ট্যাগ বিশ্বকাপ ফুটবল- ২০২৬

  • আর্জেন্টিনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে শাস্তি তুলে নিচ্ছে ফিফা

    আর্জেন্টিনার অনুরোধে সাড়া দিয়ে শাস্তি তুলে নিচ্ছে ফিফা

    ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তো কম হয়নি। বিশেষ করে ফাইনাল শেষে স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোয় আর্জেন্টিনার ফুটবলার-কোচদের শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। অবশেষে তাঁরা পেলেন সুখবর। ফিফা সেই শাস্তি তুলে নিচ্ছে।

    আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) গতকাল নিশ্চিত করেছে যে ফুটবলার-কোচদের শাস্তি তুলে নিতে ফিফার কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা তা অনুমোদন করেছে। এক বিবৃতিতে এএফএ বলেছে, ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের এবং নিজেদের খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষায় সিদ্ধান্তগুলোর বিস্তারিত কারণ জানার অপেক্ষায় রয়েছে। এরপর ফিফার আপিল কমিটির কাছে যথাযথ আবেদন করা হবে। প্রয়োজনে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে ক্রীড়া আদালতে যাব।’

    ১৯ জুলাই নিউজার্সির ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর লেয়ান্দ্রো পারেদেস মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি। এমনিতেই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে একটা হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। রানার্সআপ হওয়ার পর পারেদেস স্পেনের দুই ফুটবলার গাভি ও দানি অলমোর গলা চেপে ধরেছিলেন। জোড়া হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখার পর ফিফা সেই শাস্তি তুলে নিয়েছিল।

    পারেদেসের শাস্তি তুলে নেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে ফিফা আর্জেন্টিসা-স্পেন ফাইনাল নিয়ে তদন্ত করে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা এরপর পারেদেসকে ১০ ম্যাচ, নাউয়েল মলিনাকে ৭ ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদাকে ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়। তাছাড়া গলা চেপে ধরার কাণ্ডে জড়িত থাকায় সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা জড়িত থাকায় তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়।

    মলিনা-পারেদেসদের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী কোপা আমেরিকা বা বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কথা থাকলেও এএফএর পক্ষ থেকে ফিফার কাছে বিশেষ অনুরোধ করা হয়। ফুটবলাররা যেন অফিশিয়াল টুর্নামেন্টের বাইরে প্রীতি ম্যাচগুলোতেও তাঁদের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে পারেন, সেই অনুরোধ করেছে এএফএ।বিশ্ব
    ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা আর্জেন্টিনার এই আবেদন মঞ্জুর করেছে। দরকার পড়লে ক্রীড়া আদালত পর্যন্ত যাওয়ার চিন্তা করছে এএফএ।

    আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। স্পেনের মতো ফ্রান্সও দুইবার জিতেছে বিশ্বকাপ। সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। জার্মানি-ইতালি চারবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। আর্জেন্টিনা তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছে।

  • পতাকা বিতর্কে বিশ্বকাপজয়ীদের সংবর্ধনা বাতিল করল বার্সেলোনা

    পতাকা বিতর্কে বিশ্বকাপজয়ীদের সংবর্ধনা বাতিল করল বার্সেলোনা

    স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড়দের মৌসুমের প্রথম হোম ম্যাচে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল বার্সেলোনা।

    তবে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাপন্থী প্রতীক এস্তেলাদা পতাকা ঘিরে সৃষ্ট ঘটনার পর সেই আয়োজন বাতিল করেছে লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

    বৃহস্পতিবার অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে স্প্যানিশ লিগের হোম ম্যাচে নামার আগে ক্যাম্প ন্যুতে এস্তেলাদার সমর্থনে একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় একটি সংগঠনের আয়োজনে সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ছোট পতাকা বিতরণ করা হয়। গ্যালারিতেও দেখা যায় বড় আকারের বেশ কিছু পতাকা ও ব্যানার। বার্সার সংগীত বাজানোর সময় সমর্থকেরা পতাকাগুলো উঁচিয়ে ধরেন।

    ম্যাচের আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক হাজার সমর্থক ক্যাম্প ন্যুর আশপাশে এস্তেলাদা হাতে মিছিলও করেন।

    বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলে বার্সার আটজন খেলোয়াড় ছিলেন। এরা হলেন জোয়ান গার্সিয়া, এরিক গার্সিয়া, পেদ্রি, পাউ কুবার্সি, গাভি, রদ্রি, দানি ওলমো ও লামিনে ইয়ামাল। কোনো ক্লাবের মধ্যে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। এ কারণেই তাঁদের সম্মান জানাতে বিশেষ সংবর্ধনার পরিকল্পনা করেছিল বার্সা।

    তবে গত সপ্তাহে এলচের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বার্সার এক তরুণ সমর্থকের কাছ থেকে পুলিশ এস্তেলাদা পতাকা নিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ওই সমর্থক পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ালে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে আটক করা হয়।

    এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে বার্সা। ক্লাবটির দাবি, এস্তেলাদা একটি আইনসম্মতভাবে স্বীকৃত প্রতীক এবং এটি প্রদর্শন করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বৈধ প্রয়োগ। একই সঙ্গে সমর্থককে আটকের পদ্ধতিকেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে বার্সা। পুলিশের বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় যৌক্তিকতা ছিল না বলে মনে করে ক্লাবটি।

    বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা বাতিলের ব্যাখ্যায় বার্সা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা বলেন, ‘এই মুহূর্তে এমন কিছু আয়োজন করা যাচ্ছে না। ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ করা উচিত। সংঘাত তৈরি করা যাবে না।’

    বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতে এর আগে দেশটির অন্যান্য ক্লাবও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন আয়োজন করেছে। সেসব অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ ট্রফি প্রদর্শনের পাশাপাশি স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেকেও উপস্থিত রাখা হয়েছিল। তবে বার্সার ক্ষেত্রে এস্তেলাদা পতাকা ঘিরে তৈরি উত্তেজনার কারণে সেই ধারাবাহিকতা আর থাকল না।

  • সুয়ারেজের কামড়ের চেয়েও বেশি শাস্তি, ফিফার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল আর্জেন্টিনা

    সুয়ারেজের কামড়ের চেয়েও বেশি শাস্তি, ফিফার রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলল আর্জেন্টিনা

    ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েল্লিনিকে কামড়ে দিয়েছিলেন লুইস সুয়ারেজ। সেই ঘটনায় উরুগুয়ের তারকাকে ৯ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। ১২ বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপে ফাইনাল-পরবর্তী হাতাহাতির ঘটনায় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস পেয়েছেন ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। সুয়ারেজের সেই শাস্তির সঙ্গে তুলনা টেনে পারেদেসের সাজা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর মাঠে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়। স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরা এবং গাভিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পারেদেসকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। সঙ্গে তাঁকে ৯০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

    এএফএর আইনি উপদেষ্টা আন্দ্রেস পাটোন উরিচের দাবি, পারেদেসের শাস্তি তাঁর কাজের তুলনায় ‘স্পষ্টতই অতিরিক্ত’। ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে শাস্তি কমানোর চেষ্টা করবে আর্জেন্টিনা।

    ডি স্পোর্টস রেডিওকে উরিচ বলেছেন, ‘পারেদেসের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যদি ২০১৪ সালে সুয়ারেজের ঘটনাটির তুলনা করেন, প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার পরও সে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিল। অথচ পারেদেস পেয়েছে ১০ ম্যাচ। আমাদের মতে, আরও গুরুতর কিছু ঘটনার ক্ষেত্রেও একই বা কম শাস্তি হয়েছে।’

    শুধু সুয়ারেজের ঘটনাই নয়, অন্য একটি নজিরের কথাও তুলেছেন উরিচ। তাঁর দাবি, এক ইউরোপীয় ফুটবলার নাৎসি প্রতীক প্রদর্শন করে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। এএফএর মতে, শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে এসব নজির পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

    এ বিষয়ে উরিচের কথা, ‘আমরা ভিডিওগুলো ফ্রেম ধরে ধরে দেখেছি। আমাদের ধারণা ছিল, শাস্তি এর চেয়ে কম হওয়া উচিত ছিল। পারেদেস ও মলিনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টতই অতিরিক্ত।’

    এভাবে মাটিতে পড়ে যান গাভি

    এভাবে মাটিতে পড়ে যান গাভি রয়টার্স

    পারেদেসের পাশাপাশি নাহুয়েল মলিনাকেও ৭ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাঁকেও ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালা পেয়েছেন ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা।

    তবে থিয়াগো আলমাদার ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন এএফএর আইনি উপদেষ্টা। ফলে পারেদেস, মলিনা ও আয়ালার শাস্তি কমানোর দিকেই মূলত নজর দিচ্ছে সংস্থাটি।

    এএফএ এখন ফিফার সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ কারণ জানতে চাইবে। এরপর প্রমাণ ও আইনি যুক্তি দিয়ে আপিল করা হবে। আপিল কমিশনও যদি শাস্তি বহাল রাখে, তাহলে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) যাওয়ার কথাও ভাবছে আর্জেন্টিনা।

    আর্জেন্টিনার সামনে অবশ্য একটি পুরোনো নজিরও আছে। ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সহকারী রেফারিকে গালাগাল করার অভিযোগে লিওনেল মেসিকে ৪ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে আপিলে সেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

    সেই নজিরে এবার পারেদেস ও মলিনাদের শাস্তিও কমানোর আশা করছে এএফএ। তবে আপাতত তাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—প্রতিপক্ষকে কামড় দেওয়ার জন্য সুয়ারেজের শাস্তি যেখানে ছিল ৯ ম্যাচ, সেখানে বিশ্বকাপ ফাইনালের হাতাহাতির ঘটনায় পারেদেসকে কেন এক ম্যাচ বেশি নিষিদ্ধ করা হলো?

  • বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালের ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে যে নানা প্রশ্ন ও ষড়যন্ত্রের গল্প ছড়িয়েছিল, এবার তার জবাব দিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কথা বলেছেন এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাঠে কোনো রহস্যজনক ঘটনা ঘটেনি, বরং শিরোপার জন্য সর্বোচ্চটা দিয়েই লড়েছিল দল।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গত মাসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন। ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের আচরণ ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। সেখান থেকেই জন্ম নেয় ‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে মূল ধারার অনেক সংবাদ মাধ্যমই প্রচার করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা দলে ‘কিছু একটা ঘটেছিল’।

    ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে এএফএ। সেখানে পুরো বিশ্বকাপ অভিযানের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের লড়াইয়ের প্রশংসা করা হয়। ভিডিওর ধারাভাষ্যে বলা হয়, ‘এক মাস আগে কিছু একটা ঘটেছিল। অনেকেই চায়নি সেটা ঘটুক, কিন্তু সেটাই ঘটল। আর্জেন্টিনা আরেকটি ফাইনালে খেলল। যদিও অনেকে এটা এড়িয়ে যেতে চান। আমরা প্রতিটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছি। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে বিদায় করে ইতিহাস গড়েছি।’

    ফাইনালের পর ওঠা ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব নিয়ে এএফএর অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব ধরনের আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা সত্ত্বেও আমরা ঠিকই ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। তাই কেউ যখন বলবে, কিছু একটা ঘটেছিল, শুধু বলবেন, হ্যাঁ। আসলে যা ঘটেছিল তা হলো, একটি দল জেতার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। তারা শেষ পর্যন্ত লড়েছে, কখনো হাল ছাড়েনি। সবকিছু জেতার পরও এই দফায় তাদের হেরে যেতে হয়েছে।’

    ভিডিওর শেষ দিকে দেখানো হয় ফাইনাল শেষে রানার্সআপের পদক নেওয়ার সময় আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্ত। এরপর নেপথ্য ধারাভাষ্যকার ভিডিও শেষ করেন এভাবে, ‘আমাদের অধিনায়কের কান্না আমাদের আরেকবার শিখিয়ে দিয়েছে যে আপনি হারতে বা জিততে পারেন; কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, কখনোই হাল ছাড়া যাবে না।’

    এএফএর এই বার্তার পাশাপাশি সরব হয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে ছড়ানো অভিযোগকে ‘নিকৃষ্ট প্রচারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

    তাপিয়ার অভিযোগ, ফাইনালের পর কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিত্ব এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন, যেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন। তার দাবি, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল শেষ হওয়ার পর থেকেই দলটির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা শুরু হয়।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ তাপিয়া এ কারণে যে, ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও যারা এসব অভিযোগ তুলেছিলেন, তাদের কেউ নিজেদের ভুল স্বীকার করেননি। তার ভাষায়, এখনো কেউ প্রকাশ্যে বলেনি, ‘আমরা ভুল ছিলাম।’

    তাপিয়া আরও বলেন, খেলোয়াড়েরা যখন মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছিলেন, তখন তাদের বিরুদ্ধে বাইরে থেকে ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ানো হচ্ছিল। জাতীয় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তার। এএফএ সভাপতি মনে করেন, এমন অভিযোগকে নীরবে মেনে নেওয়া উচিত নয়। সময়ের সঙ্গে বিষয়টি চাপা পড়ে যাবে, এমন অপেক্ষাও করতে রাজি নন তিনি। বিশেষ করে কোনো প্রমাণ ছাড়াই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলার বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না বলে স্পষ্ট করেছেন তাপিয়া।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার মতো অভিযোগের পর বিষয়টি আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। যারা এমন অভিযোগ তুলেছেন, তাদেরই এখন নিজেদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে।

    সবশেষে কোচিং স্টাফ, সাপোর্ট স্টাফ ও খেলোয়াড়দের পাশে থাকার কথা জানিয়ে তাপিয়া বলেন, যারা মাঠে নিজেদের সবটুকু দিয়ে লড়েছেন, তাদের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যাখ্যা দিতে হবে তাদের, যারা প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়েছেন।

  • ‘ভালো ফুটবলার, ভালো মানুষ’—এভাবেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন

    ‘ভালো ফুটবলার, ভালো মানুষ’—এভাবেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন

    বিশ্বকাপজয়ী দলের কথা উঠলে সাধারণত আলোচনায় আসে কৌশল, ফরমেশন কিংবা তারকা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স। কিন্তু স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কাছে বিশ্বকাপ জয়ের আরেকটি বড় সূত্র আছে। তাঁর ভাষায়, দলে শুধু ভালো ফুটবলার থাকলেই হয় না, ভালো মানুষও থাকতে হয়।

    বিশ্বকাপ জয়ের পর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-কে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে স্পেনের সাফল্যের নেপথ্যের দর্শন তুলে ধরেছেন ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ। সেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে বছরের পর বছর ধরে একই ফুটবল-দর্শনে অবিচল থাকা, সঠিক খেলোয়াড় নির্বাচন এবং ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ধরে রাখা স্পেনকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছে।

    ভালো ফুটবলারের পাশাপাশি ভালো মানুষ কেন দরকার, সেই ব্যাখ্যায় ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে একসঙ্গে ৫২ দিন কাটিয়েছি, অলিম্পিকে ৪৫ দিন এবং অনূর্ধ্ব-২১ দলের সঙ্গে ৪৩ দিন থেকেছি। ভালো মানসিকতার মানুষের সঙ্গে কাজ করতে চাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। এতে দল পরিচালনা করাটা অনেক সহজ হয়।’

    ফুয়েন্তে জানান, স্পেনের দীর্ঘ সময়ের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে একটি সমস্যাও হয়নি। এমনকি যাঁরা এক মিনিটও খেলেননি, তাঁরাও অসন্তোষ প্রকাশ করেননি, ‘বয়সভিত্তিক ফুটবলে বহু বছর কাজ করার কারণে তাদের বেশির ভাগ খেলোয়াড়কেই আমরা খুব ভালোভাবে চিনি। তারা আমাদের কাঁচামাল। আমরা জানি কারা মানসিকভাবে শক্ত, বা ক্যাম্পের ৫২ দিন এক মিনিটও খেলার সুযোগ না পেলেও কারা মুখ গোমড়া করে বসে থাকবে না।’

    ফুয়েন্তেকে জিজ্ঞাসা করা হয় ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের সঙ্গে এই দলের কী কী মিল তিনি দেখতে পান? এই স্পেনও কি সেই ‘টিকিটাকা’র ধারকবাহক কি না। জবাবে মূল মডেল একই আছে জানিয়ে স্পেন কোচ বলেন, ‘টিকিটাকার মতো বহুল প্রচলিত শব্দের আমার পছন্দ নয়। এটাকে আমার ‘কম্বিনেশন ফুটবল’ বলতে ভালো লাগে। মাঝেমধ্যে ‘টিকিটাকা’ শব্দটিকে কিছুটা নেতিবাচকভাবেও ব্যবহার করা হতো। তা সত্ত্বেও এই ফুটবল দর্শন স্প্যানিশ ফুটবলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে, যার সূচনা হয় ক্লাব পর্যায়ে। জাতীয় দল কেবল এটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দিয়েছে।’

    ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন

    ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেনএএফপি

    ফুয়েন্তের মতে এখনকার ফুটবলে শুধু বল দখলে রাখলেই সাফল্য সম্ভব নয়। একটি দল ৩০ শতাংশ বলের দখল রেখেও ৩-১ ব্যবধানে জিততে পারে। স্পেন বর্তমানে যে মডেল ব্যবহার করে, সেটি বোঝার জন্য ইউরোপের অন্য পরাশক্তিরা জানতে আসে বলেও জানান ফুয়েন্তে, ‘ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি—সবাই এসেছে। একটা সময় ইতালি খুব ঘনঘন আসত। জার্মানিরও একটা সময় আমাদের মতো খুব শক্তিশালী ভিত্তি ছিল। তবে এটি খুব সহজ নয়, বেশ জটিল। প্রথমত, এর জন্য বছরের পর বছর কাজ করতে হয়। দ্বিতীয়ত, এটি ক্লাবগুলোর ওপর ভীষণভাবে নির্ভর করে। কারণ, ক্লাবের কোচেরাই তরুণদের গড়ে তোলেন। একদম ছোটবেলা থেকে পাওয়া এই শিক্ষার কারণেই ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা বিশ্বের সেরা।’

  • ম্যানসিটি থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যাচ্ছেন রদ্রি

    ম্যানসিটি থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যাচ্ছেন রদ্রি

    বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে ধরে রাখতে পারলেন না ম্যানচেস্টার সিটির নতুন কোচ এনজো মারেস্কা। রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখাতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপে ‘গোল্ডেন বল’জয়ী রদ্রি। এরই মধ্যে ৩০ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডারের সঙ্গে ব্যক্তিগত শর্তাবলি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে রিয়াল। এখন শুধু দুই ক্লাবের মধ্যে ট্রান্সফার ফি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো বাকি।

    স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো মিডফিল্ডার রদ্রিকে কিনতে চেয়েছিল পিএসজি-বার্সেলোনাও। দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি নাকি ম্যানসিটির সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলো। তবে ম্যানসিটি তাঁকে ছাড়তে চায়নি। পেপ গার্দিওলার কাছ থেকে সিটির দায়িত্ব নেওয়া এনজো মারেস্কা রদ্রিকে কেন্দ্র করেই মাঝমাঠ সাজাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারকা এ মিডফিল্ডারের অনীহায় তা সম্ভব হচ্ছে না। স্প্যানিশ এ ফুটবলারের সঙ্গে মাত্র এক বছরের চুক্তি বাকি সিটির। সে কারণে গত এপ্রিলে তাঁকে নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল সিটি। কিন্তু রদ্রি সাড়া দেননি। তারকা এ মিডফিল্ডার মাদ্রিদে ফিরে যেতে চান। ২০১৯ সালে ম্যানসিটিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি মাদ্রিদের অন্য ক্লাব অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদে এক বছর ছিলেন। মূলত পরিবারের জন্যই তিনি নিজ দেশে ফিরে যেতে চান। এ সপ্তাহের শুরুতেই রদ্রির এজেন্ট রিয়াল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যক্তিগত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করে ফেলেছেন বলে জানিয়েছে ইংলিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল।

    এখন ট্রান্সফার ফি নিয়ে দুই ক্লাবের সমঝোতার অপেক্ষায় রদ্রি। ধারণা করা হচ্ছে, মোটা ট্রান্সফার ফি হাঁকতে পারে সিটি। তাতেও অবশ্য কাজ হবে না। একে তো মাত্র এক বছর চুক্তি বাকি, তার ওপর রদ্রিও থাকতে চাইছেন না। আর সিটি এরই মধ্যে ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডে মিডফিল্ডার এলিয়ট এন্ডারসনকে দলে নিয়ে ফেলেছে। বিশ্বকাপে সাড়া জাগানো তরুণ মরোক্কান মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দিকেও দলে নেওয়ার ব্যাপারে অনেক দূর এগিয়ে গেছে তারা। তাই রদ্রিকে বিক্রি করে অর্থ জোগাড়ই তাদের লক্ষ্য।

    দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়া হোসে মরিনহোর আগ্রহেই রদ্রিকে দলে নিচ্ছে রিয়াল। পর্তুগিজ এ কোচ মাঝমাঠে রদ্রির মতো সিনিয়র একজনকে নেতা হিসেবে চান। মরিনহোর কৌশলে রদ্রি খুবভাবে ফিট হয়ে যাবেন বলেও ধারণা। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর জন্য এখানে আরও একটি হিসাব আছে। রদ্রিকে দলে নেওয়া মানে ফরাসি মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে ছেড়ে দেবে রিয়াল। আরেক ফরাসি মিডফিল্ডার আরেলিও চুয়েমেনিও নিয়মিত খেলার সুযোগ হারাবেন। তাই তিনিও রিয়াল ছাড়তে পারেন। তাদের কেনার জন্য ওত পেতে রয়েছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো।

  • বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারের অভিযোগে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ

    বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারের অভিযোগে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ অবৈধভাবে সম্প্রচার রোধে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে যৌথ অভিযানে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ বা জব্দ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, কপিরাইট লঙ্ঘন ও ডিজিটাল পাইরেসির বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযান বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে পরিচালিত হয়।

    ডিওজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারের বেশি ডোমেইন বন্ধ করা হয়েছে। একই সংখ্যক ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে কলম্বিয়ায়। এছাড়া আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, পেরু, ব্রাজিল ও ডোমিনিকান রিপাবলিকেও আরও ৮৩০টি ওয়েবসাইটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    ‘অপারেশন অফসাইডস’ এবং ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ অংশ নেয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (এনআইপিআরসিসি) পরিচালক ইভান জে. আরভেলো বলেন, অনুমতি ছাড়া বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার শুধু মেধাস্বত্ব আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি অপরাধী চক্রগুলোকেও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে।

    ডিওজে জানায়, গত মাসের শেষ পর্যন্ত অবৈধ বিশ্বকাপ স্ট্রিমিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪০০টি ওয়েবপেজ বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তী অভিযানে আরও শত শত ওয়েবসাইট ও ডোমেইন বন্ধ বা জব্দ করা হয়েছে।

    ডিওজের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, ‘বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারে ব্যবহৃত এক হাজারেরও বেশি ডোমেইন জব্দ করা প্রমাণ করে যে, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    ডিজিটাল পাইরেসি প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা অ্যালায়েন্স ফর ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট (এসিই)-এর চেয়ারম্যান চার্লস রিভকিন বলেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক সরাসরি সম্প্রচারিত আসরকে লক্ষ্য করে পাইরেসি নেটওয়ার্কগুলো খুব দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

    অভিযানে ফিফা, বিআইএন মিডিয়া গ্রুপ, এনবিসি ইউনিভার্সাল, আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি) এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্সও সহযোগিতা করেছে। সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রি থেকেই ফিফার আয়ের বড় একটি অংশ আসে।

    কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, অভিযানের সময় ‘লস সিবেরইনফিলত্রাদোস’ নামে পরিচিত একটি সাইবার অপরাধী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রবেশাধিকার অর্জন ও তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এছাড়া অবৈধ স্ট্রিমিংয়ের পাশাপাশি কলম্বিয়ায় জাল ক্রীড়া পোশাকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী তল্লাশি ও জব্দ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিওজে জানিয়েছে, নকল ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন ও বিতরণের অভিযোগে দেশটিতে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ স্ট্রিমিং ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে ক্রীড়া সম্প্রচার শিল্পের মেধাস্বত্ব ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

  • বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন একঝাঁক তারকা

    বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন একঝাঁক তারকা

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু নতুন চ্যাম্পিয়ন কিংবা রোমাঞ্চকর ম্যাচের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে না বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক যুগের অবসানের সাক্ষীও হয়ে থাকবে এই আসর। বিশ্বকাপ শেষে ব্রাজিলের নেইমার, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার, আর্জেন্টিনার নিকোলাস ওতামেন্দি, মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একাধিক অভিজ্ঞ ফুটবলার জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় জানিয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ, মহাদেশীয় শিরোপা ও অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই তারকারা নিজেদের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দিলেন।

    ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার ২০১৪ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত অভিষেকের পর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন। তবে ইনজুরির কারণে এবারের বিশ্বকাপে তার খেলার সুযোগ সীমিত ছিল। নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিদায়ের ম্যাচে মাত্র ৫৫ মিনিট খেলেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘সবকিছুর শুরু হয়েছিল মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’ ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ তাকে ‘অসাধারণ প্রতিভাবান ফুটবলার’ বলে অভিহিত করে বলেন, তার বিদায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের জন্য দুঃখের মুহূর্ত।

    জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ২০১০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন এবং ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক ছিলেন। ইউরো ২০২৪-এর পর অবসর নিলেও এবারের বিশ্বকাপের আগে সিদ্ধান্ত বদলে দলে ফেরেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারের পর ২৩তম ও শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি। পরে নয়্যার বলেন, ‘শেষটা তিক্ত হলেও ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই।’

    চেক প্রজাতন্ত্রের স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেললেও দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। শেষ ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ জাতীয় দলের সঙ্গে আমার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।’ চেক ফুটবল ফেডারেশন তার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

    মেক্সিকোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া, যিনি ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন, এবারের আসরে সীমিত সময় খেললেও শেষ ম্যাচে সতীর্থদের কাছ থেকে বিশেষ সম্মান পান। বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, ‘মেক্সিকোর হয়ে খেলতে পারা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’

    আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করলেও শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নেয় আলজেরিয়া। অবসরের ঘোষণা দিয়ে মাহরেজ বলেন, ‘নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করা সবসময়ই আমার স্বপ্ন ছিল।’

    ইকুয়েডরের সর্বোচ্চ গোলদাতা এনার ভ্যালেন্সিয়া ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ছয় গোল করলেও এবারের আসরে আর গোলের দেখা পাননি। মেক্সিকোর বিপক্ষে বিদায়ের পর তিনি জানান, জাতীয় দলের হয়ে এটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ। ইকুয়েডর ফুটবল ফেডারেশন তাকে দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছে।

    ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম স্তম্ভ নিকোলাস ওতামেন্দিও বিশ্বকাপের আগেই জানিয়েছিলেন, এটিই হবে তার শেষ আসর। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে বেশিরভাগ ম্যাচ খেললেও এবার শিরোপা ধরে রাখতে পারেননি। বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। এরপর থেকে আমি শুধু একজন সমর্থক।’

    অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মার্কো আরনাউটোভিচ নিজের প্রথম ও শেষ বিশ্বকাপেই দুটি গোল করেন। স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রিয়ার হয়ে খেলাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এখন থেকে দ্বিতীয় পরিবারের সঙ্গে আর দেখা হবে না এটাই সবচেয়ে কষ্টের।’

    সেনেগালের তারকা সাদিও মানে ২০১৮ বিশ্বকাপে খেললেও চোটের কারণে ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপ শেষে তার অবসরের খবর প্রকাশ পেলেও সেটির সত্যতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। তবুও সেনেগাল ফুটবল মহলে তার অবদানকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হয়েছে।

    স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ৮৪টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রথম বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও বিশ্বকাপ শেষে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক দুই ধরনের ফুটবল থেকেই অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

    আইভরি কোস্টের মিডফিল্ডার জ্যঁ মিশেল সেরি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলে ১১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি অবসরের ঘোষণা দিলে সতীর্থ ও অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসিয়েসহ অনেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    বিশ্বকাপ শেষে একসঙ্গে এতগুলো অভিজ্ঞ ফুটবলারের বিদায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা জাতীয় দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেও, নেইমার, নয়্যার, ওচোয়া কিংবা ওতামেন্দিদের স্মরণীয় অবদান ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।

  • ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে বদলে গেল সমীকরণ, শীর্ষে কারা?

    ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে বদলে গেল সমীকরণ, শীর্ষে কারা?

    ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ব্যালন ডি’অর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের কারণে অনেক খেলোয়াড়ের অবস্থান বদলে গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ দাবিদারদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে রয়েছেন লিওনেল মেসি, লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি, হ্যারি কেইন ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

    ১. রদ্রি (ম্যানচেস্টার সিটি ও স্পেন): ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন রদ্রি। স্পেনের মাঝমাঠে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিও পান। বিশ্বকাপে তার প্রভাব এবং মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছে।

    ২. লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা ও স্পেন): মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ক্লাব ও জাতীয় দলে সমানতালে নজরকাড়া মৌসুম কাটিয়েছেন ইয়ামাল। বার্সেলোনার হয়ে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্টের পাশাপাশি জিতেছেন লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ। বিশ্বকাপেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে স্পেনের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।

    ৩. লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনা): ৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। যদিও ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের কারণে তার নবম ব্যালন ডি‘’অর জয়ের সম্ভাবনা কিছুটা কঠিন হয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    ৪. হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ড): ক্লাব ফুটবলে আবারও দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৩৬ গোল করে লিগ ও কাপের ডাবল জিতেছেন। বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের হয়ে ছয় গোল করে নিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের দিক থেকে তিনিও অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।

    ৫. কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্স): লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ধারাবাহিক গোল করে আলোচনায় ছিলেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপেও গোল্ডেন বুট জিতে এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়ে ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। তবে দলীয় সাফল্যের দিক থেকে তিনি পিছিয়ে থাকায় লড়াই আরও জমে উঠেছে।

    আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনের অনুষ্ঠানে জানা যাবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ীর নাম।

  • ভোজিনহার পরিবারকে যে উপহার দিলেন মেসি

    ভোজিনহার পরিবারকে যে উপহার দিলেন মেসি

    বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। তবে মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও লিওনেল মেসিকে ঘিরে আলোচনায় এসেছে একটি মানবিক ঘটনা। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতোর দাবি, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশ্বকাপের টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন মেসি।

    লাতোর তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্যের পক্ষে স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি জানতে পেরে মেসি নিজের উদ্যোগে তাদের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করেন, যাতে তারা গ্যালারি থেকে ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন।

    সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতো জানান, বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্থিক কারণে যাদের পক্ষে মাঠে গিয়ে খেলা দেখা সম্ভব ছিল না, তাদের অনেকের জন্য নিজ খরচে টিকিট কিনেছিলেন মেসি। সেই তালিকায় ছিলেন কেপ ভের্দের গোলকিপার ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্যও। মেসির উদ্যোগেই তারা স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল গ্যালারি থেকে দেখার সুযোগ পান। এই ঘটনা বিশ্বকাপ চলাকালে প্রকাশ্যে আসেনি। ফাইনালের পর বিষয়টি সামনে আসে।

    ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একের পর এক সেভ করে দলকে ম্যাচে লড়াইয়ে রাখেন তিনি। সেই ম্যাচের পর মেসি প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে আলিঙ্গন করে তার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। মেসির ভাষায়, ‘তুমি অসাধারণ। তোমার দেশের তোমার জন্য গর্বিত হওয়া উচিত।’

    চলতি বিশ্বকাপে মোট ১৮টি সেভ করা ভোজিনহা নিজের অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রেখেছেন বারবার। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তার নাম জড়িয়েছিল লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামির সঙ্গেও। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটিতে তার সম্ভাব্য যোগদানের গুঞ্জন ছড়ায়। তবে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবে রূপ নেয়নি।