ট্যাগ বিদ্যুৎ

  • শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কাল থেকে আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

    শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কাল থেকে আগের অবস্থায় ফিরবে: প্রধানমন্ত্রী

    শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ আগামীকাল থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি থেকে বিরত থেকে সরকারের মেয়াদে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

    আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিন ঘণ্টার এই আলোচনায় তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। তিনি আরও জানান, সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

    তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

    বর্তমান গ্যাস-সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।’ ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে।

    সরকার আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনো কিছু পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।

    সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও সভায় ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।

    ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। ফলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।

    হতাশ হওয়ার কারণ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে কীভাবে সেগুলোর সমাধান করতে চায়, সেটিও জানিয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের জানাতে চাই যে, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, পুরো দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

    দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কার প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

    আলোচনায় গণমাধ্যমকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলে তা দেশবাসীর কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় কোনো কাজ সফলভাবে করতে একটি কার্যকর দল প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা করবেন, যাতে আমরা আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।’

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক।

    ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আনাম প্রমুখ।

    এ ছাড়াও দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

  • আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

    আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, দেশে বাড়ছে লোডশেডিং

    ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে দেশে বাড়ছে লোডশেডিং।

    কয়লা স্বল্পতার কারণে এক মাস ধরে সীমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উৎপাদন বাড়ছিল। কিন্তু গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

    বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি জানিয়েছে, ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রটির সক্ষমতা এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কয়লা সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে কেন্দ্রটি উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিলেও সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করছে তারা। ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে এক পর্যায়ে সরবরাহ এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও রাত ১২টার পর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে উৎপাদন ৭৩২ মেগাওয়াটে নেমে আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় আদানি থেকে পাওয়া গেছে ৭৩২ মেগাওয়াট। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় ৭৩৪, ৯টায় ৭৩৭, ১০টায় ৭২৪ ও সকাল ১১টায় ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার।

    ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ঝাড়খন্ডের আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই, উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে লোডশেডিং ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল এবং আদানির ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার ফলে আজ তা আরও বাড়তে পারে।

    গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে এবং তা দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছে।

    সর্বশেষ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, পিডিবি গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট, কয়লা থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট এবং তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ফলে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে সামগ্রিক উৎপাদন ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহের বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

    আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডের ওপর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • রুফটপ সোলার নিয়ে বাড়িওয়ালাদের সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    রুফটপ সোলার নিয়ে বাড়িওয়ালাদের সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তাদের গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ১৫ পয়সা দরে কিনবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনিরের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    বাড়িওয়ালাদের সুখবর শুনিয়ে তিনি বলেন, বাল্ক রেটের অতিরিক্ত অর্থ সরকার প্রণোদনা হিসেবে দেবে। এতে গড়ে প্রতি ইউনিট ৬-৭ টাকা উৎপাদন ব্যয়ের বিপরীতে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ সুবিধা পরবর্তী তিন বছরের জন্য প্রযোজ্য হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে বর্তমান সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে ৮ জুন সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য অপরিহার্য পণ্যসমূহ যেমন— সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ইত্যাদির ওপর আরোপণীয় সমুদয় কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং ২ শতাংশ অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর হতে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    রুফটপ সোলার স্থাপনে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ওই কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থাগুলোকে ইতোমধ্যে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ইতোমধ্যে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।’

    সৌর বিদ্যুতের পাশাপাশি পানি বিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি, ওই কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে।’

  • ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে মানুষ যে দুর্ভোগে পড়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

    বুধবার সংসদে দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধী দলের সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

    বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, নিছক কথামালার আড়ালে প্রকৃত সত্যকে লুকাতে চাই না। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহের কারণে কষ্টে আছে।’

    বর্তমান সংকটকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট নতুন করে চাপ তৈরি করেছে বলেও জানান তিনি।

    গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতিরিক্ত নির্ভরতার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্রের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও গৃহস্থালি—এই তিন খাতে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে।

    বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে কয়েকটি কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকাকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে।

    ভারতের আদানি গ্রুপ থেকেও চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

    এ ছাড়া আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। গত ২১ জুলাই এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেয় এবং মেরামতে প্রায় ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। তবে সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদী।

    তিনি বলেন, ‘আগস্ট মাসে বাংলাদেশের মানুষকে যে কষ্ট পোহাতে হয়েছে, অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে এই কষ্ট যেন না পোহাতে হয়, সে ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

    আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সরকারের নতুন রুফটপ সোলার নীতির ফলে আগামী গ্রীষ্মে চলতি সময়ের মতো বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    সংসদ সদস্যদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিনিধিদের প্রকৃত তথ্য জানানো এবং এ খাত নিয়ে থাকা ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করবে সরকার।

  • আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

    আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

    আগামী গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকটা কমে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার। ফলে আগামী গ্রীষ্মের আগেই ন্যূনতম তিন হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে দেশ।

    আজ শনিবার যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব তো তেলের ওপর ভাসছে। সেখানে কেন তেলের দাম বাড়লো? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেন তেল-গ্যাসের দাম বাড়লো? বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে। সেখানে আমাদের মতো একটি দেশে সরকার কতদিন সমন্বয় না করে থাকবে?

    তিনি আরও বলেন, তারপরও সরকার জনগণের কথা ভেবে সমন্বয় করছে। এ জন্য নিজেদের মধ্যে পরিমিতিবোধ তৈরি করার পাশাপাশি বাচ্চাদেরও পরিমিত ব্যবহার শেখাতে হবে।

    শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নৈতিক শিক্ষার ভিত গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও মানসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করতে হবে। অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে তার দায়িত্ব নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দলের কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো প্রভাব বিস্তার কিংবা অরাজকতা সৃষ্টি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যদি করতে চায়, তার বিরুদ্ধে প্রথমে সাংগঠনিক, পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি খান মাসুম বিল্লাহ, জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবির, যশোর বিএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন মেজবাহ উদ্দিনসহ শিক্ষকরা।

  • দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

    দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

    বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার

    ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ‘করিডর’ হতে গিয়ে নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিতে চায় না বাংলাদেশ। আসামের বরনগর থেকে বিহারের কাটিহার পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি হাইভোল্টেজ লাইন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নিতে ভারতের নতুন তাগাদার পর চার শর্ত সামনে আনছে ঢাকা। ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এ লাইনে যাবে কিনা, নেপাল-ভুটান থেকে সস্তা জলবিদ্যুৎ আনার সুযোগ মিলবে কিনা এবং বাংলাদেশের প্রকৃত লাভ কত— এসবের উত্তর না মিললে করিডর দেওয়ার সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না সরকার।

    ভারত সরকারের তাগাদার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ এ ব্যাপারে বেশকিছু কাগজপত্র তৈরি করেছে।

    সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ভারতকে চারটি শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে। এগুলো পালন করলে ওই হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো— ভারতকে জানাতে হবে ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ওই হাইভোল্টেজ লাইন দিয়ে প্রবাহিত করা হবে কিনা। কারণ, এতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    দ্বিতীয় শর্ত হলো- নেপাল ও ভুটান থেকে সস্তায় জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য আলাদা গ্রিড লাইন তৈরির সুযোগ বাংলাদেশকে দিতে হবে। তৃতীয়টি হলো— ওই লাইন দিয়ে বাংলাদেশ কী পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। চতুর্থ শর্ত হলো— বাংলাদেশের ওপর দিয়ে লাইন টানার আগে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি হিসাব করতে হবে।

    ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় তিনি ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। সাক্ষাৎ শেষে ইকবাল হাসান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘ভারত যেভাবে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গ্রিড লাইন নিয়ে যেতে চাচ্ছে, সেভাবে আমরা চিন্তা করছি না। নেপাল, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশ-এই চার দেশ মিলে যৌথ গ্রিড লাইনের কথা ভাবছে ঢাকা। আর এটি নিয়েই আলোচনা করতে চাচ্ছি আমরা।’

    জানা যায়, এর আগে জুলাইয়ের শেষে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ দিল্লি সফর করে বিদ্যুৎ ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন সে দেশের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে। সেখানেও বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিশেষ করে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ভারত-নেপাল-ভুটানের সঙ্গে একটি গ্রিড লাইন নির্মাণ জরুরি। এর মধ্যে বাংলাদেশ যার কাছ থেকে সস্তায় বিদ্যুৎ পাবে, তার থেকে আমদানি করতে পারে।’

  • অন্য দেশের চেয়ে বেশি দামে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ

    অন্য দেশের চেয়ে বেশি দামে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ

    রাজধানীর আমিনবাজারে চীনা বিনিয়োগে বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৮ সালের আগস্টে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। তবে প্রকল্পের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরকার কিনবে ২৫ টাকায়। চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রকল্পে সরকার তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ কিনছে।

    দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নতুন নয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে নেওয়া এ ধরনের প্রকল্পের কোনোটিই উৎপাদনে যেতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার আমিনবাজার ও মাতুয়াইলের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

    দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় সাধারণত ১২-১৪ টাকা এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের গড় ব্যয় ২২-২৪ টাকার মতো। আন্তর্জাতিকভাবে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম প্রকল্পভেদে ভিন্ন হলেও ভারতের সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রকল্পে তা ইউনিটপ্রতি ৬-৮ রুপির মধ্যে; বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮-১১ টাকা। চীনে প্রতি ইউনিট বর্জ্য বিদ্যুৎ সরকার কেনে (বেঞ্চমার্ক ট্যারিফ) শূন্য দশমিক ৬৫ ইউয়ানে, যা ১১-১২ টাকা।

    এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ট্যারিফ দিয়ে বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা বাদ পড়ে যায়। এখানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মূল বিষয়। বিদ্যুৎ বাইপ্রডাক্ট। তাই দামটা বেশি মনে হলেও পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তুলনা করলে তা সহনীয়।

    আমিনবাজারে বড় বিনিয়োগ
    আমিনবাজার প্রকল্পে চীনের সিএমইসি গ্রুপ বিনিয়োগ করবে। প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামো রেখে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রকল্পের আগের হিসাব অনুযায়ী ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। সরকারের সরাসরি বিনিয়োগ না থাকলেও উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনতে হবে দীর্ঘ মেয়াদে।
    কেন্দ্রটি নির্মাণে আওয়ামী লীগ সরকার দরপত্র আহ্বান করে। তাতে ১৭টি কোম্পানি অংশ নেয়, কাজ পায় চীনা কোম্পানি সিএমইসি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চুক্তি হয়েছিল। বিদ্যুৎ আসার কথা ছিল ২০২৫ সালে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছিল ২১ সেন্ট, যা তখনকার মুদ্রার দামে ২১.২৯৫ টাকা পড়ে। এখন তা ২৫ টাকা ।

    বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য সিএমইসি বাংলাদেশের জয়েন্ট স্টকে একটি কোম্পানি নিবন্ধনও করেছে, এর নাম ডব্লিউটিই পাওয়ার প্লান্ট নর্থ ঢাকা প্রাইভেট লিমিটেড।

    এ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতিসহ কয়েকটি সংগঠন। তাদের অভিযোগ, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুতের দাম অস্বাভাবিক বেশি।

    সংগঠনগুলোর মতে, কেন্দ্রটি ৮৫ শতাংশ সক্ষমতায় চললে ইউনিটপ্রতি দাম পড়বে ২৬ টাকা ৭৯ পয়সা। সক্ষমতা ৪০ শতাংশে নেমে এলে তা ৪৭ টাকা এবং ২০ শতাংশে নামলে ৭৫ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কম সক্ষমতায় চললে বছরে প্রায় ৫৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার বা ৭০০ কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জের ঝুঁকিও রয়েছে।
    এ ছাড়া ডিএনসিসিকে প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য সরবরাহের শর্ত দেওয়া হয়েছে। ঘাটতি হলে প্রতি টন বর্জ্যের জন্য ৫০ ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, এতে বর্জ্য কমানোর বদলে নির্দিষ্ট পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদনের চাপ তৈরি হতে পারে।

    পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, বর্জ্য পোড়ানোর কারণে ডাইঅক্সিন, ফিউরান, ভারী ধাতু ও সূক্ষ্ম কণার মতো দূষিত পদার্থ তৈরি হতে পারে। তাদের হিসাবে, আমিনবাজার প্রকল্প পূর্ণ সক্ষমতায় চললে বছরে প্রায় ৪ লাখ ১১ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হতে পারে। তাদের প্রস্তাব, মিশ্র বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বদলে বর্জ্য আলাদা করে পুনর্ব্যবহার, কম্পোস্টিং ও বায়োগ্যাস উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আব্দুল মঈন খানের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাতের পর প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে চূড়ান্ত ত্রিপক্ষীয় ও অর্থায়ন চুক্তি হওয়ার কথা। তিনি স্বীকার করেন, ইউনিটপ্রতি ২৫ টাকা দাম বেশি; তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সুবিধা বিবেচনায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডফিল ব্যবহারের জন্য সিটি করপোরেশনকে ভাড়া দেবে এবং সরকারের সরাসরি বিনিয়োগ লাগবে না।

    মাতুয়াইলে উৎপাদন হতে পারে ৪০-৫০ মেগাওয়াট
    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইলেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ চলছে। চীনের পাওয়ার চায়না এ প্রকল্পে আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এখানে ৪০-৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ গ্রুপ মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে মিথেন গ্যাস উৎপাদনের প্রকল্পে কাজ করছে।

    চুক্তি করেও আটকে নারায়ণগঞ্জ
    নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িতে ৬ মেগাওয়াটের বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পে পিডিবি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও চীনের ইউঅ্যান্ডডি এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজির মধ্যে চুক্তি হয় ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর।

    প্রতিদিন ৬০০ টন বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। সরকার ইউনিটপ্রতি প্রায় ২০ টাকা ৯১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করেছে। ৪৫৫ দিনের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার কথা থাকলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি। জালকুড়ির নির্ধারিত স্থান এখনও মূলত ময়লার ভাগাড় হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। অর্থায়ন ও বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে ধীরগতিকে প্রকল্প আটকে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতি ইউনিটে খরচ ২১ টাকা
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরেও ১১ মেগাওয়াটের বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পের দরপ্রস্তাব ও ট্যারিফ অনুমোদন করে।
    ২৫ বছর মেয়াদে ইউনিটপ্রতি ২১ টাকা ১১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। মোট প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি এখনও পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের ১২ জুন।

    চট্টগ্রামে একাধিক প্রস্তাব, বাস্তবায়ন নেই
    চট্টগ্রামে গত এক দশকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একাধিক প্রস্তাব এসেছে। এর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। সর্বশেষ জাপানের জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিদিন ১ হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ১২-১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

    জমির সংকট, অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা এবং পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার অভাবকে প্রকল্প বাস্তবায়নের বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    খুলনায় ছোট প্রকল্প
    খুলনার শলুয়ায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। প্রায় ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে প্রতিদিন ৩৭৫ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ১৫ টন জৈব সার, ৩০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ এবং প্রায় ৫ হাজার লিটার ডিজেল উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি, অগ্রগতিও ধীর।

    অন্যান্য দেশের তুলনায় কতটা বেশি
    বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতের কয়েকটি সাম্প্রতিক প্রকল্পে ইউনিটপ্রতি প্রায় ৬ দশমিক ২ থেকে ৭ দশমিক ৯৫ রুপি ট্যারিফ দেখা যায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ৮-১১ টাকা। চীনের বেঞ্চমার্ক ট্যারিফ ০.৬৫ ইউয়ান বা প্রায় ১১-১২ টাকা। শ্রীলঙ্কায় নতুন কাঠামোয় পৌর বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুতের সর্বোচ্চ হার প্রায় ৪১ দশমিক ৭২ রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৪ টাকা।

  • বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে- প্রধানমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে- প্রধানমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘কোনো সংকট এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। সংকট মোকাবিলায় ধৈর্য ধরে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা নিয়ে ধীরে ধীরে এগোতে হবে।

    আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ ঢাকার বহু মানুষ বর্তমানে বিদ্যুতের কষ্ট ভোগ করছেন। স্বৈরাচার সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশনে সরকার আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কী পরিকল্পনা নিয়েছে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে।’

    বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বললেন, ‘সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায় ও রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে বিশৃঙ্খলা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। এতে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যেরও ক্ষতি হয়। স্বৈরাচার সরকার দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় এসব ব্যবস্থা পেয়েছে। এখন ধ্বংস থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হচ্ছে।’

    উন্নয়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারে বাধা দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘যারা উন্নয়নকাজে বাধা দেবে, রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এখন দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সময়। সবাইকে হাতে হাত রেখে রাষ্ট্র মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে।’

    তিনি আরও বলছিলেন, দেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    নারী শিক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে সরকার অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার সব খরচ সরকার বহন করবে। ভালো ফলাফল করা মেয়েদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে। গ্রামগঞ্জের দরিদ্র পরিবারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের প্রতিবছর স্কুলড্রেস ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুলব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

    নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন এমন নারীদের পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।’

    মৎস্য খাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে অবমুক্ত করা মাছ বড় হয়ে ডিম ছাড়বে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর উপকার বাংলাদেশের মানুষই পাবেন।

    অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন; স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারাসহ মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

  • আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে

    আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে

    আজ সন্ধ্যা থেকে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    তিনি বলেছেন, সন্ধ্যা নাগাদ লোডশেডিংও কমে আসবে। তবে জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কবে সমাধান হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

    আজ বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

    প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অন্য একটি টার্মিনালও দুর্ঘটনার কারণে পুরো সক্ষমতায় চালু করা যাচ্ছে না। এতে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে।

    প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বললেন, বিকল্প উপায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

    তিনি জানান, মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার প্রক্রিয়া চলছে। সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে।

    প্রতিমন্ত্রী বললেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোচ্ছে মন্ত্রণালয়।

    বর্তমান সংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভুল নীতিকে দায়ী করেছেন তিনি। যেকোনো সময় দেশকে এ ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হতো।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেছেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে সংকট শুরু হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে মানুষের কাছে পুনরায় ক্ষমা চেয়েছেন।

    তিনি জানান, একটি এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ এবং অন্যটি সীমিত সক্ষমতায় চলায় গ্যাসের ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

  • ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হতে পারে ২৪০০০ মেগাওয়াট

    ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হতে পারে ২৪০০০ মেগাওয়াট

    দেশে আগামী পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ চাহিদা ২৪ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। প্রতি বছর এই চাহিদা বাড়লেও সেই বৃদ্ধির গতি ২০৩০ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যেই থাকার কথা।

    আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জরুরি পরিস্থিতি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা রাখা হয়, যাকে স্পিনিং রিজার্ভ বলা হয়।

    সেই হিসাবেও ২০৩০ সালে দেশের মোট প্রয়োজন ৩০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হচ্ছে।

    বাস্তবে বর্তমানে নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো শেষ হলে এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এলে সক্ষমতা প্রায় ৩৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। যদিও এর মধ্যে কিছু পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে। তবু থেকেই যাবে প্রয়োজনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত সক্ষমতা।

    দেশে এখন ৩১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন, যেগুলোর কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এসব কেন্দ্রের বেশিরভাগই জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক এবং মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট।