ব্যারিস্টার ফুয়াদ

  • ছাত্রশিবির করে কী পেয়েছেন, জানালেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ

    ছাত্রশিবির করে কী পেয়েছেন, জানালেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ

    কৈশোর ও তরুণ বয়সে বিপথগামী না হয়ে একটি পরিচ্ছন্ন বন্ধু বলয় পাওয়া এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বাইরে ইসলামের সামগ্রিক দর্শন ও বড় স্কলারদের রচনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামী ছাত্রশিবির বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

    সম্প্রতি এক পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অতীত রাজনৈতিক জীবন এবং বেড়ে ওঠার নানা পর্বের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।পারিবারিক পটভূমি তুলে ধরে ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান, তিনি একটি বামপন্থী ঘরানার পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তার বাবা ছাত্র ইউনিয়ন ও জাসদের রাজনীতি করতেন এবং চাচা ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। শৈশবে বাম সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত থাকায় তিনি নিজেও অল্প সময় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কিছু সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

    ছাত্রশিবিরে যুক্ত থেকে ব্যক্তিগত জীবনে কী অর্জন হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দুটি ক্ষেত্রে সংগঠনের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    তিনি বলেন, ‘প্রথমত, যে বয়সটাতে তরুণরা বন্ধুবান্ধবের পাল্লায় পড়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারত, খারাপ সঙ্গে জড়িয়ে ড্রাগ কিংবা ধূমপানের মতো বিপথে পা বাড়াতে পারত—সেই সময়টাতে আমরা একটি ভালো সঙ্গ পেয়েছি। নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একটি চমৎকার বন্ধু সার্কেল তৈরি হয়েছিল। এই ইতিবাচক বলয় তৈরির ক্রেডিট অবশ্যই শিবিরকে দিতে হবে।’

    দ্বিতীয় অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিবির আমাকে খুব বেশি ইসলাম শিখিয়েছে তা নয়, তবে ইসলামের বিশাল পরিসরের সঙ্গে তারা আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। শুধু নামাজ-রোজার মধ্যেই যে ইসলাম সীমাবদ্ধ নয়, এর বাইরেও একটি পূর্ণাঙ্গ দর্শন আছে এবং এ নিয়ে বিশ্বমানের বড় বড় আলেম ও স্কলারদের কালজয়ী বই-পুস্তক রয়েছে—সেগুলোর সঙ্গে তারা আমাকে যুক্ত করেছে।’

    ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরো উল্লেখ করেন, পরবর্তী জীবনে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর পর তিনি বাম ও ডান উভয় ধারার রাজনীতি থেকেই সরে এসে নিজস্ব গবেষণায় যুক্ত হন। তবে জীবনের ওই পর্যায়ে ছাত্রফ্রন্টের পাঠচক্র ও শিবিরের পাঠাভ্যাস উভয়ই তার চিন্তাশক্তি ও শৃংখলাবোধ গঠনে ভূমিকা রেখেছিল। তিনি স্পষ্ট করেন, মতাদর্শের অন্ধত্ব নয়; বরং রাজনীতিকে হতে হবে গণমানুষের নিত্যদিনের সমস্যা সমাধান ও বাস্তবমুখী নাগরিক সেবার প্রধান মাধ্যম।