসংগঠিত রক্ষণের কারণে গোল পাচ্ছিল না মরক্কো। অবশেষে ম্যাচের ৭৮ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন সুফিয়ান রাহিমি। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে রিয়াদের টাচের পর বল পেয়ে কার্লিং শটে গোল করেন রাহিমি। মরক্কো এগিয়ে যায় ৩-২ ব্যবধানে।

    একেবারে শেষদিকে ৮৯ মিনিটের সময় বাম দিক থেকে রাহিমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যান এবং বল বাড়ান ইয়াসিনের কাছে। ফাঁকা জালে সহজেই বল জড়িয়ে দেন তিনি। হাইতির খেলোয়াড়রা বল বাইরে চলে গিয়েছিল বলে দাবি করলেও রেফারি ভিএআর যাচাই শেষে গোলের বৈধতা নিশ্চিত করেন। মরক্কো এগিয়ে যায় ৪-২ ব্যবধানে। শেষ পর্যন্ত মরক্কোর বিপক্ষে বীরোচিত লড়াইয়ের তৃপ্তি নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করল হাইতি। আর স্বস্তির জয়ে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল গত আসরের সেমিফাইনালিস্টরা।

    তিন ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল মরক্কো। অন্য ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েছে ব্রাজিল। ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় স্থানে থাকা স্কটল্যান্ডের এখনও সেরা চার তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার ক্ষীণ সুযোগ আছে। শেষ বত্রিশের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মরক্কো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের। যে স্থানটি বর্তমানে দখল করে রেখেছে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডস।