ভোজ্যতেল

  • বিশ্ববাজারে দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে বাড়তি দামে ভোজ্যতেল

    বিশ্ববাজারে দাম কমলেও খাতুনগঞ্জে বাড়তি দামে ভোজ্যতেল

    আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম কমলেও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। বরং সরবরাহ সংকটের কথা বলে মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে দুই ধরনের ভোজ্যতেল।

    বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডেটা অনুযায়ী, জুন-আগস্ট সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ১০৭ দশমিক ৩৩ ডলার। এপ্রিল-জুন সময়ে এ গড় ছিল ১ হাজার ১২৮ দশমিক ৬৭ ডলার।

    অর্থাৎ তিন মাসের গড় হিসাবে দাম কমেছে ২১ দশমিক ৩৪ ডলার বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

    সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। এপ্রিল-জুন সময়ে টনপ্রতি গড় দাম ছিল ১ হাজার ৭২১ দশমিক ৩৩ ডলার। জুন-আগস্টে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৬৭ ডলারে।

    অর্থাৎ গড় দাম কমেছে ৪২ দশমিক ৬৭ ডলার বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

    তবে খাতুনগঞ্জে বর্তমানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) সয়াবিন তেল প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা, পাম তেল ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ৬ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেড় মাস আগে সয়াবিন তেলের দাম ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা মণ। অর্থাৎ এ সময়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ টাকা।

    ব্যবসায়ীদের দাবি, পাম তেলের দামও একই সময়ে মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে।

    খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহজালাল বলেন, বাজারে তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। ডিলাররা সরবরাহ করলেও চাহিদার তুলনায় তা কম হওয়ায় দাম বেড়েছে।

    পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৮ থেকে ২১০ টাকা, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    বাংলাদেশের ভোজ্যতেলের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারদর ছাড়াও ডলারের বিনিময় হার, জাহাজভাড়া, বন্দর ও পরিবহন ব্যয়, শুল্ক-কর, ব্যাংকিং ব্যয়, পরিশোধন ও প্যাকেজিং খরচ স্থানীয় বাজারদরে প্রভাব ফেলে।

    খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আলা উদ্দীন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের পাইকারি দামের তুলনা করতে শুধু টনপ্রতি মূল্য বিবেচনা করলে হবে না। আমদানি থেকে খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত পুরো ব্যয় কাঠামো এবং সরবরাহ পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল ৫০ হাজার ৮৯৬ টন এবং সয়াবিন তেল ১৫ হাজার ৬১ টন।

    চলতি বছর সরকার দুই দফায় সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করেছে। সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সামনে রমজান। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল ভোক্তারা কতটা পাচ্ছেন, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণও নজরদারিতে রাখা উচিত।