ট্যাগ বাজেট

  • অষ্টম-নবমের বই কিনতে ৭৩৯ কোটি টাকা

    অষ্টম-নবমের বই কিনতে ৭৩৯ কোটি টাকা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহে মোট ৭৩৯ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার ১৩৯ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে অষ্টম শ্রেণির বইয়ের জন্য ২৪৪ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৯ টাকা এবং নবম শ্রেণির বইয়ের জন্য ৪৯৪ কোটি ৯১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮০ টাকা ব্যয় হবে।

    বৈঠকে অষ্টম শ্রেণির মাধ্যমিকের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ এবং দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের দরপ্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এজন্য মোট ১০০টি দরপত্রের মাধ্যমে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের পর মোট ১৫৪টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ১৩৪টি দরপ্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ১০০টি দরপত্রের মধ্যে ৯৮টির বিপরীতে সুপারিশ করা গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বই কেনার সুপারিশ করে। সুপারিশ অনুযায়ী ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৩টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহে ব্যয় হবে ২৪৪ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৯ টাকা। অর্থাৎ প্রতি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, কাগজসহ বাঁধাই ও সরবরাহে গড়ে ব্যয় হবে ৬৩ টাকা ১৭ পয়সা।

    এ ক্রয় প্রস্তাবে ৯২টি লটে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতাকে এবং ছয়টি লটে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে সুপারিশ করা হয়েছে। বাকি দুটি লটের জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বানের সুপারিশ করা হয়। অন্যদিকে, একই বৈঠকে নবম শ্রেণির মাধ্যমিকের বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণ এবং দাখিল ও কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়।

    এ প্রস্তাবের আওতায় মোট ২১৫টি দরপত্রের মাধ্যমে ৫ কোটি ২০ লাখ ৫০ হাজার ৪৪৬ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য ১৩০টি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে। এ কাজে মোট ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৪৯৪ কোটি ৯১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮০ টাকা।২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দিতে সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ করা হবে।

  • চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার ৪৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার ৪৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৯ কোটি ৩০ হাজার ৩৪২ টাকার বিশদ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে পৌর প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সভায় এ বাজেট ঘোষণা করেন পৌর প্রশাসক ও জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল।

    বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, উন্নত জীবননগর গড়ার লক্ষ্যে টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। নাগরিকসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিতে বাজেটে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।

    ২০২৬-২৭অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৭২লাখ ৮০ হাজার টাকা, যার বিপরীতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫২ টাকা। এতে রাজস্ব খাতে প্রারম্ভিক জের রয়েছে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৪২ টাকা এবং বছরের শেষে রাজস্ব উদ্বৃত্ত থাকবে ৯ লাখ ২২ হাজার ২৯০ টাকা।

    রাজস্ব খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ আয় ধরা হয়েছে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর: ১ কোটি ৮ লাখ টাকা, গৃহ ও ভূমি কর: ৮২ লাখ টাকা, হাট-বাজার ইজারা: ৪৮ লাখ টাকা,পেশা, ব্যবসা ও কলিং লাইসেন্স: ৩২ লাখ টাকা।

    অন্যদিকে, রাজস্ব ব্যয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা: ১ কোটি ২০ লাখ ১৮ হাজার ৩৫২ টাকা।

    বাজেটে উন্নয়ন খাতে প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি ২৩লাখ ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা। উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলো হলো-আরইউডিটিপি , কোভিট ১৯ ও টেকসই নগর অবকাঠামো উন্নয়ন।

    এছাড়াও পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পৌর এলাকার রাস্তাঘাট মেরামত ও সম্প্রসারণ, স্ট্রিট লাইট স্থাপনসহ নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

    বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) আতিয়ার রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাহমিদা আক্তার রুনা, উপজেলা প্রকৌশলী আল আমিন, পৌরসভা পরিচালনা কমিটির সদস্য নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন এবং বিস্তারিত বাজেট উপস্থাপন করেন পৌরসভার হিসাব রক্ষক আবুল কালাম আজাদ । এছাড়াও অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেনস্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    বাজেট ঘোষণাকালে পৌর প্রশাসক বলেন, জীবননগর পৌরবাসীর কল্যাণে এই বাজেট কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, এটি জীবননগর পৌরসভার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা। সকলের সহযোগিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই আমরা সুন্দর একটি পৌরসভা উপহার দিতে পারব।

  • স্বল্পোন্নত থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের পথে চূড়ান্ত বাধা এই বাজেট: গোলাম পরওয়ার

    স্বল্পোন্নত থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের পথে চূড়ান্ত বাধা এই বাজেট: গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশে উত্তরণের পথে চূড়ান্ত বাধা হয়ে যাবে। তিনি সরকারের প্রতি বাজেট সংশোধনের আহ্বান জানান।

    আজ শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাজেট প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ঘাটতি বাজেট নতুন কিছু নয়, তবে এবারের বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট —এটা কোথা থেকে পূরণ করা হবে?

    তিনি আরও বলেন, ‘এত বড় ঘাটতি বাজেটের ব্যয় সংকুলানে ব্যাংক লোন করা হবে, তাতে আমাদের বিনিয়োগ, বেসরকারি বিনিয়োগ তো অটোমেটিক্যালি কমে যাবে।’

    এর ফলে কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    রাজস্ব আদায়ের বাস্তবসম্মত কোনো কাঠামো সরকার দেখাতে পারেনি—এমন অভিযোগ করেন জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি বলেন, প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট —কোথা থেকে ঘাটতি পূরণ করা হবে? যে সোর্সগুলো দেখানো হয়েছে তাতে রাজস্ব আয় করতে গেলে যে কর কাঠামো লাগে, দুর্নীতিমুক্ত কর প্রশাসন লাগে, সেগুলো কিছুই নাই।

    কর বৃদ্ধির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ভাষার ছলচাতুরীতে উনারা বলেছেন যে আমরা করের উৎস বাড়াচ্ছি। বাস্তবে করের জাল তৈরি করে নাগরিক জীবনে এটার যে চাপ, সেটাকে উনারা শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমেই চালাকি করে কর বৃদ্ধির জায়গাগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

    জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশের নিচে রেখেছে। সেখানে সরকারের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যকে তিনি ‘ফাঁকা বুলি’ ও ‘চটকদার সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘এডিপির নামে দুর্নীতি ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা।’

    তিনি অভিযোগ করেন, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগাভাগি হয়ে যায় এবং প্রকৃত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারঘোষিত মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

    সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি জানান, জামায়াত ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেছে, যেখানে বাজেট ঘাটতি ও বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা তুলনামূলক কম রাখা হয়েছে।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ক্যালেন্ডার ইয়ারভিত্তিক অর্থবছর চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

    ব্যাংকিং খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংক রেজুলেশন আইন করে লুটপাট করে কালো টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।’ ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

    সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক বাজেট সংশোধন করে বিনিয়োগবান্ধব, জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়ন’ করতে হবে। একই সঙ্গে সংসদে গঠনমূলক আলোচনা ও বিরোধী দলের প্রস্তাব গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, আব্দুল হালিম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম।

  • দাম বাড়তে পারে, কমতে পারে যেসব পণ্য ও সেবার

    দাম বাড়তে পারে, কমতে পারে যেসব পণ্য ও সেবার

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে তিনি বাজেট প্রস্তাব পেশ করা শুরু করেন। এটা বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেট। এই বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    আবার কিছু কিছু পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ককর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বাজেটের শুল্ককর প্রস্তাব ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়ে যায়।

    সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুল্ককর কমানোর পণ্যসংখ্যাই বেশি।

    দাম বাড়তে পারে

    সিগারেট

    সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্নস্তরের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকা ৬২ টাকা, মধ্যম স্তর ৯২ টাকা, উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তর ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে সিগারেটের দাম বাড়বে।

    নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচকে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী এর ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করছেন।

    তেলচালিত গাড়ি

    পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ডিজেল, অকটেন বা পেট্রলচালিত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে মধ্যম সারির ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির (ইঞ্জিনক্ষমতা) ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনবিশিষ্ট আমদানি করা গাড়ির ওপর করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫৬ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব গাড়ির দাম বাড়বে।

    বিদেশি কাজুবাদাম

    দেশীয় চাষ ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য অপ্রক্রিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক যথাক্রমে ১ শতাংশ ও ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে দেশে উৎপাদকদের জন্য অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদেশি কাজুবাদামের দাম বাড়বে।

    বিদেশি পাঙাশের ফিলে

    দেশীয় মৎস্য প্রক্রিয়াকরণশিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানি করা পাঙাশ মাছের ফিলের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ হয়েছে।

    বিদেশি গ্যাস সিলিন্ডার

    কম্পোজিট এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডার আমদানিতে আমদানি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) আরোপ করা হয়েছে। এতে এর দাম বাড়তে পারে।

    বিদেশি মধু

    বিদেশ থেকে প্রাকৃতিক মধু আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ইউনিটপ্রতি ২ ডলার বাড়িয়ে ৭ ডলার করা হয়েছে। এতে এই মধু আমদানিতে শুল্ককর বেশি দিতে হবে, যা দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

    বিদেশি সুপারি

    বিদেশ থেকে সুপারি আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য ইউনিটপ্রতি দশমিক ২৫ ডলার বাড়ানো হয়েছে। এতে এই সুপারি আমদানিতে শুল্ককর বেশি দিতে হবে।

    বিদেশি খাদ্য

    সুগার কনফেকশনারি, কফি, তৈরি খাবার ইত্যাদি আমদানিতে বিভিন্ন হারে শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এতে এসব খাদ্য আমদানিতে শুল্ককরের চাপ বাড়বে।

    বিদেশি লিপ লাইনার ও জেল

    লিপ লাইনার, লিপ জেল ও সমজাতীয় পণ্য আমদানির শুল্কায়নমূল্য বাড়ানো হয়েছে।

    রড

    রড তৈরির বিভিন্ন উপকরণের ওপর ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। এতে রডের দাম বাড়তে পারে।

    অন্যান্য

    শুল্ককর ও শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানোর কারণে বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার ও বেসিন, বিদেশি ফোম, বিদেশি মাইক্রোওয়েভ ওভেন, সাইকেল ও যন্ত্রাংশ, খেলনা ইত্যাদির দাম বাড়তে পারে।

    দাম কমতে পারে

    ৬০টি নিত্যপণ্য

    ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ, ১ শতাংশ হতে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বিগত বছরগুলোয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে যে নাভিশ্বাস উঠেছিল, তার বিপরীতে গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ জনজীবনে স্বস্তি আনবে।

    শিশুখাদ্য

    আমদানি করা শিশুখাদ্য প্রস্তুতিমূলক সামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে (শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে)। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এতে বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে।

    জিরা, দারুচিনি

    জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়া ইত্যাদি মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    খেজুর

    খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে।

    সোনার গয়না

    সোনা সরবরাহে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ভ্যাট ছিল আগে ৫ শতাংশ। ফলে আড়াই লাখ টাকার সোনায় ভ্যাট দাঁড়াত সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এখন তা কমিয়ে ভরিপ্রতি আড়াই হাজার টাকা করা হয়েছে।

    বৈদ্যুতিক গাড়ি

    বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইলেকট্রিক ভেহিকেলে (ইভি) নানা ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে এসব গাড়ির দাম অনেকটা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার স্টেশন বসাতে ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জামে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেমন বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেলের ক্ষেত্রে করছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষে (বিআরটিএ) নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক গাড়ির অগ্রিম আয়করের পরিমাণ কমানো হয়েছে।

    ল্যাপটপ ও কম্পিউটার

    ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও কম্পিউটার মনিটর আমদানির ক্ষেত্রে সমুদয় আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা

    ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এর ফলে কিডনি রোগীর প্রতিবার ডায়ালাইসিস সেবায় ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমবে।

    ওষুধ

    ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে নানা ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্যানসারের ওষুধ তৈরির নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি–সুবিধা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

    বাদ্যযন্ত্র

    গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিন ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক পুরো প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

    অন্যান্য

    শুল্ককর কমানো এবং শুল্কায়ন মূল্যে পরিবর্তনের কারণে বিদেশী মাংস, প্রাণিখাদ্য, পয়েন্ট অব সেলস বা পিওস যন্ত্র, সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধন এবং আরও নানা পণ্যের দাম কমতে পারে।

  • আয়কর রিটার্ন দেওয়া যাবে সারা বছর

    আয়কর রিটার্ন দেওয়া যাবে সারা বছর

    আগামী অর্থবছর থেকে সারা বছর আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাচ্ছেন করদাতারা। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন দাখিল করলে করছাড়ের সুবিধা পাবেন, আর দেরিতে রিটার্ন দিলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এই ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেন, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় পাবেন।

    দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন দাখিল করলে কোনো অতিরিক্ত করছাড় বা জরিমানা থাকবে না। এ সময়ে করদাতাদের শুধু নির্ধারিত কর পরিশোধ করলেই হবে।

    তবে তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

    এ ছাড়া অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে।

    করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা এবং কর প্রশাসনকে আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • বাজেট: সঞ্চয়পত্র-ডিপিএসসহ ৯ খাতে বিনিয়োগে দারুণ সুযোগ

    বাজেট: সঞ্চয়পত্র-ডিপিএসসহ ৯ খাতে বিনিয়োগে দারুণ সুযোগ

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়।

    বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবীক্রম)। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

    পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। এরপর স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে বাজেট উত্থাপন করার জন্য আহ্বান জানান।

    বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, জীবন বীমার প্রিমিয়ামসহ বর্তমানে ৯টি খাতে বিনিয়োগ করলে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পেয়ে থাকেন।

    মোট আয়ের দশমিক ০৩ শতাংশ; মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ কিংবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা- এ তিনটির মধ্যে যেটি কম, সেটি রেয়াত হিসেবে চূড়ান্ত কর থেকে বাদ দেওয়া হয়। আগামী বছর অনুমোদিত বিনিয়োগ সীমা ১৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা করা হয়েছে। হিসেব মতে, প্রতি এক লাখ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে ৫ হাজার টাকা কম ছাড় পাবেন করদাতা।