ট্যাগ বিদেশ

  • ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি

    ভাষা শিখে উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়ার কথা উঠলেই বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মাথায় প্রথমে আসে আইইএলটিএস, জিআরই বা টোয়েফলের কথা। এর বাইরেও পুরোপুরি বৈধ ও কার্যকর একটি পথ আছে, যা দিয়ে সম্পূর্ণ বৃত্তি নিয়েও বিদেশে পড়াশোনা করা যায়। সেই পথটি হলো একটি বিদেশি ভাষা শেখা। ঢাকায় বিভিন্ন দেশের সরকার পরিচালিত সাংস্কৃতিক ও ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে জার্মান, ফরাসি, চীনা, কোরিয়ান বা রুশ ভাষা শিখে সরাসরি সেই দেশের সরকারি বৃত্তির জন্য আবেদন করা যায়।

    গ্যোটে ইনস্টিটিউট
    ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ ১৯৬১ সাল থেকে জার্মান ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করছে। দীর্ঘদিন সংস্কার কাজের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে ধানমন্ডির ১০ নম্বর বাড়িতে নতুন করে চালু হওয়া এই কেন্দ্রে এখন জার্মান ভাষার কোর্স, পরীক্ষা এবং একটি ডাড বা জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস এবং তথ্যকেন্দ্রও রয়েছে। অর্থাৎ এখান থেকে জার্মান ভাষা শিখে সরাসরি ডাডের বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের প্রস্তুতি নেওয়া যায়, যা জার্মানির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত অর্থায়ন করে। বিস্তারিত জানতে https://www.goethe.de/en/index.html
    –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।

    আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ
    আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা ১৯৫৯ সাল থেকে বাংলাদেশে ফরাসি ভাষা শেখাচ্ছে। বর্তমানে ধানমন্ডির মূল কেন্দ্রের পাশাপাশি গুলশান ও উত্তরায় প্রতিষ্ঠানটির আরও দুটি শাখা রয়েছে। বর্তমানে তিনটি কেন্দ্র থেকে কোর্স পরিচালনা করছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ছয় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এখানে ফরাসি ভাষা শেখে। ডিইএলএফ ও ডিএএলএফ-এর মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সনদ অর্জনের পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ফ্রান্সের মাধ্যমে ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় আবেদন করতে পারে। afdhaka.org –এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।

    কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে এইচএসকে বা চীনা ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা কেন্দ্র চালু আছে। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটে এইচএসকে প্রস্তুতিমূলক কোর্স করানো হয়। এইচএসকেতে ভালো স্কোর করলে তা চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ বা সিএসসি-র জন্য আবেদনকে অনেক শক্তিশালী করে তোলে। বেশিরভাগ প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আবেদনের সময়সীমা থাকে, যদিও নির্দিষ্ট বৃত্তি বা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ১২০০-র বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী চীনে কোনো না কোনো সরকারি বা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বৃত্তি নিয়ে অধ্যয়নে যায়। চীনে অবস্থানরত মোট বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি বলে আমাদের জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। এই প্রতিষ্ঠানে ভাষা শিখতে কিংবা বিস্তারিত জানতে ci.cn/en –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।

    কিং সেজং ইনস্টিটিউট
    ঢাকায় বর্তমানে দুটি কিং সেজং ইনস্টিটিউট সক্রিয়। এর একটি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ বা আইইউবিতে এবং অন্যটি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে বা এআইইউবিতে। যেখানে কোরিয়ান সরকারের অধীনে কোরিয়ান ভাষা

    শেখানো হয়। বাংলাদেশ নিয়মিতভাবেই গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ বা জিকেএস-এর জন্য যোগ্য দেশের তালিকায় থাকে, আর ঢাকার কোরিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রতি বছর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় স্তরের জন্যই আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়। /www.iksi.or.kr/
    lms/main/main.do –এই ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে বিস্তারিত।

    রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
    রুশ সরকারের বৃত্তির কোটা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
    ঢাকার রাশিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা রাশিয়ান হাউস হলো রাশিয়ার সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশে রুশ ভাষা, শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রচারের কাজ করে। ঢাকার রুশ হা্উসের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে এই কোটা ছিল মাত্র ৬৫টি, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০টিতে। স্নাতক থেকে পিএইচডি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এই বৃত্তি দেওয়া হয়, আর রুশ ভাষা শেখার সুযোগও তৈরি হয়েছে রুশ হাউসের মাধ্যমে। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত সেন্টার অব সায়েন্স অ্যান্ড কালচার হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা: ৪২, ভাষাসৈনিক এম এ মতিন সড়ক, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৫।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট
    দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর বাইরে দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠানও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। সেটি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট। ১৯৭৪ সাল থেকে বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শিক্ষায় কাজ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রায় ৫০ জন শিক্ষক নিয়ে পরিচালিত এই ইনস্টিটিউটে আরবি, চীনা, ফরাসি, জার্মান, ইতালীয়, জাপানি, কোরিয়ান, ফার্সি, রুশ, স্প্যানিশ, তুর্কি, হিন্দিসহ মোট চৌদ্দটির বেশি ভাষায় কোর্স করানো হয়। বছরজুড়ে এখানে কোর্স পরিচালিত হয়। যে কোনো সময়, যে কোনো বিষয়ে এখানে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ভর্তি হওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত এই ভাষা ইনস্টিটিউটে ভাষা শেখার বিস্তারিত জানতে www.iml-du.ac.bd –এই ওয়েবসাইটে চোখ বোলাতে পারেন।অন্যান্য ভাষা
    এছাড়াও বিভিন্ন দেশের দূতাবাস স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে সেই দেশের ভাষা শিখে ফুল ফান্ডেড বৃত্তি পেতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাপানের ভাষা। জাপানের এন-ফোর বা এন-ফাইভ পরীক্ষা দিয়েও ভালো বৃত্তি পেতে পারেন জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। সৌদি আরব, কাতার, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কদর বেড়েছে। আগ্রহ থাকলে আরবি ভাষা শিখেও এসব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। উচ্চশিক্ষায় বৃত্তি পেতে নতুন একটি ভাষাও বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো
    দেশগুলোর ক্ষেত্রে; যেখানে বৃত্তির সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ঢাকায় বসে তুলনামূলক কম খরচে ভাষার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরির সুযোগ আপনিও নিতে পারেন!

  • বিদেশে পাড়ি দেওয়ার আগে যে ৫ বিষয়ে দক্ষ হওয়া জরুরি

    বিদেশে পাড়ি দেওয়ার আগে যে ৫ বিষয়ে দক্ষ হওয়া জরুরি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিদেশে পাড়ি জমানোকে সাধারণত এক দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তর হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি শুধু ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়; বরং জীবন পরিচালনার ধরনেও বড় পরিবর্তন আনে। পরিচিত পরিবেশ, দৈনন্দিন রুটিন ও কাছের মানুষের সহায়তা থেকে দূরে গিয়ে নতুন দেশে প্রতিদিনের নানা সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হয়। ফলে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি শুধু শিক্ষা, চাকরি কিংবা অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রয়োজন কিছু গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতাও।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী দিনের আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও বিদেশে পড়াশোনা বা কাজের ক্ষেত্রে শুধু এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার সক্ষমতা যথেষ্ট হবে না। নতুন পরিবেশের অনিশ্চয়তা সামলানো, ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি এবং পরিচিত সহায়তা কাঠামো ছাড়াই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাই সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    বিদেশে একা যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যে পাঁচটি জীবনদক্ষতা গড়ে তোলা প্রয়োজন-

    ১. অর্থ ব্যবস্থাপনা শিখুন

    বিদেশে গিয়ে অর্থ পরিচালনা মানে শুধু খরচ কমানো নয়। ভাড়া, বিদ্যুৎ-পানি বা অন্যান্য বিল, ব্যাংকিং, কর এবং হঠাৎ আসা অতিরিক্ত খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

    এর সঙ্গে নতুন দেশের মুদ্রার মূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বুঝে বাজেট তৈরি করতে হবে। দেশে থাকাকালীন নিজের আয়-ব্যয় হিসাব করার অভ্যাস গড়ে তুললে বিদেশে গিয়ে আর্থিক চাপ সামলানো সহজ হবে।

    ২. নিজের সহায়তার নেটওয়ার্ক তৈরি করুন

    বিদেশে যাওয়ার অর্থ পরিচিত মানুষ ও পরিবেশ থেকে দূরে চলে যাওয়া। ফলে শুরু থেকেই নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দেশে কমিউনিটি, সহকর্মী, বন্ধু, পরামর্শদাতা বা পরিচিতদের মাধ্যমে দ্রুত একটি সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা মানসিকভাবে স্থির থাকতে সহায়তা করতে পারে।

    ৩. অপরিচিত ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিন

    বিদেশে স্বাস্থ্যসেবা, বিমা, ব্যাংকিং, বাসস্থান, অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম এবং সরকারি কাগজপত্রের প্রক্রিয়া নিজের দেশের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য তথ্য কোথায় পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় কাজগুলো কীভাবে নিজে সম্পন্ন করতে হয়, তা শেখা জরুরি। এতে ছোটখাটো ভুল থেকে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমে।

    ৪. নিজেকে হারিয়ে না ফেলে মানিয়ে চলুন

    ভিন্ন দেশে গেলে যোগাযোগ, কর্মক্ষেত্রের আচরণ এবং সামাজিক মেলামেশার নিয়মেও পার্থক্য দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোজনের অর্থ হলো নতুন সংস্কৃতির নিয়ম-কানুন শেখা, কিন্তু নিজের পরিচয় ও মূল্যবোধকে হারিয়ে না ফেলা। নতুন পরিবেশকে সম্মান করার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    ৫. প্রয়োজন হলে দ্রুত সাহায্য চান

    স্বনির্ভর হওয়ার অর্থ প্রতিটি সমস্যার সমাধান একাই করতে হবে—এমন নয়। বরং কখন সাহায্যের প্রয়োজন তা বুঝতে পারা এবং ছোট সমস্যা বড় সংকটে পরিণত হওয়ার আগেই সঠিক ব্যক্তির কাছে সহযোগিতা চাওয়া স্বনির্ভরতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।বিদেশে একা থাকার ক্ষেত্রে এই দক্ষতা বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। কারণ সময়মতো পরামর্শ বা সহায়তা পাওয়া গেলে অনেক জটিল পরিস্থিতি সহজেই সামাল দেওয়া সম্ভব।

  • অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা, ছেলে জীবিত নাকি মৃত—জানে না পরিবার

    অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা, ছেলে জীবিত নাকি মৃত—জানে না পরিবার

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার এক যুবক অবৈধ পথে ইতালি যাত্রাকালে সাগরে ট্রলার দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। ছেলেকে ইতালি পাঠাতে জমি বন্ধক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মোট ২৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন বাবা।

    নিখোঁজ যুবকের নাম রাকিবুল ইসলাম স্বাধীন (২২)। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলার ভুতগাছা গ্রামের ফিরোজ আহমেদের ছেলে। চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি বাড়ি ছাড়েন। তবে তিনি মারা গেছেন নাকি বেচেঁ আছেন, জানে না পরিবার৷

    এ ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে উল্লাপাড়া মডেল থানা-পুলিশ।

    শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে আবুল কালাম নামের সেই ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জানা গেছে, নিখোঁজ রাকিবুল ইসলামকে তিনিই বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

    উল্লাপাড়া মডেল থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, আবুল কালাম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তিনি বিদেশে লোক পাঠানোর সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রাকিবুল ইসলাম স্বাধীনকে তিনি পাঠিয়েছিলেন, যিনি বর্তমানে নিখোঁজ। তার বাবা এসে বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন।

    পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা যায়, চলতি বছরে ভাগ্য বদলের আশায় শতাধিক মানুষের সঙ্গে ট্রলারে করে ইতালির উদ্দেশে রওনা দেন স্বাধীন। পথে দুর্ঘটনায় অনেকেই সাগরে পড়ে যান। সেই ঘটনার পর থেকেই স্বাধীন নিখোঁজ, তার কোনো খোঁজ মিলছে না।

    নিখোঁজ রাকিবুলের বাবা ফিরোজ আহমেদ বলেন, আবুল কালামের ছেলে সাদ্দাম ইতালিতে থাকে। সেই সূত্র ধরে আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ছেলেকে পাঠাতে জমি বন্ধক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মোট ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, মার্চের শেষ দিকে আবুল কালাম প্রথমে স্বাধীনকে ভারতের চেন্নাই নিয়ে যায়। সেখান থেকে দুবাই, মিশর, শ্রীলঙ্কা হয়ে সর্বশেষ লিবিয়ায় নেয়।স্বাধীনের সঙ্গে যাওয়া আরেক ব্যক্তি ফজলুল হক সম্প্রতি দেশে ফিরে এসেছেন। সে পরিবারের কাছে জানিয়েছেন, যাত্রার অল্প কিছুদিন পরই তাদের ট্রলারটি ডুবে যায় এবং স্বাধীন আর ফিরে আসেননি।নিখোঁজ যুবকের মা নার্গিস খাতুন ছেলের খোঁজ পেতে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্ত দালালের কঠোর শাস্তিও দাবি করেছেন।

  • হামাসের পাঁচ শীর্ষ সদস্যকে হত্যা ইসরাইলের

    হামাসের পাঁচ শীর্ষ সদস্যকে হত্যা ইসরাইলের

    ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় শনিবার গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য হামাসকে দায়ী করেছে। কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, হামাসের হামলার জবাবে ইসরাইলি বাহিনী তাদের পাঁচজন ‘শীর্ষ সদস্যকে’ হত্যা করেছে।

    এক্সে প্রকাশিত পোস্টে জানানো হয়েছে, গাজায় যেসব এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনারা পিছু হটে ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত নিরাপত্তা সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে, হামাসের হামলাটি ঘটেছে সেই অঞ্চলের মধ্যেই। ইসরাইল দাবি করছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুসারে এসব এলাকা শান্ত থাকার কথা ছিল, কিন্তু হামাসের আক্রমণ পরিস্থিতিকে আবারও অস্থির করে তুলেছে। ইসরাইলের বিবৃতিতে বলা হয়, “আজ হামাস আবারও যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে, ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে একজন সন্ত্রাসী পাঠিয়ে আইডিএফ সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইসরাইল পাঁচজন শীর্ষ হামাস সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে।”

    নেতানিয়াহুর কার্যালয় আরো দাবি করে, ইসরাইল এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলেছে, তবে হামাস তা করেনি। তারা মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানায় যেন হামাসকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মানতে বাধ্য করা হয়।

  • মালয়েশিয়ায় ১৭৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

    মালয়েশিয়ায় ১৭৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

    মালয়েশিয়ার ক্যামেরন হাইল্যান্ডে অভিবাসন বিভাগের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগে ৪৬৮ বিদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৭৪ জনই বাংলাদেশি। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযান চালানো হয়। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা বারনামা জানায়, এই অভিযানে অভিবাসন বিভাগের ৫৪৭ জন সদস্য অংশ নেয়। পাহাড়ি অঞ্চলের চারটি জোনজুড়ে ব্যবসায়িক এলাকা, নির্মাণকাজের স্থান ও সবজিখামারে এ অভিযান চালানো হয়।

    অনেক বিদেশিকে সবজি প্যাক করার সময় গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি টের না পাওয়ায় তারা পালানোর সুযোগ পায়নি। ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাআবান জানান, কমিউনিটির অভিযোগের ভিত্তিতে এক মাস আগেই অভিযানটি পরিকল্পনা করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আমরা দেখতে পেয়েছি যে এই জেলাটি আশেপাশের এলাকায় কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি বিদেশীদের কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।’ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পাহাড়ি অঞ্চলে বিদেশি শ্রমিকের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

    পাহাড়ি এলাকা এবং শহর থেকে দূরবর্তী অবস্থান হওয়ায় বিদেশিদের জন্য এলাকাটি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এছাড়া অনেক স্থানীয় ব্যবসায়ী বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে আগ্রহী হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।

    অভিযানে মোট এক হাজার ৮৮৬ বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করা হয় এবং এর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয় ৪৬৮ জনকে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ পাস, ভ্রমণ নথির অভাব এবং কিছু ক্ষেত্রে জাল সন্দেহের অস্থায়ী কর্মপাস প্রদর্শন।

    গ্রেপ্তার হওয়া বিদেশিদের মধ্যে রয়েছে মিয়ানমারের ১৭৫ জন, বাংলাদেশের ১৭৪ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ৬৭ জন, নেপালের ২০ জন, পাকিস্তানের ১৬ জন, ভারতের ১১ জন এবং ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, চীন, কম্বোডিয়ায় ১ জন করে গ্রেপ্তার হয়েছে।

    এদের মধ্যে ৩৮৮ জন পুরুষ, ৭৬ জন নারী এবং ৪ শিশু রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ২০ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে এবং তাদের কেলান্তান, পেরাক ও সেলাঙ্গরের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

    অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে অভিযানে মোট ৮৩ হাজার ৯৯৪ বিদেশিকে আটক করা হয়েছে।

  • ভারতীয়দের দুঃসংবাদ দিল ইরান

    ভারতীয়দের দুঃসংবাদ দিল ইরান

    মানব পাচার ও ভুয়া চাকরির প্রলোভনে ভারতীয়দের ইরানে পাচারের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির সরকার ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা স্থগিত করেছে। আগামী শনিবার (২২ নভেম্বর) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইরানে প্রবেশ করতে বা ট্রানজিট নিতেও ভারতীয়দের আগেই ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানব পাচারকারী চক্রের কর্মকাণ্ড বন্ধ করাই ইরানের এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দালালচক্র বহু ভারতীয়কে ভুয়া চাকরির লোভ দেখিয়ে ইরানে পাঠাচ্ছিল।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনেককে বলা হয়েছিল ইরানে গেলে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ রয়েছে, কিংবা সেখান থেকেই সহজে উপসাগরীয় দেশ বা ইউরোপের পথে যাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে ইরানে পৌঁছানোর পর অনেককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করেছে মানব পাচারকারীরা।

    ক্রমাগত কয়েকটি অপহরণ-ও-পাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি ভারত সরকারের নজরে আসে। তদন্তে দেখা যায়, ভুয়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতীয়দের ইরানে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার ঘটনা বাড়ছে।

    এর আগে গত মাসেও ভারত সরকার সতর্ক করে বলেছিল, কিছু দালাল ভুয়া চাকরির অফার দেখিয়ে মানুষকে ইরানে পাঠাচ্ছে এবং ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা কেবল পর্যটনের জন্য—কাজের উদ্দেশ্যে নয়।

    গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান কয়েকটি দেশের নাগরিকদের স্বল্প সময়ের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে। এর ফলে ভারতীয় সাধারণ পাসপোর্টধারীরা ছয় মাসে একবার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের জন্য ভিসা ছাড়াই ইরানে ভ্রমণ করতে পারতেন। তবে মানব পাচারের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ায় সেই সুবিধা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।

    খান

  • ইয়েমেন উপকূলে ৬৮ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু

    ইয়েমেন উপকূলে ৬৮ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু

    ইয়েমেন উপকূলে আফ্রিকান অভিবাসী ও শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ায় কমপক্ষে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৭৪ জন। ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সবাই আফ্রিকান নাগরিক।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার (৩ আগস্ট) এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা জানায় জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির ইয়েমেন শাখার প্রধান আবদুসাত্তার এসোয়েভ বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, নৌকাটিতে ১৫৪ জন ইথিওপীয় নাগরিক ছিলেন। এটি ইয়েমেনের আবিয়ান প্রদেশের উপকূলে ডুবে যায়।

    তিনি জানান, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৫৪ জনের মরদেহ খানফার জেলায় এবং আরও ১৪ জনের মরদেহ আশপাশের এলাকা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল, মৃতের সংখ্যা অন্তত ৫৪। তবে পরে আইওএম নিশ্চিত করে, মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৭৪ জন।

    এদিকে জাঞ্জিবার শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক আবদুল কাদের বাজামিল জানান, নিহতদের দাফনের জন্য শহরের শাকরা এলাকার কাছে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল এবং ইয়েমেনের মধ্যকার সমুদ্রপথ অভিবাসীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইয়েমেনে ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশগুলোতে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা আরও বেড়েছে।

    আইওএম-এর মতে, ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি অভিবাসী ইয়েমেনে পৌঁছেছেন, যা আগের বছরের ৯৭ হাজার ২০০ জনের তুলনায় অনেক কম।

    আইওএম আরও জানায়, এই রুটে ২০২৩ সালে ৫৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত এক দশকে নিখোঁজ হয়েছেন কমপক্ষে ২ হাজার ৮২ জন। যাদের মধ্যে ডুবে মারা গেছেন ৬৯৩ জন। বর্তমানে ইয়েমেনে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী অবস্থান করছেন।