বাংলাদেশ

  • এআইয়ের ধাক্কায় ৮০% আয় কমেছে ফ্রিল্যান্সারদের

    এআইয়ের ধাক্কায় ৮০% আয় কমেছে ফ্রিল্যান্সারদের

    বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ তরুণ ফ্রিল্যান্সার বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করছেন। গত কয়েক বছরের অনানুষ্ঠানিক হিসাব এটি। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের উত্থানের ফলে ছোটখাটো ডিজিটাল কাজের ভবিষ্যৎ এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

    দেশের ফ্রিল্যান্সারদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিদেশি ক্লায়েন্টদের জন্য ডেটা এন্ট্রি, অনুবাদ, ট্রান্সক্রিপশন এবং ছবি এডিটিংয়ের মতো সহজ ও ছোটখাটো কাজ করে থাকে।

    কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন মুহূর্তের মধ্যে ডিজাইন তৈরি, কোডিং, ছবি এডিটিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল কাজগুলো করে ফেলতে পারছে। আর এতে ফ্রিল্যান্সারদের আয় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

    ফ্রিল্যান্সাররা জানিয়েছেন, বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে আগের মতো নিয়মিত কাজের প্রস্তাব আসছে না। আর যেসব কাজ পাওয়া যাচ্ছে, এআইয়ের কল্যাণে সেগুলো শেষ করতে আগের চেয়ে অনেক কম সময় লাগছে।

    ডিজিটাল সেবাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পুরো ফ্রিল্যান্সিং বাজারের চিত্রই বদলে দিচ্ছে।

    এখন আমেরিকার মতো দেশের কোনো কোম্পানি থেকে ১০ ডলারের একটি লোগো ডিজাইনের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ। কারণ এআই টুল ব্যবহার করে ক্লায়েন্টরা নিজেরাই এখন লোগোর প্রথম সংস্করণটি তৈরি করে ফেলছেন।

    তার বদলে, তারা এখন এআই দিয়ে তৈরি পুরো মাল্টিমিডিয়া ক্যাম্পেইনটিকে নিখুঁত ও কাস্টমাইজ করার জন্য কোনো দক্ষ ফ্রিল্যান্সারকে ১০০ ডলার দিতেও দ্বিধা করছেন না।

    ডিজিটাল বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ কাজ থেকে জটিল কাজের দিকে সরে আসার এই প্রক্রিয়াটি হয়তো অনেক স্বল্প বেতনের চাকরি বিলুপ্ত করে দেবে, কিন্তু যারা এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন, তাদের জন্য অনেক বেশি লাভজনক সুযোগের দুয়ার খুলে যাবে।

    আয়ের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে

    দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের কয়েকজন ফ্রিল্যান্সার জানিয়েছেন, তাদের কাজের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে গ্রাফিক ডিজাইন, ছবি এডিটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট প্রোডাকশন ও ফটোগ্রাফির মতো প্রচলিত কাজগুলোর চাহিদা অনেক কমে গেছে।

    ২০১১ সাল থেকে ফ্রিল্যান্সিং করছেন এমরাজিনা ইসলাম। তিনি জানান, একটি বড় ক্লায়েন্ট হারানোর পর তার আয় ৮০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা ২০১২ সাল থেকে একটি কোম্পানির কাজ করতাম। একপর্যায়ে আমাদের টিমে ১৫ জন কর্মী ছিল।’

    ওই কোম্পানি তাদের অফিস এবং ল্যাপটপের সুবিধাও দিত। এমনকি কোভিড মহামারির সময়ে ওই কোম্পানির ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে তাদের টিমের সদস্য সংখ্যাও বেড়েছিল।

    কিন্তু এই ফ্রিল্যান্সার আক্ষেপ করে বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আসার পর আমাদের পুরো ব্যবসাটাই বন্ধ হয়ে গেছে।’

    এমরাজিনার টিম আগে যে ধরনের কাজ করতো—যেমন গ্রাফিক ডিজাইন, ইমেজ এডিটিং এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট—এখন তার সবই এআই দিয়ে করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, এই প্রভাব কেবল ডিজাইনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজও বদলে গেছে। আগে যেসব কাজে বিশাল বড় টিমের প্রয়োজন হতো, এখন এআই টুল ব্যবহার করে খুব অল্প মানুষই সেই কাজগুলো সেরে ফেলছে।

    তিনি আরও বলেন, যারা সাধারণ কনটেন্ট রাইটিং, ফটো এডিটিং এবং ডেটা এন্ট্রির মতো মৌলিক দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল, তারা এখন সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন।

    প্রায় ২০ বছর ধরে ফটোগ্রাফির সঙ্গে যুক্ত ইউসুফ তুষার জানান, এআই দিয়ে তৈরি ছবি বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফির চাহিদাকে অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। আগে পণ্য বা মডেলের ছবি কিংবা স্টক ফটোগ্রাফির জন্য ক্লায়েন্টরা ফটোগ্রাফারদের ওপর নির্ভর করতেন।

    কিন্তু এখন অনেক কোম্পানি কোনো প্রকার শুটিং বা ঝক্কি ছাড়াই এআই ব্যবহার করে প্রয়োজনমতো ছবি তৈরি করে নিচ্ছে।

    ইউসুফ তুষার বলেন, ‘আমার আয়ের বড় একটা অংশ এখন নেই। কারণ ক্লায়েন্টরা মনে করেন, বিজ্ঞাপনের জন্য ছবি প্রয়োজন হলে তারা সেটা এআই দিয়েই বানিয়ে নিতে পারবেন।’

    ইউসুফ তুষার জানান, এআইয়ের প্রভাবে তার আয় প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

    তুষারের মতে, স্টক ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে এই ধস সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো। ক্যালেন্ডার বা অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজের জন্য ক্লায়েন্টরা এখন আর ছবি কেনার প্রয়োজন বোধ করছেন না।

    তিনি বলেন, এই পরিবর্তনটি অনেকটা আগেরকার প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো।

    ‘আমরা যখন ফিল্ম ক্যামেরা থেকে ডিজিটাল ক্যামেরায় অভ্যস্ত হচ্ছিলাম, তখনও একটা ধাক্কা এসেছিল। তবে এআইয়ের প্রভাব তার চেয়ে অনেক বেশি বড়।’

    প্রায় ১৪ বছর ধরে ফ্রিল্যান্সিং করছেন ঢাকার ফ্রিল্যান্সার কাজী মামুন। তিনি জানান, বাজারে কাজের সুযোগ কমে গেছে, অথচ অল্প যেটুকু কাজ বাকি আছে, তা পাওয়ার প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে।

    মামুন জানান, তার নিজের কাজের পরিমাণ প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। তবে দীর্ঘদিনের সরাসরি ক্লায়েন্ট থাকার কারণে তিনি পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে পারছেন। তার পাঁচ সদস্যের টিম এখন আপওয়ার্ক বা ফাইভারের মতো বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সরাসরি নতুন ক্লায়েন্ট খোঁজার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।

    মামুন বলেন, ‘অনেকের কাজের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে, কারও আবার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এমনকি অনেকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ক্লায়েন্টরা এখন অনেক কাজ নিজেরাই করার চেষ্টা করছেন। ছোটখাটো প্রজেক্টের জন্য তারা আগের মতো এখন আর ফ্রিল্যান্সারদের নিয়োগ দিচ্ছেন না।’

    এআইয়ের সুবাদে বাড়ছে উচ্চ আয়ের কাজের সুযোগ

    সাধারণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের বদলে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে এখন এআই-নির্ভর কাজের চাহিদা এবং পারিশ্রমিক দুটোই বাড়ছে।

    আপওয়ার্কের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের প্ল্যাটফর্মে এআই-সংক্রান্ত কাজের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ বেড়েছে ৫২ শতাংশ।

    যারা এআই নিয়ে কাজ করছেন, তারা সাধারণ কাজ করা ফ্রিল্যান্সারদের তুলনায় গড়ে ৪০ শতাংশের বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।

    তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব কিছুটা ভিন্নভাবে দেখা যাচ্ছে, কারণ দেশের যে ফ্রিল্যান্সাররা মূলত এন্ট্রি-লেভেল বা সাধারণ মানের কাজ করেন, তাদের সেই কাজগুলো এখন এআই খুব সহজেই করতে পারছে।

    এমরাজিনা ইসলাম বলেন, ‘কেউ যদি এআই-তে খুব দক্ষ হয়ে ওঠে, তবে তার ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। আর যে এআই শিখবে না, সে পিছিয়ে পড়বে।’

    প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেন, বৈশ্বিক সেবা খাতের বাজার দ্রুত এআই-নির্ভর হয়ে উঠছে। এই বাজারে টিকে থাকার মতো দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশকে এখনই জরুরি ভিত্তিতে মনোযোগ দিতে হবে।

    প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা জরুরি

    ফ্রিল্যান্সার এমরাজিনা বলেন, আগে যেসব সাধারণ কাজের চাহিদা ছিল, সেগুলোর ভবিষ্যৎ খুব একটা উজ্জ্বল নয়। তাই স্থানীয় ফ্রিল্যান্সারদের মূল দক্ষতার পাশাপাশি এখন যৌক্তিক চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের ওপর জোর দিতে হবে।

    বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (বিএফডিএস) চেয়ারম্যান তানজিবা রহমান বলেন, এআই ফ্রিল্যান্সিং বাজারকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, আমাদের দেশের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারছে না।

    তানজিবা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা বর্তমানে যে ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, তা মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের (এন্ট্রি লেভেল)। আর এ কারণেই আমরা এখন আর আগের মতো কাজ পাচ্ছি না।’

    তার মতে, ভয়ের কারণ এটা নয় যে এআই সব ফ্রিল্যান্সিং কাজ শেষ করে দেবে। বরং আসল ঝুঁকি হলো, আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা যদি এমন সব কাজেই সীমাবদ্ধ থাকেন যা এআই এখন সহজেই করতে পারে, তাহলেই বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

    তিনি গণিত, পরিসংখ্যান, গবেষণাসহ এমন কিছু বিশেষায়িত ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে এখনো অনেক সুযোগ রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা সেখানে খুব একটা কাজ করেননি।

    তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যেসব কাজে সৃজনশীলতা ও মানবিক বিচার-বিবেচনার প্রয়োজন হয়, ক্লায়েন্টরা এখনো সেগুলোকে গুরুত্ব দেন।

    তানজিবা আরও যোগ করেন, ‘আমাদের দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত, উচ্চতর দক্ষতা অর্জন করা; এবং দ্বিতীয়ত, দেশে এমন মেন্টর বা প্রশিক্ষক তৈরি করা, যারা ফ্রিল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।’

  • মাঝ আকাশে বাংলাদেশ বিমানে যাত্রীদের মারামারি

    মাঝ আকাশে বাংলাদেশ বিমানে যাত্রীদের মারামারি

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে মাঝআকাশে যাত্রীদের মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিমানটি লন্ডন থেকে বাংলাদেশে আসছিল।

    বিমানটির ভেতরে দুই যাত্রীর মধ্যে এই হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে বিমানের সাধারণ যাত্রী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

    ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানের ভেতরে দুই ব্যক্তি প্রথমে তুমুল তর্কে জড়ান এবং পরে তা মারামারিতে রূপ নেয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে একজন যাত্রীর টি-শার্ট ছিঁড়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিমানের কেবিন ক্রু এবং অন্য যাত্রীরা এগিয়ে আসেন এবং তাদের থামাতে ও আলাদা করতে চেষ্টা করেন।

    এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মহিউদ্দীন আহমেদ জানান, আমি এখনও বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।

  • মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না: ইরানের রাষ্ট্রদূত

    মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না: ইরানের রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে চলেছে উল্লেখ করে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেছেন, ‘তাই বাংলাদেশের কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের চিন্তিত করে না। আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি মনে করি না।’

    আজ বুধবার সকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন। তিনি এদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মক্কা চুক্তি আসলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার দুর্বলতার একটি লক্ষণ।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো চ্যালেঞ্জ বা বিরোধিতা নেই। তুরস্ক ও পাকিস্তানের কথা বললে, তারা ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের খুব ভালো বন্ধু। আর সৌদি আরবের সঙ্গেও আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে, এটি এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমরা ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলছি। তাই মক্কা চুক্তি নিয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ বা চিন্তা নেই।’

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইরান কোনো আরব দেশের ভূখণ্ডকে নিশানা করেনি বলে জানান রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি। তিনি বলেন, ‘ আপনারা জানেন, ইরান এবং আমেরিকার সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আমরা কেবল এই সব আরব দেশগুলোতে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করেছি। আমরা কখনো কোনো আরব দেশের ভূখণ্ড বা মাটিতে আক্রমণ করিনি।’

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কা চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে গঠিত হচ্ছে। তাই যেসব মুসলিম দেশ এতে যোগ দিচ্ছে, তারা কি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থই পূরণ করছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেন, ‘না, বিষয়টি তা নয়। মক্কা চুক্তি এমন একটি সময়ে গঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।’

    এখন বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো আরব দেশগুলোর কাছে আমাদের প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে?

    জালিল রাহিমি, ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত

    এ প্রসঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, অতীতের বছরগুলোতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সব সময় স্পষ্ট ছিল। তারা বলত, ‘আমাদের সামরিক ঘাঁটি করার জন্য জমি দাও এবং আমাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেন, তাহলে আমরা তোমাদের নিরাপত্তা দেব।’ যুক্তরাষ্ট্র এই একই অজুহাত দিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছিল—যেন তারা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সরকার পরিবর্তন করতে পারে, ইরানের ইউরেনিয়াম দখল করতে পারে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধ করতে পারে এবং বিশ্বে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারে।

    জালিল রাহিমি বলেন, ‘কিন্তু আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো আমাদের হাতেই আছে। আর গত রাতেও আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।’

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কা চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে গঠিত হচ্ছে। তাই যেসব মুসলিম দেশ এতে যোগ দিচ্ছে, তারা কি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থই পূরণ করছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেন, ‘না, বিষয়টি তা নয়। মক্কা চুক্তি এমন একটি সময়ে গঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ও তাদের মিত্রদের নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছে।’

    যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি বা সমুদ্রপথ খোলার জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে উল্লেখ করে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে, এই মক্কা চুক্তি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়ের একটি সম্পূরক অংশমাত্র। এই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের স্তূপ তাদের প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে না। তাই আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না এবং এটি নিয়ে আমরা একেবারেই চিন্তিত নই।’

    ইরান কি এই মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো প্রস্তাব দিয়েছে বা দেবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি বলেন, ‘আমরা যোগ দেওয়ার জন্য নিজ থেকে কোনো প্রস্তাব জমা দিইনি। তবে মক্কা চুক্তির সদস্যদেশগুলো যদি আমাদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান বা প্রস্তাব দেয়, তাহলে আমরা তা বিবেচনা করব।’

    আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে ইরান মক্কা চুক্তির মতোই একটি প্রস্তাব দিয়েছিল জানিয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যেন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে। কিন্তু ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র কি সেই প্রস্তাব সমর্থন করেছিল? না, করেনি। আমাদের দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সব ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করা। কিন্তু তখন আরব দেশগুলো এই প্রস্তাব সমর্থন করেনি, কারণ, তারা ভেবেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যই তাদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট।’

    ‘এখন বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো আরব দেশগুলোর কাছে আমাদের প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? আপনাদের আকাশসীমা অতিক্রম করে আমাদের যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের দিকে গেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি সেগুলো থামাতে পেরেছে?,’ বলেন তিনি।

  • বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের উন্নয়ন ও সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহাসিক কান্তনগর কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। জেলা প্রশাসন ও রাজদেবোত্তর এস্টেটের আয়োজনে তিনি এ পরিদর্শনে আসেন।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সফরের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়ের উন্নয়ন নিয়েও আগামী দিনে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

    কান্তজিউ মন্দিরে পৌঁছালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও ট্রাস্টি মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও স্থানীয় লোকসংস্কৃতি সমৃদ্ধ উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করা হয়।

    পরে রাষ্ট্রদূত মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় কান্তজিউ মন্দিরের ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী, টেরাকোটা অলংকরণ এবং এর প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে ডা. ডিসি রায় রাষ্ট্রদূতকে মন্দিরের ঐতিহাসিক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।

    পরিদর্শন শেষে রাজদেবোত্তর এস্টেটের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি লিপিবদ্ধ করেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

    এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে সহধর্মিণী ডিয়ান ডাও ও প্রটোকল কর্মকর্তা ক্লারিয়ান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও রাজদেবোত্তর এস্টেটের ট্রাস্টি মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম হাবিবুল হাসান, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শেখ হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাঝহারুল ইসলাম, কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেদা খাতুন মিম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ ও কান্তনগর প্রত্নতত্ত্ব কর্মকর্তা সিহাব হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার সফরসঙ্গীদের স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বরণ করা হয়। এ সময় মল্লিকা দাস ও তার সহযোগীরা ধর্মীয় পরিবেশনায় অতিথিদের স্বাগত জানান। পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী সাংস্কৃতিক দলের নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে তাদের অভ্যর্থনা জানানো হয়।

    দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তনগরে অবস্থিত কান্তজিউ মন্দির দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। অষ্টাদশ শতকে নির্মিত এ মন্দিরের দেয়ালজুড়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন টেরাকোটা অলংকরণ বাংলার প্রাচীন শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অনন্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

  • দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

    দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা

    বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার

    ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ‘করিডর’ হতে গিয়ে নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিতে চায় না বাংলাদেশ। আসামের বরনগর থেকে বিহারের কাটিহার পর্যন্ত ৭৬৫ কেভি হাইভোল্টেজ লাইন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নিতে ভারতের নতুন তাগাদার পর চার শর্ত সামনে আনছে ঢাকা। ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এ লাইনে যাবে কিনা, নেপাল-ভুটান থেকে সস্তা জলবিদ্যুৎ আনার সুযোগ মিলবে কিনা এবং বাংলাদেশের প্রকৃত লাভ কত— এসবের উত্তর না মিললে করিডর দেওয়ার সিদ্ধান্তে যেতে চাইছে না সরকার।

    ভারত সরকারের তাগাদার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ এ ব্যাপারে বেশকিছু কাগজপত্র তৈরি করেছে।

    সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ভারতকে চারটি শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে। এগুলো পালন করলে ওই হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো— ভারতকে জানাতে হবে ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ওই হাইভোল্টেজ লাইন দিয়ে প্রবাহিত করা হবে কিনা। কারণ, এতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    দ্বিতীয় শর্ত হলো- নেপাল ও ভুটান থেকে সস্তায় জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য আলাদা গ্রিড লাইন তৈরির সুযোগ বাংলাদেশকে দিতে হবে। তৃতীয়টি হলো— ওই লাইন দিয়ে বাংলাদেশ কী পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। চতুর্থ শর্ত হলো— বাংলাদেশের ওপর দিয়ে লাইন টানার আগে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি হিসাব করতে হবে।

    ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় তিনি ৭৬৫ কেভি গ্রিড লাইন নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। সাক্ষাৎ শেষে ইকবাল হাসান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘ভারত যেভাবে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে গ্রিড লাইন নিয়ে যেতে চাচ্ছে, সেভাবে আমরা চিন্তা করছি না। নেপাল, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশ-এই চার দেশ মিলে যৌথ গ্রিড লাইনের কথা ভাবছে ঢাকা। আর এটি নিয়েই আলোচনা করতে চাচ্ছি আমরা।’

    জানা যায়, এর আগে জুলাইয়ের শেষে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ দিল্লি সফর করে বিদ্যুৎ ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন সে দেশের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে। সেখানেও বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বিশেষ করে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ভারত-নেপাল-ভুটানের সঙ্গে একটি গ্রিড লাইন নির্মাণ জরুরি। এর মধ্যে বাংলাদেশ যার কাছ থেকে সস্তায় বিদ্যুৎ পাবে, তার থেকে আমদানি করতে পারে।’

  • ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

    রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলনে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও দলের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্ব সফর করতে পারেন, ভারত সফরেও কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমতা, সমমর্যাদা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কারও আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না।

    আজ শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই সঙ্গে সরকারপ্রধান ও দলীয় প্রধান। তিনি চাইলে দেশে চলমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের টুঁটি চেপে ধরতে পারেন। তিনি চাইলে এসব বন্ধ হবে। তিনি চাচ্ছেন কি না, সেটিই বড় বিষয়।

    জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ দেশের মানুষের কাছে একটি আদর্শিক সংগঠনের নাম। মানুষের এই আস্থা অর্জন করতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত এবং আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

    স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের জনমানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশ দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ভোট যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির সংসদ সদস্য ড. মাওলানা কেরামত আলী। সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।

    আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ও রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক।

  • ফ্যাসিবাদের পাশে থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকেই-শামা ওবায়েদ

    ফ্যাসিবাদের পাশে থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকেই-শামা ওবায়েদ

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নত হোক, সেটিই দুই দেশের সরকার ও জনগণের প্রত্যাশা। তবে ভারতের মাটিতে অবস্থান করে একজন সাজাপ্রাপ্ত স্বৈরাচার এবং আওয়ামী লীগের নেতারা যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তার ভাষ্য, ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করবে কি না।

    বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে এবং কূটনৈতিক ভাষায় ভারতের কাছে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এর আগেও একই বার্তা একাধিকবার দেওয়া হয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা ও সংলাপ অব্যাহত রাখতে হবে। তবে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারত সরকারকেই নিতে হবে।

    ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারে-সরকারে সম্পর্ক বহুমাত্রিক। একটি ইস্যুর কারণে অন্য সহযোগিতা থেমে থাকতে পারে না। জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলবে।

    তবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ভারতকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ‘জঙ্গিবাদ’ প্রসঙ্গ উত্থাপনের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, দলটি অতীতের মতো এখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জঙ্গিবাদের ন্যারেটিভ সামনে আনার চেষ্টা করছে। ক্ষমতায় থাকাকালে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এলে আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ তুলে সেগুলো আড়াল করার চেষ্টা করত। বিদেশে অবস্থান করেও তারা একই কৌশল অনুসরণ করছে।

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও বিরোধী দল রয়েছে। তাই দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগ এসব প্রচারণা চালাচ্ছে। মানবাধিকার নিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ বলেন, আওয়ামী লীগের মুখে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা অত্যন্ত হাস্যকর।

    তিনি ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই-আগস্টে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল।

    তার ভাষ্য, দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। গত ১৭ থেকে ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা তার সময়সূচি ও ব্যস্ততার ওপর নির্ভর করবে।

    ভারতকে পাঠানো বাংলাদেশের কূটনৈতিক বার্তার জবাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠিয়েছে। এখন ভারতের জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

  • ঢাকার প্রতিক্রিয়া; দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্য: সার্বভৌমত্বের অবমাননা

    ঢাকার প্রতিক্রিয়া; দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্য: সার্বভৌমত্বের অবমাননা

    ভারতে পলাতক মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ওই অনুষ্ঠানে হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আগেই ভারত সরকারকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এ ধরনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ঢাকা গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে।

    এতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাংলাদেশের জনগণ যখন শহীদদের স্মরণ করছে, ঠিক সেই দিন ভারতীয় মাটিতে শেখ হাসিনার এ ধরনের গণমাধ্যমে উপস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অসম্মান।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশু-সহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। তবে বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এমন প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা করবে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ যে দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনোই অন্য কোনো রাষ্ট্রের অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা ও তার সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো স্থান নেই।

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।

    তবে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশের একাধিক অনুরোধের বিষয়ে ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং তাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। এটি দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গরের বৈঠক: সরকারে আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের, বিনিয়োগের ইঙ্গিত

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গরের বৈঠক: সরকারে আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের, বিনিয়োগের ইঙ্গিত

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করে দেশের বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশের প্রশংসা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে নতুন করে বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে ভ্রমণ সতর্কতা (টুরিস্ট অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

    আজ শনিবার সকালে ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি সার্জিও গর এসব কথা জানান।

    উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে মার্কিন বিশেষ দূত বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং এতে মার্কিন প্রশাসন পূর্ণ আস্থা রাখছে।

    সার্জিও গরউল্লেখ করেন, এই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সতর্কতা ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে, যা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ যে এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছাবে।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে আরও বড় আকারের মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে সয়াবিন, তুলা, গম এবং অন্যান্য কৃষি পণ্যের ওয়্যার হাউজিং বা সংরক্ষণ সুবিধা তৈরিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ কামনা করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসব খাতে মার্কিন বিনিয়োগ গড়ে উঠলে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) তৈরি করা সম্ভব হবে।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সার্জিও গর জানান, আইটি খাতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটি প্যাক্স সিলিকা (PAX Silica) উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হতে পারে।

    দুই পক্ষই যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সহযোগিতায় বাংলাদেশে ওষুধ ও খাদ্য পণ্যের পরীক্ষাগার চালুর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

    বৈঠকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মার্কিন প্রতিনিধিদল। আগের দিনই সার্জিও গর কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন।

    সংকটটি মোকাবিলায় এবং বিপুলসংখ্যক মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ায় সার্জিও গর বাংলাদেশ সরকার ও সাধারণ মানুষের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    সার্জিও গর জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

    অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে যে পরিমাণ আর্থিক ও মানবিক সাহায্য আসে, তার অর্ধেকেরও বেশি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কিন সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বাংলাদেশ পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন এবং ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

    মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক।

  • শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ফলপ্রসূ আলোচনা

    শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ফলপ্রসূ আলোচনা

    শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আজ বুধবার ও গতকাল মঙ্গলবার-এই দুই দিনে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম রামানানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, জনশক্তি রপ্তানি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা এবং শ্রম অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধি এবং শ্রমবাজার-সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার, শ্রমবাজারে বিদ্যমান সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

    বর্তমানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

    সফর চলাকালে প্রথমদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ফোনালাপে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জ্বালানি, বিনিয়োগ, বন্দর উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়। এছাড়াও আলোচনায় বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে সহযোগিতা, এক্সিটা গ্রুপ বারহাডের বিনিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি, কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্ভাবনা এবং এমএমসি করপোরেশন বারহাডের সঙ্গে বন্দর ও অবকাঠামো খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এই উচ্চপর্যায়ের সফর ও ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রা লাভ করবে।