ট্যাগ ভারত

  • কেন ভারত থেকে ইলিশ আমদানি হচ্ছে?

    কেন ভারত থেকে ইলিশ আমদানি হচ্ছে?

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশ। একসময় দেশের ইলিশ বিদেশেও রপ্তানি হতো। অথচ এখন দেশের বাজারের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। গত দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে ১৯টি প্রতিষ্ঠান। এই ইলিশের বড় অংশই এসেছে ভারতের গুজরাট থেকে।

    আমদানিকারক, কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারত থেকে আরো ইলিশ বাংলাদেশে আসছে। পশ্চিমবঙ্গ হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তপথে এসব মাছ ঢুকছে।

    পশ্চিমবঙ্গ চিল্ড ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, গত প্রায় দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে।

    তার দাবি, এর প্রায় পুরোটাই গুজরাট থেকে এসেছে।

    প্রশ্ন উঠছে, দেশের ইলিশের মৌসুমে ভারত থেকে এত মাছ কেন আমদানি করতে হচ্ছে?

    বাজারে ইলিশের সংকট

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল কারণ দামের পার্থক্য। বাংলাদেশে যে দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে, তার তুলনায় ভারত থেকে আমদানি করা মাছের দাম কয়েক গুণ কম পড়ে। ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য আমদানি লাভজনক হয়ে উঠেছে।

    যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইলিশ আমদানি করছে। তবে কেন এই আমদানি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই।

    মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    ইলিশ আমদানিকারকদের হয়ে কাজ করা একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. কামরুজ্জামান বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় ইলিশের সরবরাহ কম। এ কারণে ব্যবসায়ীরা আমদানি করছেন।

    তার ভাষায়, লাভ না থাকলে ব্যবসায়ীরা আমদানি করতেন না।

    তবে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি এবারই প্রথম নয়। গত বছরের জুলাইয়ে এ ধরনের আমদানি শুরু হয়েছিল।

    উৎপাদন কমছে বাংলাদেশে

    দেশে প্রায় দুই দশক ইলিশের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ার পর গত তিন বছর ধরে তা কমছে। একই সঙ্গে মাছটির গড় ওজনও কমতে শুরু করেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন গবেষকেরা।

    মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের হিসাবে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন ইলিশ উৎপাদিত হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরো কমে হয় ৫ লাখ ৪ হাজার টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুষ্ঠানিক হিসাব পাওয়া না গেলেও কর্মকর্তাদের ধারণা, উৎপাদন ৫ লাখ টনের নিচে নেমেছে।

    ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, নদীদূষণ, কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা নিধন, বালু উত্তোলনসহ নানা কারণে বাংলাদেশের জলসীমায় ইলিশের প্রাপ্যতা কমেছে। সাগর থেকে নদীতে ইলিশের আসার পথ বা মাইগ্রেটরি রুট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও এর কারণ হতে পারে।

    তিনি বলেন, নানা ক্ষতিকর উপায়ে মাছ ধরা এবং কীটনাশক ব্যবহারের কারণে ইলিশের প্রজনন ও বেড়ে ওঠার স্থানও হুমকির মুখে পড়েছে। ইলিশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    আমদানি করা ইলিশে বড় লাভ

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আমদানিকারকদের কয়েকজনের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আসা ইলিশের সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য পড়ে কেজিপ্রতি দুই ডলার বা প্রায় ২৪৬ টাকা, কখনো এরও কম। এরপর কাস্টমসসহ বিভিন্ন শুল্ক ও অন্যান্য খরচ যোগ হলেও বাংলাদেশের বাজারে একই ওজনের ইলিশের তুলনায় দাম কম থাকে।

    একজন কর্মকর্তা বলেন, এ কারণে আমদানিতে ব্যবসায়ীদের ভালো লাভ হচ্ছে। গত দুই মাসে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় যশোর অঞ্চলে আমদানি করা মাছও ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে।

    ঢাকার বাজারের সাম্প্রতিক চিত্রেও ইলিশের উচ্চমূল্য দেখা গেছে। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। এক কেজির বেশি ওজনের মাছের দাম প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং ৭০০ গ্রামের মাছ প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। বাংলাদেশে বিশ্বের মোট ইলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ উৎপাদিত হয়।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করে, বর্তমানে বিশ্বে উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়।

    উৎপাদন বাড়ানোর প্রকল্প, প্রশ্ন কার্যকারিতা নিয়ে

    ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২০২০ সালে ছয় বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু উৎপাদন কমতে থাকায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।

    মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, গত সরকারের সময়ে প্রকল্পটি কতটা কাজে লাগানো হয়েছে বা কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইলিশের উৎপাদন কমার কারণও বের করতে হবে।

    ভারত থেকে ইলিশ আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, ইলিশ আমদানি নিষিদ্ধ নয়। আগেও বিভিন্ন সময়ে অল্প পরিমাণে ইলিশ এসেছে। এবার বাজারে ইলিশ কম থাকায় ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    তার মতে, ইলিশ সাগরের মাছ। প্রজননের জন্য নদীতে আসে। ভারতের জেলেরা হয়তো সাগর থেকেই বেশি মাছ ধরে ফেলছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের মজুত কমছে। এসব কারণেই অল্প পরিমাণে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    গুজরাটে ইলিশের জোগান বেশি

    বাংলাদেশে যে ইলিশ আসছে, তার বড় অংশ গুজরাটের। পশ্চিমবঙ্গের মাছ রপ্তানিকারক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, এ বছর গুজরাটে ইলিশের জোগান অনেক বেশি হয়েছে। এতে সেখানে উদ্বৃত্ত মাছ তৈরি হয়েছে এবং দামও কমেছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুধু ইলিশের নয়, ইলিশের ডিমেরও বড় চাহিদা রয়েছে। গুজরাটের ইলিশ আকারে বড় এবং ডিমে ভরা থাকে। বাংলাদেশে ইলিশের ডিম প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশের বাজারেও রপ্তানি করা হয়।

    মাকসুদের তথ্য অনুযায়ী, গুজরাটের ভারুচ থেকে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাইকারি বাজার হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত ইলিশের এই বাণিজ্যিক পথ বিস্তৃত হয়েছে।

    ভারুচের ভাদভূতের কাছে মাছ ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সভাপতি চিমন ট্যান্ডেল বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে সেখানে ইলিশের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। সাধারণত এসব মাছ পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বাংলাদেশেও রপ্তানি করা হয়।

    তার ভাষ্য, ভাদভূত থেকে সরাসরি রেফ্রিজারেটেড ট্রাকেও বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানো হয়। পরিমাণ কম হলে ট্রেনের কনটেইনার ব্যবহার করা হয়। তবে বড় চালান সাধারণত ট্রাকে যায়।

    চিমন ট্যান্ডেলের হিসাবে, প্রতিদিন ভারুচ থেকে তিনটি ট্রাক ছাড়ে। প্রতিটি ট্রাকে গড়ে ২৫০টি বাক্স থাকে। প্রতি বাক্সে থাকে ৬০ কেজি ইলিশ।

    মৎস্যজীবী দীপকভাই মাচ্ছি বলেন, গুজরাটে ইলিশের মৌসুম জুনের মাঝামাঝি থেকে নবরাত্রি পর্যন্ত। বর্তমানে সেখানে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ ভারতীয় রুপি। তিন মাসের মৌসুমে ছোট আকারের জেলেদের কেউ কেউ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করেন বলে দাবি তাঁর।

    গুজরাটে সবচেয়ে বেশি ইলিশ পাওয়া যায় ভাদভূতের কাছে, যেখানে নর্মদা নদী সাগরে মিশেছে। এ ছাড়া জম্বুসার ও হানসোটেও ইলিশ পাওয়া যায়।

    পশ্চিমবঙ্গের বাজারেও বাংলাদেশি ক্রেতা

    হাওড়ার কালীবাবুর বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রথীকান্ত বার দাবি করেন, এ বছর বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও পশ্চিমবঙ্গের বাজারে গিয়ে খুচরা পরিমাণে ইলিশ কিনছেন। তাদের কেনা মাছের পরিমাণ প্রায় দেড় থেকে তিন মেট্রিক টন। তবে তারাও গুজরাট ও মহারাষ্ট্র থেকে আসা বড় আকারের ইলিশ বেশি পছন্দ করছেন।

    পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতা জয়কৃষ্ণ হালদার ইলিশের জোগানের এই পরিবর্তনের জন্য জলদূষণ ও শিল্পভিত্তিক মাছ ধরাকে দায়ী করেছেন।

    তিনি বলেন, নিষিদ্ধ গাছের ওষুধের ব্যবহার এবং শহরের বর্জ্য পানিতে ফেলা বন্ধ করতে বারবার বলা হলেও তা মানা হচ্ছে না। পাশাপাশি প্রায় সারা বছর বড় মোটরচালিত নৌযান দিয়ে শিল্পভিত্তিক মাছ ধরার কারণে সাধারণ জেলেদের মাছের জোগানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ গত অর্থবছরে ইলিশ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারেনি। কর্মকর্তাদের হিসাবে, ১ হাজার ২০০ টন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সে বছর ১১০ টনেরও কম ইলিশ রপ্তানি হয়েছে।

    ফলে একদিকে দেশে ইলিশের উৎপাদন ও সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে বাজারের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে আমদানি বাড়ছে। ইলিশ উৎপাদনে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে উৎপাদন কমার কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

  • পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০টি

    পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ, শোকজ আরও ১০০টি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারের নির্দেশে ২৫২টি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধের নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং আরও ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ দেওয়া হয়েছে। বন্ধের নির্দেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই ‘খারিজি মাদ্রাসা’।

    রাজ্যটির বিজেপি সরকারের দাবি, এসব মাদ্রাসা কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।

    রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা যায় গত ২২ জুলাই কলকাতাসহ সব জেলায় মাদ্রাসাগুলোতে সমীক্ষা চালানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন, কত অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং কত অনুমোদনহীন মাদ্রাসা রয়েছে, তা সমীক্ষা করতে হবে। এরপর জেলায় জেলায় শুরু হয় যাচাই পর্ব।

    সেই সমীক্ষার রিপোর্টে জানা যায় রাজ্যের প্রায় দুই হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসায় সরকারি অনুমোদন নেই। পরিকাঠামো, পাঠক্রম এবং ছাত্রছাত্রীদের যাবতীয় তথ্য যাচাইয়ের পর অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের পদক্ষেপ নেয় দপ্তর।সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা শাসকদের কাছে এ সংক্রান্ত নোটিশের কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে মাদ্রাসাগুলোকে শোকজ করা হয়েছে, তাদের যথেষ্ট পরিকাঠামো নেই। নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে না পারলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেবে বলেও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।ভারতে শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে উত্তরাখণ্ড সরকারও। এরমধ্যে সেখানে একাধিক মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সে রাজ্যের সংখ্যালঘু শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

  • ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

    ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়, বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ক চাই। অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বলেছিলেন। আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না।’

    সোমবার সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে স্পিকার বলেন, ব্রিকসের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারত এখন পর্যন্ত খোলাখুলিভাবে কোনো নীতি জানায়নি। এ ক্ষেত্রে অপর পক্ষের উৎসাহও দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি। বিশেষ করে পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে তারা আশ্রয় দিয়েছে এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। এটিকে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ মনে করে না বাংলাদেশ।

    তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে আমরা আশা করব ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারাও যে সুসম্পর্ক চায়, তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি রাষ্ট্রের যে ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত, আমরা সেই ধরনের সম্পর্ক চাই।’

    আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৭ বছর, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের প্রতিটি স্তর ও বিভাগে ধস নেমেছে। হত্যা, গুম, খুন, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বিগত সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড দেশকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অনেক সময় লাগবে।

    জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আইন-কানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে মতৈক্য না হওয়ায় অসুবিধা দেখা দিয়েছে।

    নিজেকে নিরপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করছি। আশা করি, বিএনপি ও বিরোধী দল মিলে যদি একটা সমঝোতায় আসে, তাহলে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে।’

    স্পিকার বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দল একমত হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইন পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ হলে এর প্রকৃত ফল পাওয়া যাবে এবং জনগণ দীর্ঘদিনের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাবে।

    এ সময় জনগণের বাক্‌স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া, গুম-খুন-হত্যা এবং ভোলা-বরিশাল সেতু নিয়েও কথা বলেন স্পিকার।

    পরে ‘আমরা ভোলাবাসী’র নেতৃবৃন্দ ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। নতুন মহাসড়কেরও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এর মধ্যে যেটি ভালো হবে, সরকার সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

    এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

    ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির মধ্যে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

    আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

    চিফ হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে সেই বন্ধুত্ব কোনোভাবেই দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হতে দেওয়া হবে না।

    চিফ হুইপ বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও কোনো বন্ধুদেশের দুটি জাহাজ একসঙ্গে বন্দরে এলে আগে বন্ধুদেশের জাহাজ খালাস করার মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা ও চুক্তি আগের সরকার করে গেছে। দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার।

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ভারতের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

    এ সময় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, নয় কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

    চিফ হুইপ বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত বিলের মাধ্যমে মা-বাবা জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পদ দান করার পরও তাঁদের ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের নেতারা ওয়াকআউট করায় সরকারি দলের সদস্যরা মর্মাহত হয়েছেন।

    বিদ্যুৎ-সংকট প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, নতুন একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিভিন্ন কেন্দ্রকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমান সরকার আগের দায়মুক্তির ব্যবস্থা বাতিল করেছে বলেও জানান তিনি।

  • আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

    আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

    ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে দেশে বাড়ছে লোডশেডিং।

    কয়লা স্বল্পতার কারণে এক মাস ধরে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উৎপাদন বাড়ছিল। কিন্তু গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

    বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি জানিয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রটির সক্ষমতা এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করছে তারা। ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে এক পর্যায়ে সরবরাহ এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে উৎপাদন ৭৩২ মেগাওয়াটে নেমে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় আদানি থেকে পাওয়া গেছে ৭৩২ মেগাওয়াট। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় ৭৩৪, ৯টায় ৭৩৭, ১০টায় ৭২৪ ও সকাল ১১টায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার।

    ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ঝাড়খন্ডের আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই, উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল এবং আদানির ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার ফলে আজ তা আরও বাড়তে পারে।

    গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে এবং তা দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছে।

    সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, পিডিবি গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লা থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ফলে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহের বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

    আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • দুর্গাপূজায় পদ্মার ইলিশ চেয়ে বাংলাদেশকে ভারতের চিঠি

    দুর্গাপূজায় পদ্মার ইলিশ চেয়ে বাংলাদেশকে ভারতের চিঠি

    ভাষা, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের মিলের কারণে দুই বাংলার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের অন্যতম প্রতীক পদ্মার ইলিশ। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে আবার পদ্মার ইলিশ চেয়ে আবেদন জানিয়েছে ভারতের ব্যবসায়ীরা।

    দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার লাখ লাখ ইলিশপ্রেমীর আগ্রহ পূরণ হচ্ছে না। এ অবস্থায় পূজার বাজারে বাংলাদেশের ইলিশ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ভারতের এই ব্যবসায়ী সংগঠন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে।

    শুধু চিঠি নয়, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সফরও করেছেন ভারতের ফিশ ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। তারা বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।

    ভারতের ব্যবসায়ীদের দাবি, দুর্গাপূজার সময় দুই বাংলার মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা থাকে ব্যাপক। এ কারণে পূজার আগে সীমিত পরিমাণে হলেও পদ্মার ইলিশ রপ্তানির সুযোগ চান তারা।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পূজা উপলক্ষে ইলিশ মাছ রপ্তানির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠি পেয়েছি। কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা যায় তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।

    ভারতীয় ব্যবসায়ীদের চিঠিতে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর গড়ে পাঁচ হাজার টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হচ্ছিল। কিন্তু ২০১২ সালের পর থেকে অজ্ঞাত কারণে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকার কেবল দুর্গাপূজার সময় নির্দিষ্ট এক মাসের জন্য ইলিশ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়ে আসছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এই স্বল্পমেয়াদি ও সীমিত অনুমতি শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো সুফল বয়ে আনে না।

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষে ইলিশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, স্থায়ীভাবে ইলিশ রপ্তানি উন্মুক্ত করা হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে এবং ভারতের জনগণ, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যপ্রেমী মানুষ কৃতজ্ঞচিত্তে তা স্মরণ রাখবে।

    চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও, এবার তা আরো আগে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো কঠোর সময়সীমা জুড়ে না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, যাতে সর্বোচ্চ পরিমাণে ইলিশ রপ্তানি করা সম্ভব হয়।

    অভিযোগ রয়েছে, অতীতে অনেক সময় শিল্পের বাইরের ব্যক্তিদেরও ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তারা কার্যকরভাবে কোনো ইলিশই ভারতে পাঠাতে পারেননি। তাই ভুঁইফোড় ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে কেবল প্রকৃত ও অভিজ্ঞ রপ্তানিকারকদেরই এই অনুমতি দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ বিরতির পর ভারতে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ। এরপর ২০২০ সালে এক হাজার ৮৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও পরিমাণ অনুযায়ী রপ্তানি হয়নি। ২০২১ সালে চার হাজার ৬০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে পাঠানো হয় ১২০০ টন ইলিশ।

    ২০২২ সালে দুই হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৩০০ টন। ২০২৩ সালে তিন হাজার ৯৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও ভারতে গেছে এক হাজার ৩০০ টন। ২০২৫ সালে দুই হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৫৭৭ টন। সর্বশেষ গত বছর এক হাজার ২০০ টন রপ্তানির অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে গেছে মাত্র ১৫০ টন ইলিশ।

    পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ আমার দেশকে বলেন, আমরা আশাবাদী, এ বছর বেশি পরিমাণ ইলিশ আনতে পারব। ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছি।

    তিনি আরো বলেন, রপ্তানির সময় এক মাস বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু এ সময় অনুমোদন পাওয়া সব মাছ আমরা আনতে পারি না। এজন্য সময়সীমা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইলিশের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে ভালো হয়।

  • ধসে পড়ল পাঁচতলা ভবন, বহু শিক্ষার্থী আটকে পড়ার আশঙ্কা

    ধসে পড়ল পাঁচতলা ভবন, বহু শিক্ষার্থী আটকে পড়ার আশঙ্কা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতনে একটি ছয়তলা ভবন ধসে বেশ কয়েকজনের আটকা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত চারজনকে । ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

    ভবনটি পেইং গেস্ট থাকার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রোববার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ে।

    এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভবন ধসের সময় সেখানে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার হওয়ায় তাদের বেশির ভাগই ‘বাড়িতে’ ছিলেন বলে জানান তিনি।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শিক্ষার্থী বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিনি সাহায্যের জন্য মানুষের চিৎকার শুনতে পেয়েছেন।

    ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, ভবনটি ধসে পড়ার পর সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি কংক্রিটের একটি স্ল্যাবের নিচে আটকে আছেন। তাকে উদ্ধারে আশপাশের কয়েকজন মিলে স্ল্যাবটি সরানোর চেষ্টা করছেন।

    উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে দমকল বাহিনীর অন্তত ১২টি গাড়ি । দমকল বাহিনীর সঙ্গে কাজ করতে দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত সত্য নিকেতন এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বসবাস। ভবন ধসের খবর পেয়ে বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকারীদের সহায়তা করছেন।

  • ভারতে সার্কিট হাউজে নামাজ পড়ায় পুলিশের মামলা

    ভারতে সার্কিট হাউজে নামাজ পড়ায় পুলিশের মামলা

    ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের সার্কিট হাউসে নামাজ আদায়ের অভিযোগে সমাজবাদী পার্টির জেলা সহসভাপতি হাজি মোহাম্মদ উসমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৫ ও ২৯২ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

    একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পার্ক করা গাড়ির পেছনে উসমান নামাজ আদায় করছেন। পুলিশের দাবি, এতে সার্কিট হাউসে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। তবে ভিডিওতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে দেখা যায়নি।

    উসমান সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক মোহাম্মদ ফাহিম ইরফানের চাচা। দলীয় নেতাদের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা লাল বিহারি যাদবের বৈঠকে যোগ দিতে তিনি সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন।

    পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সহকারী প্রকৌশলী অনিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরটি করা হয়। এর আগে নামাজের ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশ সরকার সড়কে নামাজ পড়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেও সরকারি স্থাপনায় নামাজ পড়া বেআইনি নয়।

    সূত্র: দ্য ওয়্যার

  • ভারতের বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে  মাদরাসা

    ভারতের বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে মাদরাসা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের উত্তরাখণ্ডে একের পর এক মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে ২০টি মাদরাসা বন্ধ করে দিয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার। অজুহাত হিসেবে প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, এসব মাদরাসার অনুমোদন নেই এবং এগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া হয় না।

    এরই ধারাবাহিকতায় দেরাদুন ও হালদোয়ানিতে কয়েকটি মাদরাসা সিলগালা করেছে প্রশাসন। উত্তরাখণ্ডের সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ সচিব পরাগ মধুকর ধাকাতে জানিয়েছেন, দেরাদুনে তিনটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজাদ কলোনিতে অবস্থিত মাদ্রাসা জামিয়া-তুস-সালাম আল-ইসলামিয়া সিলগালা করা হয়েছে। একই এলাকার মাজরায় অবস্থিত মাদ্রাসা দার-ই-আরকাম এবং মাদ্রাসা দারুল উলুম রহিমিয়ার কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

    ঢাকাতে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত রাজ্যে ১৭টি মাদ্রাসা সিলগালা করা হয়েছে। আরো তিনটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফলে রাজ্যে মোট ২০টি মাদরাসার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।’

    এদিকে, নৈনিতাল জেলার হালদোয়ানিতেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। শহরের গৌজাজালি নর্থের শনি বাজার রোডে অবস্থিত মাদরাসা জামিয়া নূরিয়া বরকাতে আমিনা এবং বানভুলপুরার ইন্দিরা নগরের আরেকটি মাদরাসা সিলগালা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    হালদোয়ানির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট এ বি বাজপেয়ী জানান, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী সিলগালার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নির্ধারিত বিধি ও স্বীকৃতির শর্ত পূরণ না করে পরিচালিত না হয়।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • তিন জন্মসনদে তিন বয়স, নিষিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটার

    তিন জন্মসনদে তিন বয়স, নিষিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেটার

    একজনেরই তিন জন্মদিন!

    বাস্তবে সম্ভব নয়। তবে কাগজে-কলমে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লেগ স্পিনার রোহিত যাদবের জন্মসাল তিনটি—২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০। মাসখানেক আগেও শ্রীলঙ্কা সফর করে আসা এই ক্রিকেটারকে বয়সের তথ্য জালিয়াতির দায়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই।

    ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) তাদের খেলোয়াড়দের জন্য প্রাক্‌–মৌসুম নথিপত্র যাচাই কর্মসূচি পরিচালনা করার সময় রোহিতের বিষয়ে গরমিল পায়। পিটিআই জানিয়েছে, ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০—এই তিনটি ভিন্ন জন্মসনদ পাওয়া গেছে তাঁর নামে।

    ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, রোহিতের আধার কার্ডের তথ্যেও ছিল গরমিল। সিএবির নিবন্ধনে তাঁর জন্মসাল ২০০৭। অন্যদিকে ২০১৭ ও ২০২০ সালে হালনাগাদ করা আধার রেকর্ডে জন্মসাল ছিল ২০০৬। পরে ২০২১ সালে সেটি পরিবর্তন করে করা হয় ২০০৯।

    বয়স নিয়ে এত রকম তথ্য পাওয়ার পর আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরের ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে রোহিতকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

    রোহিত একা নন। একই ধরনের বয়সের গরমিলের কারণে আরও ৬৪ ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে সিএবি। তাঁদের মধ্যে আছেন ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের পেসার রবি কুমারও। ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তাঁর সব রেকর্ড বাতিল বলে গণ্য হবে। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো জানিয়েছে, রবি কুমারের ক্ষেত্রে বয়সের গরমিল ছিল ৪০ মাসের বেশি।

    বয়স জালিয়াতি ঠেকাতে অতীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বিসিসিআই। ২০২০ সালে দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি সাধারণ ক্ষমার একটি পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেছিল সংস্থাটি। সেই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত খেলোয়াড়েরা স্বেচ্ছায় বয়সের গরমিল স্বীকার করে সঠিক জন্মতারিখ জমা দিলে সাময়িক বরখাস্ত এড়াতে পারতেন। তবে পরে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে তাঁদের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হতো।