বেতন

  • মাসের শুরুতেই বেতন পাচ্ছেন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা

    মাসের শুরুতেই বেতন পাচ্ছেন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা

    মাসের শুরুতেই বেতন পাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের। দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মাসের শুরুতেই বেতন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। ছয় মাসের মধ্যেই সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    মাউশি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বুধবার বেতনের ডাটা আইবাসে পাঠানো হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শিক্ষক-কর্মচারীরা সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা পেতে পারেন।

    মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মাসের শুরুতেই বেতন দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, এবার ১ অক্টোবরই শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পাবেন।’

    এর আগে আগস্ট মাসের বেতন-ভাতা ৩ সেপ্টেম্বর পেয়েছিলেন প্রায় পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী। মাসের শুরুতে বেতন পাওয়ায় বাড়িভাড়া, সন্তানদের শিক্ষা ব্যয়সহ অন্যান্য খরচ পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনা করা সহজ হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

  • ইএফটিতে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, তথ্য হালনাগাদের নির্দেশ

    ইএফটিতে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, তথ্য হালনাগাদের নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সব এমপিওভুক্ত মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারে (ইএফটি) বেতন-ভাতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে অনলাইনে তথ্য সংশোধন ও হালনাগাদ করার নির্দেশনা দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। নির্ধারিত ছক অনুযায়ী তথ্যগুলো সঠিকভাবে সংগ্রহ করে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রস্তুত রাখার জন্য বলা হয়েছে।

    গতকাল রোববার মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। দেশের সব মাদরাসার অধ্যক্ষ ও সুপারদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওর অর্থ বিতরণ সহজীকরণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইএফটির মাধ্যমে ‘গভর্নমেন্ট টু পার্সন’ (জিটুপি) পদ্ধতিতে সরাসরি নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। এ লক্ষ্যে অনলাইন এমপিও সিস্টেমের প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ইএফটির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য আবশ্যিকভাবে সঠিক হতে হবে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্ধারিত ছক পূরণ ও স্বাক্ষর করে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে জমা দেবেন এবং এর একটি সফট কপি নিজ দায়িত্বে সংরক্ষণ করবেন। প্রতিষ্ঠান প্রধানেরা এই তথ্যগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবেন। পরবর্তীতে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সফটওয়্যারের লিংক ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ অনলাইনে এই তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকল তথ্য নির্ভুল না থাকলে ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো বেতন-ভাতা শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে না। এই কারণে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে সংযুক্ত ছকের সকল তথ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ ও প্রস্তুত রাখার জন্য মাদরাসার অধ্যক্ষ, সুপার ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে স্কেলের গেজেট

    আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে স্কেলের গেজেট

    সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ ঠিক করবে মন্ত্রিসভা। এর পর আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট জারি হতে পারে। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যেভাবেই হোক ১ জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নতুন পে স্কেলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আরও দুই থেকে তিন দিন সচিব কমিটি কারিগরি কিছু দিক নিয়ে বিশ্লেষণ করবে। এর পর সচিব কমিটির সুপারিশ চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠবে। মন্ত্রিসভায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) জন্য তা যাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। এর পর প্রধানমন্ত্রী সারসংক্ষেপ অনুমোদন করলে গেজেট জারি হবে।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন হবে।

    অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে বাস্তবায়ন কমিটি তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সুপারিশ করেছিল। এর পর সুপারিশ ছিল দুই ধাপে বাস্তবায়নের। সর্বশেষ গতকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। কারণ, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়। সে অনুযায়ী সরকার এই অর্থ কীভাবে জোগান দেবে, সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন সচিব কমিটির সদস্যরা।

    বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের প্রায় ১১ বছর ধরে বেতন বাড়েনি। তাই নতুন পে স্কেলে যেন কারও বঞ্চনা বা ক্ষোভ না থাকে, সে জন্য ভালোভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ জন্য আরও দুই থেকে তিনটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগস্টের শুরুতে গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। তিনি বলেন, বাড়তি বেতন-ভাতা দেওয়ার সঙ্গে অনেক অর্থের সংশ্লেষ রয়েছে। এর সঙ্গে সরকারের সক্ষমতার বিষয় আছে। তাই নতুন পে স্কেল কয় ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে সচিব কমিটি কোনো মতামত দেবে না। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

    জানা যায়, নতুন বেতন কাঠামোয় শুধু মূল বেতন নয়; বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও রয়েছে। এসব সুবিধার বিষয়ে একাধিক এসআরও (বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ) জারি করতে হবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার কমিটির বৈঠক শেষে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত এসআরও এবং বিধিবিধানের খসড়া তৈরি করতে বলা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিগত পে স্কেলের চিত্র তুলে ধরতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কমিটির নির্দেশনার আলোকে কাজ করছেন।

    সর্বশেষ পে স্কেল বাস্তবায়ন হয়েছে দুই ধাপে
    সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী সমকালকে বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালের পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রথম বছরে বেতন এবং পরের বছর ভাতা দেওয়া হয়েছিল। সার্বিক বিবেচনায় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নই বাস্তবসম্মত। সচিব কমিটি দুই ধরনের প্রস্তাবই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে পারে। এরপর মন্ত্রিসভা যেটি ভালো মনে করবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে।

    ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দেয়, তাতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া বৈশাখী ভাতার হার বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ এবং যাতায়াত ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ব্যাপক সংস্কারের কথা বলা হয়। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

    এই কমিটির মূল দায়িত্ব হলো– জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সুপারিশ করা।