ট্যাগ বিরোধী দলীয় নেতা

  • কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জানালেন জামায়াত আমির

    কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জানালেন জামায়াত আমির

    কুমিল্লা ও নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাই-পানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হোক। পাশের নোয়াখালী, বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ চাচ্ছেন। তারাও একটি বিভাগ পাওয়ার দাবিদার। তাদেরও দিন। কিন্তু কুমিল্লার দাবি যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে চলে আসছে, আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন।’

    শনিবার (৫ আগস্ট) কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    খন্দকার মোশতাক আহমেদের বাড়ি কুমিল্লায় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই কারণে গোঁসা করে কুমিল্লার নামে বিভাগ দেওয়া হবে না, আগে এ নিয়ে ধানাই-পানাই করা হয়েছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, কোনো জেলার নাম নিয়ে যদি বাড়াবাড়ি করা হয়, তাহলে সেটা ওই জেলা এবং সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষকে অপমান করার শামিল।’

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারও বলেছে, কুমিল্লা বিভাগ দেওয়া হবে। তাহলে দিচ্ছেন না কেন? এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার যাবতীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করুন।’

    কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে বিমানবন্দর হওয়ার যে বিষয়টি আছে, সেটিও দেখতে হবে। এখানে একটি ইপিজেড আছে, একটি বিমানবন্দরও আছে। সেই বিমানবন্দরটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে যদি সবদিক থেকে উত্তম হয়, তাহলে জনগণের জন্য সেটিও চালু করা হোক। তবে বিভাগটা আগে দেন। বিভাগের দাবিটা আগে পূরণ করুন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লার মানুষকে এখন প্রশাসনিক কাজের জন্য চট্টগ্রামে দৌড়াতে হয়। এখানে বিভাগ হলে তাদের প্রশাসনিক কাজগুলো এখানেই হবে।’

    লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো। প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে ইনশাআল্লাহ আমাদের লংমার্চ যাবে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশ কি শুধু চিড়ামুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি আমাদের দাবি আদায়ের জন্য হবে? কুমিল্লার মানুষ, আপনারা যাবেন। প্রয়োজনে চিড়ামুড়ি হাতে নিয়েই যাবেন। দাবি আদায় করে ইনশাআল্লাহ ঘরে ফিরবেন। আপনারা প্রস্তুতি নেন। আমরা আশাবাদী, জনতার বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করেন? তিনি তো সংসদের সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন, কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়েরই কোনো খবর নেই।’

    উল্লেখ্য, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ এবং সারের সংকট সমাধানসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। আজ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চের কর্মসূচি শুরু হয়। চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

  • গণভোট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে সরকারের অনীহার কথা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের জানালেন জামায়াত আমির

    গণভোট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে সরকারের অনীহার কথা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের জানালেন জামায়াত আমির

    টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধীদলীয় নেতার সভাপতিত্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন।

    পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের প্রত্যাশা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন জনসমস্যা তুলে ধরেছেন জামায়াত আমির।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাজনীতিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা জামায়াতের আমির বৈঠকে তুলে ধরেন। পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে জামায়াতের আন্তরিক ভূমিকার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    জুলাই চার্টার অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় সরকারি ও বিরোধীদলের মেনে চলার পক্ষে মত দিয়েছেন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। ভিন্নমত ছাড়াই এই রায় মেনে নেওয়ার জন্য দলগুলোকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়ার তাগিদ দেন তারা।

    বৈঠকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস এবং দলীয়করণের নানা চিত্র তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

    জামায়াত আমির বৈঠকে বলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়া কেবল সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় সচেতনতা ও ঐক্য সৃষ্টিতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া, জামায়াতে ইসলামীর ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোও খোলামেলাভাবে তুলে ধরে গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।